
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, অনেক সাংবাদিক এসে আমাদেরকে তাদের দুঃখের কথা জানায়, কষ্টের কথা জানায়। তারা যে খবরটা প্রচার করতে চায়, কিন্তু তাদের দালাল মালিক মিডিয়া সেগুলো প্রচার করতে দেয় না।
আজ শনিবার বিকালে খুলনার ফুলতলা উপজেলায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী সভায় বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী ও জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ৫ই আগস্টের পরে, আমরা যখন সরকার গঠন করেছি, আমরা যখন মন্দির-মসজিদগুলোকে পাহারা দিয়েছি, অমুসলিম ভাইদের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা তাদেরকে পাহারা দিয়েছি, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি, ঠিক সেই সময়টিতে একটি দল টেলিভিশনগুলোকে দখল করেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দখল করেছে। তারা আজকে মিডিয়াগুলোকে দখল করেছে, মিডিয়া মাফিয়াগিরি শুরু করেছে।
তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, জুলাইয়ের কয়েকটা মিডিয়া ছাড়া কেউ জনতার কথা বলে নাই। মিডিয়াকে জনতা দৌড়ের উপর রেখেছে। জনগণ যখন জাগে, কোনো মিডিয়ার প্রয়োজন হয় না; জনগণ প্রত্যেকেই মিডিয়া হয়ে ওঠে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আর কত আপনারা গোলামি করবেন? সাংবাদিকদেরকে বলছি না, মিডিয়া মালিক যারা আছেন, আপনাদেরকে বলছি-আপনারা খবরের মাঝে যখন একটা নির্দিষ্ট দলের প্রচারণা করেন, তখন আপনাদের এই মিডিয়ার কোনো সত্তা থাকে না, একটা দালাল এবং গোলামীতে সেটিতে পরিণত হয়।
মিডিয়াকে বলব আপনারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করুন। বিএনপির মিডিয়া হওয়া লাগবে না, জামায়াতের মিডিয়া হওয়া লাগবে না, এনসিপির মিডিয়া হওয়া লাগবে না। তাহলে, যদি আপনারা কোনো রাজনৈতিক দলের মিডিয়া হন, তাহলে জুলাইয়ের সময়ের টেলিভিশনগুলোর কথা মনে রাখুন। তারা পোস্টার লাগাইয়া সাংবাদিকতা করতে পারে নাই, তারা ঘুম দিয়া সাংবাদিকতা করতে পারে নাই। জনগণের সামনে যখন ক্যামেরা নিয়ে এসেছে, তখন জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই নির্বাচন অর্জন করার জন্য সহস্র মানুষ শহীদ হতে হয়েছে, অসংখ্য মানুষ গুম হতে হয়েছে। আয়নাঘর এবং সারা পৃথিবীটা এই মজলুম এবং নিপীড়িত মানুষের জন্য আয়নাঘরে পরিণত হয়েছিল। ঠিক হাসিনা কেন্ট এর ভিতরে একা আয়না ঘর তৈরি করেছিল। আর যাদেরকে গ্রেফতার করা যায়নি, সারা বাংলাদেশটা তাদের জন্য একটা উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, অসংখ্য মানুষের নির্যাতন, নিপীড়নের মধ্য দিয়ে ২০০৯ সালের পূর্ববর্তী বায়তুল মোকাররমের সামনে লগি বৈঠা থেকে শুরু করে সর্বশেষ আমার ভাই ওসমান হাদির শাহাদাত বরণের মধ্য দিয়ে এ দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আমরা নির্বাচন পেতে যাচ্ছি। এই নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট যারা প্রার্থী হয়েছেন, আপনারা যারা জনগণ রয়েছেন, এই পুলিশ, এই মিডিয়া, পুলিশ প্রশাসন, আপনাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব রয়েছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সর্বপ্রথম যেই দায়িত্বটি, সেটি হচ্ছে, বিগত তিনটা নির্বাচন আপনারা করেছেন। আপনারা দিনের ভোটটাকে রাতে করেছেন। আপনারা মরা মানুষকে কবর থেকে তুলে নিয়ে এসে ভোট দিয়েছেন। ডামি নির্বাচন আপনারা পরিচালনা করেছেন। এসপি, ডিসিরা সাক্ষী। ওসি, কনস্টেবলরা সাক্ষী থেকে এসব জনগণ বিরোধী, গণবিরোধী কার্যক্রমগুলো আপনারা করেছেন।
আমরা বিশ্বাস রাখতে চাই, এই কার্যক্রমগুলো আপনার উপর মহলের আদেশে আপনাদেরকে করতে হয়েছে। এই তরুণ প্রজন্ম, এত মানুষের রক্ত অর্জিত যেই নির্বাচনটি রয়েছে, এই নির্বাচনে আপনারা যারা ইউনিফর্ম পরা পুলিশ সদস্য রয়েছেন, আপনারা যারা নিজের যোগ্যতা এবং মেধায় চাকরি পেয়েছেন, আপনারা একটু ডাউন করেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা আস্থা রাখতে চাই বিগত নির্বাচনগুলোর মতো আপনাদের জন্য আমার কোন খাম রাখতে হবে না, কোন এসপির জন্য খাম রাখতে হবে না, কোন ওসির জন্য খাম রাখতে হবে না, কোন এসআই-কনস্টেবলের জন্য খাম রাখতে হবে না। যদি অবৈধ টাকাটা আপনার সামনে নিয়ে আসে, আপনারা আপনাদের সন্তানের কথা মনে করবেন, আপনারা আপনাদের বাবা-মার কথা মনে করবেন, বাংলাদেশের জনগণের কথা মনে করবেন।
আপনারা যদি তারপরেও এই টাকাটা আপনারা হাত দিয়ে স্পর্শ করে দেখেন, আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠবে। আপনাদের প্রতি ৫ই আগস্ট প্রশাসনের প্রতি জনগণের যেই বিদ্রোহ আপনারা দেখেছেন, বাংলাদেশের জনগণ যখন জেগে ওঠে, কামান দিয়ে তাদেরকে ঠেকানো যায় না, বুলেটের ঊর্ধ্বে দিয়ে তাদেরকে ঠেকানো যায় না, বিদেশি শক্তি দিয়ে তাদেরকে ঠেকানো যায় না।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আবার যদি একটি পাতাল নির্বাচনের দিকে আপনারা যান, ব্যালট বাক্স আপনারা নিজ দায়িত্বে ভরে দেন, জনগণের যেই বিদ্রোহ, সেই বিদ্রোহ আপনারা সামলাতে পারবেন না। আপনাদেরকে অনুরোধ করব- আপনারা আমাদের ভাই, এই বাংলাদেশটা সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের সাথে আপনাদেরকে নিয়ে একটা দুর্নীতি, চালাবাজ মুক্ত একটা বাংলাদেশ গঠন করব।
যেই বাংলাদেশে আপনার পোস্টিং এর জন্য কোন নেতার বাসায় তদ্বির করা লাগবে না, কোন প্রমোশনের জন্য কোন নেতার বাসায় তদ্বির করা লাগবে না। আমরা জানি রাতের আধারে আপনারা তাহাজুদ নামাজে আপনারা কান্না করেন, আপনারা কস্টে থাকেন, কতিপয় কিছু অফিসারের ষড়যন্ত্রে আপনাদেরকে মাথা নত করতে হয়। আমরা বাংলাদেশের জনতা আপনাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আপনাদের প্রতি যেই মানুষের অনাস্থা তৈরি হয়েছে, সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে আজ আমি ১২ই ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে আপনারা জনতার কাতারে নেমে এসে জনতার নির্বাচন করেন, জনগণ আপনাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে।

