By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept
খবর সার্চ

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

NEWSPORTAL

  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • জেলার খবর
    • খুলনা
    • চুয়াডাঙ্গা
    • বাগেরহাট
    • মাগুরা
    • যশোর
    • সাতক্ষীরা
  • ফিচার
  • ই-পেপার
  • ALL E-Paper
Reading: মাহে রমজান : ফজিলত ও করণীয়
Share
দৈনিক জন্মভূমিদৈনিক জন্মভূমি
Aa
  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • ALL E-Paper
অনুসন্ধান করুন
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • ই-পেপার
Have an existing account? Sign In
Follow US
প্রধান সম্পাদক মনিরুল হুদা, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত
দৈনিক জন্মভূমি > জেলার খবর > সাতক্ষীরা > মাহে রমজান : ফজিলত ও করণীয়
সাতক্ষীরা

মাহে রমজান : ফজিলত ও করণীয়

Last updated: 2026/02/20 at 1:40 PM
Correspondent 4 hours ago
Share
SHARE

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : মাহে রমযান বছরের বাকি এগার মাস অপেক্ষা অধিক মর্যাদাশীল ও বরকতপূর্ণ মাস। এ মাসের বিশেষত্ব অনেক। ১. এ মাসেই মানুষ ও জিন জাতির মুক্তির সনদ কুরআন মজীদ একত্রে লাওহে মাহফূয থেকে প্রথম আসমানে বাইতুল ইযযতে অবতীর্ণ হয় এবং রাসূলে কারীম (সা.)-এর নিকট সর্বপ্রথম এ মাসেই ওহী অবতীর্ণ হয়। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে : ‘রমযান মাসই হল সে মাস যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়াত এবং সত্যপথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ। (সূরা বাকারা : ১৮৫)। ২. এ মাসে রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। হাদীস শরীফে এসেছে- ‘রমযান মাস শুরু হলেই রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়।’ (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০৭৯/২)।
৩. অন্য এক হাদীসে এ মাসের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে যে, ‘রমযান মাসের শুভাগমন উপলক্ষে জান্নাতের দরজাসমুহ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানকে শৃংখলাবদ্ধ করা হয়।’ (সহীহ বুখারী, হাদীস ১৮৯৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০৭৯/১)। ৪. এ মাস জাহান্নাম থেকে নাজাত লাভের মাস। সুতরাং বেশি বেশি ইবাদত ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে মুক্তির পরওয়ানা লাভ করার এটিই সুবর্ণ সুযোগ। হাদীস শরীফে এসেছে- ‘আল্লাহ তাআলা প্রত্যহ ইফতারের সময় অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।’ (মুসনাদে আহমদ হাদীস ২১৬৯৮)। ৫. ব্যবসায়ী মহলের একটি বিশেষ মৌসুম থাকে যখন তাদের ব্যবসা হয় খুব জমজমাট ও লাভজনক। সে মৌসুমে বৎসরের অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আয় হয়। আখেরাতের ব্যবসায়ীদের জন্য আখেরাতের সওদা করার উত্তম মৌসুম হল এই রমযান মাস। কেননা এ মাসে প্রতিটি আমলের অনেক গুণ বেশি ছওয়াব পাওয়া যায়। নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেন- ‘রমযানের ওমরা হজ্জ সমতুল্য।’ (জামে তিরমিযী, হাদীস ৯৩৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৯৮৬)।
অন্য এক বর্ণনায় (যা সনদের দিক থেকে দুর্বল) বিষয়টি এভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘রমযান মাসে যে ব্যক্তি একটি নফল আদায় করল সে যেন অন্য মাসে একটি ফযর আদায় করল। আর যে এ মাসে একটি ফরয আদায় করল সে যেন অন্য মাসে সত্তরটি ফরয আদায় করল। (শুআবুল ঈমান ৩/৩০৫-৩০৬)। অর্থাৎ এ মাসে নফল আদায় করলে অন্য মাসের ফরযের ন্যায় ছওয়াব হয়। আর এ মাসের এক ফরযে অন্য মাসের ৭০ ফরযের সমান ছওয়াব পাওয়া যায়। এ তো হল রোযা ছাড়া এ মাসের অন্যান্য আমলের ছওয়াব। আর রোযার ছওয়াব সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা নিজেই ইরশাদ করেন- (তরজমা) ‘নিশ্চয় রোযা আমার জন্য, আর এর প্রতিদান স্বয়ং আমিই দিব।’ (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৫১/১৬৫)। এ ছওয়াবের পরিমাণ যে কত তা একমাত্র তিনিই জানেন। এ প্রসঙ্গে ‘রোযার ফযীলত’ শিরোনামে আলোকপাত করা হয়েছে।
