By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept
খবর সার্চ

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

NEWSPORTAL

  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • জেলার খবর
    • খুলনা
    • চুয়াডাঙ্গা
    • বাগেরহাট
    • মাগুরা
    • যশোর
    • সাতক্ষীরা
  • ফিচার
  • আজকের ই-পেপার
  • সকল ই-পেপার
Reading: কল্যাণকামী জাতি সৃষ্টিতে মাহে রমজান
Share
দৈনিক জন্মভূমিদৈনিক জন্মভূমি
Aa
  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • খুলনা
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • সম্পাদকীয়
  • ALL E-Paper
অনুসন্ধান করুন
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • ই-পেপার
Have an existing account? Sign In
Follow US
প্রধান সম্পাদক মনিরুল হুদা, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত
দৈনিক জন্মভূমি > জেলার খবর > সাতক্ষীরা > কল্যাণকামী জাতি সৃষ্টিতে মাহে রমজান
সাতক্ষীরা

কল্যাণকামী জাতি সৃষ্টিতে মাহে রমজান

Last updated: 2026/03/18 at 3:04 PM
Correspondent 3 weeks ago
Share
SHARE

সিরাজুল ইসলাম, শ্যামনগর: আল্ল­াহ রাহমানুর রাহিম। তাই তিনি দয়াদ্র মানুষকে ভালবাসেন। আল্লাহর অবারিত রহমত ও কল্যাণের বারতা নিয়ে প্রতি বছরই রমজান আমাদের কাছে আসে। যারা আল্ল­াহর কিতাবের জ্ঞানের অধিকারী, প্রকৃত সত্য সম্পর্কে অবহিত, যারা আল্ল­াহর এই রহমতকে চেতনায় পোষণ করেন, তারা মানবতার প্রতি এ মাসে আরো বেশী করে দায়িত্বশীলতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তারা ভুল কর্মনীতি পরিহার করে সঠিক কর্মনীতি অবলম্বনের কারণে রমজান থেকে আল্ল­াহর রহমতের বারিধারায় নিজেদের সিক্ত করতে সক্ষম হন এবং নিজেদেরকে মানবতার উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করেন।
‘তোমরাই পৃথিবীর শ্রেষ্ট জাতি, মানবতার কল্যাণের জন্য তোমাদের প্রেরণ করা হয়েছে।’ (আলে ইমরান:১১০)। অর্থাৎ নৈতিক চরিত্র ও কার্যকলাপের দিক দিয়ে এখন তোমরাই দুনিয়ার সর্বোত্তম মানব গোষ্ঠী। তোমাদের মধ্যে ন্যায় ও সৎবৃত্তির প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায় ও অসৎবৃত্তির মুলোৎপাটন করার মনোভাব ও কর্মস্পৃহা সৃষ্টি হয়ে গেছে। কাজেই মানবতার কল্যাণের দায়ভার তোমাদের মাথায় চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা পৃথিবীতে যা-ই করবে তাতে মানুষের কল্যাণের দিকটি সর্বপ্রথম বিবেচনায় আনতে হবে। এমন কোন আচরণ এমন কোন কাজ করা যাবে না যার দ্বারা মানুষের জীবন দূর্বিসহ হয়ে উঠে। এটি ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রযোজ্য। প্রত্যেকে যার তার আঙিনা থেকে অবশ্যই মানুষের কল্যাণের নিমিত্তে কাজ করতে হবে। এ দায়ভার এড়াবার সুযোগ কারো নেই।
আল্লাহর রহমত, বরকত অর্জনের সহজতম পথ হলো মানুষের প্রতি কল্যাণ ও সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়া। সকল জাগতিক প্রয়োজনে সাহায্য করা, মানুষের পারস্পরিক গোলমাল বা অশান্তি হলে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা, অসুস্থকে সেবা করা, দুর্গতকে উদ্ধার করা, মাযলুমকে সাহায্য করা। এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনেক হাদীস রয়েছে। ‘যতক্ষণ একজন মানুষ অন্য কোন মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত থাকবে ততক্ষণ আল্লাহ তার কল্যাণে রত থাকবেন। আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় বান্দা যে মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে। আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় নেক আমল কোন মুসলিমের হৃদয়ে আনন্দ প্রবেশ করান অথবা তার বিপদ,কষ্ট বা উৎকন্ঠা দূর করা অথবা তার ঋণ আদায় করে দেয়া অথবা তার ক্ষুধা দূর করা। আমার কোন ভাইয়ের সাথে একটু হেঁটে যাওয়া আমার নিকট মসজিদে একমাস ই’তেকাফ করার চেয়েও বেশী প্রিয়। যে ব্যক্তি তার কোন ভাইয়ের সাথে যেয়ে তার প্রয়োজন মিটিয়ে দেবে কিয়ামতের কঠিণ দিনে যেদিন সকলের পা পিছলে যাবে সেদিন আল্লাহ তার পা সুদৃঢ় রাখবেন।
