
সিরাজুল ইসলাম, শ্যামনগর: মুমিনের ইবাদতের কিছু বিশেষ মৌসুম রয়েছে। যে মৌসুমগুলোতে একজন মুমিন অল্প আমলেও অধিক সাওয়াবের অধিকারী হতে পারেন। তার মধ্য থেকে একটি অন্যতম মাস হলো রজব মাস। আর শুক্রবার সপ্তাহের সেরা দিন। জুমা নামে পবিত্র কুরআনে একটি সুরা রয়েছে। আর ইসলামের দৃষ্টিতে জুমার দিনটি অনেক বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ।মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা এ দিনকে অন্যান্য দিনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। পবিত্র কোরআন ও হাদীসে জুমার দিনের বহু ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।আল্লাহ তায়ালা এই দিনের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন‘মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর ইবাদতের জন্য দ্রুত যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বোঝ।’ (সূরা জুমুআ : ০৯)।
হাদীসে বলা হয়েছে, আব্দুল্লাহ্ ইবনে ইউসুফ (রা.) ও আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন জানাবত (ফরজ) গোসলের মত গোসল করে সালাতের জন্য আগমণ করে, সে যেন একটি উট কোরবানী করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমণ করে, সে যেন একটি গাভী কোরবানী করল। যে ব্যক্তি তৃতীয় পর্যায়ে আগমণ করে, সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কোরবানী করল। চতুর্থ পর্যায়ে যে আগমণ করে সে যেন একটি মুরগী কোরবানী করল। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমণ করল সে যেন একটি ডিম কোরবানী করল। পরে ইমাম যখন খুতবা প্রদানের জন্য বের হয় তখন ফেরেশতাগণ জিকির শোনার জন্য হাজির হয়ে থাকেন। ইসলামি শরিয়তের বিধানে জুমার দিনের মাহাত্ম্য সীমাহীন। এই দিন মানব জাতির আদি পিতা- হজরত আদম (আ.) এর দেহের বিভিন্ন অংশ সংযোজিত বা জমা করা হয়েছিল বলেই দিনটির নাম জুমা রাখা হয়েছে। জুমার দিনকে আল্লাহ তায়ালা সীমাহীন বরকত দ্বারা সমৃদ্ধ করেছেন। এটি সপ্তাহের সেরা দিন। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, সর্বাপেক্ষা উত্তম ও বরকতময় দিন হচ্ছে জুমার দিন। এই পবিত্র দিনে হজরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং এই দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়। (মুসলিম শরিফ)।
এছাড়াও হাদীস শরিফে জুমার দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন বলে ঘোষণা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, জুমা তোমাদের পারস্পরিক দেখা সাক্ষাত ও সাপ্তাহিক ঈদের দিন। জুমার আগের রাত্রিটিও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। হাদীস শরিফে বলা হয়েছে, জুমার পূর্ববর্তী রাতে বনি আদমের সমস্ত আমল মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে পেশ করা হয়। (বুখারি, আহমদ)। জুম্মার দিন বিশেষ মর্যাদাবান ও তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম কারণ হলো- এ দিনে বিশেষ একটি বরকতময় সময় এমন আছে, বান্দা তখন কল্যাণের যা-ই দোয়া করে আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন। রাসূল সা. প্রশ্ন করলেন, এতে জুম্মার দিনে আমাদের জন্য কী আছে? হজরত জিবরাইল আমিন বলেন, এতে এমন এক সময় রয়েছে, সে সময় কেউ নিজের কোনো নেক মাকসুদ পূরণের জন্য দোয়া করলে তা নিঃসন্দেহে কবুল হয়। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, চতুর্থ খ-, ১৫৫-নং পৃষ্ঠা) হজরত আবু হুরায়রা রা: বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসূল সা: বলেন, ‘অবশ্য জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে তখন কোনো মুসলিম বান্দা আল্লাহর কাছে কল্যাণকর কিছু কামনা করলে অবশ্যই তাকে তা দেয়া হয়’ (বুখারি, মুসলিম)।