রমযান মাস রহমত, বরকত, মাগফিরাত, জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত লাভের মাস। তাই এমন মাস পেয়েও যে ব্যক্তি স্বীয় গুনাহ মাফ করাতে পারল না তার জন্য স্বয়ং জিবরাঈল আ. বদদুআ করেছেন এবং নবী করীম (সা.) রাহমাতুল্লিল আলামিন হয়েও আমীন বলে সমর্থন জানিয়েছেন। হাদীস শরীফে এসেছে- ‘নবী কারীম (সা.) মিম্বরে উঠে আমীন, আমীন, আমীন বললেন। তাঁকে বলা হল, হে রাসূল! আপনি তো এরূপ করতেন না। নবী (সা.) ইরশাদ করেন, জিবরাঈল আমাকে বললেন, ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে পেয়েও (তাদের খেদমত করে) জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না। তখন আমি বললাম, আমীন। অতঃপর তিনি বললেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে রমযান পেয়েও নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না। আমি বললাম, আমীন। জিবরাঈল আবার বললেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক যার নিকট আমার নাম আলোচিত হল অথচ সে আমার উপর দুরূদ পড়ল না। আমি বললাম, আমীন। (আল আদাবুল মুফরাদ : ২২৫, হাদীস ৬৪৬; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস ৯০৮)।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে রমযানের হক আদায় করার তওফীক দান করুন এবং নবীজীর অভিসম্পাৎ থেকে রক্ষা করুন। আমীন!
রোযা : রমযান মাসে রোযা রাখা ফরয। এটা এ মাসের বিশেষ আমল। সকল আদব রক্ষা করে পুরো মাস রোযা রাখা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য। তারাবীহ : রমযানের রাতের বিশেষ আমল হল কিয়ামে রমযান তথা বিশ রাকাত তারাবীহ। এ মাসের অফুরন্ত রহমত ও মাগফিরাত লাভ করার জন্য এবং প্রতিশ্রুত ছওয়াব ও পুরস্কার পাওয়ার জন্য তারাবী নামাযের প্রভাব অপরিসীম। দান করা : দান-সদকা সর্বাবস্থাতেই উৎকৃষ্ট আমল, কিন্তু রমযানে তার গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। হাদীস শরীফে এসেছে- ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) দুনিয়ার সকল মানুষ অপেক্ষা অধিক দানশীল ছিলেন। রমযান মাসে তাঁর দানের হস্ত আরো প্রসারিত হত।’ (সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯০২)।
কুরআন মজীদ তেলাওয়াত : এ মাস কুরআন অবতরণের মাস। রাসূলুল্লাহ (সা.) জিবরীল আ.-এর সাথে রমযানের প্রত্যেক রাতে কুরআন মজীদ দাওর করতেন। হাদীস শরীফে এসেছে- ‘হযরত জিবরীল আ. রমযানের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে সাক্ষাত করতেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে কুরআন মজীদ শোনাতেন।’(সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯০২)। অতএব আমাদের প্রত্যেকের উচিত রমযানে অধিক পরিমাণে কুরআন তেলাওয়াত করা। অন্তত একবার হলেও কুরআন মজীদ খতম করা। সালাফে সালেহীনের জীবনী আলোচনা করলে দেখা যায় যে, তাঁরা এবং পরিবারের সদস্যগণ প্রত্যেকে রমযানে বহুবার কুরআন মজীদ খতম করতেন।
নফল ইবাদত : এ মাসে শয়তান শৃংখলাবদ্ধ থাকে। এই সুযোগে অধিক পরিমাণে নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করা যায়। এ মাসে যে কোনো ইবাদত নিয়মিত করতে তেমন কোনো বেগ পেতে হয় না এবং পরবর্তীতে তা সহজেই অভ্যাসে পরিণত হয়। সুতরাং যিকির-আযকারের সঙ্গে অধিক পরিমাণে নফল নামায আদায় করা উচিত। অন্তত বিভিন্ন সময়ের নফল নামাযগুলো আদায় করা যেমন-ইশরাক, চাশত ও তাহাজ্জুদ ইত্যাদি। আফসোসের বিষয় এই যে, রমযানে সাহরীতে উঠলেই দু’চার রাকাত তাহাজ্জুদ নামায সহজেই পড়া যায়। বছরের অন্য দিনের মতো কষ্ট করার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু অমনোযোগী হওয়ার ফলে কিংবা সাহরীতে অতি ভোজনের কারণে তাহাজ্জুদ আদায়ের সুযোগ হয়ে ওঠে না।
