
মোঃ এজাজ আলী : নগরীর বিভিন্ন স্থানীয় এলাকার দোকানে দোকানে ঝুলতে দেখা যাচ্ছে মানহীন মুখরোচক শিশু খাদ্যসামগ্রী। যা শিশুদের চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলছে। এই সকল মানহীন শিশুখাদ্যের গায়ে যথারীতি বিএসটিআইএর প্রতীক ব্যবহার করেছে বিভিন্ন বেনাফম কোম্পানী। মানহীন শিশুখাদ্যেগুলোর মধ্যে রয়েছে আকর্ষণীয় মোড়কে বিভিন্ন চকলেট, চিপস, আচার, আইসবার, টিউব জুস, টিউব এর ভেতর বিভিন্ন প্রকার তরলীকৃত চকলেটও। ওইসব শিশুখাদ্যের মোড়কে লেখা নেই ব্যচ নং, উৎপাদ, মেয়াদ বা খুচরা মূল্যও। অল্প বিনিয়োগে অধিক লাভের আশায় নগরীর স্থানীয় এলাকার ব্যবসায়ীরা পাইকারী বাজার হতে ক্রয় করে দোকানে দোকানে ঝুলিয়ে বিক্রি করছে। নানা রাসায়নিক প্রয়োগ করে তৈরি করা হচ্ছে ওই সকল নামবিহীন শিশু খাদ্য, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকির বলে মনে করছেন সচেতন ব্যক্তিবর্গ। তবুও অভিভাবকগণ কোমলমতি শিশুদের আবদার পূরণে হাতে তুলে দিচ্ছেন ওইসকল মানহীন শিশুখাদ্য। মানহীন নিম্নমানের ও ভেজাল শিশুখাদ্য সামগ্রী সহসাই হাতের নাগালেই পাওয়ায় শিশুরা দিনজুড়ে দৌঁড়ঝাপ শুরু করে স্থানীয় দোকানগুলোতে। যা শিশুদের স্বাস্থ্য ও খাদ্যের প্রতি অনীহা সৃষ্টি করে বরে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ওইসব মানহীন ভেজাল নিম্নমানের খাদ্য বন্ধে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআইএর ভেজাল বিরোধী অভিযান চললেও থামছেনা যত্রতত্র মানহীন শিশুথাদ্য বাজারজাতকরন বা বিক্রি। যে কারনে ওইসব শিশুথাদ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরননের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। পাশাপাশি মানহীন ভেজাল ও নিম্নমানের শিশুখাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরন বন্ধে সংশ্লিষ্ট উর্ধৃতন কর্র্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অনুপ জানান, শিশুদের বাড়তি খাবারের প্রয়োজন আছে। কিন্তু বাজারের মানহীন খোলা খাবার না দিয়ে বাড়িতে তৈরি পুষ্টিকর খাদ্য শিশুদের খাওয়ানোর অভ্যাস করাতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের শাক-সব্জির প্রতি আগ্রহ গড়ে তুলতে হবে। সেক্ষেত্রে মায়েদের বেশ যত্নশীল হওয়া দরকার। পথচারী আতিক জানান, শিশুর জন্য বাজার থেকে তরল দুধ কিনে আনি। আমাদের নৈতিকতার এতটাই অবক্ষয় হয়েছে যে শিশুখাদ্যে ভেজাল দিতে মন কাঁপছে না। বাড়তি লাভের জন্য পানি মেশানোর পাশাপাশি ফ্যাট বাড়ানোর জন্য পাউডার দুধও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে শুনেছি। কোথাও স্বস্থি নেই। ভেজালে ভরা সবকিছু।