কল্যাণ কামনা গুণীদের ভাষায় মানুষের মৌলিক চরিত্রের অন্তর্ভূক্ত। ‘কল্যাণ কামনা’ মু’মিনের এমন এক মহত ও দূর্লভ গুণ, এটি যার চরিত্রে বিরাজ করে তার চারিত্রিক সৌন্দর্য ফুলে-ফলে সুশোভিত হয় এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তার মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। যিনি অন্যের কল্যাণ কামনা করেন তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে কতগুলো অসৎ গুণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন। যেমন, যিনি অন্যের কল্যাণ কামনা করেন তিনি সাধারণত নির্লোভী, নিরহংকারী ও নি:স্বার্থবাদী স্বভাবের হন, কারণ লোভী, অহংকারী ও স্বার্থবাদী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কখনো অন্যের কল্যাণ কামনা করতে পারে না। অন্য ভাইয়ের কল্যাণ কামনা মানে অন্যকে ভালবাসা। অন্যকে ভালবাসা কোন ছেলে খেলা নয়, অবশ্যই এটি একটি কঠিণ বিষয়। কিন্তু কল্যাণকামী মু’মিনের জন্য এটি খুবই সহজ একটি বিষয়। কারণ তাদের ওপর আল্ল­াহর অবারিত রহমত বর্ষিত হতে থাকে। আল্ল­াহ তা’আলা বলেন, ‘ঈমানদার পুরুষ এবং ঈমানদার স্ত্রীলোকেরাই প্রকৃতপক্ষে পরস্পর পরস্পরের দায়িত্বশীল বা সাহায্যকারী বন্ধু। এদের পরিচয় এবং বৈশিষ্ট্য এই যে, এরা নেক কাজের আদেশ দেয়, অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে, নামায কায়েম করে এবং যাকাত আদায় করে, আল্ল­াহ ও রাসুলের বিধান মেনে চলে। প্রকৃতপক্ষে এদের প্রতিই আল্ল­াহ রহমত বর্ষণ করেন।’ (তাওবা-৭১)।
পক্ষান্তরে হৃদয়কে সকল প্রকার বিদ্বেষ, হিংসা ও অন্যের অমঙ্গল কামনা থেকে অবশ্যই মুক্ত রাখতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন. এটি এমন একটি কর্ম যা মানুষকে অতিরিক্ত নফল ইবাদাত ও যিকির আযকার ছাড়াই জান্নাতের অধিকারী করে তুলে। হযরত আনাস রা: বলেন, একদিন আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে বসেছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি বললেন, এখন তোমাদের এখানে একজন জান্নাতী মানুষ প্রবেশ করবেন। তখন একজন আনসারী প্রবেশ করলেন, যাঁর দাঁড়ি থেকে ওযুর পানি পড়ছিল এবং তাঁর বাম হাতে জুতাজোড়া ছিল। পরের দিনও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই কথা বললেন এবং একই ব্যক্তি প্রবেশ করলেন। তৃতীয় দিনেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম দিনে মতোই আবারো বললেন এবং আবারো একই ব্যক্তি প্রবেশ করলেন। তৃতীয় দিনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মজলিস ভেঙ্গে চলে গেলে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা: উক্ত আনসারী ব্যক্তির পিছে পিছে যেয়ে বলেন, আমি আমার পিতার সাথে মন কষাকষি করেছি এবং তিনদিন বাড়িতে যাবো না বলে কসম করেছি। এ কয় রাত আপনার কাছে থাকতে দিবেন কি? তিনি রাজি হলেন। তিনি তিন রাত তাঁর সাথে থাকেন, কিন্তু তাঁকে রাত্রে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করতে বা বিশেষ কোন নফল ইবাদাত পালন করতে দেখেন না। তবে দিনের মধ্যে তাঁকে শুধুমাত্র ভাল কথা ছাড়া কারো বিরুদ্ধে কোন খারাপ কথা বলতে শোনিনি। আব্দুল্লাহ বলেন. আমার কাছে তাঁর আমল খুবই নগন্য মনে হতে লাগল। আমি বললাম, দেখুন আমার সাথে আমার পিতার কোন মনোমালিন্য হয়নি। তবে আমি পরপর তিন দিন রাসুলুল্লাহ সা: কে বলতে শুনলাম এখন একজন জান্নাতী মানুষ আসবে এবং তিনবারই আপনি আসলেন। এজন্য আমি আপনার আমল দেখে সেইমতো আমল করার উদ্দেশ্যে আপনার কাছে তিন রাত কাটিয়েছি, কিন্তু আমি আপনাকে বিশেষ কোন আমল করতে দেখলাম না। তাহলে কি কর্মের ফলে আপনাকে রাসুলুল্লাহ সা: জান্নাতী বললেন? তিনি বললেন, তুমি যা দেখেছো এর বেশী কোন আমল আমার নেই, তবে আমি আমার অন্তরের মধ্যে কোন মুসলমানের জন্য অমঙ্গল ইচ্ছা রাখি না এবং আমি কোন কিছুর জন্য কাউকে হিংসা করি না। তখন আব্দুল্লাহ বলেনম এই কর্মের জন্যই আপনি এই মর্যাদায় পৌঁছাতে পেরেছেন।”(মুসনাদে আহমাদ, নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা)। আবু হুরাইরা রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘প্রতি সপ্তাহে দুবার-সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দাদের কর্ম পেশ করা হয়। তখন সকল মু’মিন বান্দাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়, শুধুমাত্র সে ব্যক্তি বাদে যার ও তার ভাইয়ের মধ্যে বিদ্বেষ ও শত্রুতা আছে। এদের বিষয়ে বলা হয়, এদেরকে বর্জন করো অথবা অবকাশ দাও যতক্ষণ না এরা মিমাংসার প্রতি ফিরে আসে।’ (মুসলিম : ৬৪৪১. কিতাবুল বিরর, বাব নাহি আনিস শাহনায়ে)।