পবিত্র জুমার দিনের আদব : জুমা মুসলমানের সাপ্তাহিক ঈদের দিন। এ দিনের অনেক ফজিলত ও গুরুত্বের কথা হাদিসে এসেছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘এটা শুক্রবার, যে দিনের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা আমাদের পূর্ববর্তী জাতি থেকে পৃথক করেছেন। ইহুদিদের জন্য বিশেষ ইবাদতের দিন ছিল শনিবার, খ্রিস্টানদের জন্য ছিল রোববার। যখন আল্লাহতায়ালা আমাদের প্রেরণ করলেন, তখন শুক্রবারকে জুমার দিন হিসেবে পালন করতে নির্দেশ দিলেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৭৯৭)।
জোহরের বদলে জুমা ফরজ : শুক্রবার জোহরের পরিবর্তে জুমার দু’রাকাত নামাজ ফরজ। এটিকে জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। তারিক ইবনে শিহাব (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘ক্রীতদাস, নারী, নাবালেগ বাচ্চা ও অসুস্থ ব্যক্তি ছাড়া সব মুসলমানের ওপর জুমার নামাজ জামাতে আদায় করা অপরিহার্য।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৬৭; মুসতাদরিকে হাকিম, হাদিস : ১০৬২; আস সুনানুল কাবির, হাদিস : ৫৫৮৭)। সালমান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুন্দর করে গোসল করবে, এরপর তেল ব্যবহার করবে এবং সুগন্ধি নেবে, তারপর মসজিদে গমন করবে, দুই মুসল্লির মাঝে জোর করে জায়গা নেবে না, ইমামের সঙ্গে নামাজ আদায় করবে এবং ইমাম যখন খুতবা দেবেন, চুপ করে মনোযোগসহ শুনবে, দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়কার তার সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৯)।
রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে, একটি নুর তার পা থেকে আসমান পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। হাশরের দিনে এ নুর তার জন্য আলো হবে। এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত তার গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (মুসতাদরিকে হাকিম, হাদিস : ২১২৫)। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘হে মুমিনরা! জুমার দিনে যখন (জুমার) নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ছুটে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা অনুধাবন করো।’ (সুরা জুমা, আয়াত : ৯)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিনে যে ব্যক্তি গোসল করে জুমার নামাজের জন্য যায় এবং সামর্থ্যানুযায়ী নামাজ আদায় করে, এরপর ইমাম খুতবা শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে, এরপর ইমামের সঙ্গে নামাজ আদায় করে, তার এ জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (মুসলিম, হাদিস : ২০২৪)। জুমার খুতবার সময় যে অমনোযোগী থাকল বা নিজেকে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখল, সে নিশ্চয়ই মন্দ কাজ করল। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সে জুমার কোনো প্রতিদান পাবে না।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৭১৯)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি খুতবার সময় অপরকে কথা না বলতে বা নীরব থাকতে বলল, সেও জুমায় কোনো প্রতিদান পাবে না।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২০৩৩)।