By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept
খবর সার্চ

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

NEWSPORTAL

  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • জেলার খবর
    • খুলনা
    • চুয়াডাঙ্গা
    • বাগেরহাট
    • মাগুরা
    • যশোর
    • সাতক্ষীরা
  • ফিচার
  • আজকের ই-পেপার
  • সকল ই-পেপার
Reading: প্লাস্টিক ও বায়ু দূষণের ঝুঁকিতে সুন্দরবন এবং বঙ্গোপসাগর
Share
দৈনিক জন্মভূমিদৈনিক জন্মভূমি
Aa
  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • খুলনা
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • সম্পাদকীয়
  • ALL E-Paper
অনুসন্ধান করুন
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • ই-পেপার
Have an existing account? Sign In
Follow US
প্রধান সম্পাদক মনিরুল হুদা, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত
দৈনিক জন্মভূমি > জেলার খবর > সাতক্ষীরা > প্লাস্টিক ও বায়ু দূষণের ঝুঁকিতে সুন্দরবন এবং বঙ্গোপসাগর
সাতক্ষীরা

প্লাস্টিক ও বায়ু দূষণের ঝুঁকিতে সুন্দরবন এবং বঙ্গোপসাগর

Last updated: 2026/03/28 at 6:47 PM
Correspondent 4 hours ago
Share
SHARE

সিরাজুল ইসলাম, শ্যামনগর: সমুদ্রের সব স্থান সামুদ্রিক প্রাণীদের জন্য নিরাপদ নয়। বেশ কিছু এলাকায় প্লাস্টিকের উপস্থিতি সমুদ্রের প্রাণীদের জীবন বিপন্ন করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্রের টুলেন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিজ্ঞানী ইয়ানক্সু ঝাংয়ের নেতৃত্বে এক গবেষণায় সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণের নতুন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় ভাসমান বোতলের সংখ্যা না গুনে বাস্তুতন্ত্রের ওপর প্লাস্টিকের ঝুঁকির একটি বৈশ্বিক ম্যাপ তৈরির মাধ্যমে সমুদ্রের কোথায় কোথায় প্লাস্টিকের সঙ্গে প্রাণীর সংযোগের সম্ভাবনা বেশি ও কোথায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর, তা বের করেছেন বিজ্ঞানীরা। শুধু তা–ই নয়, প্লাস্টিক বর্জ্য ভিন্ন ভিন্ন প্রাণীর জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা-ও বিশ্লেষণ করেছেন তাঁরা। বিজ্ঞানীদের তৈরি বৈশ্বিক ম্যাপ পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, আমাদের বঙ্গোপসাগরও প্লাস্টিক দূষণের ঝুঁকির মধ্যে আছে।
প্লাস্টিক প্রধানত চারভাবে প্রাণীদের ক্ষতি করছে। অনেক প্রাণী প্লাস্টিক খায়, প্লাস্টিকের মধ্যে জড়িয়ে যায়। অনেক প্রাণী প্লাস্টিকের সঙ্গে লেগে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থও খায়। প্লাস্টিক থেকে নিঃসৃত রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করে সমুদ্রের প্রাণীদের ক্ষতি করছে। আর তাই বিজ্ঞানীরা এপিপেলাজিক প্রজাতি হিসেবে সমুদ্রের পৃষ্ঠের কাছাকাছি প্রায় ৬৫০ ফুট গভীরতার মধ্যে বসবাসকারী প্রাণীদের চিহ্নিত করেছেন। আর মেসোপেলাজিক প্রজাতি হিসেবে প্রায় ৬৫০ থেকে ৩৩০০ ফুট গভীরে বসবাসকারী প্রাণীদের আলাদা করেছেন। দেখা গেছে, সমুদ্রের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে প্রাণীদের ওপরে প্লাস্টিকের প্রভাব ভিন্ন রকম।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞানী ঝাং বলেন, সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণ একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ হিসেবে স্বীকৃত। যদিও প্লাস্টিকের বাস্তুসংস্থানের ঝুঁকি সম্পর্কে এখনো খুব কম জানা হয়েছে। আমরা কীভাবে প্লাস্টিক বিভিন্ন ঝুঁকির মাধ্যমে সামুদ্রিক জীবন ও বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে, তা জানার চেষ্টা করেছি। গবেষণায় উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর, উত্তর আটলান্টিক, উত্তর ভারত মহাসাগরের কিছু অংশ ও পূর্ব এশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলকে প্লাস্টিক ঝুঁকির হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই অঞ্চলগুলোতে প্রচুর বন্য প্রাণী থাকে। আবার বড় আকারের মাছ ধরার কার্যক্রম চলে। সমুদ্রের উপক্রান্তীয় অঞ্চলের বেশি প্রাণীর ঘনত্ব থাকে না। সেখানে শুধু দৃশ্যমান আবর্জনা দেখে ক্ষতির মাত্রা অনুমান করা যায় না। প্লাস্টিক-সম্পর্কিত পরিবেশগত ঝুঁকির বৈশ্বিক অবস্থানের ম্যাপ তৈরি করে আমরা বিজ্ঞানভিত্তিক একটি ভিত্তি তৈরি করেছি।
