
ওজন কমাতে ইদানীং অনেকে ভরসা রাখেন অ্যাপেল সিডার ভিনেগারে। স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিদের কাছে এই পানীয় বেশ জনপ্রিয়। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কারণ এতে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড কার্বোহাইড্রেট হজমের গতিকে ধীর করে দেয়। তাই খাবার খাওয়ার পরেই রক্তের শর্করার মাত্রা চট করে বাড়ে না।
ডায়াবেটিস ও প্রি-ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অ্যাপেল সিডার ভিনেগার বেশ স্বাস্থ্যকর। হৃদযন্ত্রের জন্যও ভালো এটি। রক্ত থেকে খারাপ কোলেস্টেরল আর ট্রাইগ্লিসারাইড মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এটি প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতেও সাহায্য করে।
প্রিবায়োটিক হওয়ার কারণে অ্যাপেল সিডার ভিনেগার পেটের জন্যও ভালো, হজমে সহায়ক। এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণাগুণ শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। কিন্তু ভিনেগার অম্ল হওয়ায় কারণে তা দৈনিক খাদ্যতালিকায় যোগ করার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। দিনে ১৫ মিলিলিটারের বেশি অ্যাপেল সিডার ভিনেগার না খাওয়াই ভালো।
এই ভিনেগার খাওয়ার আগে কী কী নিয়ম মেনে চলবেন?
১. এই ভিনেগার অবশ্যই পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে। ১ গ্লাস পানিতে ১ টেবিল চামচ। খাওয়াদাওয়ার ৩০ মিনিট আগে খেলে হজম হবে ভাল। পানিতে মিশিয়ে না খেলে গলা আর খাদ্যনালির ক্ষতি হতে পারে।
২. দাঁতের ক্ষয় রুখতে এই পানীয় খাওয়ার সময় স্ট্র ব্যবহার করুন।
৩. সকালবেলা খালি পেটে অনেকেই অ্যাপেল সিডার ভিনেগারে চুমুক দেন। এই অভ্যাসের কারণে অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়তে পারে।
৪. কিডনি কিংবা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে কিংবা সুগারের ওষুধ খেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তারপর এটি ডায়েটে যোগ করুন।
৫. অ্যাপেল সিডার ভিনেগারকে জাদুকরী পানীয় ভাবার কোনো কারণ নেই। খেলেন আর সঙ্গে সঙ্গে ফল পেয়ে গেলেন, এমনটা নয়। এর পাশাপাশি ডায়েটে সঠিক ভারসাম্যও রাখতে হবে।

