
যশোর অফিস : ভালোবাসার উষ্ণতা আর একুশের আবেগ, এসবকে ঘিরে কালীগঞ্জের ফুলচাষিরা পার করছেন ব্যস্ততম সময়। পহেলা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে সারা দেশে ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফুলচাষিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ফুল পরিচর্যা, সংগ্রহ ও বাজারজাত করার কাজে।গাঁদা, গোলাপ, রজনীগন্ধা,চন্দ্রমল্লিকা, গ্লাডিওলাসসহ নানা জাতের ফুল সংগ্রহের কাজ চলে টানা দুপুর পর্যন্ত। উপজেলার গান্নাবাজার, বালিয়াডাঙ্গা,মহেশপুর উপজেলার নেপা বাজারে পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়। এই ফুলগুলো হাত বদলে পৌঁছে যায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে। জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, ঝিনাইদহ ৬ উপজেলায় জেলায় ৩৯৮ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়েছে। ফুলচাষিরা বলছেন দিবস বিবেচেনায় বিভিন্ন সময় ফুলের দাম কম বেশি হয়ে থাকে। বিশেষ দিবসকে ঘিরে ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। এ কারণে ফুলের বাড়তি যত্ন নেওয়া হয়।চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাস দেশের ফুলের বাজারের সবচেয়ে বড় মৌসুম। বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সঙ্গে এবার ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনটা যোগ হয়েছে। এ কারণে ঝিনাইদহের চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।ঝিনাইদহের মাঠ জুড়ে নানা রঙের ফুল ফুটে আছে। চারদিকে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্ল্যাডিওলা আর জারবেরার মনোমুগ্ধকর গন্ধ ছড়িয়ে আছে। সবুজ পাতার ফাঁকে মাথা তুলে থাকা ফুলগুলো যেন সৌন্দর্যের মেতে উঠেছে।চাষিরা বলছেন, ফেবব্রুয়ারিতে উৎসব এবং নির্বাচন থাকায় আশা করা যাচ্ছে দাম ভালো থাকবে। নির্বাচনের কারণে দাম ওঠা-নামার আশঙ্কা রয়েছে। আর রাজনৈতিক অস্থিরতা ঘটলে পুরো মৌসুমের ফুল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে দাম ভালো মিললে গত বছরের মতো এবারও লাভবান হওয়া যাবে। বসন্ত, ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে তিন দিনের বাজার ধরার লক্ষ্য তাদের। দাম ভালো পেলে গত বছরের মতো এবারও লাভের মুখ দেখবেন এমন প্রত্যাশা চাষিদের। তবে এবার নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে ফুলের দামে।ফুল চাষি আব্দুর রাজ্জাক জানান, বসন্ত, ভালোবাসা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ফুলের চাহিদা থাকে বেশি। তবে সঠিক সময়ে যদি ফুল তুলে বাজার ধরতে পারি তাহলে এবার ভালো দাম পাব বলে আমি আশা করছি।ফুল ব্যবসায়ী জাহিদ হাসান জানান, বর্তমানে বাজারে গোলাপ ফুলের সংকট দেখা দিয়েছে কারণ সামনে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। আর ভালোবাসা দিবসের দিন একটি গোলাপ ৪০ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি হবে বলে আশা করছি। ঝিনাইদহের ফুলনগরী হিসাবে ক্ষ্যাত কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে তিনটি দিবসকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের ফুল চাষিরা লক্ষ লক্ষ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখছেন। বর্তমানে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা করে গাঁদা ফুলের ঝোপা বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ছিল ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এ বছর জেলার ৬ উপজেলায় ৩৯৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফুলের আবাদ করা হয়েছে নানা জাতের ফুলের। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান জানান, ফুল চাষ ও সংরক্ষণে চাষীদের প্রযুক্তিগত নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

