By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept

প্রকাশনার ৫২ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • জেলার খবর
    • খুলনা
    • চুয়াডাঙ্গা
    • বাগেরহাট
    • মাগুরা
    • যশোর
    • সাতক্ষীরা
  • ফিচার
  • ই-পেপার
  • ALL E-Paper
Reading: পর্যটনের ঐতিহাসিক জেলা সাতক্ষীরা
Share
দৈনিক জন্মভূমিদৈনিক জন্মভূমি
Aa
  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • ALL E-Paper
অনুসন্ধান করুন
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • ই-পেপার
Have an existing account? Sign In
Follow US
প্রধান সম্পাদক মনিরুল হুদা, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত
দৈনিক জন্মভূমি > জেলার খবর > সাতক্ষীরা > পর্যটনের ঐতিহাসিক জেলা সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা

পর্যটনের ঐতিহাসিক জেলা সাতক্ষীরা

Last updated: 2026/01/01 at 2:08 PM
জন্মভূমি ডেস্ক 3 hours ago
Share
SHARE

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরাকে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার বলা হয়। এখানে রয়েছে পর্যটন শিল্পের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। কারণ এই জেলাটিতে স্থলপথে রয়েছে সুন্দরবন ভ্রমণের বড় সুযোগ, ঐতিহাসিক স্থান যশোরেশ্বরী কালীমন্দির ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কপোতাক্ষ নদ, আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম, কলাগাছিয়া ও কচিখালীসহ সুন্দরবনের অংশ, বিশাল বড় মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত এবং রুপসী ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। তবে, সরকারি উদ্যোগ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবের কারণে এই সম্ভাবনাগুলো পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
একপাশে সড়ক পথ, অন্যপাশে গভীর সুন্দরবন মাঝখানে প্রবহমান নদী আর অন্য পাশে ভারত সীমান্ত। তাই আপনিও আসতে পারেন, সাতক্ষীরার সড়কপথে বাঘ মামার দেখা পেতে। তবে, ভাগ্যে থাকলে হয়তো দেখা হয়েও যেতে পারে। সুন্দরবন দেখার সুবিধার জন্য এ সড়ক পথই যথেষ্ঠ। তাই তো বলা হয় ‘সাতক্ষীরার আকর্ষণ সড়ক পথে সুন্দরবন’
সাতক্ষীরা শহর পেরিয়ে যতই দূরে যেতে থাকবেন বঙ্গপোসাগরের কোল ঘেঁষা সুন্দরবনের সীমানায়, ততই ভাবতে ভাবতে ভেসে যাবেন সুন্দর সত্যের কাছাকাছি।
মানচিত্রের সবুজ যে দেশের প্রাণ, সে দেশের সবুজ কত সুন্দর, মহোময় আর প্রাণবন্ত তা কি একবারও ভেবে দেখেছেন? দেখেছেন সবুজ ছায়াময় গ্রাম আর বন-বনানীর দিকে একবার তাকিয়ে? উপভোগ করেছেন কি এর মনোলোভা সৌন্দর্য? হয়তো কবির মতো বলবেন ‘সময় কোথা সময় নষ্ট করবার’।
কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রটির একদিকে লোকালয় ও আরেক পাশে সুন্দরবন, আর মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে খোলপেটুয়া নদী। বন পেরিয়ে নদী পথে খাল পার হয়ে কলাগাছিয়া যেতে হয়। লোকালয় পার হয়ে সুন্দরবনের পশ্চিম বনের ভেতর দিয়ে কলাগাছিয়া যাওয়ার সময় দুই ধারের সারি সারি বন মুগ্ধ করে।
ঘাটে ট্রলার ভিড়লেই অসংখ্য বানরের দেখা মিলে। মূল অংশে ঢোকার পথে আছে লোহার তৈরি একটি ব্রিজ। এই ব্রিজ পার হলে একটি রেস্ট হাউজ ও কাঠের তৈরি আরেকটি ব্রিজ নজরে আসে। কাঠের সেতুর দুই পাশে আছে খলিশা, হরকোচা ও বাইন গাছের সারি। আর বনের ভেতরে আছে বানর ও হরিণের দল। ওয়াকওয়ে দিয়ে সামনে এগিয়ে পাঁচতলা ওয়াচ টাওয়ার থেকে পাখির চোখে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এখানে বনের ভেতরের শিব মন্দিরে বনবিবির পূজা করা হয়। অনেকের বিশ্বাস, মন্দিরে দর্শন দিয়ে বনের ভেতরে গেলে সকল বিপদ আপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর তীরের এক পাশে সুন্দরবন এবং অন্য পাশে মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত এর অপূর্ব প্রকৃতি যেন নেশা ধরিয়ে দেয়। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের কাছে মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত অজানা একটি স্থান। সাতক্ষীরা জেলার বুড়িগোয়ালিনীর নীলডুমুর নৌঘাট থেকে এই সৈকতের দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। সাতক্ষীরা থেকে নীলডুমুর পর্যন্ত গাড়ীতে এসে বাকি পথ ইঞ্জিন চালিত নৌকা বা স্পীড বোটে করে যেতে হয়। সুন্দরবনের বুক চিরে বয়ে যাওয়া নদীগুলোই হচ্ছে ৭৫ কিলোমিটার যাত্রা পথের একমাত্র উৎস। তাই প্রায় আট কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মান্দারবাড়ীয়া সমুদ্র সৈকত শুধুমাত্র বিশেষ ভ্রমণকারীদের জন্য উপযুক্ত যারা কষ্ট স্বীকার করে বঙ্গোপসাগরের মায়াবী জলরাশির অবিশ্রান্ত গর্জন শুনতে রাজি আছেন।
