By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept
খবর সার্চ

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

NEWSPORTAL

  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • জেলার খবর
    • খুলনা
    • চুয়াডাঙ্গা
    • বাগেরহাট
    • মাগুরা
    • যশোর
    • সাতক্ষীরা
  • ফিচার
  • ই-পেপার
  • ALL E-Paper
Reading: সরকার গণতান্ত্রিক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন, দাবি গয়েশ্বর চন্দ্রের
Share
দৈনিক জন্মভূমিদৈনিক জন্মভূমি
Aa
  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • ALL E-Paper
অনুসন্ধান করুন
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • ই-পেপার
Have an existing account? Sign In
Follow US
প্রধান সম্পাদক মনিরুল হুদা, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত
দৈনিক জন্মভূমি > জাতীয় > সরকার গণতান্ত্রিক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন, দাবি গয়েশ্বর চন্দ্রের
জাতীয়রাজনীতিশীর্ষ খবর/ তাজা খবর

সরকার গণতান্ত্রিক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন, দাবি গয়েশ্বর চন্দ্রের

Last updated: 2024/02/07 at 2:09 PM
সিনিয়র করেস্পন্ডেন্ট 2 years ago
Share
SHARE

জন্মভূমি ডেস্ক : শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার গণতান্ত্রিক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন- এমন দাবি করে বিএনপি বলছে, সরকারের পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বুধবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এ কথা বলেন।

গয়েশ্বর বলেন, হাসিনা সরকার নিজ অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে-অবৈধ অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা দিয়ে- আদায় করেছে ভারত, চীন ও রাশিয়ার সমর্থন। বিশেষত নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, অসম দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, নামমাত্র মূল্যে ট্রানজিট সুবিধা, পানি সমস্যার সমাধানহীনতা, গোপন আদানি চুক্তিসহ, জাতীয় স্বার্থবিরোধী অজস্র প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক লবিং। যার প্রমাণস্বরূপ শেখ হাসিনা নিজেই বলেছিল, ‘ভারতকে যা দিয়েছি সারা জীবন মনে রাখবে’ এবং ওবায়দুল কাদের দাবি করে, ‘৭ জানুয়ারির নির্বাচনের সময় ভারতই আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়িয়েছিল’। বিএনপির মতো একটি সফল গণতান্ত্রিক দলকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হয়েছে হাসিনা সরকার ও তার অধীনস্থ রাষ্ট্রযন্ত্রের চিহিত অংশ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচন প্রহসনমূলক ও ডামি। ওই নির্বাচনের উদ্দেশ্য জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা বা আকাঙ্খার প্রতিফলন ছিল না। বরং, নির্বাচনের নামে এটি ছিল জাতির সঙ্গে একটি সহিংস প্রতারণা, যার উদ্দেশ্য অবৈধভাবে, অনৈতিকভাবে ও অসাংবিধানিকভাবে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখা। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ, আওয়ামী লীগের দলীয় সন্ত্রাস, রাষ্ট্রযন্ত্রের একাংশের ধ্বংসযজ্ঞ এবং বিতর্কিত দেশসমূহের হস্তক্ষেপ এই সমন্বিত অপশক্তিকে উপেক্ষা করে, জনগণের সমর্থনকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস হিসেবে ধারণ করে-গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় অবিচল রয়েছে বিএনপি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে রাজনৈতিক নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে, গণতন্ত্রকামী শক্তিসমূহকে সাথে নিয়ে, চলমান আন্দোলনকে চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বিএনপির অদম্য-দুঃসাহসী নেতাকর্মীরা।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পক্ষে-বিপক্ষের এই লড়াই, আজ কেবল আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির লড়াই নয়। এই লড়াই, জনবিদ্বেষী সরকারের সকল দোসরের সঙ্গে বাংলাদেশের সকল গণতন্ত্রকামী মানুষের লড়াই। এটি প্রমাণিত যে, আওয়ামী লীগের ক্ষমতার উৎস ও ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগী যেসব দেশি-বিদেশি দোসর, তারা সক্রিয়ভাবে গণমানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা খর্ব করে যাচ্ছে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে। অন্যদিকে বিএনপির ক্ষমতার উৎস ও রাজনীতির সঞ্জীবনীশক্তি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ। এই দেশটি যেমন আমাদের সবার, তেমনি আওয়ামী লীগের কবল থেকে দেশকে স্বাধীন করবার দায়িত্বও আমাদের সবার। সমাজের সকল বিবেকবান মানুষ যদি স্ব স্ব অবস্থান থেকে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন এবং সামর্থ অনুযায়ী ভূমিকা রাখেন, তবে ফ্যাসিবাদের পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

