
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরায় জমে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। নতুন আসন বিন্যাসের পর জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই প্রার্থীরা পুরোদমে প্রচারণায় নেমেছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মাঠে অনুপস্থিতির ফলে এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও প্রার্থী বাছাই নিয়ে অসন্তোষ এবং জামায়াতের সুসংগঠিত মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি, এই দুই বাস্তবতায় সাতক্ষীরার চারটি আসনেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অপরদিকে জামায়াত ইসলামী এর দুর্গ হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা সবকটি আসন বি এন পি ফিরে পাবার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে.বলে জানা গেছে।
৭টি উপজেলা, ৭৭টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই জেলায় চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৪২৪ জন। জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও উন্নয়ন বঞ্চনার অভিযোগ এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তাই সাতক্ষীরায় ভোটের মাঠে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় নদীভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততা, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো সংকট।
জেলার চারটি আসনে প্রার্থী হতে মোট ২৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই–বাছাই ও আপিল শেষে বর্তমানে বৈধ প্রার্থী ২০ জন। এর মধ্যে সাতক্ষীরা-১ আসনে পাঁচজন, সাতক্ষীরা-২ আসনে সাতজন, সাতক্ষীরা-৩ আসনে পাঁচজন ও সাতক্ষীরা-৩ আসনে তিনজন। সব আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী রয়েছে।
দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের উপকূলীয় সীমান্তঘেঁষা জেলা সাতক্ষীরায় জামায়াতে ইসলাম অভ্যন্তরীণ বিরোধ না থাকায় দলটি অনেক আগেই চারটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে নামে।অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর একাধিক আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে নানা কর্মসূচি হয়। পরবর্তীতে হাই কমান্ডের নির্দেশে সেই বিভেদ মিটলেও একটি আসনে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির এক নেতা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে জামায়াত ও একটিতে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) জয়ী হয়। ১৯৯৬ সালে জামায়াত সদর আসনে জয় পায়। বাকি চারটি যায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দখলে। ২০০১ সালে জামায়াত তিনটি আসনে জয়লাভ করে। ওই নির্বাচনেই প্রথম সাতক্ষীরা-১ আসনে জয় পায় বিএনপি। ২০০৮ সালে আসনসংখ্যা কমে চারটি হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত একটি আসনও পায়নি।
জেলা বিএনপির সভাপতি রহমতুল্লা পলাশ বলেন, ‘দীর্ঘ নির্যাতনের পরও আমাদের নেতা-কর্মীরা মানুষের পাশে ছিলেন। আমরা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি সবাই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ভোট দিয়ে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপিকে জয়ী করবে বলে আমার বিশ্বাস।
অপরদিকে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল আজিজ বলেন, ‘কঠিন দিনগুলোতেও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি আমরা। এবারও চারটি আসনেই বিজয়ী হব ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে। যার প্রমান ১২ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে প্রমাণ করিয়ে দেবে। তিনি আরো বলেন ৫ইআগস্ট এর পর থেকে বিএনপি কমিটির নিয়ে ও সারাদেশে চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ,দখল বাজি, মানুষ খুন, মানুষ ঘুম অপহরণ, মানুষের ঘরবাড়ি অগ্নিসংযোগ, মানুষের বাড়ি থেকে টেনে এনে হত্যা চেষ্টা, ডাকাতি, লুটপাট ,সহ এমনও অপকর্ম নেই যে তারা করেনি। সে কথা এদেশের জনগণ মনে রেখেই আগামী১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরকার এবং প্রতিনিধি নির্বাচিত করবে। তিনি আরো বলেন এখনো পর্যন্ত বিএনপি’র এই সমস্ত কার্যক্রম থেমে নেই চলমান রয়েছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলাম ৫ই আগস্ট এর আগে ও পর বাংলাদেশের কোন মানুষের অপমান অপদস্থ সহ কোন প্রকার ক্ষয়ক্ষতিতে লিপ্ত হয়নি আর আগামীতেও জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় গেলেও কারো ক্ষতি করবে না ক্ষমতায় না গেলেও কারো ক্ষতি করবে না। তিনি আরো বলেন জামায়াতে ইসলাম বাংলাদেশে শান্তির রাজনীতি করে জামায়াতে ইসলাম বাংলাদেশে মানুষের কল্যাণের রাজনীতি করে জামায়াতে ইসলাম বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের রাজনীতি করে।