ইসলামের দৃষ্টিতে পবিত্র জুমা ও জুমাবারের রাত-দিন অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ। জুমার দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন বলা হয়েছে। জুমার দিনের সওয়াব ও মর্যাদা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতোই। এ দিন ইসলামী ইতিহাসে বড় বড় ও মহৎ কিছু ঘটনা ঘটেছে। জুমার গুরুত্ব আল্লাহ তায়ালার কাছে এত বেশি যে, কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাজিল করা হয়েছে। আল্লাহ তা’আলা কোরআনে ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের আহ্বান জানানো হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে (মসজিদে) এগিয়ে যাও এবং বেচা-কেনা (দুনিয়াবি যাবতীয় কাজকর্ম ছেড়ে দাও। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর; যদি তোমরা জানতে। (সূরা জুমা- ০৯)।
রাসুল (সা.) একটি হাদিসে বলেছেন, মুমিনের জন্য জুমার দিন হলো সাপ্তাহিক ঈদের দিন। (ইবনে মাজাহ : ১০৯৮)। এক হাদিসে নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে দিনগুলোতে সূর্য উদিত হয়, ওই দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। ওই দিন হজরত আদমকে (আ.) সৃষ্টি করা হয়েছে। ওই দিন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং ওই দিনই তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়। আর ওই দিনই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। (মুসলিম শরিফ : ৮৫৪)। মহানবী (সা.) আরো ইরশাদ করেছেন, জুমার দিন দোয়া কবুল হওয়ার একটি সময় আছে , কোনো মুসলিম যদি সেই সময়টা পায়, আর তখন যদি সে নামাজে থাকে, তাহলে তার যেকোনো কল্যাণ কামনা আল্লাহ পূরণ করেন। (বুখারি : ৬৪০০)।
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ফরজ গোসলের মত গোসল করে প্রথম দিকে মসজিদে হাজির হয়, সে যেন একটি উট কুরবানি করল, দ্বিতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন একটি গরু কুরবানি করল, তৃতীয় সময়ে যে ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ছাগল কুরবানি করল। অতঃপর চতুর্থ সময়ে যে ব্যক্তি মসজিদে গেল সে যেন একটি মুরগি কুরবানি করল। আর পঞ্চম সময়ে যে ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ডিম কুরবানি করল। অতঃপর ইমাম যখন বেরিয়ে এসে মিম্বরে বসে গেলেন খুৎবার জন্য, তখন ফেরেশতারা লেখা বন্ধ করে খুৎবা শুনতে বসে যায়।’ (বুখারি: ৮৮১, ইফা ৮৩৭, আধুনিক ৮৩০)।
দশ দিনের গুনাহ মাফ হয় : জুমার দিনের আদব যারা রক্ষা করে তাদের দশ দিনের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ভালভাবে পবিত্র হল অতঃপর মসজিদে এলো, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শুনতে চুপচাপ বসে রইল, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী এ সাত দিনের সাথে আরো তিনদিন যোগ করে মোট দশ দিনের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। পক্ষান্তরে খুতবার সময় যে ব্যক্তি পাথর, নুড়িকণা বা অন্য কিছু নাড়াচাড়া করল সে যেন অনর্থক কাজ করল।’ (মুসলিম : ৮৫৭)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার সালাতে তিন ধরনের লোক হাজির হয়। (ক) এক ধরনের লোক আছে যারা মসজিদে প্রবেশের পর তামাশা করে, তারা বিনিময়ে তামাশা ছাড়া কিছুই পাবে না। (খ) দ্বিতীয় আরেক ধরনের লোক আছে যারা জুমা’য় হাজির হয় সেখানে দু’আ মুনাজাত করে, ফলে আল্লাহ যাকে চান তাকে কিছু দেন আর যাকে ইচ্ছা দেন না। (গ) তৃতীয় প্রকার লোক হল যারা জুমা’য় হাজির হয়, চুপচাপ থাকে, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে, কারও ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে আগায় না, কাউকে কষ্ট দেয় না, তার দুই জুমা’র মধ্যবর্তী ৭ দিনসহ আরো তিনদিন যোগ করে মোট দশ দিনের গুনাহ খাতা আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দেন।’ (আবু দাউদ: ১১১৩)।