কিছু প্লাস্টিক ক্ষুদ্র ভেলা বা বাহক হিসেবে কাজ করে। এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ বহন করে। এই গবেষণায় পিএফওএস ও মিথাইলমারকারির মতো রাসায়নিক পদার্থ চিহ্নিত করা হয়েছে। এই রাসায়নিক প্লাস্টিকের সঙ্গে মিশে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। মিথাইলমারকারি একটি শক্তিশালী নিউরোটক্সিন। এটি গ্রহণ করে প্রাণীর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হচ্ছে। মাছ ধরার জালসহ পরিত্যক্ত সরঞ্জামকে ঘোস্ট গিয়ার বলা হয়। এসব মাছ, সামুদ্রিক পাখি, কচ্ছপ ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনে। এই গবেষণার মানচিত্রে ওখোটস্ক সাগর, হলুদ ও পূর্ব চীন সাগর, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অন্যান্য ব্যস্ত উপকূলীয় অঞ্চলে এই ধরনের ঝুঁকির মাত্রা বেশি দেখানো হয়েছে। শক্তিশালী পদক্ষেপ না নিলে ২০৬০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক প্লাস্টিক গ্রহণের ঝুঁকি বর্তমানের চেয়ে তিন গুণের বেশি বাড়বে। গবেষণার ফলাফল নেচার সাসটেইনেবিলিটি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।থেকে ৩০০ ধরনের প্লাস্টিক পণ্য বঙ্গোপসাগরে পড়ছে। কোমল পানীয়র বোতল থেকে শুরু করে থালা, কসমেটিকসের মোড়ক ও নিত্য ব্যবহার্য থালা ও জগ সবই ছিল ওই তালিকায়। ব্যবহার করার পর তা বিভিন্ন জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তা নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে।
পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে করা এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘উৎস থেকে সাগরে’ শীর্ষক ওই গবেষণায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নারী বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা অংশ নেন। গবেষক দলের সদস্যরা পদ্মা থেকে বঙ্গোপসাগরের ওই বিস্তৃত এলাকাজুড়ে মোট ৫৬ হাজার প্লাস্টিক পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করেন।
অক্টোবর মাসের শেষের দিকে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ওই দলটি প্রায় দুই মাস ধরে তাদের গবেষণা বিষয়ক অভিযান চালায়। সংস্থাটির ফেলো জেনা জ্যামবেক ও হিথার কোল্ডেওয়ের যৌথ নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ওই দলটি পদ্মা নদীর বঙ্গোপসাগর থেকে হিমালয় পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৫৭৫ কিলোমিটার অংশে জরিপ করে। পদ্মা নদীর বাংলাদেশ ও ভারতীয় অংশে পরিচালিত এই অভিযানটি দ্বিতীয় পর্যায় খুব দ্রুত শুরু হতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে এই নদীতে বর্ষা-পরবর্তী সময়ে প্লাস্টিক দূষণের কার্যক্রমগুলোর সাদৃশ্য এবং বৈসাদৃশ্যগুলো শনাক্ত করা হবে।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ফেলো ও গবেষক দলের উপনেতা হিথার কোল্ডেওয়ে বলেন, ‘সমুদ্রে প্লাস্টিকদূষণ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। প্রতিবছর ৯০ লাখ মেট্রিক টন প্লাস্টিক নদীতে গিয়ে পড়ে। এরপর ভেসে ভেসে সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। আমাদের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো জনগণ এবং প্লাস্টিক কীভাবে পদ্মা নদী এবং সমুদ্রের সঙ্গে সংযুক্ত, তা বোঝা এবং আমাদের তথ্য ব্যবহার করে সচেতনতা তৈরি এবং এর সমাধানের পথ বের করা।’
দিনে ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক বঙ্গোপসাগরে পড়ে গত বছরের জুনে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনইপি থেকে ‘বিশ্বের প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিস্থিতি’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ছে। পরিমাণের দিক থেকে এটি বিশ্বে পঞ্চম। এই বর্জ্যের উৎস গঙ্গা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার দেশ চীন, ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পদ্মা, মেঘনা, যমুনা হয়ে এগুলো সাগরে যায়।
বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডিও) করা একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের জলে-স্থলে বর্তমানে ৬৫ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হয়েছে। প্রতিদিন এর সঙ্গে তিন হাজার টন করে যোগ হচ্ছে। সংস্থাটি দেশের পরিবেশের জন্য অন্যতম প্রধান হুমকি হিসেবে প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যাগকে চিহ্নিত করেছে। তারা বলছে, দেশে যেখানে জৈব বর্জ্য বৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ২ শতাংশ, সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য বৃদ্ধির হার সাড়ে ৭ শতাংশ। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক জেনেও দেশের ৬১ শতাংশ মানুষ পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করছে।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ওই গবেষক দল অভিযান চলাকালীন নদী এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বর্ষা-পরবর্তী সময়ে প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা পরিমাপ করবে। এ ছাড়া এ সময়ে তাঁরা কিছু মানুষের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করবেন এবং এই সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু কর্মশালা পরিচালনা করবেন।
ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (ডব্লিউআইআই), ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলোজি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ওয়াইল্ড টিম এবং ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় অভিযানটি পরিচালিত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো প্লাস্টিকের বর্জ্য কীভাবে উৎস থেকে সমুদ্রে যায়, তা লিপিবদ্ধ করা এবং প্লাস্টিকের প্রবাহ ও গঠন সম্পর্কে যে জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণ করা। ভারতে টাটা ট্রাস্টও এই উদ্যোগকে সহায়তায় করছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের গবেষক বুশরা নিশাত বলেন, মূলত স্বল্প মূল্যের কারণে এসব পণ্যের চাহিদা বেশি। এ ছাড়া এটি সহজলভ্য এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য। কিন্তু এগুলো ব্যবহারের পর যখন বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়, তখন তা পরিবেশ ও সামগ্রিকভাবে মানুষের জন্য ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে। তাই প্লাস্টিকের সামগ্রী যাতে সরাসরি মাটি ও পানিতে ফেলা না হয়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে। তবে জনগণকেও এ ব্যাপারে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে।
উৎপাদকদের বর্জ্যের দায়িত্ব নিতে হবে
গবেষক দলটি প্রাথমিক পর্যায়ে প্লাস্টিক সম্পর্কিত ধারণা এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে ২৫০ জনের বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। মেরিন ডেব্রিস ট্রাকার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে প্লাস্টিক বর্জ্যগুলোর ধরন চিহ্নিত করে। তারা স্থল ও পানিতে ৩ হাজার কাঠের পচনশীল ‘ড্রিফট কার্ড’ এবং ১০টি ‘বোতল ট্যাগ’ ব্যবহার করে প্লাস্টিক বর্জ্যের গতিবিধি লক্ষ করে।
ইউএনইপির হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিদিন তিন কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হয়। এর ৮০ লাখ টন প্রধান ১০টি নদী অববাহিকা দিয়ে সাগরে গিয়ে পড়ছে। এই ১০ নদীর আটটিরই উৎসস্থল চীন। এর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার দূষণের প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও আছে। চলতি বছর বিশ্ব পরিযায়ী দিবসের মূল স্লোগানও ছিল, ‘প্লাস্টিকের হাত থেকে পাখিদের বাঁচাও’।
বাংলাদেশে এককভাবে দিনে তিন হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। এর মাত্র কিছু অংশ নদী দিয়ে সাগরে যায়। বাকি বর্জ্য এবং গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার দেশ থেকে আসা বিপুল প্লাস্টিক বর্জ্যের একটি অংশ দেশের বিভিন্ন নদ-নদী এবং ভূভাগকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ কে এম রফিক আহমেদ বলেন, অর্থনৈতিক কারণেই দেশে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বাড়ছে। এটা শুধু এককভাবে বাংলাদেশের সমস্যা না। বিশ্বজুড়ে এটি পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। তাই আমরা এসব পণ্যের উৎপাদকদেরই এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে রাজি করানোর চেষ্টা করছি। আন্তর্জাতিকভাবেও এটি একটি আন্দোলন হিসেবে গড়ে উঠছে। বাংলাদেশ সেই আন্দোলনেও আছে।সাগর যাহার বন্দনা রচে শত তরঙ্গ ভঙ্গে/ আমরা বাঙালি বাস করি সেই বাঞ্ছিত ভূমি বঙ্গে।/ বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করিয়া আমরা বাঁচিয়া আছি,/ আমরা হেলায় নাগেরে খেলাই, নাগেরি মাথায় নাচি।’ ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের এই মাধুর্যময় কবিতার প্রতি শব্দে প্রতিধ্বনি শুনতে পাই যে, অঞ্চলের মানুষের জীবনালেখ্যের, তা যেন এই সুন্দরবন এলাকার। জীবনসংগ্রামে বেঁচে থাকার এমন অদম্য প্রয়াস পৃথিবীর খুব কম এলাকাতেই দেখতে পাওয়া যায়। আজও সুন্দরবন এক বিষ্ময়ের জগৎ। নদনদী, খালবিল, গাছপালা অধ্যুষিত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ অরণ্যভূমি, যার সর্বত্র বিপদ ওত পেতে আছে। ডাঙ্গায় বাঘ, জলে কুমির। অসংখ্য প্রজাতির গাছপালার অরণ্যে বাঘ, হরিণ, বুনো শুয়োর, বিষধর সাপ, বেজি থেকে শুরু করে কত যে প্রাণীর বসবাস-সে খবর রাখেন কম মানুষই। লোনা মাটির ভূমি সুন্দরবনের অপরিমিত সৌন্দর্য মুগ্ধ করে মানুষকে। কিন্তু প্রাণবৈচিত্র্যের আধার সেই সুন্দরবন আজ প্লাস্টিক বর্জ্যের দূষণে বিপর্যস্ত।
বাতাসে মিশে থাকা প্লাস্টিকের গন্ধ, নদী-খালের পানিতে ভেসে চলা মোড়ক এবং গাছপালার সঙ্গে আটকে থাকা ফাইবার-সব মিলিয়ে বনজ ও জলজ সম্পদে ভরপুর সুন্দরবনকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছে প্লাস্টিক বর্জ্য। সুন্দরবনের মাটি ও পানিতে উদ্বেগজনকহারে মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিক (৫ মিলিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের প্লাস্টিক কণা)। এই প্লাস্টিক দূষণ জলজ ও স্থলপ্রাণীর পাশাপাশি খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানবদেহেও প্রবেশ করছে মাইক্রোপ্লাস্টিক হয়ে।
প্লাস্টিক দূষণে হুমকিতে সুন্দরবন
গাছের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। প্রকৃতির এই শৃঙ্খলিত বিশাল বনাঞ্চল মানুষের ফেলা বর্জ্যে এখান ধুকছে। সুন্দরবনের বেনের নিশুক নিশুক পরিবেশে পরিবেশে নাগরিক জীবনের ময়লা আবর্জনার উৎকট গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে
মুদ্দদ্রবন পশ্চিম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএমও) এ জেড এম জামানুর রমাদান বলেন, সুন্দরবনের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে প্লাস্টিক দূষণ। পর্যটন মৌসুমে পর্যটকরা সুন্দরবনের নদী-খালে চিপস, বিস্কুটের প্যাকেট, প্লাস্টিকের পানির বোতল, পলিথিন, ওয়ান টাইম প্লেট-গ্লাস, চকোলেটের গোলা দেনে যান। এ সব প্লাস্টিক বর্জ্য নদীর কোলেটের ঘোলা নদীর জোয়ার-ভাটায়া ১০-১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বনের অভ্যন্তরে ঢুকে যায়। এ সব বর্ষা সুন্দরবনের গাছের স্বাসমূলে ঢুকে জড়িয়ে থাকে। এতে প্রাণশক্তি হারায় গাছ মরে যায়। এছাড়া সুন্দরবনের পশুর, ঢাকি, শিবদা নদীর তেরর নিচে খুলনা খেয়ে করো, মদিনাবাদ, ফেড়সিংসহ বিভিন্ন রুটে লঞ্চ চলাচল করে। এসব লঞ্চের যাত্রীরা বিভিন্ন প্লাস্টিক বাজী নদীতে ফেলেন। আছাড়া লঞ্চের জ্বালানি তেল নদী-খালের পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। যার বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্রো। এছাড়া সুন্দরবন সংলগ্ন গ্রামগুলোর মানুষেরা বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব পালনের সময় প্রাইকের উৎসব পালনের সময় প্রাক্টিকের প্লেট, গ্লাস ব্যবহার করার পর বাড়ির পাশের খাদে ঢেলে দেনা। সেয়ার-ভাটার
সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরতে যাচ্ছে জেলেরা
সম্য সেগুলো বনের মধ্যে তেসে গিয়ে গাছের শ্বাসমূলের ক্ষতি করে। সুন্দরবনকে বলা হয়, দক্ষিন এশিয়ার ফুসফুস। এটি ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে
উপকুলকে রক্ষা করে, কার্বন শোষণ করে, অক্সিজেন উৎপাদন করে। । এর এর ওপর ওপর নির্ভর করে কোটি মানুষের খাদ্য, জীবিকা ও পরিবেশগত ভারসাম্য। কিন্তু দিত বাড়তে থাকা প্লাস্টিক ও মাইক্রোপ্লাস্টিক দূরণ এই ফুসফুসকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিচ্ছে। যদি এখনই কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ না নেওয়া যায়, তবে সুন্দরবনের নাম অবিষ্যতে শুধু বইয়োর পাড়ায় থাকবে, বাস্তবে নয়।