সাতক্ষীরা ১ (তালা -কলারোয়া)
বিএনপির প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন বিগত ১৬বছরে তালা কলরোয়াই রাস্তাঘাট সহ অবকাঠামগত কোন উন্নয়ন না হওয়াই জনগণ এবার আমাকে পেয়ে আমার কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে আমি নির্বাচিত হলে এলাকার জনগণের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনিক পাটকেলঘাটা থানা কে উপজেলায় রূপান্তর ও তালাকে পৌরসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এবং তালাও কলারোয়াতে সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নের পরিকল্পনা করবেন।
জামায়াতের প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি ও তাঁর দল সাধারণ মানুষের পাশে ছিল। আগামীতেও থাকবে। নির্বাচিত হলে স্থানীয় মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নে উদ্যোগ নেবেন। বিশেষ করে সাতক্ষীরা জেলা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতিগ্রস্তর একটি অন্যতম জেলা আমরা নির্বাচিত হলে এই জেলায় জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে ক্ষয়ক্ষতি খাবার পানি সংকট সহ নানা মাত্রিক সমস্যার সমাধান করব।
বিএনপি-জামায়াতের পাশাপাশি বাকি তিন প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব মো. ইয়ারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় এনজিও বিষয়ক সম্পাদক জিয়াউর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাটকেলঘাটা থানা শাখার সভাপতি শেখ মো. রেজাউল করিম। কিন্তু এলাকায় তাদের প্রচার প্রচারণা তেমন দেখা যাচ্ছে না।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা)
জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. আবদুর রউফকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর আসনটিতে বিরোধ দেখা দেয়। মনোনয়ন না পেয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম ও জেলা কমিটির বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক তাসকিন আহমেদের সমর্থকেরা আন্দোলনে নামেন।পরে আব্দুর রউফ সবার মান ভাঙ্গিয়ে নির্বাচনের এক টেবিলে বশিয়ে তার পক্ষে কাজ করার জন্য একত্রিত হয়ে মাঠে নামান।
আবদুর রউফ বলেন, সাধারণ ভোটাররা তাঁকে পছন্দ করেন, ভালোবাসেন। সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রশ্নে বিএনপির সবাই এখন এক। সাতক্ষীরায় বিএনপি এখন খুব শক্তিশালী। আমি পাশ করলে জনগণের পাশে থাকব সব সময। জনগণের সকল চাওয়াকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।
অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক।তিনি সাধারণ মানুষের কাছে অতি পরিচিত একজন মুখ। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের তাঁর ও তাঁর দলের ওপর আস্থা রয়েছে। বিগত নিরপেক্ষ নির্বাচনগুলোতে মানুষের আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে। এলাকার উন্নয়নের জন্য আমরা বদ্ধপরিকার। ১২ ই ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা ২ আসনের ভোটাররা দাড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার জন্য দিন গুনছে। তিনি আরো বলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামের ঘাঁটি বলে সারাদেশে পরিচিত। সে কারণে এই আসন থেকে আমি লক্ষ্য ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়ে জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে উন্নয়নের কাজ করব। তিনি আরো বলেন জনগণ আমাকে চেনেন ও জানেন আমি জনগণের কাছে একজন পরিচিত মুখ।