প্রতি পদক্ষেপে এক বছরের নফল রোজা ও এক বছরের সারারাত তাহাজ্জুদ পড়ার সওয়াব অর্জিত হয়: যে ব্যক্তি আদব রক্ষা করে জুমার সালাত আদায় করে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার জন্য পুরো এক বছরের রোজা পালন এবং রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়ার সওয়াব লেখা হয়। জুমার দিনে দোয়া কবুল: জুমার ফজিলতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো, এই দিনে এমন একটা সময় আছে, যখন মুমিন বান্দা কোনো দোয়া করলে মহান আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে একটা এমন সময় আছে, যে সময়ে কোনো মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে ভালো কোনো কিছু প্রার্থনা করলে, অবশ্যই আল্লাহ তাঁকে তা দান করবেন। (সহীহ মুসলিম : ৮৫২, মুসনাদে আহমাদ : ৭১৫১, আস্-সুনানুল কুবরা : ১০২৩৪)।
রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ : ১০৪৭)। এমনিতেই তিরমিজি শরিফের হাদিস অনুযায়ী আমরা জানতে পারি, যে ব্যক্তি দরুদ পাঠ করে আল্লাহ তার ওপর ১০টি রহমত নাযিল করবেন। সুতরাং আমাদের জুমার দিন অন্যান্য আমলের সাথে সাথে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে হবে। জুমার দিন ফজিলতপূর্ণ হওয়ার কারণে তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আমল। মিশে আছে ইসলামের অনেক বিধিবিধান। আমলের সুবিধার্থে সেগুলো ধারাবাহিকভাবে সংক্ষিপ্ত আকারে নিচে উল্লেখ করা হলো;
১. জুমার দিন ফজরের ফরজ নামাজে সুরা সাজদা ও সুরা দাহর/ইনসান তেলাওয়াত করা। ২. জুমার দিন ভালোভাবে গোসল করা। ৩. নিজের সবচেয়ে উত্তম পোশাক পরা। ৪. সুগন্ধি ব্যবহার করা, যদি থাকে। ৫. জুমার নামাজের জন্য আগেভাগে মসজিদে যাওয়া। ৬. শুক্রবার দিন সুরা কাহফ তেলাওয়াত করা। ৭. মসজিদে গিয়ে জুমার নামাজের আগে কমপক্ষে ৪ রাকাত সুন্নত আদায় করা। ৮. জুমার নামাজে ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসা। ৯. মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা। খুতবা চলাকালে কোনো কথা না বলা। ১০. দুই খুতবার মাঝের সময়ে বেশি বেশি দোয়া করা এবং জুমার দিনের অন্য সময়ও দোয়া করা। কারণ এদিনে দোয়া কবুল হয়। আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে জুমার দিনের হক আদায় করার তাওফিক দান করেন। আমিন।জুম্মার গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফজিলত প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন মাজীদে সূরা আল জুমুয়ার ৯ নম্বর আয়াতে দোজাহানের মালিক মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর ইবাদতের জন্য দ্রুত যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বোঝো।’ এ আয়াতের মাধ্যমে জুম্মার নামাজের গুরুত্ব অনুধান করা যায়। জুম্মার নামাজের তাকিদ শুধু পবিত্র কোরআনেই নয় পবিত্র হাদিস শরীফে ও এসেছে। হজরত তারেক ইবনে শিহাব (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ক্রীতদাস, মহিলা, নাবালেগ বাচ্চা ও অসুস্থ ব্যক্তি- এই চার প্রকার মানুষ ছাড়া সকল মুসলমানের ওপর জুম্মার নামাজ জামাতে আদায় করা অপরিহার্য কর্তব্য।’ (আবু দাউদ : ১০৬৭, মুসতাদরেকে হাকেম : ১০৬২)।
কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে জুম্মার নামাজ ছেড়ে দেয়, তবে তার ব্যাপারে রয়েছে কঠোর হুশিয়ারী। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া জুমার নামাজ বর্জন করবে, তার নাম মুনাফিক হিসেবে এমন দপ্তরে লিপিবদ্ধ হবে, যা মুছে ফেলা হবে না এবং পরিবর্তন ও করা যাবে না।’ (তাফসিরে মাজহারি , ৯ম খন্ড, ২৮৩ পৃ.)।
জুম্মার দিন মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন। এবং এটি দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন। ইবনে মাজায় বর্ণিত হাদিসে রাসলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘নিঃসন্দেহে জুমু‘আর দিন সেরা দিন ও আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম দিন। আল্লাহর নিকট তা ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও উত্তম।’ আর মুসলিম শরিফের হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে সকল দিনে সূর্য উদিত হয়েছে তন্মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমু‘আর দিন। সেই দিনেই আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সেই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং সেই দিনেই জান্নাত থেকে তাকে বের করা হয়েছে। যে দিন কিয়ামত হবে, সে দিন ও হবে জুম্মার দিন।
সাপ্তাহিক ঈদ হিসেবে জুম্মার দিনের ফজিলত অনেক বেশি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে ফেরেশতাগণ মসজিদের প্রতিটি দরজায় দাঁড়িয়ে যান। তাঁরা মসজিদে আগমনকারী মুসলিদের নাম পর্যায়ক্রমে লিপিবদ্ধ করতে থাকেন। অতঃপর যখন ইমাম সাহেব এসে যান, তখন তারা রেজিস্টার বন্ধ করে খুতবা শুনতে থাকেন। যে সবার আগে মসজিদে প্রবেশ করে, সে একটি উট আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়াব লাভ করে। যে দুই নম্বরে প্রবেশ করে, সে একটি গরু আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়াব পায়। যে তিন নম্বরে প্রবেশ করে, সে একটি দুম্বা দান করার সওয়াব পায়। যে চার নম্বরে প্রবেশ করে, সে একটি মুরগি দান করার সওয়াব লাভ করে। আর যে পাঁচ নম্বরে প্রবেশ করে, সে একটি ডিম আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়াব পায়।’ (বুখারী, মুসলিম,মুসনাদে শাফী : ৬২।
হজরত সালমান (রা.) হতে একটি একটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুন্দর করে গোসল করবে, অতঃপর তেল ব্যবহার করবে এবং সুগন্ধি নেবে, তার পর মসজিদে গমন করবে, দুই মুসল্লির মাঝে জোর করে জায়গা নেবে না, সে নামাজ আদায় করবে এবং ইমাম যখন খুতবা দেবেন, চুপ করে মনোযোগসহকারে তাঁর খুতবা শুনবে। দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (মুসনাদে আবু দাউদ : ৪৭৯)
জুমাবারের ফজিলতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো, এই দিনে এমন একটা সময় আছে, যখন মুমিন বান্দা কোনো দোয়া করলে মহান আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে একটা এমন সময় আছে, যে সময়ে কোনো মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে ভালো কোনো কিছু প্রার্থনা করলে, অবশ্যই আল্লাহ তাঁকে তা দান করবেন। জুমার দিন গোসল করা সুন্নত নাকি ওয়াজিব?
উত্তর : মাযহাবের ইমামগণের মতামত : (১) ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.), ইমাম শাফেয়ী (রহ.), ইমাম আহমদ (রহ.) এবং অধিকাংশ ইসলামী ফকিহগণের মতে জুমার দিন গোসল করা সুন্নত।
