
মোঃ হুমায়ুন কবির , জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) : চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সাংবাদিক হেনস্তার প্রতিবাদে প্রেসক্লাবের জরুরি সভা ও বিতর্কিত ইউএনও অপসারণের দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ) সকাল ১১ টায় সাংবাদিক হেনস্তার প্রতিবাদে প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো সহ ঘটনার জন্য দায়ী বিতর্কিত ইউএনও আলআমীন কে দ্রুত অপসারণের দাবি করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর প্রেসক্লাব সভাপতি এম আর বাবু, সেক্রেটারি নুর আলম, সাংবাদিক সালাউদ্দিন কাজল, কাজী শামসুর রহমান চঞ্চল, নারায়ণ ভৌমিক, মুন্সি রায়হান, মাজেদুর রহমান লিটন, জামাল হোসেন খোকন, মিথুন মাহমুদ, আলম হোসেন, হাসান নিলয়, তুহিনুজ্জামান তুহিন এম আই মুকুল সহ প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো কর্মকর্তার মাধ্যমে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হেনস্তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত। এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।
সভায় আরও বলা হয়, ইউএনও আলামিন সাংবাদিকদের সাথে একের পর এক বিতর্কিত আচরণ, দাম্ভিকতা ও অহংকার দেখান যেটি কোনভাবেই কাম্য নয় । একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সভা শেষে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও সভায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
উল্লেখ্য জীবননগরে এক স্কুলছাত্রীকে শিক্ষাসফরের সময় শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে এক শিক্ষক সাময়িক বরখাস্তের সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল আমীন দৈনিক জনবানীর সাংবাদিক জামাল হোসেন খোকনকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে অশোভন আচরণ করেছেন ।
উল্লেখ্য, গতকাল পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জীবননগর উপজেলার হাজী মনির হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আলমের বিরুদ্ধে শিক্ষাসফরে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ এবং তাকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি উঠে আসে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ইউএনও আল আমিন সাংবাদিক জামাল হোসেন খোকনকে ইউএনও কার্যালয়ে ডেকে নেন এবং সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সামনে সংবাদ প্রকাশের বিষয় নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করেন। এ সময় ইউএনও সংবাদে একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল জব্বারের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সাংবাদিক জামাল হোসেন খোকন জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং বক্তব্যের অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। এরপর ইউএনও আরও উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সংবাদ সংক্রান্ত বিষয় বাদ দিয়ে ইউএনও সাংবাদিকের ব্যক্তিগত পরিচয়, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র, ব্যবসা ও সাবেক জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, যা প্রশাসনিক শালীনতা ও আচরণবিধির পরিপন্থী।