বলেন, প্রান্তে দেশে না। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগীয় কন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, প্লাস্টিক বর্ষা এমন ভয়ংকর যে ৪০০ বছরেও দার্টির সঙ্গে মেশে না। জোয়ার-ভাটার সঙ্গে প্লাষ্টিক বার্তা সুন্দরবনের গাছের স্বাসমূলে ঢুকে একসময় সেই গাছ মরে যায়। তবে আমাদের পক্ষ থেকে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে পূর্ব সুন্দলনের অভয়ারণ্য কটক, কচিখালী ও দুবলারচর থেকে প্রাস্টিক বর্জ্য সরায় ফেলা হয়েছে। প্রতি মাসেই অভিযান চলবে। কিন্তু বর্তমানে জেলেদের জানে ব্যবহৃত ট্রেন (জাল ব্যবহৃত প্লাস্টিকের তৈরি এক ধরনের ফল) সব থেকে অতিকর। এই ফ্লো’র শতাংশই বন ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতি করে। সুন্দরবনের কচিখালী ও দুবলার নদী-খালে এই জল ব্যবহৃত হচ্ছে। অচিরেই এগুলো উচ্ছেদ করা হবে
সুন্দরবনের বন ও নদীর সম্পদের ওপর আ লক্ষাধিক মানুষ নির্ভরশীল। কেউ মাছ ধরেন, কেউ চিংড়ি বা কাঁকড়া সংগ্রহ করেন, আমার কেউ বন্ধু আগ্রাম করেন। কিন্তু প্লাস্টিক দূষণের কারণে মাছ ও কাঁকড়ার সংখ্যা দ্রুত কমছে। স্থানীয় জেলেরা বলছেন, আগে নদীতে নামলেই প্রচুর মাছ পাওয়া যেত, এখন মাছ কমে গেছে, আর যেগুলো পাওয়া যায় সেগুলোতেও রোগ দেখা দিচ্ছে। তাদের হয়, নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহ চিত্র: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবির) এক গবেষণায় সুন্দরবনের প্রষ্টিক দূষণের ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় বানর দ্বয়টি স্থানের পানি ও মাটি পরীক্ষা করা হয়। এই গবেষণায় সুন্দরবনের যায়। প্রতি কেজি মাটিতে এই পরিমাণ গড়ে ৭৩৪ কণা। অন্য এক গবেষণা তথ্য বলছে, গজল, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর স্রোতে প্রতি বছর প্রায় চার মিলিয়ন মেট্রিক সাগরের ঢেউ ও নদীর জোয়ারের সেই প্রাপ্তিক সুন্দরবনের পানিত্রে প্রেমে আসে। বনের মধ্য দিয়ে চলাচলরত ভারী নৌযানের বর্জ্য, মাছ ধরার নেটজাল, কৃষিজ আবর্জনা, শিল্প-কলকারখানার বর্জ্য ও পলিথিন মিলিয়ে বিশাল এই সবুজ বনাঞ্চল এখন হুমকির মুখে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে স্নানেসাজার পক্ষ থেকে সুন্দরবনের জন্য ১০টি হুমকি চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া, প্রাস্টিক দূহণ, অবৈধ তৎপরতা পশুর নদের গননকে অন্যতম মালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
‘মইক্রোপ্লাস্টিক পলিউশন লোড ইন সুন্দরবন ডেন্টা অব বে অব বেঙ্গল’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে গঙ্গ, ব্রহ্মপুত্র ও যেগনা পৃথিবীর শীর্ষ দশ প্লাস্টিক বহনকারী নদীর ডালিকায় রয়েছে। এই নদীগুলো বছরে ৭২ হাজার মেট্রিক উনেরও বেশি প্লাস্টিক বঙ্গোপসাগয়ে ফেলে। প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৬০ সালের ট্যুর অপারেটর ও লা মালিকদের সচেতন করা হচ্ছে বর্জ্য।
প্রক্রিয়াজাত করণ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি
মধ্যে ভারত থেকে ৫২ মিলিয়ন মেট্রিক টন এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন প্লাস্টিক বঙ্গোপসাগরে জমবে। এর ফলে ভবিষ্যতে সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল ম্যানগ্রোর ইকোসিস্টেমে প্রাক্টিক দূযণেঃ মাত্রা ডয়াবহ আকার ধারণ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেষ্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম বলেন, প্রাক্টিক বর্মী এক সময় সূর্যের ভাপে মাইক্রোপ্রাক্টিক বর্জ্যে পরিণত হয়। এটি সুন্দরবনের জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। প্লাস্টিক বর্জ্য বনের গাছ ও চারার শ্বাসমূলে ঢুকে যাবার কারণে সেগুলো মারা যায়। এছাড়া বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার কারণে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। বিশেষ করে মাছ। এই মাছ খেয়ে মানুষ নানা রোগে ভাতাও হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দেখেছি, সুন্দরবনের একটি বাগ প্লাস্টিক থেয়ে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছিল। ফলে বাঘটি তার স্বাভাবিক খাবার খেতে পারত না। পরবর্তী সময়ে বাঘটির পাকস্থলী অস্ত্রোপচার করে দেখা যায় সে মান্টিক খেয়েছিল। এভাবে সুন্দরবনের পশুপাখি এবং নদীর জলজ প্রাণী প্রাতিক বাজা রোগাক্রান্ত ও পরবতীতে যারা যাচ্ছে। যা সুন্দরবনের জীববৈচিত্রোর জন্য গেয়ে মারাত্মক অতিকর।