(২) ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর অপর মতে, দিনমজুর এবং শ্রমিকদের জন্য জুমার দিন গোসল করা ওয়াজিব, আর যারা দিনমজুর বা শ্রমিক শ্রেণী নয় তাদের জন্য সুন্নত।
দলিল : হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, দিনমজুর এবং শ্রমিক শ্রেণীর মানুষেরা তাদের ঘর্মাক্ত এবং ময়লাযুক্ত কাপড় নিয়ে জুমার দিন মসজিদে নববীর মধ্যে আসত। আর মসজিদে নববী তখন আয়তনে ছোট ছিল। তাদের শরীরের ঘামের দুর্গন্ধে অন্যান্য নামাজির কষ্ট হতো। এই জন্য রাসূল (সা.) গোসল করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং উপরোক্ত ঘটনা থেকে এই কথা উপলব্ধি হলো যে, বাহ্যিক কারণে রাসূল (সা.) জুমার দিন গোসল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যখন বাহ্যিক কারণটি থাকল না তখন হুকুমের আবশ্যকিতাও থাকবে না। ইহা দ্বারা এ কথাও পরিষ্কার হলো যে, ইমাম আহমদ (রহ.)-এর মতেও জুমার দিন গোসল করা সুন্নত।
(৩) আসহাবে জাহেরের মতে, জুমার দিন গোসল করা ওয়াজিব।
তাদের দলিল হলো : (১) হযরত আবু সাঈদ খুদুরী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন যে, জুমার দিন প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের জন্য গোসল করা ওয়াজিব। বুখারি শরিফ ১ম খ- পৃষ্ঠা ১২০ থেকে ১২১ পর্যন্ত, মুসলিম শরিফ ১ম খ- ২০৮ পৃষ্ঠা।
(২) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন যে, যখন তোমাদের মধ্যে হতে কোনো ব্যক্তি জুমার নামাজের জন্য আসে, অর্থাৎ ইচ্ছা পোষণ করে তখন সে যেন গোসল করে নেয়। (বুখারি শরিফ ১খ- ১২০ পৃষ্ঠা, মুসলিম শরিফ ১ম খ- ২৮১ পৃষ্ঠা, তিরমিজি শরিফ ৬৫ পৃষ্ঠা ও নাসারি শরিফ ইবনে মাজা শরিফ)
অধিকাংশ ফকিহগণের দলিল:-
(১) হযরত সামুরা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন অজু করল তা ভালো করেছে, আর যে ব্যক্তি গোসল করল, গোসল করা উত্তম, (তিরমিজি ১ম খ-, পৃষ্ঠা ৬৫ থেকে ৬৬ পর্যন্ত।)
(২) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত ওমর (রা.) জুমার দিন খুতবায় দাঁড়িয়েছিলেন, এমতাবস্থায় নবী করিম (সা.)-এর প্রথম সারির মুহাজির সাহাবিদের একজন সাহাবি (হযরত ওসমান (রা.) উপস্থিত হলেন। হযরত ওমর (রা.) খুতবারত অবস্থায় তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি আসার এটাই কি সময়? তিনি উত্তরে বলেন, আমি কাজে ব্যস্ত ছিলাম, আমি ঘরে যাইনি, আমি আজান শোনামাত্রই অজু ব্যতীত অন্য কোনো কিছু (গোসল) করিনি। হযরত ওমর (রা.) তাঁকে বলেন, আপনি শুধু অজু যথেষ্ট মনে করলেন, অথচ আপনার কি জানা আছে? যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) (জুমার দিন) গোসল করার নির্দেশ দিয়েছেন। বুখারি শরিফে ৮৪১নং হাদিসে হযরত ওমর (রা.)-এর খুতবা উল্লেখ আছে, হযরত ওমর (রা.)-এর খিলাফতকালে খুতবার সময় যার সঙ্গে কথোপকথন হয়েছিল তিনি হলেন হযরত ওসমান (রা.)। হযরত ওমর (রা.) হযরত ওসমান (রা.)-কে দেরির কারণ জিজ্ঞেস করেছিলেন। কিন্তু গোসল করার নির্দেশ দেননি। যদি জুমার দিন গোসল ওয়াজিব হতো তাহলে হযরত ওসমান (রা.) কখনো গোসল ত্যাগ করতেন না। আর হযরত ওমর (রা.)ও তাঁকে পুনরায় গোসল করে আসার নির্দেশ দিতেন।
(৩) হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) এবং অন্যদের হাদিসের মধ্যে জুমার দিন গোসল করার স্বয়ং কারণ বর্ণিত আছে, সুতরাং যখন কারণ অবশিষ্ট নেই তখন ওয়াজিবের হুকুমটি কীভাবে অবশিষ্ট থাকবে?