দুআ করা : এ মাস রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও জান্নাত লাভের মাস। তাই বেশি বেশি আল্লাহ তাআলার শরণাপন্ন হয়ে কান্না-কাটি করে দুআ করা একান্ত কাম্য। মাগফিরাত কামনা করা : যে ব্যক্তি রমযান পেয়েও স্বীয় গুনাহসমূহ ক্ষমা করাতে পারল না তার উপর জিবরীল আ. ও দয়ার নবী (সা.) অভিসম্পাত করেছেন। তাই জীবনের কৃত গুনাহের কথা স্মরণ করে বেশি বেশি তওবা ইস্তেগফার করা এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে ক্ষমা মঞ্জুর করিয়ে নেওয়ার এটিই উত্তম সময়। বিশেষ করে ইফতার ও তাহাজ্জুদের সময় আল্লাহ তাআলার দরবারে ক্ষমা চাওয়া এবং দুআ করা উচিত।
ই’তিকাফ : শেষ দশকের মাসনূন ই’তিকাফ অত্যন্ত ফযীলতের আমল। হাদীস শরীফে এসেছে- ‘নবী কারীম (সা.) রমযানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করতেন।’ (সহীহ বুখারী, হাদীস ২০২১; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৭১)। শবে কদর অন্বেষণ : ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ করে সহস্র রজনী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ও উত্তম রাত-লাইলাতুল কদর তালাশ করা কর্তব্য। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে : ‘নিঃসন্দেহে কদরের রাতে আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি। আর আপনি কি জানেন শবে কদর কী? শবে কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এ রাতে ফেরেশতা ও রুহুল কুদ্স (জিবরাঈল আ.) তাদের পালনকর্তার আদেশক্রমে প্রত্যেক মঙ্গলময় বস্ত্ত নিয়ে (পৃথিবীতে) অবতরণ করে। (এ রাতের) আগাগোড়া শান্তি যা ফজর হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।’ (সূরা কদর)। ইসলাম একটি দৃঢ় ধর্ম। এটি কয়েকটি মূল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে; এর সঙ্গে আছে কিছু অবশ্য পালনীয় কাজ ও কিছু পছন্দনীয় মুস্তাহাব আমল। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ হলো- সেইগুলো, যা তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর ফরজ করেছেন। হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দা আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় যে জিনিস দিয়ে নিকটবর্তী হয়, তা হলো আমি তার ওপর যা ফরজ করেছি।’ (বোখারি : ৬৫০২)। সবচেয়ে বড় ও আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ফরজ হলো ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ। এর মধ্যে কিছু আছে যা দিন-রাত সবসময় বান্দার সঙ্গে থাকে- যেমন কালেমায়ে শাহাদাত। কিছু কাজ দিনে-রাতে কয়েকবার করতে হয়। কিছু জীবনে একবার, আর কিছু প্রতি বছর পালন করতে হয়।
রমজানের রোজা প্রতি বছর ফিরে আসে। এর সময় কাছে এলে মহানবী (সা.) সাহাবিদের সুসংবাদ দিতেন, ‘তোমাদের কাছে এসেছে বরকতময় রমজান মাস। আল্লাহ তোমাদের ওপর এর রোজা ফরজ করেছেন। এ মাসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয়, আর দুষ্ট শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়। এতে এমন একটি রাত আছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে সত্যিই বঞ্চিত।’ (নাসায়ি : ২১০৬)।
রমজান এক সম্মানিত অতিথি, এর সময় খুব মূল্যবান। একে আনন্দ ও খুশির সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত। রমজানকে ভালোভাবে গ্রহণ করার একটি উপায় হলো, এটি আসার আগেই ভালো কাজ শুরু করা; কারণ শুরু ভালো হলে পরের কাজও ভালো হয়। আল্লাহর রাসুল (সা.) শাবান মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতেন। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি নবী (সা.)-কে কোনো মাসে এত বেশি রোজা রাখতে দেখিনি, যতটা তিনি শাবান মাসে রাখতেন।’ (মুসলিম : ২৬১২)।
রমজান খুব অল্প দিনের অতিথি। ‘গণনাযোগ্য কয়েকটি দিন।’ তাই যাদের মনোবল বেশি, তারা এ মাসে আল্লাহর রহমত পাওয়ার চেষ্টা করবে ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে। সর্বজগতের প্রতিপালকের একত্বে বিশ্বাসের মাধ্যমে ইবাদত সহজ হয় ও বান্দা ইবাদতের মাধুর্য অনুভব করে। মহান আল্লাহ হযরত মুসা (আ.)-কে বলেছেন, ‘আমিই আল্লাহ, আমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। অতএব, আমার ইবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর।’ (সুরা তহা : ১৪)। সব ভালো কাজের ভিত্তি হলো, আল্লাহর জন্য আন্তরিক নিয়ত। আল্লাহতায়ালা তাঁর নবীকে বলেছেন, ‘বল, আমি তো আদিষ্ট হয়েছি, আল্লাহর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে তাঁর ইবাদত করতে।’ (সুরা জুমার : ১১)।