নীলডুমুর ঘাট থেকে খোলপেটুয়া-কপোতাক্ষ নদের মোহনা দিয়ে অতিক্রম করে মান্দারবাড়িয়ায় যেতে কলাগাছিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, মালঞ্চ নদী বেয়ে যেতে হয়। যাত্রাপথে নদীর উভয়পাশে চিরসবুজ সুন্দরবনকে মোহিত করবে। সঙ্গে দেখা মিলবে হরিণসহ নানা প্রজাতির প্রাণীর চলাচল এবং পানকৌড়ি, বালিহাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির উড়ে যাওয়ার দৃশ্য। এ ছাড়া, নির্জন এই মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতের বুকে হরিণ কিংবা বাঘের পায়ের ছাপ নিঃসন্দেহে ভ্রমণের উত্তেজনা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে।
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে অবস্থিত যশোরেশ্বরী কালী মন্দির হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি পবিত্র তীর্থস্থান। যশোরেশ্বরী শব্দের অর্থ যশোরের দেবী। সত্য যুগে দক্ষ যজ্ঞের পর সতী মাতা দেহ ত্যাগের পর মহাদেব মৃত দেহ কাঁধে নিয়ে প্রলয় নৃত্য শুরু করেন। বিষ্ণু দেব তাঁর সুদর্শন চক্র কতৃক সতীর দেহ ছেদন করেন। এতে সতী মাতার দেহ খণ্ডগুলো ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। সতী মাতার দেহখণ্ড যেসব স্থানে পতিত হয়েছে সেসব স্থানকে শক্তিপীঠ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। যশোরেশ্বরী কালী মন্দির তেমনি একটি শক্তিপীঠ।
ধারণা করা হয়, আনারি নামের এক ব্রাহ্মণ যশোরেশ্বরী কালী মন্দির এবং শক্তিপীঠের ১০০টি দরজা নির্মাণ করেন। যদিও মন্দিরের নির্মাণকাল সম্পর্কে নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায় যায়নি। পরবর্তীতে লক্ষ্মণ সেন ও মহারাজা প্রতাপাদিত্য যশোরেশ্বরী কালী মন্দির সংস্কার করেন। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে লক্ষ্মণ সেন মন্দির সংস্কারের পাশাপাশি মূল মন্দিরের কাছে নাটমন্দির নামে একটি বৃহৎ মঞ্চমণ্ডপ নির্মাণ করেন আর মহারাজা প্রতাপাদিত্য তৈরি করেন কালী মন্দির।
নেই ভালো মানের হোটেল। সুন্দরবনে থাকার জন্য নেই কড়া নিরাপত্তা। গড়ে উঠেনি কোন কটেজ বা রেস্টুরেন্টে। ফলে মুখ ফিরায় নিচ্ছেন পর্যটকরা। সাতক্ষীরা সুন্দরবনে থাকা অপার সম্ভাবনা থাকলে ও মুখ থুবড়ে পড়ছে দিন দিন। রাস্তাঘাট খারাপ ও আধুনিক মানের হোটেল-মোটেলের অভাব থাকায় পর্যটকের আনাগোনা কমেছে। পাশাপাশি সুন্দরবন ভ্রমণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরা থেকে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তার বেহাল দশা এবং উপযুক্ত রাত্রিযাপনের সুবিধার ঘাটতি পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করছে।
সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত বিলাল হোসেন জানান, সাতক্ষীরা-মুন্সীগঞ্জ সড়কের বেহাল দশা, সুন্দরবনের প্রবেশ মূল্য বৃদ্ধি এবং রাত্রিকালিন অবস্থানের পাশ না দেওয়ার কারণে পর্যটক দিন দিন কমে যাচ্ছে। এতে পর্যটনের উপর নির্ভরশীল উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবন-জীবীকায়ও ভাটা পড়েছে। যদিও বন বিভাগ বলছে, অনলাইনে সুন্দরবনে প্রবেশের ফি প্রদান করে রিসিট জমা দিলে সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকেই রাত্রিকালীন অবস্থানের পাশ দেওয়া সম্ভব।
শ্যামনগর এলাকার বাসিন্দা আইয়ুব হোসেন বলেন, ‘আমাদের এই অঞ্চলের মানুষ সুন্দরবনের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। তারা পর্যটন খাতেই বেশি আয় করে থাকেন। কিন্তু রাস্তাঘাট সংস্কারের অভাব ও টুরিস্ট বোর্ডের ভাড়া বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে আমাদের এই অঞ্চলে পর্যটক কমে গেছে। তবে, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হলে আগে সাতক্ষীরা থেকে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটি সংস্কার করা খুবই জরুরি। সুন্দরবনে ২-৩ দিন বা রাত্রিকালীন অবস্থানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে রেঞ্জ অফিসের সে ক্ষমতা না থাকায় পর্যটকদের এ অঞ্চলে আসার আগ্রহ অনেক কমে গেছে। মূলত রাত্রিকালীন পাশ আনতে খুলনায় যেতে হয়, এটা পর্যটকদের কাছে একটা বিড়ম্বনা। রাত্রিকালীন পাশ পারমিট চালু হলে এই অঞ্চলে পর্যটক অনেক বাড়বে।’
মানবধিকারকর্মী মাধবচন্দ্র দত্ত বলেন, “বাংলাদেশের একমাত্র জেলা সাতক্ষীরা যেখান থেকে সড়কপথে সুন্দরবন উপভোগ করা সম্ভব। কিন্তু সাতক্ষীরা থেকে মুন্সিগঞ্জের প্রধান সড়কটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ও জরাজীর্ণ। বর্তমানে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরায় আসতে সাড়ে চার ঘণ্টা সময় লাগে। আর সাতক্ষীরা থেকে মুন্সীগঞ্জ আসতে সময় লাগে চার ঘণ্টা। যেমন সড়কের অবস্থা, তেমনি এ সড়কের পরিবহণ ব্যবস্থা। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে চার লেনে প্রশস্ত করা হলে এবং সাতক্ষীরা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে সরাসরি পর্যটকবাহী বাস চলাচলের উদ্যোগ নিলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে।