প্রকৃত পক্ষে আমরা মুত্তাকী হতে পারছি না বিধায় ইহুদী-খ্রীষ্টানদের ন্যায় বিকল্প পথে মর্যাদার সন্ধান করে ফিরছি। আর এজন্য আমরাও বংশ, বর্ণ, ভাষা, দেশ এবং জাতীয়তার ভিত্তিতে মর্যাদার বৃত্ত গড়ে তুলেছি। এ নির্দিষ্ট বৃত্তের মধ্যেই আমাদের সামজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। এ নির্দিষ্ট গন্ডির বাইরে আমাদের চিন্তা-চেতনাকে নিয়ে যেতে পারছি না বিধায় উন্নয়নের বাঁধাগুলোও টপকানো আমাদের জন্য দুস্কর হয়ে পড়েছে। ফলে সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা ইহুদী- খ্রীষ্টানদের আজ্ঞাবহ সাজতে বাধ্য হচ্ছি। অথচ তাকওয়ার মত মানবীয় উন্নতর গুণের অধিকারীদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত কল্যাণের ভান্ডার সংরক্ষিত রয়েছে বলে আল কুরআনে উল্লে­খ রয়েছে। সত্যিই মুসলিম দেশসমুহের ভৌগলিক ও কৌশলগত অবস্থান অধিকতর এমন উত্তম স্থানে রয়েছে যে, প্রতিটি মুসলিম দেশের মাটির নিচে আল্ল­াহ তা’আলা অফুরন্ত নিয়ামতের ভান্ডার মজুত করে রেখেছেন। আমাদের গোলামী ও পরাজিত মানসিকতার কারনে আল্ল­াহ দান করছেন না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আমাদের বর্তমান মুসলিম দেশসমুহের সরকার প্রধানগণ আল্ল­াহর ভয়ের চেয়ে সাম্রাজ্যবাদী ইহুদী-খ্রীষ্টানগোষ্ঠীকেই বেশী ভয় করেন। এজন্যই আল্ল­াহ তা’আলা বলেন : ‘লোকালয়ের মানুষগুলো যদি ঈমান আনতো ও তাক্ওয়া বা ভয় করতো তাহলে আমি তাদের ওপর আসমান জমিনের যাবতীয় বরকতের দুয়ার খুলে দিতাম, কিন্তু তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। সুতরাং তাদের কর্মকান্ডের জন্য আমি তাদের পাকড়াও করলাম।’ (সুরা আরাফ-৯৬)।রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত নিয়ে আমাদের মাঝে আগমন করেছে পবিত্র মাহে রমজান। বছরের বারো মাসের মধ্যে রমজান মাস হলো সবচাইতে ফজিলত এবং বরকত পূর্ণ মাস। এ মাসের রোজা আল্লাহ তাআলা ফরজ করেছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরয করা হয়েছে, যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের উপর ফরজ করা হয়েছিল। যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পারো। (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৩)। এ মাসে দিনের বেলা রোজা আর রাতের বেলা তারাবির নামাজ মুসলমানদের উপর পালনীয়। এ মাসে আল্লাহ তাআলা রহমতের দরজা সমূহ খুলে দেন এবং অভিশপ্ত শয়তানকে শিকলে আবদ্ধ করে রাখেন। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন রমজান মাস আসে তখন রহমতের দরজা সমূহ খুলে দেওয়া হয়। (সহি বুখারী, হাদিস: ১৮৯৮)।
রমজান মাসে একটি আমল করলে অন্য মাসের তুলনায় তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেওয়া হয় সওয়াবের দিক থেকে। রমজানে যদি কেউ একটি নফল আমল করে তাহলে অন্য মাসের ফরজ আমল সমতুল্য তাকে সওয়াব দেয়া হয়। হযরত সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমজান মাসে যে ব্যক্তি একটি নফল আদায় করল সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে এ মাসে একটি ফরজ আদায় করল সে যেন অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করল। (শুআবুল ঈমান, বায়হাকী: ৩/৩০৫-৩০৬) অর্থাৎ এ মাসের নফল আদায় করলে অন্য মাসের ফরজের ন্যায় সওয়াব হয়। আর এ মাসের এক ফরজে অন্য মাসে ৭০ ফরজের সমান সওয়াব হয়।
কেউ যদি বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ করতে চায়, তাহলে তার জন্য প্রস্তুতি এবং প্রশিক্ষণ নেওয়া আবশ্যক। কারণ সে যদি ভালোভাবে প্রস্তুতি না নেয় তাহলে সে তার উদ্দেশ্যে সফলকাম হতে পারবে না। উদ্দেশ্যে সফলকাম হওয়ার জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি থাকা আবশ্যক। আমরা যদি সাধারণ দুনিয়ার কোন কাজের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো, প্রত্যেক কাজের জন্য আগে প্রশিক্ষণ দিতে হয়। কর্মের তুলনায় প্রশিক্ষণ অনেক কষ্টের হয়ে থাকে। কর্মক্ষেত্রে