
২৪ ঘন্টায় ২৩ রোগী ভর্তি
জন্মভূমি রিপোর্ট : রাজধানীতে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু রোগ খুলনা বিভাগেও উদ্বেগজনক হারে দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয় ২৩ জন। আক্রান্তের দিক থেকে নড়াইল এবং যশোর জেলা রয়েছে শীর্ষে। গেল ২৪ ঘন্টায় নড়াইল জেলায় আক্রান্ত হয় ৬ জন। এসময়ের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় ৪ জন, বাগেরহাট জেলায় ৫ জন, সাতক্ষীরা জেলায় ৩ জন, কুষ্টিয়ায় ১ জন, ঝিনাইদহ ২ জন ও মাগুরা জেলায় ১ জন। গত ১৫ দিনে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৫ জন রোগী। বৃহস্পতিবার খুলনা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয় ১ জন। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর সংখ্যা দ্বিগুণ আকারে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় খুমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৩২টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ হাসপাতালে গতকাল পর্যন্ত ভর্তি আছেন ১৯ জন রোগী। যার ১৫ জন পুরুষ এবং ৪ জন মহিলা।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয় ২৩ জন। চলতি বছর জুন মাস থেকে বিভাগের সরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তি হতে শুরু করে। চলতি মাসে রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। সরকারি এ হিসাব ছাড়াও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন দ্বিগুণ রোগী। সূত্রটি বলছে যশোর এবং নড়াইল জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সব চেয়ে বেশী।
গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা খুলনায় দ্বিগুণ আকারে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে আক্রান্ত হয়ে নগরীর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসছেন। যে সব রোগী হাসপাতালে ভর্তী আছেন তাদের অধিকাংশই ঢাকা এবং চট্রগ্রাম জেলা থেকে আক্রান্ত হয়ে এখানে এসেছেন।
চিকিৎসকরা বলছেন খুলনা জেলার সর্বত্রই এখন মশার উপদ্রব। তবে শুধুমাত্র এডিস মশার কামড়েই ডেঙ্গু রোগ হতে পারে। ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য এডিস মশা রোধ করা এবং এ মশা যেন কামড়াতে না পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা। স্বাধারণত স্বচ্ছ ও পরিস্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত অথবা ড্রেনের পানিতে এরা ডিম পাড়ে না। বিভিন্ন পাত্রে পানি বেধে থাকা, ফুলের টবে জমে থাকা পানিসহ বিভিন্ন জায়গার পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা তাদের বংশ বিস্তার করে থাকে। ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ডেঙ্গু ভাইরাসের দ্বারা এবং এ ভাইরাসবাহিত এডিস ইজিপ্টাই নামক মশার কামড়ে। ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কাউকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। এবার এ আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো জীবাণুবাহী এডিস মশা কামড়ালে সেই মশা ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এ ভাবে একজন থেকে অন্যজনে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে থাকে।
খুমেক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, প্রতিদিন ২ থেকে ৪ জন রোগী হাসপাতালে এসে ভর্তি হচ্ছেন। গত মঙ্গলবার ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১৪ জন, বুধবার ১৭ জন এবং বৃহস্পতিবার ১৯ জন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ জন রোগী।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: রবিউল হাসান বলেন, গত কয়েক দিন ধরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। অনেকেই এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১৯ জন রোগী ভর্তী আছেন। রোগীদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ এবং ৪ জন মহিলা। তিনি বলেন, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর জন্য পৃথক কোন ওয়ার্ড নেই। তারা করোনা ওয়ার্ডেও থাকতে চায় না। এজন্য দ্রুত একটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন অনেকেই এসেছেন ঢাকা থেকে জ্বর নিয়ে। পরে তাদের পরীক্ষার পর ডেঙ্গু রোগের জিবানু ধরা পড়ে। এ জ্বরের লক্ষণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এ জ্বর হলে প্রচন্ড মাথাব্যাথা, শরীরে এবং চোখের পেছনে ব্যথা করবে। জ্বর সাধারণত দু’দিন থাকার পর শরীরে বিভিন্ন স্থানে লাল দানা দেখা দেবে। পানি শুন্যতা দেখা দেয়। কারো কারো ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। ওপরের পেটে পানি চলে আসতে পারে।
খুলনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, খুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা জুলাই মাস থেকে বেড়েই চলেছে। বৃষ্টির পরিমাণও বেড়েছে। আগামী মাসেও রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এখন থেকে জেলার সকলকেই সচেতন হতে হবে। তা না হলে ডেঙ্গু করোনার মত ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তিনি বলেন, খুলনা সদর হাসপাতালে বৃহস্পতিবার একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা: মো: মনজুরুল মুরশিদ দৈনিক জন্মভূমিকে বলেন, বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। প্রতি ঘন্টায় আক্রান্ত হচ্ছে ১ জন। তবে জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশী আক্রান্তের সংখ্যা যশোর এবং নড়াইল জেলায়। এ রোগ হলে প্রথমে জ্বর এবং পরে রোগীর ব্যাপক ভাবে পানি শুন্যতা দেখা দেয়। আগে ডেঙ্গু রোগ হলে ব্লিডিং বেশী দেখা দিত। সে ধরণ পাল্টিয়েছে। সেরোটাইপ পরিবর্তনের ফলে উপসর্গেরও পরিবর্তন ঘটে। তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য মেডিসিনের পাশাপাশি খাবার স্লাইনসহ ইন্টার ভেইন (আইভি) স্লাইন দেয়া হয়।