
খুলনায় পৃথক দু’টি দুর্নীতি মামলায় দুই ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেছেন আদালত। এরমধ্যে একজনকে দুটি ধারায় ১০ বছর এবং অপর একটি মামলায় অপরজনকে দু’টি ধারায় ৬ বছরের সশ্রম করাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ একই আদালতে দুই মামলায় দুইজনকে মোট ১৬ বছর কারাদন্ড দেওয়া হয়। একই সাথে তাদের বিভিন্ন অর্থ দন্ড দেওয়া হয়।
আজ সোমবার খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো: আশরাফুল ইসলাম পৃথক দুটি দুর্নীতি মামলায় এ রায় প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের একজন পলাতক রয়েছে।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো: ইয়াছিল আলী।
আদালতে দাখিল করা এজাহারের প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর বাগেরহাট জেলার খালিশপুর গ্রামের বাসিন্দা কুটিশ^র অধিকারীর ছেলে কল্যাণ অধিকারী একটি বাড়ি একটি খামার সরকারি প্রকল্পের মাঠ সহকারী কর্মচারী হিসেবে যোগদান করেন। চাকারীর সাধারণ শর্ত অনুযায়ি দল গঠন করে সরকারি অর্থ আদায় করা এবং বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১৩ টি গ্রাম সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে সঞ্চয়, ঋণ বিতরণ ও ঋণ আদায়সহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল।
২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর দুপুর ২ টার দিকে অফিসাল কাজের কথা বলে অফিস ত্যাগ করে। এরপর বিকেল ৫ টার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ওই দিন খালিশপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য শিরিষ হালদার ফিল্ড সুপার ভাইজার মিহির কুমার বাগচীকে ফোন করে জানায় কল্যান অধিকারী স্বপরিবারে এলাকা ত্যাগ করেছে।
ফলে কর্মচারী কল্যান অধিাকারী তার কর্ম এলাকা থেকে টাকা আদায় করে সেই হারে জমা করেন নি। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করা হয়। গত ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর ঘটনার তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ১৩ টি সমিতির সদস্যদের বাড়ি গিয়ে ঋণ ও সঞ্চয় পরিশোধের হিসাব যাচই করে।
সেখানে দেখা যায় সঞ্চয় আদায় ও ঋণ পরিশোধের তথ্য অনুযায়ি দলওয়ারীর ঋণ পরিশোধ প্রতিবেদন তৈরি পূর্বক প্রকল্পের ব্যাংক জমা যাচাই করে দেখা যায় ৬ লাখ ৮২ হাজার ৬১৭ টাকা আত্মসাৎ করে। গত ২০১৮ সালের ২১ মে এ ঘটনায় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের বাগেরহাট সদর উপজেলার সমন্বয়কারী মো: ইলিয়াস খান বাদী হয়ে বাগেরহাট সদর থানায় মামলা দায়ের করেন, যার নং ১৯।
মামলাটি তদন্ত করেন দুদক সজেকা, খুলনার প্রাক্তন উপসহকারী পরিচালক মোহা: মোশাররফ হোসেন। তিনি ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ তদন্ত শেষে কল্যাণ অধিকারীকে আসামি করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। ২০২২ সালের ১৯ জুলাই বিচারক ওয়াহিদুজ্জামান শিকদারের আাদলতে চার্জ গঠন করা হয়।
আজ সোমবার দুপুরের খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো: আশরাফুল ইসলাম এ মামলার রায়ে আসাসি কল্যান অধিকারীকে ৪০৯ ধারায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেন। একই সাথে তাকে ৬ লাখ ৮২ হাজার ৬১৭ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। অপদিকে ৪২০ ধারায় তাকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ডসহ ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারদন্ড প্রদান করা হয়।
৬ বছরের কারাদন্ড
এদিকে খুলনার বানরগাতি সিটি গার্লস কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রদর্শক মো: ওমর ফারুক অন্যায়ভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদেশ্যে বিএসসি (পাশ) নম্বরপত্র জালিয়াতি এবং প্রতারণার মাধ্যমে ব্যবহার করে ১৯৯৮ সালের ১ জুলই থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ওই কলেজের প্রদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
কর্ম কালীন সময়ে বেতন ভাতাদি বাবদ ১৩ লাখ ২২ হাজার ৫৭০ টাকা উত্তোলন পূর্বক আত্মসাৎ করেন। ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় খুলনার উপসহকারী পরিচালক রাজ কুমার সাহা মামলা দায়ের করেন। ২০১৯ সালের ১৮ মার্চ মামলাটি তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন সহকারী পরিচালক মো: ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। বিভাগীয় স্পেশাল জজ, খুলনা বিভাগ, খুলনা বিচারক জিয়া হায়দারের আদালতে গত ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি চার্জ গঠন করা হয়।
আজ সোমবার দুপুরে এ অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ওমর ফারুককে দু’টি বিভিন্ন ধারায় ৬ বছরের সশ্রম করাদন্ড প্রদান করেন একই আদালত। একই সাথে ১৩ লাখ ২২ হাজার টাকা জরিমানা করেন খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক আশরাফুল ইসলাম। রায় প্রদানকালে আসামি ওমর ফারুক আদালতে উপস্থিত ছিলেন।