যেন সে পরবর্তী কাজগুলি ভালো করে করতে পারে, এজন্য এভাবে তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে অনেক বৈধ কাজকে তার জন্য অবৈধ করে দেওয়া হয় যাতে প্রশিক্ষণ ভালো হয়। এবং কর্মক্ষেত্রে গিয়ে ভালো ফলাফল করতে পারে। এজন্য মহান আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে রমজান মাস দিয়েছেন একটা প্রশিক্ষণ হিসেবে আর সেটা হল তাকওয়া ও আল্লাহ ভীতি অর্জন করার প্রশিক্ষণ। এজন্য দেখা যায় রমজানের বাহিরে যে কাজগুলি আমাদের জন্য বৈধ যেমন পানাহার ও স্ত্রীসহবাস, এগুলোকে রমজান মাসে অবৈধ করে দেওয়া হয়েছে যাতে করে বান্দা তাকওয়া ও আল্লাহ ভীতির ব্যাপারে পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ নিতে পারে। আমরা যদি পবিত্র রমজানের পূর্ণ বরকত ও ফজিলত লাভ করতে চাই, তাহলে তার জন্য আমাদের নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হবে। শারীরিক ও মানসিক উভয় প্রস্তুতিই কাম্য। পূর্ণ প্রস্তুতি না থাকলে মাঝ পথে আমরা ছিটকে পড়তে পারি ।
রমজানকে সামনে রেখে আমরা যে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারি তার কয়েকটি হলঃ এক. গুনাহ ছেড়ে দেওয়া। আমার দ্বারা যদি কোন গুনাহ হতে থাকে তাহলে তা ছেড়ে দিতে হবে এবং একনিষ্ঠ ভাবে আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা করতে হবে। তাওবা অর্থ আল্লাহ তাআলার দিকে ফিরে যাওয়া। তাওবা তিন জিনিসের নাম। ১. পূর্বের গুনাহ ছেড়ে দেওয়া। ২. পূর্বের গুনাহের উপর লজ্জিত হওয়া। ৩. ভবিষ্যতে তার উপর দৃঢ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া। দুই. বেশী বেশী তওবা-ইস্তেগফার করা। তিন. জান্নাত-জাহান্নাম এবং মৃত্যুর কথা বেশি বেশি স্মরণ করা।
চার. রোজা, ইফতার ও সাহরীর মাসআলা-মাসায়েল সমূহ ভালোভাবে জেনে নেয়া, যাতে করে অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে আমার রোজা নষ্ট হয়ে না যায়। পাঁচ. নিত্যপয়োজনীয় পণ্য-সামগ্রী ও অর্থকরি আগে থেকে যথাসম্ভব মজুদ করে রাখার চেষ্টা করা। যাতে করে রমজানে শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। ছয়. রমজানের আগের মাস গুলিতে, বিশেষ করে রজব ও শাবান মাসে কিছু কিছু রোজা রেখে রমজানের জন্য শরীর এবং মনকে অভ্যস্ত করা। সাত. যে সকল আসবাব-সামগ্রী দ্বারা গুনাহ ও পাপ কাজ সংঘটিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলি নিজের কাছ থেকে সরিয়ে ফেলা। আট. যে সকল কাজ করলে আমলের প্রতি আগ্রহ বাড়ে সেগুলি করা। নয়. নিজের পরিবার ও সন্তানাদিকে রোজা রাখার জন্য প্রস্তুত করা। দশ. রমজান ও রোজার ফাজায়েল সমূহ পরস্পরের মাঝে বেশি বেশি আলোচনা এবং পর্যালোচনা করা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে রমজানের পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করে রোজাগুলো আদায় করার তাওফিক দান করুন ।রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের সুসংবাদ নিয়ে বছর ঘুরে রমজান আমাদের দুয়ারে সমাগত। মুক্তি ও কল্যাণের অভিসারীগণ এ মাসকে তাদের পরকালীন মুক্তির ওসীলা হিসাবে স্বাগত জানায়। তাই রমজানের এক মাস পূর্বে শা‘বান মাস থেকেই তাদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। শা‘বানের প্রথমার্ধেই তারা নফল জিয়ামের অভ্যাস শুরু করে দেয়। অতঃপর রমজানের আগমনে বিপুল উৎসাহে ও গভীর ভালবাসা নিয়ে ফরয সিয়াম শুরু করে। সারাদিন সে কেবল খানাপিনা ও যৌন সম্ভোগ থেকেই বিরত থাকে না, বরং জিয়ামকে ত্রুটিপূর্ণ করতে পারে এমন ছোট-বড় সকল কাজ থেকে নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে বিরত রাখে। নিজের অন্তরকে যাবতীয় অসৎ চিন্তা থেকে দূরে রাখে। কারণ, যে হাত-পা ও চক্ষু-কর্ণ এখন তার অনুগত রয়েছে, ক্বিয়ামতের দিন তা স্বাধীন হয়ে যাবে। যদি এদেরকে আমি আল্লাহর আনুগত্যে ব্যবহার না করে শয়তানের আনুগত্যে ব্যবহার করি, তাহ’লে ক্বিয়ামতের দিন এরাই আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবে’ (ইয়াসীন ৩৬/৬৭)। অন্যদের চোখে ধূলা দেওয়া যাবে, কিন্তু এই সাক্ষীরা অবিচ্ছেদ্য। শয়নে-স্বপনে, চলনে-বলনে দিবা-রাত্রি এরা আমার একান্ত সাথী। এদের মাধ্যমেই আমি সবকিছু করি। এদেরকে লুকিয়ে কিছুই করার ক্ষমতা আমার নেই। তাই গোয়েন্দা পুলিশের চাইতে আমি এদেরকে বেশী ভয় করি। দুনিয়াবী আদালতের বিচারকদের চাইতে আমি মহা বিচারক আল্লাহর আদালতকে বেশী ভয় পাই। সেদিন যদি আমার দেহ-ত্বক ও জিহ্বা, আমার হাত-পা, চক্ষু-কর্ণ, আমার যৌনাঙ্গ, আমার হৃদয়, আমার সমস্ত দেহযন্ত্র একযোগে আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়, সেদিন আর কে আছে, যে আমার পক্ষে সাফাই সাক্ষী হবে।
হে যুবক! বার্ধক্য আসার আগে তোমার যৌবনকে, রোগ আসার আগে তোমার সুস্থতাকে, দরিদ্রতা আসার আগে তোমার সচ্ছলতাকে, ব্যস্ততা আসার আগে তোমার অবসরকে, মৃত্যু আসার আগে তোমার জীবনকে তোমার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে নিয়োজিত কর। (হাকেম হা/৭৮৪৬; ছহীহ আত-তারগীব হা/৩৩৫৫; মিশকাত হা/৫১৭৪ ‘রিক্বাক্ব’ অধ্যায়)। তোমার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাক্বওয়াশীল বান্দা ব্যতীত কারো আমল কবুল করেন না (মায়েদাহ ৫/২৭)। রমজান তোমাকে সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। অতএব এসো! আমরা জান্নাতের পথে চলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। এসো! আমাদের জিহ্বাকে সর্বদা আল্লাহর জিকরে ব্যস্ত রাখি। দেহ-মন ঢেলে দিয়ে তাঁর ইবাদতে রত হই। রমজানের রাত্রিগুলিকে আমরা ইবাদতের মাধ্যমে জীবন্ত রাখি। হে মুমিন পুরুষ ও নারী! একবার পিছন ফিরে দেখ, জীবনের ক’টি বসন্ত তুমি পার করে এসেছ? তোমার কাছে প্রেরিত আল্লাহর বাণী আল-কুরআনুল হাকীম তোমার ঘরের তাকে রক্ষিত আছে। ঐ মূল্যবান সম্পদ কি তুমি কখনো পড়ে দেখেছ? কখনো কি তা শেষ পর্যন্ত অর্থসহ পাঠ করেছ? হয়তবা করোনি। অতএব, আর দেরী নয়, সিদ্ধান্ত নাও রমজানেই তুমি কুরআন খতম করবে এবং সারা বছর সাধ্যমত দৈনিক কিছু অংশ অর্থসহ তেলাওয়াত করবে। আখেরাতের অমূল্য পাথেয় সহীহ হাদীসের সংকলনগুলি খরীদ কর ও তা থেকে মুক্তা আহরণ করে পরকালের পাথেয় হাছিল কর। মনে রেখ, কুরআন তার পাঠক ও আমলকারীর জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুফারিশকারী হবে। (মুসলিম হা/৮০৪; মিশকাত হা/২১২০ ‘ফাযায়েলুল কুরআন’ অধ্যায়)।
হে মুমিন! সর্বদা হালাল রুজি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নাও। আর তোমার আয়ের একটি অংশ আল্লাহর বিশুদ্ধ দ্বীনের প্রচার ও প্রসারে ব্যয় কর। নইলে সম্পদের মূল মালিক আল্লাহর কাছে তুমি কিভাবে জবাবদিহি করবে? তোমার সম্পদের একটি অংশ দুস্থ মানবতার সেবায় ব্যয় কর। আল্লাহ তার অনুগ্রহের হাত তোমার দিকে বাড়িয়ে দিবেন। হে শক্তিমান! তুমি শক্তিহীনের উপরে জুলুম করো না। জুলুম ক্বিয়ামতের দিন তোমার জন্য অন্ধকার হয়ে দেখা দিবে। (মুসলিম হা/২৫৭৮; মিশকাত হা/১৮৬৫ ‘জাকাত’ অধ্যায়)।
হে ব্যবসায়ী! রমজানকে তুমি তোমার ব্যবসায়ের হাতিয়ারে পরিণত করো না। বরং রমজানের বরকত হাছিলের স্বার্থে অন্য সময়ের চাইতে কিছু কম লাভ কর। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্রেতার উপরে জুলুম করে যে কয়টা পয়সা তুমি বেশি উপার্জন করবে, ঐ হারাম পয়সা ক্বিয়ামতের দিন বিষধর সর্পের আকারে তোমার গলায় বেড়ী দিয়ে দু’চোয়াল চেপে ধরে বলবে, আমিই তোমার মাল, আমিই তোমার সম্পদ’ (বুখারী হা/১৪০৩; মিশকাত হা/১৭৭৪ ‘জাকাত’ অধ্যায়)।
হে সুউচ্চ প্রাসাদের অধিবাসী! অহংকার করো না। অতি সত্বর তোমাকে ভূগর্ভের অন্ধকার কবরে স্থান নিতে হবে। হে বিচারক! অবিচার করো না। তোমাকে বিচার করবেন যিনি, তিনি তোমার মাথার উপরে আছেন।