গোসল ওয়াজিব হওয়ার মতো পোষণকারী যেসব দলিল উপস্থাপন করেছেন, তার উত্তর হলো প্রথমে জুমার দিন গোসল করা ওয়াজিব ছিল বাহ্যিক কারণে, যখন বাহ্যিক কারণটি শেষ হয়ে গেছে তখন এর হুকুমটিও শেষ হয়ে গেছে।
মোট কথা : জুমার দিন গোসল করা সুন্নত।
জুমার দিন খুতবা প্রদানকালে তাহিয়্যাতুল মাসজিদ নামাজ পড়ার হুকুম কি?
উত্তর : জুমার দিন ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় তাহিয়্যাতুল মাসজিদ নামাজ পড়া নিয়ে ফকিহগণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
মাযহাবের ইমামগণের মতে : (১) ইমাম শাফেয়ী ইমাম আহমদ এবং ইসহাক (রহ.)-দের মতে, জুমার খুতবার সময় দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মাসজিদ পড়া মুসতাহাব। (যেমনÑ এ সম্পর্কে ইমাম নববী (রহ.) শরহে মুসলিম ১ম খ-ে ২৮৭ পৃ. আলোচনা করেছেন) এটি ইমাম বুখারিরও অভিমত।
তাঁদের দলিল : হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন এক ব্যক্তি (সালিক গাতফান (রা.)) এমন সময় মসজিদে নববীর মধ্যে এসেছেন যখন নবী করিম (সা.) জুমার খুতবা পড়তেছেন। তখন নবী করিম (সা.) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে অমুক ব্যক্তি, তুমি কি নামাজ পড়েছ?
তখন ওই সাহাবি উত্তর দিলেন না ইয়া রাসূলুল্লাহ, তখন নবী করিম (সা.) তাঁকে বললেন, তাহলে তুমি দাঁড়াও এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করে নাও।
(২) ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক, সুরী এবং লাইস ইবনে সাঈদ (রহ.)-দের মতে, জুমার খুতবার সময় কোনো রকম কথা বলা এবং নামাজ পড়া জায়েজ নেই।
আর এটিই অধিকাংশ সাহাবা, তাবেয়িদের অভিমত। আর বর্ণনাটি হযরত ওমর হযরত ওসমান হযরত আলী (রা.) হতে বর্ণিত : (শরহে নববী ২৮৭ পৃষ্ঠা) উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হলো যে, এই মাসালাটি হযরত ইমাম বুখারি (রহ.) ইমাম শাফেয়ী (রা.)-এর অনুসরণ করেছেন। হানাফী মাযহাবের দলিল :
১। আল্লাহর বাণী : (সুরা আরাফ আয়াত নং ২০৪) এই কথা প্রকাশ্য যে, যখন কোরআন পড়া হয় তখন মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং অন্তর দিয়ে শোনা জরুরি।
২। রাসূলের হাদিস : সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব (রা.)-কে হযরত আবু হুরাইরা (রা.) সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, জুমার দিন খুতবার সময় যখন তোমরা তোমাদের সঙ্গীদের বলবেÑ চুপ থাক, তখন তোমরা একটি অযথা কথা বলেছ। (বুখারি ১ম খ- পৃষ্ঠা ১২৮) উক্ত হাদিসে রাসূল (সা.) সৎ কাজের আদেশ দেওয়া থেকে নিষেধ করেছেন, অথচ সৎ কাজের আদেশ দেওয়া ফরজ। এবং তাহিয়্যাতুল মাসজিদ নামাজ মুস্তাহাব। এ কারণে খুতবার সময় তাহিয়্যাতুল মাসজিদ নামাজ অধিকতর নিষেধ।
৩। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন : ইমাম সাহেব যখন খুতবাদানের উদ্দেশে হুযুরা থেকে বের হবেন তখন কোনো নামাজ এবং কোনো কথা বলা চলবে না।
৪। মালেকী মাযহাবের আলেমগণের মতে, মদিনাবাসীদের এই আলম পরিত্যাজ্য।
৫। ইমাম নববী (রহ.) কাযী আয়াজ থেকে বর্ণনা করেছেন, হযরত ওমর, হযরত ওসমান, হযরত আলী (রা.) হতে বর্ণিত যে, খুতবার সময় দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মাসজিদ নামাজ আদায় করতে নিষেধ করেছেন।
