
ডেস্ক রিপোর্ট : বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মমিনুল হক টুলু বিশ্বাসের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে সর্বস্তরের মানুষ মানববন্ধন করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারী) সকাল সাড়ে ১০টায় থানা রোডে এ মানববন্ধন হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী নারী-পুরুষের উপর হামলা চালায়। হামলায় কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
আহতরা হলেন, শীতল মন্ডল (৬২), সুরেন মজুমদার (৬৫), হাসিবুল বিশ্বাস (৫০), জানজার শেখ (৪৫) ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জানুয়ারী বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠন বিরোধী কর্মকাÐে জড়িত থাকার জন্য চিতলমারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মমিনুল হক টুলু বিশ্বাসকে দল থেকে বহিস্কার করেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় থানা রোডে মমিনুল হক টুলু বিশ্বাসকে স্বপদ বহালের দাবিতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ মানববন্ধন করেন। এ সময় প্রতিপক্ষের কিছু লোক মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী নারী-পুরুষের উপর নির্বিচারে হামলা চালান।
হামলায় আহতরা বলেন, মমিনুল হক টুলু বিশ্বাস বিএনপির নিবেদিত প্রাণ। সে ৩৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। বিগত ১৬ বছরে সে অসংখ্য মামলা, হামলা ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর থেকে তাঁর স্ত্রী ও শিশু সন্তানরাও রেহাই পাননি। আজ দলের সুদিনের সময় কেন তাঁকে বহিস্কার করা হলো তা আমরা জানি না। বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের কাছের আমাদের আবেদন মমিনুল হক টুলু বিশ্বাসকে স্বপদে বহাল করা হোক।
মমিনুল হক টুলু বিশ্বাস জানান, যে বা যারা কেন্দ্রীয় নেতাদের ভুল বুঝিয়ে আমাকে বহিস্কার করেছে তাদের বিচার আল্লাহর উপর দিলাম। আমার বিচারের ভার তারেক রহমানের কাছে দিলাম। আমি আশা করি দল আমার উপর অন্যায় করবে না।
চিতলমারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হাসান অপু বলেন, উপজেলা বিএনপির কোন নেতাকর্মি মানববন্ধনে হামলার সাথে জড়িত নয়। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরে এসেছি।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মানববন্ধনে কে বা কারা এসে বাধা দিয়েছে। ওখানে একটু হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আমরা, সেনাবাহিনী ও পুলিশ মিলে শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি।