গয়েশ্বর বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বাংলাদেশে যতবার গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছে, ততবার লুণ্ঠিত সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে বিএনপি। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে, আমাদের সংগ্রাম ছিল নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ। এর কারণ, আওয়ামী লীগের মতো সহিংস বা অগ্নিসন্ত্রাসের রাজনীতি নয়, জনমত গঠন ও গণজোয়ার সৃষ্টিই বিএনপির রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য। দেশের প্রায় সকল গণতন্ত্রকামী মানুষ দ্বারা সমর্থিত, উদার ও সহনশীল রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারক দল হিসেবে, বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বিস্তৃত সমাজের প্রতিটি স্তরে ও রাষ্ট্রের প্রতিটি কাঠামোতে।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান অস্বাভাবিক অচলাবস্থা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে তার অনিবার্য পরিণতি ও সম্পূর্ণ দায় আওয়ামী লীগকেই বহন করতে হবে। গণতান্ত্রিক অধিকারকে রুদ্ধ করার এই অশুভ প্রক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কুটনৈতিক সংকটকে ঘনীভূত করে তুলবে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রমাণ করে, এই দলটি কখনোই নিয়মতান্ত্রিকভাবে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপরিচালনা করেনি।

তিনি বলেন, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে, ভোট ডাকাতির অভিনব সব পন্থা অবলম্বন করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে কলঙ্কিত ইতিহাস তৈরি করে তারই ধারাবাহিকতায় ডামি প্রার্থী, ডামি দল, ডামি ভোটার ও ডামি পর্যবেক্ষকদের সমন্বয়ে মঞ্চস্থ হয়েছে ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন। গত ১৫ বছর ধরে গণবিদ্বেষী সরকার যে দুর্নীতি-দুঃশাসন ও দমন- দুর্বৃত্তায়ন চালিয়েছে, সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ তাতে বৈষম্য, অবিচার ও নিপীড়ণের শিকার হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই, আওয়ামী লীগ ও তার সুবিধাভোগী দোসররা আরও একবার জোরপূর্বক ভোটাধিকার হরণ করায়, বাংলাদেশের জনগণ ব্যথিত, মর্মাহত ও সংক্ষুব্ধ। এই জনরোষ আবারও প্রমাণ করেছে, আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুধু গণবিরোধীই নয়, এটি পরিপূর্ণভাবে ব্যর্থ ও অন্তঃসারশূন্য।

গয়েশ্বর বলেন, দেশব্যাপী নজিরবিহীন হুমকি-ভীতি উপেক্ষা করে, ভাগ-বাটোয়ারার নির্বাচনে, শতকরা ৫ ভাগেরও কম ভোটার উপস্থিতি একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেয়। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ, তথা ১২ কোটি ভোটারের প্রায় সকলের এই ঐক্য মূলত, জনগণের আদালতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিচার। স্বাধীনতাকামী জনগণ সমস্বরে- প্রবলভাবে জানিয়ে দিয়েছে, বিএনপি ও ৬২টি গণতন্ত্রমনা রাজনৈতিক দলের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত সঠিক ও যৌক্তিক।

তিনি বলেন, বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য গণমানুষের ন্যায্য দাবি দাওয়া আদায়ের আকাঙ্খা পূরণের লক্ষে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য মানুষের কাছে যাওয়া, মানুষকে সম্পৃক্ত করা, জনমত সৃষ্টি করা, গণতন্ত্রহীনতার যে পরিস্থিতি সেটি থেকে উত্তরণের জন্য শেখ হাসিনার অধীনে প্রহসনের ভোট বর্জন করা। বিএনপির আবেদনে সাড়া দিয়ে, নির্বাচনকে বর্জন ও ফলাফলকে প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে, জনগণ প্রমাণিত করেছে, বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের অবস্থান গণআকাঙ্খারই প্রতিফলন। বিএনপির সাথে একত্র হয়ে গণমানুষের এই নীরব প্রতিবাদ, এই স্বতস্ফূর্ত সমর্থন, বস্তুত বিএনপির রাজনীতির সফলতা তথা বিজয়ের বহিঃপ্রকাশ।

