
হুমায়ুন কবির, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় শীতকালীন পেঁয়াজের আবাদে লক্ষ্যমাত্রা থেকেও ১ হাজার ১১২ হেক্টর জমিতে বেশি পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা করছে স্থানীয় কৃষকরা।
চলতি বছরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় কৃষকরা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার আশঙ্কা করছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে ,পেঁয়াজের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমি। স্থানীয় কৃষকরা পেঁয়াজ আবাদে বেশি ঝুঁকে পড়ার কারণে আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ১৭ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রা থেকেও ১ হাজার ১১২ হেক্টর জমি বেশি।
উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ওসমানপুর ইউনিয়নে ৭৬৬ হেক্টর জমিতে। এছাড়াও জানিপুর ইউনিয়নে ৭৩১ হেক্টর , বেতবাড়িয়া ইউনিয়নে ৫৯১ হেক্টর, জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নে ৫৬৯ হেক্টর, শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৪৬৫ হেক্টর, পৌরসভায় ২৬০ হেক্টর, শোমসপুর ইউনিয়নে ২৬৮ হেক্টর, খোকসা ইউনিয়নে ১৫৪ হেক্টর, গোপগ্রাম ইউনিয়নে ১০৫ হেক্টর ও আমবাড়িয়া ইউনিয়নে ৬৩ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে।
এদিকে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের কৃষক রেজাউল করিম বলেন, উচ্চমূল্যে পেঁয়াজের চারা উৎপাদন, জমি চাষ, বাজার দর থেকে থেকে অতিরিক্ত মূল্যে রাসায়নিক সার ক্রয় , পেঁয়াজের সেচ কাজে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় ও কৃষি শ্রমিকের চড়া মূল্য হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় দ্বিগুণ হয়েছে।
চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের উৎপাদন বিঘা প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ মন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
এক বিঘা জমির উৎপাদিত পেঁয়াজের মূল্যে উৎপাদন ব্যয় সংকুলন হয় না বলে জানালেন স্থানীয় কৃষকরা। ফলে পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষকদের লাভের চেয়ে লোকসান পাল্লা বেশি।
উপজেলার উত্তর শ্যামপুরের কৃষক কালাম মন্ডল বলেন, আমার কোন নির্দিষ্ট জমি নেই, অন্যের জমি চর্চা নিয়ে দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ লাগিয়েছি । কৃষি অফিস থেকে কোন সহায়তা পায়নি। খরচ বাদে পেঁয়াজের দাম থাকলে আমরা লাভবান হতে পারব।
কৃষক উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, আড়াই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ লাগিয়েছি। ফাল্গুন চৈত্র মাসে পেঁয়াজের মূল্য ২৫০০ টাকা থাকলে আমরা লাভবান হব। কিন্তু বর্তমানে যে পেঁয়াজের মূল্য এতে আমাদের লোকসান হবে। কারন আমরা কৃষি অফিস থেকে কোন সহায়তা পায়নি। এক সপ্তাহ পর এক বিঘা জমিতে বারোশো টাকার ওষুধ লাগে।
আরেক কৃষক নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আমাদের এই মাঠে সবাই পেঁয়াজ আবাদ করেছি। বর্তমান মূল্য বাজার থাকলে আমাদের মত কৃষকদের লোকসান হবে। যদি আমাদের এ বছর লোকসান হয় আমরা অন্য ফসল আবাদ করব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার পেঁয়াজের বীজ ও রাসায়নিক সার বিনানূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।
উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি প্রশিক্ষণ প্রদান করায় কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রা থেকেও অধিক জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছে। পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের আশা করছি আগামীতে। আশা করি কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য স্থানীয় কৃষকরা পাবে।