সাতক্ষীরার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রচারণার মাধ্যমে পর্যটন শিল্পকে আরও বিকশিত করার অপার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।সাতক্ষীরা জেলা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ ভূমি। জেলাটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা দলবিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। ভৌগলিকভাবে সাতক্ষীরা জেলার উত্তরে যশোর জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে খুলনা জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। অবস্থানের দিক থেকে সাতক্ষীরা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত।
উচ্চতার পরিপ্রেক্ষিতে, এই অঞ্চলটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬ ফুট উপরে। সাতক্ষীরার মোট আয়তন ৩৮৫৮.৩৩ বর্গকিলোমিটার। সংজ্ঞায়িত জেলার সীমানা উত্তর-দক্ষিণে দীর্ঘ। তবে এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সব অংশই জনবসতিপূর্ণ নয়। এর প্রায় এক তৃতীয়াংশ বনভূমি। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনের (সুন্দরবন) ১৪৪৫.১৮ বর্গকিলোমিটার সাতক্ষীরার অন্তর্গত।
সাতক্ষীরা জেলা ৩ টি পৌরসভা, ৭ টি উপজেলা, ৮ টি থানা, ৭৮ টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ১৪২৩ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। বাংলাদেশের বৃহত্তম উপজেলাও সাতক্ষীরায়। সাতক্ষীরা উপজেলাগুলো হলো- সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা, আশাশুনি, কালিগঞ্জ, শ্যামনগর (দেশের বৃহত্তম উপজেলা), তালা ও কলারোয়া।
বর্তমানে সাতক্ষীরা খুলনা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল হলেও শুরু থেকে এটি খুলনা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বঙ্গোপসাগর ও ভারতীয় সীমান্তের উপকূলে অবস্থিত এই অঞ্চলটি মানুষের বসতি স্থাপনের আগে একটি বিস্তীর্ণ জলাভূমি ছিল। পরে মানব বসতি গড়ে ওঠে।
সাতক্ষীরা এক সময় রাজা প্রতাপাদিত্যের যশোহর রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। বারোভুঁইয়াদের অন্যতম রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজধানী জেলার কালীগঞ্জ ও শ্যামনগর এলাকায়। বাংলাদেশের মানচিত্রের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে সাতক্ষীরা জেলা অবস্থিত। প্রাচীনকালে এই জনবসতি বুরান দ্বীপ নামে বিখ্যাত ছিল। এর পাশে চন্দ্রদ্বীপ, মধুদ্বীপ, সূর্যদ্বীপ, সন্দ্বীপ, জয়দ্বীপ প্রভৃতি নামে পরিচিত ক্ষুদ্র ভূমির অবস্থান প্রাচীন ইতিহাস ও মানচিত্রে পাওয়া যায়। বুরান দ্বীপে ঠিক কখন মানুষ সামাজিকভাবে বসবাস শুরু করেছিল তার কোনো বিস্তারিত ও সঠিক প্রমাণ নেই।
৩২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করেন। তাঁর ভারত আক্রমণের সময় গঙ্গার মুখে গঙ্গারিডি নামে একটি স্বাধীন রাজ্যের তথ্য পাওয়া যায়। বর্তমান সাতক্ষীরা জেলা এই রাজ্যের অধীনে ছিল
আলেকজান্ডারের পর মৌর্য ও গুপ্ত আমলে বুরুন্ডদ্বীপ পূর্বভুক্তির অন্তর্গত ছিল। বুরানদীপ তখন খরিদমাল নামে পরিচিত ছিল। চন্দ্রবর্মণ ৪র্থ শতাব্দীতে উপসাগরীয় অঞ্চল দখল করেন। এর পরে, বাউন্যগুপ্ত (৫০৭-৫২৫) দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার স্বাধীন নরপতি হিসেবে রাজ্য শাসন করেন। সপ্তম শতাব্দীতে এই শহরে শশাঙ্ক, ভদ্রবংশ, খরগোরাট এবং লোকনাথ রাজবংশের রাজত্ব ছিল।
এই সময়ের গঙ্গারিডি পূর্ববর্ধন, কর্ণসুবর্ণ, কাজঙ্গল, তাম্রলিপ্তি, সমতট ইত্যাদি নামে পরিচিত ছিল। ‘বর্তমান সাতক্ষীরা জেলা এই সমতলের অংশ’। 8ম থেকে ১১ শ শতক পর্যন্ত, বুরানদীপ পাল এবং বর্মণ রাজাদের দ্বারা শাসিত হয়েছিল। ১৩৯৯ থেকে ১৪১১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সাতক্ষীরা অঞ্চল ইলিয়াস শাহের রাজবংশের অধীনে ছিল।
১৮৬১ সালে যশোর জেলার অধীনে ৭ টি থানা নিয়ে সাতক্ষীরা মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৮৬৩ সালে, এই মহকুমাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার অধীনে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে ১৮৮২ সালে খুলনা জেলা প্রতিষ্ঠিত হলে সাতক্ষীরাকে খুলনা জেলার একটি মহকুমা হিসেবে রাখা হয়। ১৯৮৪ সালে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ফলে সাতক্ষীরা মহকুমা জেলায় উন্নীত হয়।
সাতক্ষীরা জেলার নামকরণের রয়েছে বিচিত্র ইতিহাস। একাধিক মতবাদ আছে। প্রাচীনকালে এই জেলা বাগরি, ব্যাঘ্রাত, সমতট, যশোর, চুদন ইত্যাদি নামে পরিচিত ছিল।
