
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : বসন্ত আসার আগেই সাতক্ষীরায় আগাম উঁকি দিচ্ছে গাছে গাছে আমের মুকুল। ফুটেছে আম চাষীদের মুখে হাসি।জেলার কলারোয়া ,সাতক্ষীরা সদর, তালা ,দেবহাটা, আশাশুনি ,শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছে গাছে উঁকি দিতে শুরু করেছে দৃষ্টিনন্দন আমের মুকুল। গাছে গাছে মৌমাছির গুঞ্জন আর মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে প্রকৃতিতে সৃষ্টি হবে এক নতুন ছন্দের।
২৪ জানুয়ারি সকালে সরেজমিনে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলার আম চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আম গাছে আসতে শুরু করেছে আগাম মুকুল। আগাম মুকুলে আম চাষিদের মনে আশার প্রদীপ জ্বলে ওঠেছে। মাঘের হিমেল হাওয়ায় সবুজ পাতার ফাঁকে দোল খাচ্ছে মুকুল। গাছের কচি শাখা-প্রশাখায় ফোটা ফুলগুলোর উপরে সূর্যের আলো পড়তেই চিকচিক করে উঠছে। এবার মধ্য জানুয়ারিতেই কিছু কিছু গাছে আমের মুকুল চলে এসেছে। এখন ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া না হলেই ভালো হয় বলে জানান আম চাষিরা।
আম ব্যবসায়ী আমজাদ বলেন, এর মধ্যে অনেক গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। আশা করা যাচ্ছে, ফাল্গুন মাসের মধ্যে উপজেলার আম গাছগুলোতে পর্যাপ্ত মুকুল আসবে। তবে এ সময় মাঝে-মধ্যেই আকাশে মেঘ জমে উঠে। শিলাবৃষ্টি হলে আমের মুকুলের ক্ষতি হবে। তাই আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কাও কাজ করছে। তবে পরিস্থিতি অনূকূলে থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে বলে জানান তিনি।
বাগান মালিকরা বলেন, মুকুল আসার পর থেকেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুল রোগ বালাইয়ের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, উপজেলায় বর্তমানে ৪ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভালো হবে। তবে এখন আম গাছে, সাইপার মেথ্রিন অথবা ল্যামডা সাইহ্যালোথ্রিন, স্প্রে করতে হবে। এবং ম্যানকোজেব/মনুবর বোরন দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।ফাল্গুন এখনো আসেনি। চলছে শীতের ভরা মৌসুম। অথচ এরমধ্যেই কিছু আমগাছে আসতে শুরু করেছে মুকুল। বেশকিছু এলাকায় গাছে উঁকি দিচ্ছে আমের মুকুল। মুকুলের পরিমাণ কম হলেও এর সৌরভ ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে। সাতক্ষীরা সদরের আমগাছের মালিক রুহুল আমিন বলেন, ‘গাছের বয়স ১২-১৫ বছর হবে। গত দুই বছর ধরে আগাম মুকুল আসছে। এটি গুঁটি জাতের আম। এবারো আগাম মুকুল দেখে মনটা ভালোই লাগছে। এ মুকুল টিকে থাকলে এবার বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে।’ সাতক্ষীরা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে, সদর উপজেলার কদমতলা ব্রিজের পশ্চিম পাশে টোলপ্লাজার মোড়ে, ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে, সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার আমগাছে আগাম মুকুল শোভা পাচ্ছে। এসব আমের মুকুলে এখন মৌমাছির গুঞ্জন। তিনি আরো বলেন, ঘন কুয়াশা দেখা দিলে আমের মুকুল পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এবার প্রচণ্ড ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া বাজার মোড়ে মন্দির চত্বরে আমগাছে মুকুল এসেছে। গাছের নিচে পৌর মার্কেটের কম্পিউটার ব্যবসায়ী খোকন বলেন, ‘গত দুই তিন বছর ধরে গাছটিতে আগাম মুকুল আসছে। এবারো প্রচুর মুকুল এসেছে।’ এ বিষয়ে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই আবহাওয়াগত ও জাতের কারণেই মূলত আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, প্রতিবছরই কিছু আমগাছে আগাম মুকুল আসে। এবারো আসতে শুরু করেছে। ঘন কুয়াশার কবলে না পড়লে এসব গাছে আগাম ফলন পাওয়া যায়। আর আবহাওয়া বৈরী হলে ফলন মেলে না। তবে নিয়ম মেনে শেষ মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসবে সেসব গাছে মুকুল স্থায়ী হবে। সাতক্ষীরা জেলা আমের ব্যাপক সুনাম রয়েছে সাতক্ষীরা জেলার আম দেশের গণ্ডি পার হয়ে প্রতিবছর পাড়ি জমায় ইউরোপে আমেরিকার বাজারে। এবছর ও সাতক্ষীরা থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রজাতি উন্নতমানের আম ইউরোপ আমেরিকায় রপ্তানি হবে বলে সাতক্ষীরার একাধিক আম ব্যবসায়ীরা এই প্রতিবেদক কে নিশ্চিত করেছেন।

