
খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি : শিরোমণি জুট স্পিনার্সের শ্রমিক-কর্মচারীদের দ্বিতীয় কিস্তির প্রায় এক কোটি টাকা পরিশোধের কার্যক্রম শুরু হয়েছে যা চলবে আজ মঙ্গলবারও। সোমবার দুপুরে বি-শিপটের শ্রমিক রমেন্দ্রনাথের হাতে দ্বিতীয় কিস্তির ২৭ হাজার ৫৫টাকা প্রদানের মধ্য দিয়ে এ কার্যাক্রম শুরু হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মিলের পক্ষে জনাব হাবিবুর রহমান বাচ্চু, উর্দ্ধতন নির্বাহী কর্মকর্তা (প্রশাসন) ও জনাব সাখাওয়াত হোসেন সাজিদ সাহেব এবং মিলের সাবেক যুগ্ন সম্পাদক সেখ আশাদ আলী আশা ও যুগ্ন সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেনসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ।
সিবিএর সাবেক সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কালাম আজাদের একটি মিথ্যা অভিযোগে আইনি জটিলতায় আটকে যায় দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পরিশোধের কার্যক্রম।
উক্ত মিথ্যা অভিযোগের প্রেক্ষিতে খুলনা শ্রম পরিচালক মো. মিজানুর রহমানের হস্তক্ষেপে গত রোববার খুলনা শ্রম পরিচালকের দপ্তরে ত্রি-পক্ষিয় বৈঠকে শহিদ-কালামকে ধিক্কার জানায় শ্রম পরিচালক। এ সময় তিনি বলেন, কেন মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। আমি এ ব্যপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। একপর্যায়ে তিনি জুট স্পিনার্স লিঃ এর প্রধান কার্যালয়ের মহা-ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এনামুল হক মুরাদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করেন শ্রম পরিচালক মো. মিজানুর রহমান। বৈঠকে মালিক পক্ষের এনামুল হক মুরাদ সাহেবের সাথে আলোচনায় শ্রম আদালতের ১৬৮/১৮ নং মকদ্দমা প্রত্যাহারের আশ্বাস প্রদান করেন শ্রম পরিচালক। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মিল মালিক পক্ষের সাথে সিবিএ’র চুক্তির দ্বিতীয় কিস্তির পাওনা টাকা পরিশোধের কার্যক্রম সোমবার দুপুর থেকে শুরু হয়। মিলের উর্ধ্বতন নির্বাহী কর্মকর্তা (প্রশাসন) মো. হাবিবুর রহমান বাচ্চু ও সাখাওয়াত হোসেন সাজিদসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ মিলের বি-শিফটের রমেন্দ্রনাথের হাতে দ্বিতীয় কিস্তির ২৭ হাজার ৫৫ টাকা তুলে দিয়ে দ্বিতীয় কিস্তির কার্যক্রম শুরু করে।
এ সময় হাবিবুর রহমান বাচ্চু সাংবাদিকদের বলেন, মিলটিতে প্রতিদিন ৩০/৩৫ মেঃ টন উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মিলের মহা-ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এনামুল হক মুরাদ ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা তোফাজ্জেল হোসেন ভূইয়া এবং মিঃ কমলেশ চন্দ্র সাহা, সহঃ মহাব্যবস্থাপক (রপ্তানী ও বিপনণ) অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সিবিএ’র সাথে করা চুক্তি অনুয়ায়ী মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের চুক্তির প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পরিশোধের আগেই মিলের সিবিএ সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কালাম আজাদের মিথ্যা অভিযোগের পেক্ষিতে আইনি জটিলতায় দ্বিতীয় কিস্তির টাকা প্রদান আটকে যায়।
গতকাল সোমবার শ্রম পরিচালকের দপ্তরে ত্রি-পক্ষিয় বৈঠকের আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চুক্তির আওতায় থাকা প্রায় ৮৩১জন শ্রমিক কর্মচারীর মাঝে দ্বিতীয় কিস্তির প্রায় এক কোটি টাকা পরিশোধ করার কার্যক্রম শুরু করা হয়। তিনি জানান, দুই কিস্তিতে প্রায় দুই কোটি টাকা প্রদান করা হবে।
এর আগে মিলের প্রধান ফটকের মধ্যে সিবিএ’র একাংশ এবং ননসিবিএ’র উদ্যোগে শ্রমিক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রমিক নেতা আসাদুজ্জামান আশার সভাপতিত্বে এবং মো. সাহেব আলীর পরিচালনায় বক্তৃতা করেন সিবিএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল ইসলাম, সহ-সভাপতি শাহ মো. মনিরুল ইসলাম, শেখ ইকবাল হোসেন, গোলাম সরোয়ার, ইকবাল বিশ্বাস, শেখ কিসমত আলী, আল মামুন, খায়রুলসহ সিবিএ-ননসিবিএ’র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।