রোজার মাধ্যমে গোনাহ মাফ হওয়ার শর্ত হলো, আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিদান পাওয়ার আশা রাখা। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ঈমানসহ পুণ্যের আশায় রমজানের সিয়াম ব্রত পালন করে, তার পূর্বের গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (বোখারি : ৩৮)।
রমজানে রাতের নফল নামাজ ও তারাবিহ কবুল হওয়ার শর্তও একই যে, শুধু আল্লাহর কাছ থেকে সওয়াবের আশা করতে হবে। বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে রাতে নামাজ আদায় করে, তার আগের গোনাহ মাফ হয়ে যায়।’ (বোখারি : ৩৭)। নিয়ত সঠিক ও শক্ত হলে সওয়াব বহু গুণ বেড়ে যায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা নিজেদের ধনৈশ্বর্য আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের উপমা একটি শস্যবীজ, যা সাতটি শীষ উৎপাদন করে, প্রত্যেক শীষে একশত শস্যদানা। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বহু গুণে বৃদ্ধি করে দেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা বাকারা : ২৬১)। আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘এটি মানুষের আমলের আন্তরিকতার ওপর নির্ভর করে।’
আল্লাহ রোজার বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন, এটিকে নিজের সঙ্গে সম্পর্কিত করে এর প্রতিদান নিজেই দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। যখন দানকারী স্বয়ং আল্লাহ, তখন পুরস্কারের পরিমাণ কেমন হবে তা কল্পনাও করা যায় না। মহানবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আদম সন্তানের সব আমল তার নিজের জন্য; কিন্তু রোজা আমার জন্য; আর আমিই এর প্রতিদান দেব।’ (বোখারি : ৫৯২৭)। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন, এখানে সেই রোজার কথা বলা হয়েছে, যা কথা ও কাজে গোনাহ থেকে মুক্ত থাকে।
রমজান হলো মাসগুলোর নেতা। এই মাস হলো, পরিশ্রম, ধৈর্য ও ইবাদতের মাস। এই মাসেই মহান কোরআন নাজিল হয়েছে, এর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ রাতে। জিবরাইল (আ.) এ মাসে নবী করিম (সা.)-এর সঙ্গে কোরআন পর্যালোচনা করতেন। পূর্ববর্তী নেককার লোকেরা যখন রমজান মাস পেতেন, তখন তারা হাদিস ও ফিকহের আলোচনা কমিয়ে বেশি করে কোরআন তিলাওয়াতে মন দিতেন। কাতাদা (রহ.) রমজানে প্রতি তিন দিনে একবার কোরআন খতম করতেন, আর শেষ দশক এলে প্রতিরাতে খতম করতেন। তাই তোমরা এই মাসে দিন-রাত বেশি করে তোমাদের প্রতিপালকের কিতাব তিলাওয়াত করো; এতে হৃদয় প্রশান্ত হয়।
ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ। আর রমজানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, মানুষ একসঙ্গে দাঁড়িয়ে রাতের নামাজ আদায় করে। বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন,
‘যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে নামাজ পড়ে শেষ পর্যন্ত থাকে, তার জন্য পুরো রাত ইবাদতের সওয়াব লেখা হয়।’ (তিরমিজি : ৮০৬)। মানুষ এক মুহূর্তও আল্লাহ ছাড়া চলতে পারে না। রোজাদারের দোয়া কবুল হয়; তাই আল্লাহর কাছে যা চাওয়ার চাও—তিনি দয়ালু ও দানশীল। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘পৃথিবীর কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে দোয়া করলে আল্লাহ তা তাকে দেন, অথবা এর সমপরিমাণ কোনো বিপদ তার থেকে দূর করেন। যদি সে পাপ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দোয়া না করে।’ একজন বললেন, ‘তাহলে আমরা বেশি বেশি দোয়া করব।’ মহানবী (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ আরও বেশি দেবেন।’ (তিরমিজি : ৩৫৭৩)।
