
হুমায়ুন কবীর রিন্টু , নড়াইল : নড়াইল-২ আসনে মার্কা নয়, প্রার্থীর বিজয় হবে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে। এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্জ্ব মোঃ মনিরুল ইসলামের পক্ষ জনমত ও সমর্থন তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, পরিস্থিতি দৃষ্টে যা বোঝা যাচ্ছে দিন দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্জ্ব মোঃ মনিরুল ইসলামের বিজয়ের পথ পরিস্কার হচ্ছে। নড়াইল-২ আসনের সর্বত্রই সাধারণ মানুষের মুখে একটাই কথা এ আসনে একমাত্র যোগ্য প্রার্থী আলহাজ্জ্ব মোঃ মনিরুল ইসলাম। তাকে কলস প্রতিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করলে নড়াইলের উন্নয়ন হবে। এ আসনে তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন বাংলাদেশ জামাত ইসলামী দলের দাড়িপাল্লার প্রার্থী আতাউর রহমান বাচ্চু ও ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। তবে মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জামাত ইসলামী দলের দাড়িপাল্লার প্রার্থী আতাউর রহমান বাচ্চুর সাথে। ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী সাবেক এনপিপি’র নেতা ইতোপূর্বে এ আসনে নির্বাচন কওে একবার পেয়েছেন মাত্র ২৯২ ভোটে। আরেকবার ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে প্রতিকের জোরে কিছু ভোট পেয়েছিলেন। তবে তার পরিমান ৮ হাজারের কম। এ আসনে প্রায় ৪ লাখ ভোটার আছেন।
নির্বাচন বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ধারনা এবং সাধারণ ভোটারদের মতামত যাচাইকালে প্রতীয়মান হয়েছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জেলা বিএনপি’র সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কলস প্রতিক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন।
নির্বাচন বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা আলহাজ্জ্ব মোঃ মনিরুল ইসলামের বিজয়ের ব্যাপাওে যুক্তি দেখিয়ে বলেন, তিনি নড়াইল সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থাকাকালে দলীয় সুনামের সাথে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ভয়ে ও মামলা হামলার কারনে বাড়ি ছাড়া থেকেও দলীয় নেতা কর্মীদের পাশে থেকেছেন। নিজের জমি বিক্রি করে দলীয় নেতা-কর্মীদের মামলার খরচ জুগিয়েছেন। তাদের জীবন জীবিকার জন্য সহযোগিতা করেছেন। চিকিৎসার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর যে অবদান তা শুধু নড়াইলে নয়, সারা বাংলাদেশে বিরল। বার বার তার বাড়ি ভাংচুর করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। নড়াইল সহ দেশের অন্যান্য জেলায় তার নামে অসংখ্য রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। তিনি দল ও দলের নেতা-কর্মীদের ছেড়ে যাননি। কিন্তু অনেকেই দল ছেড়ে চলে গেছে। দলের নেতা-কর্মীদের সাথে যোগযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। জেলার প্রতিটি গ্রামে গিয়ে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের খোঁজ নেন জননেতা মোঃ মনিরুল ইসলাম। সারা জেলায় তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়। জেলার সর্বত্রই তিনি নড়াইল জেলা বিএনপি’র মুথপাত্র হিসেবে পরিচিত। তিনি যেমন দল ও জনগন ছেড়ে যাননি, ঠেক তেমনি মার্কা না পেলেও দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগন তাকে ছেড়ে যায়নি। বরং তার প্রতি আরোও বেশি সহানুভুতিশীল হয়ে তারা মাঠে নেমেছেন তাকে বিজয়ী করতে। তাকে একটা ভোট দেয়ার জন্য এ আসনের প্রতিটি ভোটার অধির আগ্রহে আছেন। অনেকেই বলেছেন তারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন শুধুমাত্র মনিরুলকে ভোট দেয়ার জন্য। তাছাড়া বিএনপি জোট হতে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তাকে মেনে নিতে পারেনি,স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটাররা। কারণ এলাকার লোকজন তাকে ভালো চেনে না। যারা চিনেন, তাদের তার সম্পর্কে খুব খারাপ ধারনা। তাছাড়া তিনি স্থায়ীভাবে ঢাকা থাকেন। শুধু নির্বাচন সামনে নিয়ে মাঝে মাঝে আসেন। তার এমন আচরন স্থানীয় লোকজন বিরক্তিকর মনে করেন। তবে কিছু নগদ নারায়নের সন্ধানী লোকজন মৌসুমি আয় করতে ভোট আসলেই তাকে ডেকে নিয়ে আসেন। যার নিজের দলেরই নিজ জেলায় কোন অবস্থান নেই, তাকে বিএনপি’র মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারটি স্থানীয় ভোটাররা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারেননি। তিনি প্রচারনায় গিয়ে জনপ্রিয় জননেতা আলহাজ্জ্ব মোঃ মনিরুল ইসলামের বিরূদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এতে বিএনপি নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগন তার প্রতি খুবই ক্ষুব্ধ। আর তার সাথে প্রচারনায় যারা থাকেন তারা জেলার চিহিৃত শীর্ষ অপরার্ধী। যাদের দেখলে ভোট পালায়। সে কারনে তিনি খুব বেশি ভোটে পাবেন না। অতিতে যেমন পেয়েছেন,এবার তার থেকে হয়তো দু’হাজার বেশি পেতে পারেন।
অপর প্রতিদ্বন্দ্বি জামাত ইসলামী প্রার্থী এ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বাচ্চু ভোটারদের কাছে তেমন পরিচিত নন। মনোনয়ন নিয়ে মাঠে নামার পর মানুষ তাকে চিনতে শুরু করেছে। অনেকে মনে করেছিলেন এ দল হতে জেলার লোহাগড়া এলাকার জনপ্রিয় জামাত নেতা মাওলানা আলমগীর হুসাইনকে মনোনয়ন দেয়া হবে। তাকে মনোনয়ন না দেয়ায় অনেক ভোটার নাখোশ ও হতাশ। তারা যোগ্যনেতা ও প্রার্থী মনিরুল ইসলামের কলস মার্কায় ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
জামাত ইসলামী প্রার্থী এ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বাচ্চু ও তার পক্ষীয় লোকজনও নানাভাবে জনপ্রিয় গণমানুষের নেতা আলহাজ্জ্ব মোঃ মনিরুল ইসলামের বিরূদ্ধে অপপ্রচার করছেন। এতে সাধারণ মানুষ তাদের উপর আরোও ক্ষিপ্ত হচ্ছে। এতে করে দিন দিন মনিরুল ইসলামের ভোট বেড়েই চলেছে। জনমত জরিপে এমনটাই অনুমেয় যে, ফরহাদ ও বাচ্চু মিলে জনপ্রিয় জননেতা মনিরুল ইসলামের অর্ধেক ভোট পেতে পারেন। তবে নির্বাচনে কোন কারুকার্য বা কারচুপি হলে ভোটের এ হিসেব পাল্টে যেতে পারে।
আলহাজ্জ্ব মোঃ মনিরুল ইসলাম নড়াইল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অনেক জনপ্রিয় ছিলেন। সেই জনপ্রিয়তা নির্বাচন সামনে রেখে এখন আরোও তুঙ্গে। রাজনৈতিক কারনে প্রতিপক্ষরা তাকে চাপের মুখে রাখার চেষ্টা করতেন। কিন্তু আপামর জনগনের সাথে তার সম্পৃক্ততা থাকার কারনে দিন দিন তার জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। দীর্ঘ এক যুগ পূর্বে থেকে ব্যক্তি মনিরুল ইসলাম জনগনের সেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন। আলহাজ্জ্ব মোঃ মনিরুল ইসলাম সহ প্রায় আধা ডজন প্রার্থী বিএনপি হতে মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। তার মনোনয়নের দাবিতে নড়াইলে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ গণজমায়েত হয়। নিজ দলের সকল প্রতিদ্বন্দ্বিকে পিছনে ফেলে দলীয় মনোনয়নের বিজয় ছিনিয়ে আনেন। বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পান আলহাজ্জ্ব মোঃমনিরুল ইসলাম। তার মনোনয়নে উৎসব মুখর পরিবেশে তার পক্ষে মাঠে নামেন বিএনপি নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগন। পরবর্তীতে জোটের স্বার্থে বিএনপি নেতৃত্বাধীন শরীক জোট হতে এ আসনে সাবেক এনপিপি নেতা এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে মনোনয়ন দেয়া হলে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের অধিকাংশ ও সাধারণ জনগন মুষড়ে পড়েন। তারা আবারও রাজপথে নামেন এবং মানববন্ধন করেন ফরহাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে মনিরুল ইসলামের মনোনয়ন পুনর্বাহলের দাবিতে। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে মনিরুল ইসলাম চুপ করে থাকলেও সাধারণ জনগনের দাবির মুখে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বাধ্য হন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের চরম জুলুম নির্যাতনের মধ্যে থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি নড়াইল সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। সুনামের সাথে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের আগলে রেখেছেন। সাধারণ মানুষের উপকার করেছেন। এসব বিবেচনায় নড়াইল-২ আসনের মানুষ তার পক্ষে মাঠে নেমেছেন। দিন দিন তার পক্ষে মিছিলের পরিধি বেড়েই চলেছে। তার মিছিল বড় হওয়ায় ফরহাদের পক্ষের কতিপয় বখাটে কলস মার্কার প্রচার মাইকিংয়ে বাঁধা দেয়। এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে মনিরুলের পক্ষে লোকজন রাস্তায় বেরিয়ে আসে। অবস্থা বেগতিক দেখে তারা লেজগুটিয়ে চলে যায়। এদিকে এমন খবর প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ জনগনের অভিমত নির্বাচনের আগেই যার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ দৃশ্যমান,তাকে কোন অবস্থাতেই ভোট দেয়া হবে না। সবকিছু মিলিয়ে নড়াইল-২ আসনে মার্কা হেরে যাবে। বিজয়ী হবেন প্রার্থী আলহাজ্জ্ব মোঃ মনিরুল ইসলাম। কারণ নড়াইল-২ আসনে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দু’টি দলের মার্কা যাদের দেয়া হয়েছে,তাদের থেকে অধিকতর অনেক যোগ্য নেতাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। যোগ্যনেতাদেও বঞ্চিত করে মার্কা দেয়াটা সাধারণ ভোটারররা মেনে নিতে পারেননি। এর জবাব সাধারণ জনগন ব্যালটেই দিবে।

