
জন্মভূমি রিপোর্ট : জলবায়ুর প্রভাবে খুলনা নগরীরত স্থানান্তরিত অভিবাসী ও দরিদ্র পরিবারসমূহের অভিযোজিত জীবন-জীবিকার উন্নয়নে ছাগল পালন প্রকল্প এর অধীনে সদস্যদের ভার্মি কম্পোস্ট তৈরী সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার খুলনার দৌলতপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইন্সস্টিটিউটএ এর আয়োজন করা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট এন্ড কো-অপারেশন (বি এম জেড) এর যৌথ অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ রিজিলিয়েন্ট এন্ড লাইভলিহুড প্রোগ্রামের আওতায় (জিআই জেড) এর আর্থিক সহায়তায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশন রায়েরমহল ১৪ নং ওয়ার্ড এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করে আসছে। সিটি কর্পোরেশনের ৫টি ওয়ার্ডের ৯টি স্লামে নানাবিধ কাজ করছে। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে প্রকল্পটির আওতায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের রায়ের মহল এলাকার জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত ৫৯টি পরিবারকে ২ টি করে মা ছাগল ও ছাগল পালনের জন্য মাচাসহ ছাগলের ঘর প্রদান করে। ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল হাইফার এপ্রোচের মাধ্যমে ৭৫টি পরিবার একটি করে মা ছাগল নতুন ৭৫টি পরিবারকে উপহার হিসেবে প্রদান করে বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ১৩৪ জনে পৌচেঁেছ। এই সকল সদস্যরা জেলা সমবায় কার্যালয়ের অধীনে তরঙ্গ শ্রমজীবি সমবায় সমিতি নামে একটি সমবায়ের নিবন্ধন নিয়ে সঞ্চয় জমা করার পাশাপাশি নানাবিধ কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছে। সমিতির অধীনে তারাএকটিভার্মি কম্পোস্ট শেড তৈরী করে নিয়মিত বাজারজাত করণের ব্যবস্থা চালু করেছে। এদের মধ্যে অনেকেই ছাগল বিক্রির টাকা দিয়ে গরু ক্রয় করেছে এবং ছাগলের পাশাপাশি গরু পালন করছে। গরুর ও ছাগলের বর্জ্য থেকে তারা যাতে ভার্মি কম্পোস্ট প্রস্তুত করতে পারে, সেজন্য এই ট্রেনিং-এর আয়োজন করা হয়। ভার্মি কম্পোস্ট মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে, চাষাবাদে খরচ কমায় ও উৎপাদন বাড়ায়, বাড়ির আঙ্গিনায় অল্প জায়গায় দৈনন্দিন আর্বজনা হতে জৈব সার প্রস্তুত হয়ে থাকে। একই সাথে পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ভার্মি কম্পোস্ট বিক্রয় করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি নিজেরা বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষে এই সার ব্যবহার করে লাভবান হতে পারে।
প্রশিক্ষক ছিলেন কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান। প্রকল্প ম্যানেজার সোহেলী সুলতানা ও ফিল্ড সুপার ভাইজার উজ্জ্বল সানা ।