সাতক্ষীরা জেলার নামকরণ সম্পর্কে সবচেয়ে জনপ্রিয় তত্ত্ব অনুসারে, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সময়, নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কর্মচারী বিশুরাম চক্রবর্তী একটি নিলামে চুদরান পরগণা ক্রয় করেন এবং এর আশেপাশে সাতঘরিয়া গ্রামে একটি বাড়ি তৈরি করেন। তাঁর পুত্র প্রাণনাথ সাতঘরিয়া অঞ্চলে ব্যাপক উন্নতি করেন। ১৮৬১ সালে, মহকুমা স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর, ব্রিটিশ শাসকরা সাতঘরিয়ায় তাদের সদর দপ্তর স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়, যা তারা জানত। ইতিমধ্যেই সাতঘরিয়া ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের মুখে ‘সাতক্ষীরা’ হয়ে উঠেছে।
সাতক্ষীরা নামকরণের আরেকটি উপায় হল, সাত ঋষি একবার সমুদ্র যাত্রায় এসে ব্যক্তিগত শখের (রান্নার উপকরণ না পেয়ে) খির রান্না করে খেয়েছিলেন। পরে সেই সাত ঋষির ‘সত’-এর সঙ্গে ‘ক’ প্রত্যয় যুক্ত হয় এবং তাদের রান্না ও খাওয়া ‘ক্ষীর’ ও ‘সাতক্ষীরা’ মানুষের মধ্যে প্রচলিত হয়।
সাতক্ষীরা নামকরণের সর্বশেষ প্রচলিত তত্ত্ব অনুসারে সাতক্ষীরায় উৎপাদিত সাতটি বিখ্যাত জিনিসের নামানুসারে জেলার নামকরণ করা হয়েছে। পণ্যগুলো হলো- উল, ঘোল, কুল, সন্দেশ, মাছ, আম ও গাছের চারা।
সাতক্ষীরা জেলা বরাবরই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। বৃটিশ যুগের কাছ থেকে উপহার হিসেবে চব্বিশ পরগনা (বর্তমান সাতক্ষীরা) পাওয়ার পর ব্রিটিশরা নিজেদের স্বার্থে সুন্দরবনের উন্নয়ন ও এখানকার অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে শুরু করে। ফলস্বরূপ, বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্য, গৃহপালিত পশু, লোনা পানি ও মিঠা পানির মাছ এবং সুন্দরবনের কাঠ, মধু ও পশুর চামড়া অচিরেই সুন্দরবন ও সাতক্ষীরা সংলগ্ন এলাকার অর্থনীতির ভিত্তি হয়ে ওঠে।
ব্রিটিশ শাসনের অব্যবহিত পূর্ববর্তী সময়ে, তবে অবিভক্ত বাংলার উপকূলীয় জেলাগুলিতে কিছু লবণ শিল্প গড়ে উঠার খবর পাওয়া যায়।
সাতক্ষীরার প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্রগুলো হলো বড়দল, পাটকেলঘাটা, পারুলিয়া, আখড়াখোলা, আবাদের হাট, নওয়াবেকী, ঝাউডাঙ্গা, বুধহাটা, কলারোয়া, বসন্তপুর, কালীগঞ্জ, নকিপুর, নাজিমগঞ্জ, ভেটখালী, হবিনগর, হোগলা, বুড়িগোয়ালিনী, বাঁশতলা ইত্যাদি।
এ ছাড়া সাতক্ষীরায় রয়েছে বেশ কিছু খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, হিমাগার, বরফের কারখানা, রাইস মিল, অটো রাইস মিল, ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্ক, বেকারি, ইটভাটা, বাঁশ ও বেতের পণ্য, আসবাবপত্র, তাঁত, লবণ, গুড়, পাটজাত পণ্য ও মাছ ইত্যাদি। বর্তমানে সাতক্ষীরার শিল্প বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
সাতক্ষীরায় খামারের মধ্যে ৮৬টি গবাদি পশুর খামার, ৩২২টি মুরগির খামার, ৩০৪৬টি মাছের খামার (মিঠা পানির), ৩৬৫০টি চিংড়ির খামার, ৬৬টি হ্যাচারি এবং ১টি গরু প্রজনন কেন্দ্র রয়েছে। সাতক্ষীরার চামড়া শিল্পেও অবদান রয়েছে।
মাছ চাষ সাতক্ষীরার অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। বিশেষ করে চিংড়ি চাষ। সাতক্ষীরার দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ মাছ চাষের ওপর নির্ভরশীল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৬৭,০০০ হেক্টর জমিতে ৫৫,০০০ চিংড়ি ঘের (মাছ খামার) রয়েছে। এসব ঘেরের বেশিরভাগেই বাগদা চিংড়ি চাষ হয় এবং বছরে প্রায় ২২ হাজার মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদিত হয়।
বাংলাদেশ থেকে ইউরোপসহ বহির্বিশ্বে রপ্তানি হওয়া চিংড়ির ৭০ শতাংশ উৎপাদিত হয় সাতক্ষীরা থেকে। সাতক্ষীরার বাগদা ও গলদা চিংড়ি পৃথিবীর অনেক স্থানে সাদা সোনা নামে পরিচিত। চিংড়ি চাষের জন্য প্রয়োজনীয় মাছের আঙুলগুলি এখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও সংগ্রহ করা হচ্ছে (সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকা এবং মুন্সীগঞ্জ এবং শ্যামনগর উপজেলার নওয়াবেকী হ্যাচারি থেকে) যা আগে মাছ চাষীদের কক্সবাজার হ্যাচারির উপর ১০০% নির্ভর করতে হতো।
সাতক্ষীরার অর্থনীতি মাছ চাষের ওপর নির্ভর করলেও এ জেলায় বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। যার মধ্যে ধান, পাট, গম, পান অন্যতম। ফলের মধ্যে রয়েছে আম, ইয়াম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, নারিকেল, লিচু, সফেদা, জামরুল, কদবেল, বরই ও পেয়ারা ইত্যাদি। তাছাড়া সাতক্ষীরার আমের দেশ-বিদেশে অনেক সুনাম রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রথম বিদেশে সাতক্ষীরার আম রপ্তানি হয়। এর মধ্যে হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আমরূপালি আম উল্লেখযোগ্য।
শিক্ষার দিক থেকেও সাতক্ষীরা জেলা অনেক এগিয়ে। শিশু জরিপ ২০১০অনুযায়ী এই জেলার ৫৩.৩২ শতাংশ মানুষ শিক্ষিত। সাতক্ষীরার শিক্ষা কার্যক্রম যশোর শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন।