গয়েশ্বর আরও বলেন, ইলেকশনের নামে সিলেকশন নাটক মঞ্চস্থ করতে, আওয়ামী লীগের যে সহিংসতা-নাশকতা, প্রকৃত কোনো বিরোধী দলীয় প্রার্থী না থাকার পরও যে অনিয়ম-কারচুপি, ভোটার উপস্থিতি বাড়িয়ে দেখানোর জন্য নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রযন্ত্রের যে অদ্ভুত-অবিশ্বাস্য দাবি এবং এসব ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষিতে যে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমালোচনা-হতাশা-সেখানেই আওয়ামী লীগের নৈতিক পরাজয় নিহিত। ১৫ বছর ক্ষমতা কুক্ষিগত রেখে- দলীয় সাংগঠনিক প্রচেষ্টা ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক ক্ষমতা, তথা অবৈধ বল প্রয়োগ করেও ন্যূনতম ভোটার জমায়েতে অক্ষম আওয়ামী লীগ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের দ্বারা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এর কারণ, এই রাজনৈতিক অপশক্তি ও তার উচ্ছিষ্টভোগীদের বাইরে, বাংলাদেশের প্রতিটি ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের অধিকার, স্বাধীনতা ও মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে অনির্বাচিত সরকার। বিদ্যমান দুর্বিষহ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য, বাংলাদেশের প্রধান ও বিপুল জনসমর্থিত রাজনৈতিক দল হিসেবে, দেশবাসী তাকিয়ে আছে বিএনপির দিকে, এটি আমরাও উপলব্ধি করি।

তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সাফল্যের ষে মানদণ্ড- অর্থাৎ জনগণের সমর্থন, জনমত গঠন, সাংগঠনিক শক্তিমত্তা, সদস্য সংখ্যা- প্রতিটি মানদণ্ডে বিএনপির সাফল্য বারবার প্রমাণিত হয়েছে। দেশজুড়ে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিএনপির সমাবেশেসুমূহে, যেভাবে লাখ লাখ মানুষ উপস্থিত হয়েছেন, ঢাকার সকল মহাসমাবেশে যেভাবে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন ধারাবাহিক জনস্রোত অভূতপূর্ব। স্বল্প সময়ের আয়োজনে, রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বপ্রকার প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে, বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচিতে, জনগণের যে স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, তা একাধারে বিএনপির জনসম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বিএনপির মতো আর কোনো রাজনৈতিক দল কি আছে, যার ৫০ লাখেরও বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়েছে? কোন অপরাধে, আমাদের ২ হাজার ৭০০ এরও বেশি নেতাকর্মীকে শেখ হাসিনা ও তার অনুগত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হত্যা করেছে? কেন প্রায় ৭০০ জন নিরপরাধ মানুষকে গুম করেছে? কিসের ভিত্তিতে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাকস্বাধীনতা হরণ করে, একের পর এক সাজানো মামলার পাতানো রায় দেওয়া হচ্ছে?

তিনি প্রশ্ন রাখেন, বানরের পিঠা ভাগের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ, ২৫ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে কেনো ফ্যাসিস্ট সরকার পরিকল্পিতভাবে গ্রেফতার করেছে? এই সময়ে, বিএনপির রাজনীতি করার অপরাধে কেনো ১১ জন কর্মীকে কারাগারে হত্যা করেছে?

‘এই প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরেই নিহিত, দেশের বৃহত্তম ও জনপ্রিয়তম রাজনৈতিক দল হিসেবে, গণতন্ত্রের পক্ষের প্রধান শক্তি হিসেবে, বিএনপির আত্মত্যাগ, তথা সার্থকতা। কারণ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে এবং শান্তিপূর্ণ ও অহিংস কর্মসূচিতে, বিএনপি মোকাবেলা করে চলেছে সহিংস-সশস্ত্র শেখ হাসিনা সরকারকে। অন্যদিকে ক্ষমতার মোহে অন্ধ আওয়ামী লীগ, একটি দানবীয় অপশক্তিতে পরিণত হয়ে, মানবাধিকার লঙঘনকে ধারণ করেছে ঘৃণ্য রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে,’ যোগ করেন তিনি।

গয়েশ্বর বলেন, গত ১৫ বছর ধরে, বিএনপির সাথে জড়িত প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারের উপর যে নৃশংস অত্যাচার-অবিচার হয়ে আসছে, দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের অজস্র প্রতিবেদনে তা লিপিবদ্ধ। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে শামিল হওয়ার অপরাধে, ফ্যাসিবাদের সাথে আপোস না করার অজুহাতে, বিএনপির ৫০ লাখ নেতাকর্মী তাদের নাগরিক জীবন থেকে বঞ্চিত। আমাদের প্রত্যেকে, প্রতিদিন, পুলিশি নিপীড়ন ও বিচার বিভাগের অবিচারের শিকার হচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ভঙ্গুর সাংগঠনিক কাঠামো নয়, শেখ হাসিনার খুঁটি ও ফ্যাসিবাদের ভিত্তি রাষ্ট্রযান্ত্রের একটি সুবিধাভোগী অংশ। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, প্রশাসন ও আদালতের কতিপয় সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতি ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারে পরিণত হয়েছেন। তারাই আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠনে পরিণত করেছেন বিচার বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, দুদকসহ সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানসমূহকে। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে লিপ্ত রয়েছেন, বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মীকে বন্দুকের গুলিতে, গ্রেনেড মেরে, মিথ্যা মামলায় দমিত করার অপচেষ্টায়।