রমজান হলো দানশীলতা ও দুর্বলদের প্রতি দয়ার মাস। বিশ্বনবী (সা.) মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন, আর রমজানে তিনি আরও বেশি দান করতেন- যখন জিবরাইল (আ.) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। জিবরাইলের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে আল্লাহর রাসুল (সা.) কল্যাণের কাজে প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও বেশি উদার হয়ে যেতেন।’ (বোখারি)। প্রবাহিত বাতাস যেমন সবার উপকার করে, তেমনি দানের উপকারও সবার কাছে পৌঁছে। আর কেয়ামতের দিন সদকা দানকারীকে ছায়া দেবে। ইবনে ওমর (রা.) রমজানে এতিম ও গরিবদের সঙ্গে ছাড়া ইফতার করতেন না।
তওবার দরজা সবসময় খোলা। তওবা ছাড়া কেউ আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণভাবে ঘনিষ্ঠ হতে পারে না। আল্লাহ সব মুমিনকে তওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তারা সফল হয়, ‘হে মোমিনগণ, তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’ (সুরা নুর : ৩১)। আল্লাহ নিজেকে ‘তওবা কবুলকারী’ বলেছেন, যাতে বান্দারা তাঁর দিকে ফিরে আসে। যে তওবা করে তাঁর কাছে ফিরে আসে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন, আশ্রয় দেন, তার পাপকে নেকিতে বদলে দেন। মানুষের জীবনের সেরা দিন হলো, যেদিন আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।
ইস্তেগফার নেয়ামত আনে ও বিপদ দূর করে। শাইখুল ইসলাম (রহ.) বলেছেন, ‘বান্দা যখন বুঝতে পারে যে, তার বিপদ তার নিজের গোনাহের কারণে, তখন সে তওবা ও ইস্তেগফার করে। ফলে বিপদের কারণ দূর হয়ে যায়। তখন সে সবসময় কৃতজ্ঞ ও ক্ষমাপ্রার্থী থাকে। এভাবে তার কল্যাণ বাড়তে থাকে ও অকল্যাণ দূরে সরে যায়।’ রমজানে আল্লাহর জিকির রোজাদারের সৌন্দর্য। ইবনে কাইয়িম (রহ.) বলেন, ‘প্রতিটি ভালো কাজের মধ্যে যে বেশি আল্লাহকে স্মরণ করে, সেই শ্রেষ্ঠ। তাই রোজাদারদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো- সেই ব্যক্তি, যে রোজা অবস্থায় বেশি আল্লাহকে স্মরণ করে।’ পাপ ও ময়লা থেকে হৃদয়কে পরিষ্কার রাখা রোজাদারের মর্যাদা বাড়ায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসবে না; সেদিন উপকৃত হবে শুধু সে, যে আল্লাহর কাছে আসবে বিশুদ্ধ অন্তকরণ নিয়ে।’ (সুরা শুআরা : ৮৮-৮৯)। ফুজাইল ইবনে আয়াজ (রহ.) বলেন, ‘আমাদের কাছে কেউ বেশি রোজা বা নামাজের কারণে উচ্চমর্যাদা পায়নি; বরং পেয়েছে উদার মন ও পরিষ্কার হৃদয়ের কারণে।’
রোজা শুধু খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকা নয়; বরং শরীরের অঙ্গগুলোকে পাপ থেকে বিরত রাখা। যেমন: গিবত, যা নেকি নষ্ট করে; বা হারাম দৃষ্টি, যা রোজার সওয়াব কমায়। রমজানে তোমার মধ্যে যেন মর্যাদা ও শান্তভাব থাকে, আর রোজার দিন ও অন্য সময় যেন একরকম না হয়। রমজানে কল্যাণের দরজাগুলো খোলা থাকে। এটি যেন এক প্রতিযোগিতার মাঠ- যেখানে যারা ইবাদতে এগিয়ে যায়, তারাই সফল হয়। সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি, যে রমজানে বিভিন্ন ধরনের ইবাদত করে। নবী করিম (সা.) রমজানে এমন সব ইবাদত একত্র করতেন, যা অন্য সময় করতেন না। আর প্রতিদান কাজের ধরন অনুযায়ীই দেওয়া হয়। আল্লামা ইবনে কাইয়িম (রহ.) বলেন, ‘যার দুনিয়ায় আল্লাহর প্রিয় বিভিন্ন ভালো কাজ থাকে, জান্নাতে সে বিভিন্ন নেয়ামতের স্বাদ পাবে। এখানে যত বেশি ও বৈচিত্র্যময় আমল করবে, সেখানে তত বেশি আনন্দ ও পুরস্কার পাবে।’ অলসতা ও উদাসীনতা থেকে সাবধান! রমজান মাত্র কয়েকটি দিন, যা দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। তাই ধন্য সে ব্যক্তি, যে রমজান পায়; আরও সুখবর তার জন্য, যে রোজা রাখে, রাতের ইবাদত করে ও বেশি বেশি নেক কাজ করে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মোমিনগণ, তোমাদের জন্যে সিয়ামের বিধান দেওয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।’ (সুরা বাকারা : ১৮৩)।