অধ্যাপক ড. ওয়াসিউল ইসলাম সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সুন্দরবন সংলগ্ন মানুষ এবং পর্যটকদের প্রাক্টিক দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে জোরালোভাবে সচেতনতামূলক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য কা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আলান জানান।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী প্রাস্টিক বার্জা সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, ‘মাইক্রোস্টিজ শুধু প্রাণীর দেয়ে জমছে না, তা খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের শরীরেও প্রবেশ করছে। এটি জলন্ধস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি। কেবল নর্মীতীর নয়, প্লাস্টিক পৌঁছে গেছে প্রাণীরলের দেছেও। মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া, কারণ, এমনকি হাঙরের দেহেও মাইক্রোপ্লাস্টিক কথা পাওয়া গেছে। গবেষণা বলছে, একেকটি প্রাণীর শরীরে গড়ে শূন্য দশমিক ৫৬ থেকে ৬ দশমিক ১৬টি কণা জমছে। ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কন্য প্রথমে প্ল্যাঙ্কটন দেয়ে নেয়, তারপর ছোট দাছের দেহে, পরে বড় মাছের দেহে প্রবেশ করে এবং সর্বশেষ মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলেও পৌঁছে যাচ্ছে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ বশ অধিদপ্তরের অধি পরিচালক মো. সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে যাতে প্লাস্টিক বর্জ্যময় কেনো ধরনের পরিবেশ দূষণ না হয়-সে রাগরে পরিবেশ অধিদপ্তর সচেষ্ট রয়েছে। প্রচার প্রচারণায় মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। বিশেষ করে সুন্দরবনের টার অপারেটর এ লঞ্চ মালিকদের সচেতন করা হচ্ছে। রাস মেলাকে সামনে রেখে সুন্দরবনের দুই বলার চরে গ্রাস্টিক বর্জ্য সংজ্ঞায় সচেতনয়ামূলক সভা করা হবে। যাতে সুন্দরবান প্লাষ্টিক বর্জসহ কোনা ধরনের দুখণ না ঘটে।
মুষণ মোকাবিলায় করণীয়: সুন্দরবন সংশ্লিষ্টদের ঘরে, প্লাস্টিক মোকাবিলায় কেবল আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও টেভাগী নির্ঘমেয়াদি কার্যপরিকল্পনা গ্রহণ। এছাড়া বার্জা ব্যবস্থাপনাকে আরো দক্ষ ও কর্যকরভাবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
ইয়েফাক উটার অপারেটর আংগোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (ন্যাস) সভাপতি মো. মইনুল ইসলাম জমাদ্দার বলেন, বর্তন নে সুন্দরবনে প্লাস্টিক বর্জ্যসহ যে ময়লা-আবর্জনা জমা হয়, তার মাত্র ৫ শতাংশ পর্যটকদের হতে পারে। বাকি ১৫ শতাংশই সুন্দরবনের প্রস্তসীমার উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামের মানুষের ব্যবহৃত ময়লা-আবর্জনা ও পলিধিন। ঐসব জনপদের মানুষের ব্যবহৃত বর্মা নদী-খালে ভাসতে ভাসতে সুন্দরবনে গিয়ে জমা হ্যায়। এছাড়া সুন্দরবনের দুবলারচরের উইকিপল্লির ম্যাবা-আ আবর্জনার পরই যায় সুন্দরবনে। এছাড়া মোংলা পৌরসভা ও পোর্টের ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিক ব্যার বড় একটি অংশ সুন্দরবনে জমা হয়। যা বনের পরিবেশ-প্রতিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। মূলত সুন্দরবান এই ময়লা-আরার্জনার প্রধান কারণ হচ্ছে, বৃন্দাবন গংলয় কোথাও বর্মা ব্যবস্থাপনা এবং বর্জ্য প্রতিনয়াজাতকরণের কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেই। এর ফলে ডাস্টবিনের ময়লাও পশু-পাখির মাধ্যমে আবারও সুন্দরবনে গিয়ে পড়ে বদের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করছে।
তার মতে, সুন্দরবনের প্লাস্টিক বর্জ্যের দূষণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে আলোচনাসভা, পথসভা, নাটক, পট্টনগান, জরিগান, উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা যেতে পারে। এছাড়া সুন্দরবনসংলগ্ন মোংলা ও খুলনায় প্রাপ্তিকসহ বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি।
সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের মাত্র, বাংলাদেশের গর্ব বিশ্বঐতিহা সুন্দরবনের প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে স্কুল-কলেজে পরিবেশবিষয়ক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। চোলিডিশন, সোশ্যাল মিডিয়া ও রেডিওতে নিয়মিত প্রচারাযিগন চালাতে হবে। মিডিয়ায় পরিবেশবান্ধব বার্তা মড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যয়ে কর্মশালা, জ্বালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অয়োজনের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো যেতে পারে। প্রষ্টিত বর্জ্য প্রতিরোধে বিশেষ করে সরকারি নীতিনির্ধারণ, বেসরকারি সংস্থাচলের অংশগ্রহণ ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি-এ তিনটি চরেই সমান্তরালভাবে কাজ করতে হবে। একটি সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক আংপ পদ্ধতিই পারে সুন্দরবনকে প্লাষ্টিক মহণের হাত থেকে রক্ষা করবে।