সাতক্ষীরায় ১ টি মেডিকেল কলেজ, ২ টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৪৪ টি কলেজ, ১৩৫ টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩৩ টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩৯০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৮৫টি মাদ্রাসা রয়েছে।
সাতক্ষীরার মনোমুগ্ধকর ও নৈসর্গিক স্থানগুলোর মধ্যে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ‘সুন্দরবন’ থাকবে সামনের সারিতে। সুন্দরী গাছের নামানুসারে সুন্দরবনের নামকরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। কারণ সুন্দরবনে অনেক সুন্দর গাছ জন্মে। আরেকটি তত্ত্ব পরামর্শ দেয় যে সুন্দরবন নামটি ‘সমুদ্র বন’ বা ‘চন্দ্র-বন্ধে (বান্ধে)’ (প্রাচীন আদিবাসী) থেকে এসেছে। তবে সাধারণত ধারনা করা হয় সুন্দরবনের নাম হয়েছে সুন্দর গাছ থেকে। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় রয়েছে খানপুর জাহাজ ঘাটা যমুনা নদী যশোর সরি মন্দির গোপালপুর গোবিন্দ মন্দির নকিপুর জমিদার বাড়ি ঈশ্বরপুর শাহী মসজিদ রাজা প্রতাপের হাম্মান খানা ও রাজা প্রাজাপতিত্বের রাজধানী ধুম ঘাট সহ প্রাচীন আমলের অনেক স্থাপনা রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাতক্ষীরার সড়কপথে সুন্দরবন বাংলাদেশের একমাত্র সড়কপথে সুন্দরবন দেখা মেলে সাতক্ষীরা থেকে শ্যামনগরে মুন্সিগঞ্জ গেলে ‌‍, সাতক্ষীরা জেলাকে বাংলাদেশের পর্যটন জেলার একটি অন্যতম জেলা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে ‍।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) ফজলুল হক জানান, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে গেলে অবশ্যই সাতক্ষীরা-মুন্সীগঞ্জ সড়কের উন্নয়ন করতে হবে আর সুন্দরবনের প্রবেশ ফি বাড়ানো কমানোর বিষয়টি সরকারের। তবে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাত্রিকালীন পাশের জন্য অনলাইনে টাকা জমা দেওয়া যাচ্ছে। পেমেন্ট স্লিপ দেখালেই পাশ দেওয়া যাবে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরেই সুন্দরবন। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আর অপার ঐশ্বর্য্য বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে শ্যামনগর। সাতক্ষীরা সদর থেকে শ্যামনগরের দুরত্ব ৫৭ কিলোমিটার। এখানে একদা ছিল প্রতাপাদিত্য রাজ্যের রাজধানী।
কালীগঞ্জ উপজেলার বরশীপুর এবং এর আশেপাশের কয়েকটি এলাকা জুড়ে মধ্যযুগীয় শহর ঈশ্বরীপুরের ধবংসাবশেষ ছড়িয়ে আছে। সাতক্ষীরা শহর থেকে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার মুন্সীগঞ্জগামী রাস্তাধরে ৫৫ কিঃ মিঃ চলার পর হাতের ডানে এর ধবংসাবশেষ ছড়িয়ে আছে। বার ভূঁইয়া নেতা প্রতাপাদিত্যের (খ্রিঃ ১৫৯৯-১৬৯২) রাজধানী হিসেবে ঈশ্বরীপুর পরিচিত। অতীতে চারপাশে প্রাচীর থাকলেও বর্তমানে নেই। বর্তমানে একটি পাঁচ গম্বুজ মসজিদ সংলগ্ন বারআওলিয়ার মাজার রয়েছে। একটি হাম্মাম ও একটি মন্দির অন্যতম। এখানে বাংলাদেশের মাটিতে তৈরী প্রথম ”গীর্জার” অস্তিত্ব ছিল। বর্তমানে ইট-পাটকেল ব্যাতীত কিছু নেয়।
ঈশ্বরপুর থেকে ৬ কিঃ মিঃ দুরে গোপালপুরে রয়েছে ০৪ টি মন্দির এবং সাতক্ষীরা থেকে শ্যামনগর যাওয়ার পথে জাহাজঘাটা ও হাম্মাম। জাহাজঘাটার মধ্যযুগীয় নাম ”দুদলী”। বলা হয় এখানে প্রতাপাদিত্য তার নৌ-সেনা দপ্তর স্থাপন করেছিলেন।
সাতক্ষীরা বাস স্টপ থেকে রিক্সা নিয়ে আশাশুনিগামী সড়ক ধরে শহরের প্রান্তীয় এলাকায় “মায়েরবাড়ী” এটি একটি প্রাচীনঘেরা আয়তাকার চত্বর। এর মধ্যে পাঁচটি মন্দির আছে। এগুলোর মধ্যে দুটি সমতল ছাদবিশিষ্ট, দুটি আটচালাকার এবং একটি নবরত্ন স্থাপত্যশৈলীর ধারক। নবরত্ন মন্দিরটি অন্নপূর্ণ মন্দির নামেও পরিচিত। এর অন্যতম আকর্ষণ সারা দেয়াল জুড়ে বিদ্যমান পোড়ামাটির কারুকাজ। বিষ্ণুরাম চক্রবর্তী নামে একজন জমিদার ১২০১ বঙ্গাব্দে এটি নির্মাণ করেছিলেন। কালিমাতা মন্দির, শিব মন্দির, কালভৈরব মন্দির, অন্নপূর্ণ মন্দির, রাধাগোবিন্দ মন্দির কালের সাক্ষী হয়ে আছে এই পঞ্চমন্দির। ১৭৯৭ সালে জমিদার বিষ্ণুরাম চক্রবর্তী এ মন্দিরগুলো নির্মাণ করেন।
সাতক্ষীরা জেলার মুকুন্দপুর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার উত্তর-পূর্বদিকে যমুনা নদীর বামতীরে পরবাজপুর গ্রাম অবস্থিত। এখানে একটি বড় আকারের মসজিদ আছে। মসজিদটি বেশ প্রাচীন বলে ধারণা করা হয়। মসজিদের কোন শিলালিপি নেই। মসজিদে ব্যবহৃত ইট খান-ই-জাহানের মসজিদের ইটের  মতো হলেও এটি খান-ই-জাহান আমলের নির্মিত নহে। গঠনপ্রণালী দেখে মনে হয়, এতে সুলতানী আমলের স্থাপত্যশৈলীর যথেষ্ঠ প্রভাব আছে। এই মসজিদটি বিক্রমাদিত্যের রাজত্বকালে নির্মিত হয়েছিল বলে প্রবল জনশ্রুতি আছে।
