
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বেলাল উদ্দীন সাংবাদিকতাকে শুধু পেশা হিসেবে গ্রহণ করেননি। তিনি সাংবাদিকতাকে মিশন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। দক্ষ, যোগ্য সাংবাদিক হিসেবে ভালো সুযোগ সুবিধা প্রদানকারী মিডিয়া হাউজ থেকে চাকরির প্রস্তাব পেলেও তিনি দৈনিক সংগ্রামের সাথে আমৃত্যু অবস্থান করেছিলেন। পেশার প্রতি সাংবাদিক বেলাল উদ্দীনের কমিটমেন্ট, জনগণের প্রতি তার ভালোবাসা ও মমত্ব, ভিন্ন মতাদর্শের মানুষের সাথে তার নম্র ও বন্ধুসুলভ আচরণের বিবরণ তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী আন্দোলনের একজন সেনানী হিসেবে শহীদী মৃত্যুকেই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মনে করতেন এবং আহত অবস্থায় ঢাকায় যাওয়ার আগে স্ত্রীকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, তুমি শহীদের স্ত্রীর মর্যাদা পাবে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে এমইউজে খুলনার সাবেক সভাপতি শহীদ সাংবাদিক শেখ বেলাল উদ্দীনের ২১তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত দু’দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিন মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনা আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়া মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শহীদ সাংবাদিক বেলালের আদর্শকে ধারণ করে আগামীর পথ চলতে হবে। তিনি একুশে পদকের জন্য সাংবাদিক বেলালের নামের প্রস্তাব যথাসময়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে ব্যবস্থা গ্রহণ, সড়কের নামকরণে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ এবং হত্যা মামলার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার শহীদ শেখ বেলাল উদ্দিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি ছিলেন এক নির্ভীক ও সাহসী সাংবাদিক। যিনি অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করেননি। সাংবাদিক বেলালসহ কোন সাংবাদিক হত্যার সুষ্ঠু বিচার হয়নি। বেলাল সহ সকল সাংবাদিকের হত্যার পুনঃতদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও সঠিক বিচার না হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
এমইউজের ইউনিয়নের সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা পরিচালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, মহানগরী জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ও খুলনা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সাংবাদিক শেখ দিদারুল আলম, মো. আনিসুজ্জামান, মো. এরশাদ আলী, আবুল হাসান হিমালয়, মো. নূরুজ্জামান, আশরাফুল ইসলাম নূর, কে এম জিয়াউস সাদাত, আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, এইচ এম আলাউদ্দিন, মো. তরিকুল ইসলাম, সৈয়দ তরিকুল ইসলাম, আহমদ মুসা রঞ্জু, ড. ফোরকান আলী, মাশরুর মুর্শেদ, আবুল হাসান শেখ প্রমুখ।
পরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এমইউজে খুলনা ঘোষিত দুইদিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় এমইউজে খুলনার উদ্যোগে মহানগরীর খালিশপুর থানাধীন রায়ের মহলস্থ শহীদ সাংবাদিক শেখ বেলাল উদ্দীনের কবর জিয়ারত এবং যোহরবাদ খুলনা প্রেসক্লাবের নামাজের স্থানে দোয়া করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২০০৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি খুলনা প্রেসক্লাব চত্বরে সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত বোমা হামলায় শেখ বেলাল উদ্দীন আহত হন। পরে তিনি ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ ফেব্রুয়ারি শাহাদাতবরণ করেন।