ইমাম শাফেরী ও ইমাম আহমদের হাদিসের জবাব : ১। রাসূল (সা.)-এর খুতবার সময় যে লোকটি এসছিলেন তাঁর নাম হলো সালিক গাতফানী (রা.)। তিনি যখন এসেছিলেন তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) খুতবা শুরু করেননি। যার প্রমাণ হলো সহিহ মুসলিম শরিফের ২৮৭ পৃষ্ঠায় একটি বর্ণনায় শব্দগত এভাবে এসেছে যে, একদা হযরত সালিক আল গাতফানী জুমার দিন মসজিদে নববীতে এলেন, এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.) মিম্বারের ওপর বসা ছিলেন।
জ্ঞাতব্য যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) সর্বদা মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। সুতরাং বসা দ্বারা বোঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) এখনো খুতবা শুরু করেননি। এ কারণে খুতবার মধ্যে মনোযোগ দিয়ে শোনার হুকুম রহিত হয়ে গেছে। সুতরাং আর কোনো প্রশ্নের অবকাশ নেই।ইসলামের দৃষ্টিতে পবিত্র জুমা ও জুমাবারের রাত-দিন অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ। জুমার দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন বলা হয়েছে। জুমার দিনের সওয়াব ও মর্যাদা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতোই। এ দিন ইসলামী ইতিহাসে বড় বড় ও মহৎ কিছু ঘটনা ঘটেছে। জুমার গুরুত্ব আল্লাহ তায়ালার কাছে এত বেশি যে, কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাজিল করা হয়েছে। আল্লাহ তা’আলা কোরআনে ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের আহ্বান জানানো হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে (মসজিদে) এগিয়ে যাও এবং বেচা-কেনা (দুনিয়াবি যাবতীয় কাজকর্ম ছেড়ে দাও। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর; যদি তোমরা জানতে। (সূরা জুমা- ০৯)।
রাসুল (সা.) একটি হাদিসে বলেছেন, মুমিনের জন্য জুমার দিন হলো সাপ্তাহিক ঈদের দিন। (ইবনে মাজাহ : ১০৯৮)। এক হাদিসে নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে দিনগুলোতে সূর্য উদিত হয়, ওই দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। ওই দিন হজরত আদমকে (আ.) সৃষ্টি করা হয়েছে। ওই দিন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং ওই দিনই তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়। আর ওই দিনই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। (মুসলিম শরিফ : ৮৫৪)। মহানবী (সা.) আরো ইরশাদ করেছেন, জুমার দিন দোয়া কবুল হওয়ার একটি সময় আছে , কোনো মুসলিম যদি সেই সময়টা পায়, আর তখন যদি সে নামাজে থাকে, তাহলে তার যেকোনো কল্যাণ কামনা আল্লাহ পূরণ করেন। (বুখারি : ৬৪০০)।
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ফরজ গোসলের মত গোসল করে প্রথম দিকে মসজিদে হাজির হয়, সে যেন একটি উট কুরবানি করল, দ্বিতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন একটি গরু কুরবানি করল, তৃতীয় সময়ে যে ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ছাগল কুরবানি করল। অতঃপর চতুর্থ সময়ে যে ব্যক্তি মসজিদে গেল সে যেন একটি মুরগি কুরবানি করল। আর পঞ্চম সময়ে যে ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ডিম কুরবানি করল। অতঃপর ইমাম যখন বেরিয়ে এসে মিম্বরে বসে গেলেন খুৎবার জন্য, তখন ফেরেশতারা লেখা বন্ধ করে খুৎবা শুনতে বসে যায়।’ (বুখারি: ৮৮১, ইফা ৮৩৭, আধুনিক ৮৩০)।
দশ দিনের গুনাহ মাফ হয় : জুমার দিনের আদব যারা রক্ষা করে তাদের ।