কপোতাক্ষ ইকোট্যুরিসম সেন্টারটি সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায় অবস্থিত।এই পার্কের জন্য বরাদ্দকৃত জমির পরিমান  প্রায় ০৩.০০ একর।ইকোপার্কটি  প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০২০ সালের জানুয়ারী মাসের ১ তারিখে। পার্কটি আগত দর্শনাথীদের বিনোদন আকাঙ্খা পূরণ করতে সম্ভব হবে কারন এখানে মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যসহ পর্যটনের যাবতীয় সুবিধা বিদ্যমান। পার্কটির জায়গায় বেশ কিছু অবৈধ দোকান গড়ে উঠেছে। তবে দোকানগুলো উপজেলা প্রশাসনের দখলে  আছে। দোকান বরাদ্দ না দিয়ে পুরো জায়গা পার্কের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করতে পারলে পার্কের সৌন্দর্য অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।সাতক্ষীরা বাংলাদের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। পৃথিবীর সর্ব বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবনের একাংশ সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত। সাতক্ষীরা জেলায় অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরবন, মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত, নলতা শরীর, কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম পার্ক, আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার, সোনাবাড়িয়া মঠবাড়ি মন্দির, মোজাফফর গার্ডেন, বনবিবির বটগাছ, জোড়া শিবমন্দির, তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ, গুনাকরকাটি মাজার, ঈশ্বরীপুর হাম্মমখানা, কপোতাক্ষ নদ, দেবহাটা জমিদার বাড়ি, কলারোয়ার বৌদ্ধ মঠ, নীলকুঠি, জমিদার হিরিচরনের বাড়ি, লিমপিড গার্ডেন, সাতক্ষীরা রাজ্জাক পার্ক, লেকভিউ রেস্তোরাঁ, প্রবাজপুর মসজিদ, ইছামতি নদী উল্লেখযোগ্য।
দেবহাটা: একপাশে বাংলাদেশ, অন্যপাশে ভারত। মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে ইতিহাসখ্যাত নদী ইছামতী। সেই নদীর কোল ঘেঁষেই জেগে আছে সবুজের এক সমারোহÑ ‘রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ’। শীতের মিঠে রোদে আর হিমেল হাওয়ায় এই পর্যটন কেন্দ্রটি এখন যেন সেজেছে এক নতুন বধূর সাজে। ইট-পাথরের যান্ত্রিকতা ছেড়ে একটু নিভৃতে সময় কাটাতে চাইলে সাতক্ষীরার এই ‘মিনি সুন্দরবন’ হতে পারে আপনার আদর্শ গন্তব্য।
সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে শিবনগর এলাকায় ১৫০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বনটি এখন পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। ২০১২ সালে গড়ে তোলা এই মানবসৃষ্ট বনে এখন কেওড়া, গোলপাতা, সুন্দরী আর কাঁকড়া গাছের নিবিড় ছায়া। বনের বুক চিরে বয়ে চলা ৩০ বিঘার ‘অনামিকা লেক’ পর্যটকদের নিয়ে যায় অন্য এক ভুবনে।
প্রকৃতি ও রোমাঞ্চের হাতছানি এখানে বনের নিস্তব্ধতা ভাঙছে বিচিত্র সব পাখির কলকাকলিতে। লাভ বার্ড, কোকাটেল থেকে শুরু করে ইমু পাখির আবাসস্থল এখন এই বন। শিশুদের জন্য আছে ট্রেন আর নানা কার্টুন চরিত্র। বড়দের জন্য রয়েছে ইছামতীর বুকে নৌ-ভ্রমণ কিংবা ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে বেড়ানোর রোমাঞ্চ। যারা একটু শান্তিতে সূর্যাস্ত দেখতে চান, তাদের জন্য ইছামতীর পাড়টি অনন্য এক অনুভূতি এনে দেবে।
ইতিহাসের গন্ধ মাখা জনপদ রূপসী ম্যানগ্রোভের পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক টাউনশ্রীপুর গ্রাম। ১৮৬৭ সালের সেই বিলুপ্ত পৌরসভার ইতিহাস আর ১৮ জন জমিদারের বাসভবনের ধ্বংসাবশেষ পর্যটকদের নিয়ে যায় অতীতের পাতায়। ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর সেই জৌলুস কমলেও, প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো আজও দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে।
পর্যটকদের স্বস্তি ও নিরাপত্তা পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, এখানকার নিরিবিলি পরিবেশ আর চমৎকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা তাদের বারবার টেনে আনে। নারীদের জন্য আলাদা নামাজের জায়গা থেকে শুরু করে সুপেয় পানির ব্যবস্থা- সবই আছে এখানে। দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহা বলেন, “জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় এই কেন্দ্রটিকে আরও আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে এখন এখানে রাত্রিযাপনের জন্য নতুন কটেজও যুক্ত হচ্ছে।”
পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক সোহেল রানা নিশ্চিত করলেন, দর্শনার্থীরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকছে এই বন।
কিভাবে যাবেন: সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সরাসরি দেবহাটা উপজেলা সদরে আসা যায়। সেখান থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরেই এই মায়াবী পর্যটন কেন্দ্র।