এ আসনে আরও প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টির জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির জেলার সাধারণ সম্পাদক জি এম সালাউদ্দীন, বাংলাদেশ জাসদের জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা শাখার উপদেষ্টা রবিউল ইসলাম ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) জেলা শাখার সদস্য শফিকুল ইসলাম (সাহেদ)।
সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি)
জেলার এই একটি আসনে বিএনপির প্রার্থীর পাশাপাশি দলের এক নেতাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী আলাউদ্দীন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য শহিদুল আলম।
এ বিষয়ে শহিদুল আলম বলেন, তাঁর দলীয় মনোনয়নের জন্য এ আসনের দল, মত, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই মাঠে নেমেছিলেন। বিএনপি থেকে তাঁকে মনোনয়ন না দেওয়ায় স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবির মুখে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তুমি আরো বলেন এই আসনে জনগণ আমাকে দলমত না দেখে ব্যক্তি মানুষ হিসেবে ভালোবেসে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে জয়ী করে এলাকার উন্নয়নের জন্য সংসদে পাঠাবেন প্রতিনিধিত্ব করতে। তিনি আরো বলেন এই আসনে জনগণ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত আমি নির্বাচিত হলে এই সমস্ত সমস্যাগুলো আগে সমাধান করবো বলে জনগণের কাছে বদ্ধপরিকর। দল আপনাকে বহিষ্কার করেছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে ডাক্তার শহিদুল আলম বলেন সেটা দলের বিষয় দল তো আমাকে ভোট দিবে না ভোট দিবে আমার এলাকার মানুষ সেই এলাকার মানুষের চাহিদার ভিত্তিতে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। তিনি আরো বলেন দলের আশায় আশায় নিজের চাকরিও ছেড়ে দিয়ে চল্লিশটা বছর জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি শেষ পর্যন্ত দলের কাছে আমি গ্রহণযোগ্য হতে পারলাম না তবে আমি গ্রহণযোগ্য হয়েছি এই আসনের জনগণের কাছে।
বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন বলেন, দল তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে। অন্য কেউ প্রার্থী হতে চাইলে দল থেকে তাঁর প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, দুঃসময়ে তিনি ও দল সাধারণ ভোটারদের পাশে ছিল। তাঁরা তাঁকে ও দলকে মূল্যায়ন করবেন।তিনি পাশ করলে সাধারণ জনগণের চাওয়া পাওয়া ও গুরুত্ব কে সবসময় প্রাধান্য দেবেন।
বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মনে করেন , শহিদুল আলম ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে যা জামায়াতের অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে।
এখানে জামায়াতের প্রার্থী দলের জেলা শাখার সাবেক আমির মুহা. রবিউল বাসার। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ভোটাররা সৎ মানুষকে পছন্দ করেন ও আস্থা রাখেন। আমি সব সময় সাধারণ জনগণের চাওয়া পাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। তিনি আরো বলেন ১২ই ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার ভোটাররা দাড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে চারটি আশানই বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় করবে এতে কোন সন্দেহ নেই। তিনি আরো বলেন সাতক্ষীরা তথা বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলাম সরকার গঠন করলে সুদ, ঘুষ ,দুর্নীতি ,চাঁদাবাজি ,দখল বাজি ,ধান্দাবাজি, দালালি, অপহরণ ,মিথ্যা মামলা ও হামলা এর থেকে মানুষ জীবনের মত রেহাই পাবে এবং জামায়াতে ইসলামের উদ্দেশ্য সেটির দিকে।
এই আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সহসভাপতি মো. আলিফ হোসেন ও বাংলাদেশ মাইনরটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) সদস্য রুবেল হোসেন।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর)
শ্যামনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. মনিরুজ্জামান মনির এবং জামায়াতের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম মধ্য এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দিতা হবে। সীমানা পুনর্বিন্যাসের ফলে শ্যামনগর অংশের প্রার্থীরা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