হে আলেম! তাক্বওয়া অর্জন করুন। তাক্বওয়াহীন আলেম মূর্খের চেয়েও ক্ষতিকর। হে নেতা! লাখো কোটি মানুষের ভাল-মন্দের দায়িত্ব আপনার উপরে। যদি আপনি দায়িত্ব পালনে খেয়ানত করেন, তাহ’লে আপনার জন্য জান্নাতকে হারাম করা হয়েছে (মুসলিম হা/১৪২)।ইসলাম মানবতা ও শান্তির ধর্ম। পৃথিবীতে অন্যকোন ধর্ম মানুষকে এতগুলো নীতি আদর্শের শিক্ষা দেয়নি। ইসলাম মানুষকে দিয়েছে মানুষের মর্যাদা এবং সুষ্ঠ সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার। ইসলাম মানুষকে বিপদ ও অশান্তি থেকে মুক্তির পথ প্রদর্শন করে। ইসলাম পার্থিব শান্তি ও কল্যাণের পথও নির্দেশ করে। ইসলাম ঐ অদ্বিতীয় ধর্ম যাতে মানবজীবনের সকল ক্ষেত্রের স্বার্থরক্ষা এবং মানবজাতির সকল শ্রেণির যথার্থ শান্তি ও কল্যাণের পথনির্দেশ রয়েছে। ইসলামের শিক্ষা ও বিধানের অনুসরণেই রয়েছে মানুষের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন এবং সামাজিক জীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবনের শান্তি, স্বস্তি, নিরাপত্তা ও প্রশান্তির নিশ্চয়তা।
ইসলাম শান্তির ধর্ম যা আখিরাতের নাজাত ও শান্তির পথ প্রদর্শন করে। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী আপন আকিদা-বিশ্বাস দুরস্ত করা, আল্লাহর হক ও বান্দার হক সম্পর্কে জানা ও তা আদায় করা, সব রকমের গোনাহ ও পাপাচার থেকে থেকে বিরত থাকা। ইসলামের মর্মবানী অনুধাবনের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও সমর্পণ, খোদাভীতি ও আখিরাতের জবাবদিহিতা এবং মৃত্যু পর্যন্ত ইসলাম-নির্দেশিত পথে থেকে আখিরাতের চিরস্থায়ী শান্তির উপযুক্ত হওয়া।
ইসলাম আল্লাহ প্রেরিত সর্বশেষ ধর্ম। যা মানবতার সর্বশেষ আশ্রয়। শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মানবতা যখন নিষ্পেষিত, মানুষের জান-মাল ও ইজ্জত- আব্রু যখন লুণ্ঠিত হচ্ছিল, আরবের মরু বিয়াবান যখন অশান্তির আগুনে জ্বলছিল, শোষক পূঁজিপতিদের হাতে যখন দীন-হীন মানুষ গরু-ছাগলের মত বিক্রি হচ্ছিল, তখন সেখানে আল্লাহর পক্ষ থেকে অহি-র বিধান নিয়ে আগমন করেন বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাল্লালল-হু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। যাতে ভূলুণ্ঠিত মানবতা পুনরায় উন্নীত হয়। শয়তানের ধোঁকা থেকে মানুষ মুক্ত হয়। পৃথিবী আবার শান্তিময় হয়। প্রজ্ঞাপূর্ণ দাওয়াত, বিজ্ঞানপূর্ণ যুক্তি, বাস্তবসম্মত উপদেশ, সর্বোচ্চ মানবিক আচরণ সবকিছুর সর্বোত্তম নমুনা হিসাবে এসেছিলেন শেষ নবী মুহাম্মাদ (সা.)। তাঁর কথা, কর্ম ও আচরণ সবই ছিল মানবতার পক্ষে ও পশুত্বের বিপক্ষে।
যুগে যুগে সকল নবী-রাসূলগণের প্রেরন করার মূল উদ্দেশ্য ছিল দাওয়াত ও মানুষের কল্যান। প্রথম মানব হযরত আদম আ. থেকে অসংখ্য পয়গম্বরের মাধ্যমে আল্লাহর যে বাণী মানবজমিনে বপিত, অঙ্কুরিত ও বিকশিত হয়ে এসেছিল কালক্রমে তারই পরিপূর্ণ ও কালজয়ী রূপ নিয়ে দুনিয়াতে এসেছিল এই ইসলাম। শেষ নবী ও বিশ্বনবী আরবের হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। নবী মুহাম্মদ (সা.) কে সকল মানব জাতির জন্য রহমতস্বরুপ প্রেরন করেছেন। মানুষের মুক্তি ও হেদায়েতের জন্য ওনার কাছে দীর্ঘ ২৩ বছরে নাযিল করেছেন মহা গ্রন্থ আল কুরআন। এই কোরআন ইসলামকে, ইসলামের নবীকে ও মুসলিম উম্মাহকে এমন এক অনন্য বিশিষ্টতায় সমুজ্জল করেছে যার কোনো তুলনা হয় না।
ইসলামে অন্যায় অনাচার, অশ্লীলতা, জুলুম-অবিচার হিংস্রতা ইত্যাদিকে নিষিদ্ধ করেছেন। ইসলাম মানুষকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা প্রদান করেছেন। ইসলামের সাথে কোন ধর্মের সংঘাত নেই। ইসলামের সংঘাত মিথ্যার বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অসত্যের বিরুদ্ধে, অমানবিকতার বিরুদ্ধে, অশান্তির বিরুদ্ধে। ইসলাম মানুষের সর্বোচ্ছ অধিকার নিশ্চিত করেছেন। ব্যক্তিজীবন, সমাজজীবন, রাস্ট্রীয় জীবন কিভাবে পরিচালিত করতে হবে তার যথাযত শিক্ষা দিয়েছেন। ইসলাম ধর্মে মানুষের দাসত্বের বদলে আল্লাহর দাসত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সমস্ত মানুষ সবাই এক আদমের সন্তান হিসাবে পরস্পরের সহযোগী ভাই ভাই। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক বলেন, ‘আর (অহঙ্কারবশত) মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং ঔদ্ধত্যের সাথে পৃথিবীতে চলাফেরা করো না। আল্লাহ কোনো অহঙ্কারী ও দাম্ভিককে পছন্দ করেন না। (সূরা-লুকমান : ১৮)।