ইতিহাস বিখ্যাত রাজা প্রতাপাদিত্যর রাজধানী আজ বন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। এখানে-সেখানে ভগ্নস্তূপ, ছোট ছোট কিছু নামফলক। কে বলবে এক সময় এ স্থানটি ছিল সমৃদ্ধ জনপদ। যেখানে শোনা যেত, অশ্বের হ্রেষা, সৈন্যদের ঢাল তলোয়ারের ঝনঝনানি। এখন স্থানটিতে শুধুই বাতাসের ফিসফিস আর পুরোনো দালানকোঠার আড়ালে ঘুরে-ফিরে সেসব দিনের স্মৃতি। এ স্মৃতিবহুল স্থানটির নাম ঈশ্বরীপুর। যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজধানী। বর্তমানে এলাকাটি বংশীপুর নামে পরিচিত। সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ৫০
কিলোমিটার গেলে শ্যামনগর।
উপজেলা সদর থেকে সুন্দরবনের দিকে ৫ কিলোমিটার এগিয়ে গেলেই বংশীপুর বাজার। যার কিছু দূরেই সুন্দরবন।

জন্মভূমি ডেস্ক January 1, 2026
Share this Article
Facebook Twitter Whatsapp Whatsapp LinkedIn Email Copy Link Print
Previous Article যশোরে এক বছরে ৬০ খুন,বাড়ছে হত্যাকাণ্ড
Next Article সাতক্ষীরা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের নৈশ প্রহরীর লাশ উদ্ধার