দিন-রাত আমাদের জীবনের সময় কমে যাওয়ার ও বিদায় কাছাকাছি চলে আসার খবর দেয়। বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে শিক্ষা নেয় ও আমল করে। স্মরণ করুন, অনেকেই একসময় আমাদের সঙ্গে রোজা রেখেছিল, কিন্তু আজ তারা কবরে তাদের কাজের ফল ভোগ করছে; তারা হয়তো রমজানের একটি রোজা রাখার সুযোগ কামনা করছে। আল্লাহ আমাদের এখনও সময় দিয়েছেন। আসুন, এ সুযোগ শেষ হওয়ার আগেই কাজে লাগাই। কারণ অনেকেই একটি দিন পায়, কিন্তু তা পূর্ণ করতে পারে না; আবার অনেকেই আগামীকালের আশা করে; কিন্তু তা আর পায় না।আরবি মাসগুলোর নবম মাস হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। রোজা হচ্ছে ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। রোজা শব্দটি ফারসি। এর আরবি পরিভাষা হচ্ছে সওম,
বহুবচনে বলা হয় সিয়াম। সওম অর্থ বিরত থাকা, পরিত্যাগ করা। পরিভাষায় সওম হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায়
সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহকারে পানাহার থেকে বিরত থাকা।
রোজা ফরজ হয় দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, হে মোমিনরা! তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি, যাতে তোমরা আল্লাহভীরু হতে পারো, পরহেজগার হতে পারো। এ আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি, রোজার বিধান দেওয়া হয়েছে তাকওয়া অর্জনের জন্য, গুনাহ বর্জন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে জান্নাতের উপযোগী হওয়া, নিজেকে পরিশুদ্ধ করার জন্য। রমজানের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো আল্লাহতায়ালা এ মাসটিকে স্বীয় ওহি সহিফা ও আসমানি কিতাব নাজিল করার জন্য মনোনীত করেছেন। অধিকাংশ কিতাব এ মাসেই নাজিল হয়েছে।
হাদিসে বর্ণিত, হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সহিফা রমজানের ১ তারিখে, তাওরাত রমজানের ৬ তারিখে, জাবুর রমজানের ১২ তারিখে, ইঞ্জিল রমজানের ১৮ তারিখে এবং পবিত্র কোরআন কদরের রাত্রিতে নাজিল হয়েছে। নিশ্চয়ই আমি এই কোরআনকে কদরের রাত্রিতে নাজিল করেছি। রমজান মাসের রোজা পালনকে ফরজ আখ্যায়িত করে আল্লাহতায়ালা সুরা বাকারা ১৮৫ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করেন, রমজান মাস যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে আর এ কোরআন মানবজাতির জন্য পথের দিশা, সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন, হক বাতিলের পার্থক্যকারী। অতএব, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসটি পাবে সে এতে রোজা রাখবে, যদি সে অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা সফরে থাকে, সে পরবর্তী সময়ে গুনে গুনে সেই পরিমাণ দিন পূরণ করে দেবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না, যাতে তোমরা গণনা পূরণ করো এবং তোমাদের হিদায়াত দান করার দরুন আল্লাহর মহত্ত্ব বর্ণনার পর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো।
রোজার প্রতিদান : বোখারি শরিফে বর্ণিত হাদিসে হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার অতীতের গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলে পাক (সা.) এরশাদ করেন, সিয়াম এবং কোরআন হাশরের ময়দানে বান্দা-বান্দির জন্য সুপারিশ করবে এবং আল্লাহতায়ালা তাদের উভয়ের সুপারিশ কবুল করবেন। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) আরো বর্ণনা করেন রাসুলে পাক (সা.) বর্ণনা করেন, প্রত্যেক বস্তুর জাকাত রয়েছে, তেমনি শরীরেরও জাকাত আছে, আর শরীরের জাকাত হচ্ছে রোজা পালন করা। অর্থাৎ জাকাতদানে যেভাবে মালের পবিত্রতা অর্জন হয়, তেমনি রোজা পালনের মাধ্যমে শরীর পবিত্র হয়, গুনাহমুক্ত হয়।
হজরত আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত রাসুলে পাক (সা.) ইরশাদ করেন, মানুষের প্রত্যেক আমলের সওয়াব ১০ গুণ হতে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। হাদিসে কুদসিতে আছে, আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘রোজা এ নিয়মের ব্যতিক্রম, কেননা তা বিশেষভাবে আমার জন্য আমি স্বয়ং তার প্রতিদান দেব, বান্দা তার পানাহার ও কামনা-বাসনাকে আমার সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ করেছে।’
