
ডুমুরিয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বাস ভবনের সামনে এলজিইডি কার্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত জিপগাড়িতে আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে স্থানীয় দুই শিশুর বিড়ির আগুন থেকে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।
জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাস ভবনের সামনে এলজিইডি দপ্তরের পরিত্যক্ত একটি জিপগাড়ি (ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-২১০১) প্রায় ৫–৭ বছর ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে স্থানীয় শংকর রাহার ছেলে দেব রাহা (৮) এবং বাজারের ফুটপাতে বাদাম ব্যবসায়ী কবিরের ছেলে তাওহীদ (৭) গাড়ির ভেতরে বসে বিড়ি খাচ্ছিল। অসাবধানতাবশত সেখান থেকেই আগুন ধরে যায়।
ঘটনার সময় উপজেলা চত্বরে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শতাধিক সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে জিপগাড়িটির ভেতরের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
থানা পুলিশের এসআই মনির মোল্যা জানান, শিশু দু’টি গাড়িতে বসে বিড়ি খাচ্ছিল বলে স্বীকার করেছে এবং সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুস ছাত্তার জানান, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।
উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ দারুল হুদা জানান, জিপগাড়িটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল এবং এটি টেন্ডারের জন্য প্রস্তাবিত ছিল।
প্রসঙ্গত, উপজেলা পরিষদের সীমানার ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে শংকর রাহা তার পরিবার ও শিশুসন্তানদের নিয়ে বসবাস করে আসছেন। সংরক্ষিত এলাকায় অবাধে চলাচল করায় তার শিশু সন্তানদের নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের পেছনে একটি ঝুপড়িতে তারা বসবাস করছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র সংরক্ষিত রেকর্ডরুম রয়েছে। এর আগে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আল-আমিন তাদের সেখান থেকে উচ্ছেদ করলেও তারা পুনরায় সেখানে বসবাস শুরু করেছে।