দিনপঞ্জি

January 2026
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
« Dec    
- Advertisement -
Ad imageAd image
আরো পড়ুন
সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের নৈশ প্রহরীর লাশ উদ্ধার

By জন্মভূমি ডেস্ক 2 hours ago
সাতক্ষীরা

পর্যটনের ঐতিহাসিক জেলা সাতক্ষীরা

By জন্মভূমি ডেস্ক 3 hours ago
যশোর

যশোরে এক বছরে ৬০ খুন,বাড়ছে হত্যাকাণ্ড

By জন্মভূমি ডেস্ক 6 hours ago

এ সম্পর্কিত আরও খবর

সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের নৈশ প্রহরীর লাশ উদ্ধার

By জন্মভূমি ডেস্ক 2 hours ago
সাতক্ষীরা

অনিয়মতান্ত্রিক পর্যটক ‌ও প্লাস্টিক দূষণে দেশের পরিবেশ সংকটাপন্ন

By জন্মভূমি ডেস্ক 12 hours ago
সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় সরিষার বাম্পার ফলন

By জন্মভূমি ডেস্ক 14 hours ago

প্রতিষ্ঠাতা: আক্তার জাহান রুমা

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: হুমায়ুন কবীর বালু

প্রকাশনার ৫২ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

প্রতিষ্ঠাতা: আক্তার জাহান রুমা

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: হুমায়ুন কবীর বালু

রেজি: কেএন ৭৫

প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল, প্রকাশক: আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত

Developed By Proxima Infotech and Ali Abrar

Removed from reading list

Undo
Welcome Back!

Sign in to your account

Lost your password?