রোজা রেখে সর্ব প্রকার গুনাহ বর্জনের অঙ্গীকার করতে হবে : রোজার মাসে শুরুতে আল্লাহতায়ালা জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেন, জান্নাতের দরজা খুলে দেন এবং শয়তানকে শিকলবদ্ধ করে রাখেন। তাই শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকা সহজ হয়। নেক কাজে অগ্রগামী হতে পারে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কালামের অনেক জায়গায় শয়তানকে মানুষের প্রকাশ্য শত্রু বলে আখ্যায়িত করেছেন।
তিনি আরো বলেন, শয়তান তোমাদের শত্রু, তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো। সে চায় মানুষের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি করা, মদণ্ডজুয়ায় নিমগ্ন করা, মিথ্যা বলায় উদ্বুদ্ধ করা, এককথায় খারাপ কাজে জড়িয়ে দেওয়া। তাই হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও তৎসংক্রান্ত কাজ পরিত্যাগ করল না, তার রোজা রাখার আমার কোনো প্রয়োজন নেই। তাই শয়তানি কার্যক্রম থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে।
রোজাদারের জন্য জান্নাতের বিশেষ দরজা : হজরত সাহল বিন সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলে পাক (সা.) এরশাদ করেন, জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে একটি দরজার নাম ‘রাইয়ান’। এ দরজা দিয়ে শুধু রোজাদাররা প্রবেশ করবে। অন্যরাও এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে চাইবে। কিন্তু রোজাদার ছাড়া অন্য কাউকে এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। (বোখারি ও মুসলিম)।
রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ : হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল পাক (সা.) এরশাদ করেন, রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে, একটি তার ইফতারের সময়, অপরটি হলো আল্লাহতায়ালার দিদার বা সাক্ষাতের সময়। হাদিসে আরো উল্লেখ রয়েছে, ইফতারের সময় দোয়া কবুলের সময়। আল্লাহতায়ালা বান্দার দোয়া কবুল করেন। আর এই সময়ের দোয়া হচ্ছে ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিরাহমাতিকাল্লাতি ওয়াসিয়াত কুল্লা শাইয়িন আন তাগফিরা লি জুনুবি।’
লাইলাতুল কদর : লাইলাতুল কদর হচ্ছে একমনে একটি রাত যে রাতে জেগে ইবাদত-বন্দেগি করলে এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম বলে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে। এক হাজার মাসের হিসাব করলে কদরের এক রাতের ইবাদত ৮৬ বছর ৪ মাসের সমান। কিন্তু আল্লাহতায়ালা তার চেয়েও বেশি বা উত্তম বলেছেন। যে ব্যক্তি কদরের রাতে সওয়ারের আশায় ইবাদত করবে, তার অতীতের গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে।
উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.) আমি যদি কদরের রাত্রি পাই, তাহলে আমি কী দোয়া পড়ব? ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি’ এই দোয়া পড়বে। হাদিসে আছে, তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাত্রিতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখ) শবেকদর তালাশ করবে।
তারাবি নামাজ : এশার সালাতের (ফরজ ও সুন্নতের) পর বিতরের আগে দুই রাকাত করে মোট ২০ রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত। সম্ভব হলে খতম তারাবি আদায় করবে।
ইতিকাফ : আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন, ‘ওয়া আনতুম আকিফুনা ফিল মাসজিদ’ তোমরা মসজিদে ইতিকাফ করো। ইতিকাফ শব্দের অর্থ নিজেকে আবদ্ধ রাখা। শরিয়তের পরিভাষায় ইতিকাফ হলো, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের আশায় শর্ত সাপেক্ষে নিয়তসহকারে পুরুষরা মসজিদে ও নারীরা ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করা। রমজানের শেষ দশক (২০ রমজান থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব থেকে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা পর্যন্ত) ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া। বিনা প্রয়োজনে অর্থাৎ গোসল, খাবার, প্রস্রাব-পায়খানা ছাড়া অন্য কোনো অজুহাতে ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করতে পারবে না। ইতিকাফ অবস্থায় কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, নফল নামাজ ইত্যাদিতে মশগুল থাকবে।