ইসলামের আকিদা-প্রসঙ্গ হোক বা ইবাদত, লেনদেন হোক বা সামাজিকতা, স্বভাব-চরিত্র হোক বা আচার-আচরণ, সৎকাজের আদেশ হোক বা অসৎকাজের নিষেধ এককথায় মানবজীবনের সব বিষয়ে ইসলামের যে বিশ্বাস ও বিধান তা গ্রহণ ও অনুসরণের মূল প্রেরণা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতের নাজাত। এ কারণে ইসলামের করণীয়-বর্জনীয় সব বিষয়ের সাথে যে পরিভাষাগুলো জড়িত তা হচ্ছে সওয়াব ও গুনাহ, জান্নাত ও জাহান্নাম, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, তোমাদের কাছে আল্লাহর নিকট থেকে এসেছে এক জ্যোতি ও স্পষ্ট কিতাব। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চায় এ দ্বারা তিনি তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং অন্ধকারসমূহ থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন নিজ ইচ্ছায়। আর তাদের পথ দেখান সরল পথ। (সূরা মাইদা (৫) : ১৫-১৬)।দোজাহানের খালিক মালিক সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহতায়ালাই আমাদের মহান ¯্রষ্টা ও প্রতিপালক। একমাত্র তিনিই আমাদের মহাপ্রভু। সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহতায়ালা মনোনীত একমাত্র ধর্ম শান্তির ধর্ম মহাপবিত্র ইসলাম। মহান ¯্রষ্টা মালিক আল্লাহ মনোনীত ধর্ম ইসলামী আইনের উৎস চারটি ১. ক্বোরআন, ২. হাদিস, ৩. ইজমা, ৪. কিয়াস। কালামউল্লাহ আলক্বোরআন আল্লাহর বানী। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক ও প্রচারক আখেরী নবী, হাবিবে আল্লাহ মহামানব মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে ফেরেশতা জিবরাইল (আঃ) মারফত আল ক্বোরআন নাজিল হয়। মানব জাতির উদ্দেশ্যে মহাপ্রভু মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন- “ইকরা” পাঠ কর । জ্ঞান বিজ্ঞানের মূল উৎস এই ক্বোরআন। মানব জাতির সামগ্রিক কল্যানের জন্য মহান আল্লাহতায়ালা এই মহাগ্রন্থ নাজিল করেছেন। ইসলাম একটি পূর্নাঙ্গঁ জীবন বিধান। আল ক্বোরআনের সূরা আন আম এর ৩৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন “আমি এ গ্রন্থে কোন কিছুর আলোচনা বাকি রাখিনি” আল ক্বোরআনের দিল বলে খ্যাত সুরা ইয়াছিন এ পবিত্র ক্বোরআনকে ক্বোরআনিল হাকিম বিজ্ঞানময় ক্বোরআন বলা হয়েছে। জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার উপর গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহ পাক ক্বোরআনের ১৬৪ নম্বার আয়াতে আরো বলেন-“নভোমন্ডল ও জমিন সৃষ্টিতে, দিবানিশির পরিবর্তনে এবং যা মানুষের কল্যানের বস্তুসহ সমুদ্রে বিচরনশীল জাহাজ ও আকাশ থেকে আল্লাহ যে বারি বর্ষন করেন উহা দ্বারা মৃত প্রায় ভূমিকে পূনর্জীবন দান ও তার সকল প্রানীকূলের বিচরন ও বায়ুর দিক পরিবর্তন, আকাশ ও পৃথিবীতে মেঘের গমনাগমনে জ্ঞানীদের জন্য নির্দেশনা রয়েছে”। ইসলামী ফাউন্ডেশনের প্রাক্তন মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজল এই প্রেক্ষিতে প্রসঙ্গঁ ক্রমে বলেন- “বর্তমান জ্ঞান বিজ্ঞানের এ উৎকর্ষতার যুগে আল ক্বোরআনের বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব গুলোএকত্রিত করে অনুসন্ধিৎসু পাঠকের সামনে প্রকাশ করা অতীব গুরুত্বপূর্ন কাজ। এ কাজটি আঞ্জাম দেয়ার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১৯৮৫ সালে “
প্রখ্যাত পরমানু বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. শমশের আলীর নেতৃত্বে দেশের প্রথিতযশা পন্ডিতবর্গের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ১৯৯০ সালে এ গ্রন্থটি প্রথম ইংরেজী সংস্করন প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে সমাদৃত হয়েছে। বাংলাভাষি বৃহৎ জনগোষ্টির চাহিদার প্রেক্ষিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর বাংলা সংস্করন ।

