
খুলনায় হঠাৎ করেই বিভিন্ন মসলার দাম বেড়েছে। ঈদের এক-দুইদিন আগেই অসাদু পাইকাররা মসলাম দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় তাঁর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। কিছু পণ্যের দাম বাড়তির কারণে অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে এলাচ, জিরা, বাদাম ও আলু বোখারার দাম বেশ চড়া। বিক্রেতারা বলছেন যুদ্ধের কারণে দেশে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। আর পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে মসল্লার বাজার চড়া। তবে তারা এসব খোড়া যুক্তি দিলেও পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির কোন খবর পাওয়া যায়নি। ক্রেতাদের দাবি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিবারের মতো এবারও বেড়েছে মসল্লার দাম।
গতকাল বুধবার খুলনার পাইকারী বড় বাজারে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আলু বোখারা বর্তমানে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়। অনুরুপভাবে প্রতিকেজি কিসমিস ৮০০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৩৫০ টাকা, এলাচ ৪ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা, চীনা বাদাম ১৯০ টাকা এবং কাজুবাদম ১ হাজার ৩৮০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
১৫ দিন আগে একই পণ্য বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি আলু বোখারা ৮০০ টাকা, কিসমিস ৬৮০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৩০০ টাকা, এলাচ ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা, চীনা বাদাম ১৭০ টাকা এবং কাজু বাদাম ১ হাজার ৩৪০ টাকায় বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
অর্থ্যাৎ এসব মসল্লা ১শ’ টাকা থেকে ৪শ’ টাকা পর্যন্ত থেকে বেড়েছে।
বড় বাজারেরর ব্যবসায়ী তাজীম হোসেন বলেন, গত ১৫ দিন ধরে গরম মশল্লার দাম বেড়েছে। কারণ হিসেবে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, আমরা মূলত গরম মশল্লা আমদানি করিনা। চট্রগ্রামের ব্যবসায়ীরা আমদানি করেন। সেখান থেকে প্রতিটি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেন ব্যবসায়ীরা। আমরা সেই দরে বিক্রি করি।
একই বাজারের বড় ব্যবসায়ী সুজীত কুমার রায় বলেন, কাটুন প্রতি কিসমিসের দাম বেড়েছে। বেড়েছে আফগান জিরার দাম। প্রতিকেজি লবঙ্গের মূল্য বেড়েছে ৪০-৫০ টাকা।
দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, পরিবহন ভাড়া কোথাও কোথাও দ্বিগুণ ও তিনগুণ বেড়েছে। অনেক সময় ট্রাকও প্রয়োজনের বেশি পণ্য বহন করতে চায়না। অতিরিক্ত মালামাল আনলে ভাড়া আরও বেশি গুণতে হয়। তাছাড়া যুদ্ধের কারণে মসলা দেশে আসছেনা। যাদের মসল্লা সংরক্ষণ করা আছে তারা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছেন।
ক্রেতা আনোয়ারা বেগম বলেন, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে গরম মশল্লার দাম বাড়িয়েছে। দেশে জ্বালানী তেলের দাম বাড়েনি। কিছু পরিবহনের ক্ষেত্রে সরকার জ্বালানী তেলের পরিমাণ কমিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেটি শিথিল করেছে সরকার। পণ্যের দাম তদারকির জন্য দেশে একটি প্রতিষ্ঠান আছে। তাদের দায়িত্ব নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। দাম বৃদ্ধি করা ব্যবসায়ীদের অসুস্থ মানষিকতা। তিনি সরকারকে বাজার তদারকির জন্য অনুরোধ করেছেন।