Correspondent February 21, 2026
Share this Article
Facebook Twitter Whatsapp Whatsapp LinkedIn Email Copy Link Print
Previous Article সুন্দরবনে ১লা মার্চ থেকে কাঁকড়া আহরণে অনুমতি পাবে আহরণকারীরা
Next Article সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু অস্ত্র গোলাবারুদসহ গ্রেফতার
আরো পড়ুন
বাগেরহাট

মোংলায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালিত

By জন্মভূমি ডেস্ক 49 seconds ago
বরিশাল

দশমিনায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

By জন্মভূমি ডেস্ক 4 minutes ago
খুলনা

ডুমুরিয়ায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

By জন্মভূমি ডেস্ক 6 minutes ago

দিনপঞ্জি

February 2026
S M T W T F S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
« Jan    

এ সম্পর্কিত আরও খবর

সাতক্ষীরা

সুন্দরবনে ১লা মার্চ থেকে কাঁকড়া আহরণে অনুমতি পাবে আহরণকারীরা

By জন্মভূমি ডেস্ক 5 hours ago
সাতক্ষীরা

আজ ‌আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

By Correspondent 6 hours ago
শীর্ষ খবর/ তাজা খবরসাতক্ষীরা

আবাস বদলাচ্ছে উপকূলীয় নদীর মাছ ও জলজ প্রাণী

By জন্মভূমি ডেস্ক 7 hours ago

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

রেজি: কেএন ৭৫

প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল

অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক: আলি আবরার

প্রকাশক: আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত

ইমেইল– janmokln@gmail.com           অনলাইন নিউজরুম-০১৬১১৬৮৮০৬৪        রফিকুজ্জামান বার্তা কক্ষ ০৪১-৭২৪৩২৪

Developed By Proxima Infotech and Ali Abrar

Removed from reading list

Undo
Welcome Back!

Sign in to your account

Lost your password?