প্রসঙ্গত, অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতে সুন্দরবনের আয়তন ছিল বর্তমানের দ্বিগুণ। কমতে কমতে বাংলাদেশ অংশের প্র্যতন এখন দাঁড়িয়েছে ৬ আজা১ হর্ণ কিলোমিটার; যা দেশের সংরক্ষিত বনভূমির মোট ৫১ যাগ। সংরক্ষিত এ বনের তিনটি এলাকাকে ১৯৯৭ সনের ৬ ডিসেম্বর ইউনেস্কো ৭৯৮তম ওয়ার্ক হ্যারিটেজ সাইট ঘোষণা করে। যেখানে রয়েছে সুষ্পষ্ট, গেওয়া, গরান, পত্তরসহ প্রজাতির উদ্ভিদরাজি। এছাড়া ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণসহ ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, লোনা পানির কুমির, গুইসাপ, কচ্ছপ, ডলফিন, অজগর, কিংকেলরাসহ ৩০ প্রাজাতির সরীসৃপ ও ৩১৫ প্রজাতির পাখি। সুন্দরবণ ওয়ার্ক হ্যারিটেজ সাইটের পাশাপাশি বিশ্বের বৃহৎ জলাভূমিও। সুন্দরবনের জলভাগের পরিমাণ ১ হাজার ৮৭৪ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার, যা সমগ্র সুন্দরবনের ৩১ দশমিক ১৫ ভাগ। ১৯৯২ সালে সমগ্র স্বরবাদের জলভাগকে রামসার এলাকা হিসেবে স্বকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। এছাড়া সুন্দর্যবানের সমুদ্র এলাকার পরিমাণ ১ হাজার ৯০৩ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার। জলভংগে ছোটবড় ৪৫০টি নন্দনানী ও খালে রয়েছে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির ইরবর্তীসহ ম্যা প্রজাতির ডলভিন, ২১০ প্রজাতির বাল মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি, ১৪ প্রজাতির কাকড়া, ৪৩ প্রজাতির মলাখ্যা ৩১ প্রজাতির লবস্টার। এরই মধ্যে সুন্দরবন থেকে হারিয়ে গেছে এক প্রজাতির কন্যদছিস, দুই প্রজাতির হরিণ, এ প্রজাতির পপার ও এক প্রজাতির মিঠা পানির কমির।বৈশ্বিক ঊষ্ণায়ণ ও জলবায়ুর পরিবর্তন জণিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং ডেমোগ্রাফির জন্য যে সব চ্যালেঞ্জের কথা বলা হচ্ছে সে সবের প্রতিটা ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ সবচে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ফসিল জ্বালানীর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, শিল্প ও নগরায়ণের প্রয়োজনে বনভ’মি হ্রাস এবং যান্ত্রিক ও রাসায়নিক নির্ভর কৃষি ব্যবস্থাই হচ্ছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং, ওজোন স্তরের ক্ষয়সহ নানাবিধ বিপত্তির মূল অনুঘটক। তৃতীয় বিশ্বের একটি দরিদ্র-উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্বেও বাংলাদেশ কেন জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে বাংলাদেশের চলমান সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলোও বেরিয়ে আসতে পারে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা গতানুগতিক বৈশ্বিক জলবায়ু সমস্যার বাইরে বাংলাদেশের জন্য আরো কঠিন ও অস্বাভাবিক পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা করেছিলেন আরো দেড় দশক আগেই। গত এক দশকে বাংলাদেশের উপর সিডর ও আইলার মত একাধিক দানবীয় সামুদ্রিক ঘুর্ণীঝড় আঘাত হানার মধ্য দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের বিপদ ইতিমধ্যেই প্রমানিত হয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক এজেন্ডাগুলোর বাইরে বাংলাদেশে যে সব জাতীয় ও আঞ্চলিক ভ‚-প্রাকৃতিক ও অপতৎরতার সম্মুখীন হচ্ছে সে সব তৎপরতাই বাংলাদেশকে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক নদী আইন এবং কনভেনশন লঙ্ঘন করে যৌথনদীগুলোর উপর উজানে ভারতের একতরফা নিয়ন্ত্রণ ও পানি প্রত্যাহারের অব্যাহত তৎপরতা এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য সবচে বড় বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের শত শত নদ নদীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। প্রধন প্রধান নদীগুলোর বিশাল অংশ নাব্য হারিয়েছে। যে সব নদী প্রবহমান আছে, তার সবগুলোই উজানের এবং বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন দূষণ ও অপদখলের শিকার হয়ে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। পদ্মা, যমুনা, তিস্তা থেকে থেকে শুরু করে বিশেষ।