‘শেখ হাসিনা বাকশালের মতোই বাংলাদেশে আবারও ৭৫ এর মতো একদলীয় শাসন কায়েম করতে চাচ্ছে। হাসিনার একমাত্র সাফল্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখা, লাগামহীন নৈরাজ্য ও মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি। প্রতিটি খাতের প্রতিটি খরচেই হাসিনা সরকারের অস্বাভাবিক লুটপাটে বাংলাদেশ আজ দেউলিয়া হওয়ার পথে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে সরকারি যোগসাজশে ৮১ মিলিয়ন ডলার ডলার চুরি হয়েছে- এগুলো কার টাকা? এই পুরো টাকা বাংলাদেশের জনগণের। ব্যর্থ সরকার বাড়িয়ে চলছে বৈদেশিক খণের বোঝা, যা ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গিয়েছে ১০০ বিলিয়ন ডলার,’ বলেন তিনি।

গয়েশ্বর বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতায় ও আওয়ামী সিন্ডিকেটের কারণে, প্রতিটি দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে, নাভিশ্বাস উঠছে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের। আয় না বাড়লেও, লাগামহীনভাবে বাড়ছে ব্যয়, বেড়ে চলেছে প্রতিটি পণ্যের দাম। সরকারি হিসেবে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ তরুণ, নিষ্ক্রিয় ও বেকার, যদিও প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। বাস্তবতাবিবর্জিত, বিতর্কিত ও ব্যর্থ শিক্ষা ব্যবস্থা বাড়িয়ে চলছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা, আর বিদেশিরা এসে দখল করছে চাকরির বাজার।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ শেখ হাসিনার অপশাসন থেকে, মুক্তি চায় বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, বিএনপির আন্দোলনের মাধ্যমে জনবিদ্বেষী ফ্যাসবাদের পতন ঘটবে, এবং দেশে আবারও সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে। বিএনপির নেতৃত্বে বাংলাদেশে দ্রুত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে। ১২ কোটি ভোটারের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিশ্চিত করে, শান্তিপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন মাধ্যমে, বিএনপি আবারও স্থাপন করবে একটি নির্বাচিত ও জবাবদিহিতামূলক সরকার ইনশা আল্লাহ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইমলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. সিরাজুল ইসলাম, আবুল খায়ের ভুইয়া, তাহসিনা রুশদির লুনা, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, হারুন অর রশিদ প্রমুখ।

সিনিয়র করেস্পন্ডেন্ট February 7, 2024
Share this Article
Facebook Twitter Whatsapp Whatsapp LinkedIn Email Copy Link Print
Previous Article কোকেন উদ্ধারের মামলায় বিদেশি নাগরিকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড
Next Article কেশবপুরে পৈত্রিক সম্পত্তি বন্টন না করে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ
Leave a comment

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো পড়ুন
লাইফস্টাইল

বার বার পানি খেয়েও জিভ শুকিয়ে যাচ্ছে?

By Online Desk 1 minute ago
লাইফস্টাইল

ক্লান্তি দূর করতে ইফতারে চাই ভেষজ সঙ্গী

By Online Desk 3 minutes ago
লাইফস্টাইল

বয়স ৪০ পার হলেই কেন হাড় নিয়ে সচেতন হতে হবে নারীদের?

By Online Desk 4 minutes ago

দিনপঞ্জি

February 2026
S M T W T F S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
« Jan    

এ সম্পর্কিত আরও খবর

জাতীয়

শপথ নিলেন ২৫ মন্ত্রী

By সিনিয়র করেস্পন্ডেন্ট 2 hours ago
জাতীয়শীর্ষ খবর/ তাজা খবর

দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

By সিনিয়র করেস্পন্ডেন্ট 2 hours ago
জাতীয়

দায়িত্ব শেষে অবশ্যই দেশে থাকতে চাই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

By Staff Reporter 3 hours ago

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

রেজি: কেএন ৭৫

প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল

অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক: আলি আবরার

প্রকাশক: আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত

ইমেইল– janmokln@gmail.com           অনলাইন নিউজরুম-০১৬১১৬৮৮০৬৪        রফিকুজ্জামান বার্তা কক্ষ ০৪১-৭২৪৩২৪

Developed By Proxima Infotech and Ali Abrar

Removed from reading list

Undo
Welcome Back!

Sign in to your account

Lost your password?