Correspondent March 18, 2026
Share this Article
Facebook Twitter Whatsapp Whatsapp LinkedIn Email Copy Link Print
Previous Article বিজ্ঞানের আলোকে রমজান
Next Article চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে রোজা
আরো পড়ুন
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনা করছেন

By সিনিয়র করেস্পন্ডেন্ট 7 hours ago
খুলনামহানগর

সরকার জরুরি ভিত্তিতে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করেছে– কেসিসি প্রশাসক

By সিনিয়র করেস্পন্ডেন্ট 7 hours ago
খুলনামহানগর

সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে তোয়াক্কা না করে গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে–মাওলানা আবুল কালাম আজাদ

By সিনিয়র করেস্পন্ডেন্ট 7 hours ago

দিনপঞ্জি

April 2026
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
« Mar    

এ সম্পর্কিত আরও খবর

সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ঝরে যাচ্ছে আম চাষিদের স্বপ্ন

By Correspondent 10 hours ago
সাতক্ষীরা

তালায় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

By জন্মভূমি ডেস্ক 15 hours ago
সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা বরসা এনজিওর ফাঁদে হাজার কোটি টাকা ,পাওনাদাররা কাঁদবে আর কতদিন

By Correspondent 20 hours ago

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

রেজি: কেএন ৭৫

প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল

অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক: আলি আবরার

প্রকাশক: আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত

ইমেইল– janmokln@gmail.com           অনলাইন নিউজরুম-০১৬১১৬৮৮০৬৪        রফিকুজ্জামান বার্তা কক্ষ ০৪১-৭২৪৩২৪

Developed By Proxima Infotech and Ali Abrar

Removed from reading list

Undo
Welcome Back!

Sign in to your account

Lost your password?