Correspondent April 1, 2026
Share this Article
Facebook Twitter Whatsapp Whatsapp LinkedIn Email Copy Link Print
Previous Article সাতক্ষীরা ‌বহু বঞ্চনা ও অবিচারে হেরে যাওয়া মুন্ডাদের জীবন
Next Article শ্যামনগরে,অকাল গর্ভপাত ও জরায়ু সমস্যাসহ নানা রোগে আক্রান্ত ‌উপকূলের নারীরা
আরো পড়ুন
সাতক্ষীরা

শ্যামনগর হাটে-বাজারে ভেজাল , বিপাকে কৃষকরা

By জন্মভূমি ডেস্ক 16 minutes ago
সাতক্ষীরা

শ্যামনগরে,অকাল গর্ভপাত ও জরায়ু সমস্যাসহ নানা রোগে আক্রান্ত ‌উপকূলের নারীরা

By জন্মভূমি ডেস্ক 1 hour ago
সাতক্ষীরা

প্লাস্টিক ও বায়ু দূষণের ঝুঁকিতে সুন্দরবন এবং বঙ্গোপসাগর

By Correspondent 4 hours ago

দিনপঞ্জি

April 2026
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
« Mar    

এ সম্পর্কিত আরও খবর

সাতক্ষীরা

শ্যামনগর হাটে-বাজারে ভেজাল , বিপাকে কৃষকরা

By জন্মভূমি ডেস্ক 16 minutes ago
সাতক্ষীরা

শ্যামনগরে,অকাল গর্ভপাত ও জরায়ু সমস্যাসহ নানা রোগে আক্রান্ত ‌উপকূলের নারীরা

By জন্মভূমি ডেস্ক 1 hour ago
শীর্ষ খবর/ তাজা খবরসাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা ‌বহু বঞ্চনা ও অবিচারে হেরে যাওয়া মুন্ডাদের জীবন

By জন্মভূমি ডেস্ক 4 hours ago

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

রেজি: কেএন ৭৫

প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল

অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক: আলি আবরার

প্রকাশক: আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত

ইমেইল– janmokln@gmail.com           অনলাইন নিউজরুম-০১৬১১৬৮৮০৬৪        রফিকুজ্জামান বার্তা কক্ষ ০৪১-৭২৪৩২৪

Developed By Proxima Infotech and Ali Abrar

Removed from reading list

Undo
Welcome Back!

Sign in to your account

Lost your password?