যাচাই-বাছাই শেষে আসনটিতে তিনজন বৈধ প্রার্থী আছেন। তাঁরা হলেন বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান।
জামায়াতের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম, এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী এস এম মোস্তফা আল মামুন।
ভোটাররা বলছেন, নতুন মুখ হলেও প্রবাসী মনিরুজ্জামান প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে তরুণ ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। অপর দিকে জামায়াতের জি এম নজরুল ইসলাম দুবারের সংসদ সদস্য হওয়ায় তাঁর নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আল্লাহর রহমতে ১২ইফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আমি লক্ষধীক ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করব। তিনি আরো বলেন সাতক্ষীরা জেলার চারটি আসনের মধ্য সবচেয়ে এই আসনের মানুষ নানা মাত্রিক সংকটে জর্জরিত। আসনটি উপকূলী এলাকায় হওয়ায় প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ তাদের দাবি টেকসই মজবুত ভেরিবাধ, খাবার পানি সংকট, দুর্যোগ মোকাবেলা করা টেকসই মজবুত পদক্ষেপ আমি নির্বাচিত হলে এই সমস্যাগুলোকে আগে অগ্রাধিকার দিব এবং জনগণ আগেও আমার সাথে ছিল এখনো আছে তবে পূর্বের চেয়ে আমার জনবল এখন আরো বেশি যার প্রমাণ ১২ই ফেব্রুয়ারি জনগণ ব্যালাট এর মাধ্যমে প্রমাণ করিয়ে দিবে।
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি পাঁচ বছর ধরে জনসাধারণের ভালো–মন্দে পাশে থাকার পাশাপাশি শ্যামনগর উন্নয়নে, বিশেষ করে তরুণসমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছেন।
জামায়াতের প্রার্থী জি এম নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যে তাঁরা সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন। ভবিষ্যতে ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করবেন। ভোটারদের তাঁর প্রতি আস্থা রয়েছে। তারা শত ও যোগ্য ব্যক্তিকেই বেছে নেবে।
প্রতিবেদকের অনুসন্ধানী ভাষ্য ও বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং দেশি-বিদেশী জরিপ সংস্থার প্রতিবেদন নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
জাতীয় অর্থনীতিতে সাতক্ষীরার গুরুত্বপূর্ণ
অবদান থাকলেও জেলাবাসী দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ মানুষ। আগামী নির্বাচনের আগে বেশি আলোচনায় খাবার পানি সংকট , লবণাক্ততার কারণে সাতক্ষীরার উপকূলের নারীরা লবণ পানির কারণে নানা রোগে আক্রান্ত , বনজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান , সুন্দরবনে বনদস্যূ কর্তৃক বনজীবীদের অপহরণ মুক্তিপণ ,নদীভাঙন, রেললাইন, জলবায়ু মোকাবেলা করা,প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততা, কর্মসংস্থান ও গ্রামীন অবকাঠামোর উন্নয়ন সহ সাতক্ষীরার গ্রাম গঞ্জের ৮০,শতাংশ এখনো মাটির রাস্তা ভোগান্তিতে লক্ষ লক্ষ মানুষ ।এই সমস্ত বিষয় নিয়ে নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ চলছে সাতক্ষীরায়।তবে গত দুদিন আগে ভয়ে অব আমেরিকার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের ৪টিজেলা তথা যশোর ,সাতক্ষীরা ,খুলনা ও বাগেরহাট নির্বাচনী আসন গুলোতে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে বিএনপি’র নীতিনির্ধারক তারেক রহমান দক্ষিণ অঞ্চল সফর করার পরে প্রেক্ষাপট কোন দিকে যাবে সেই মতামত জানতে তারেক রহমান দক্ষিণ অঞ্চল সফর করা পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগবে। সাতটি উপজেলা, আটটি থানা, তিনটি পৌরসভা ও ৭৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই জেলায় মোট ভোটার ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৪২৪ জন। এরমধ্য দেশের বেশির,ভাগ নারী ভোটাররা ঝুকছে দাঁড়িপাল্লার দিকে বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলে কাজ করা কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। এই সমস্ত সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে অনেক পুরুষ ভোটাররা বিএনপি’র প্রার্থী ও সভা-সমাবেশে প্রচার প্রচারণায় অংশগ্রহণ করলেও তাদের বাড়ির নারী ভোটাররা ভোট দিবেন দাড়িপাল্লায়। সে কারণে দাঁড়িপাল্লা এখনো পর্যন্ত সাতক্ষীরা চারটি আসন সহ সারা দেশে খুব শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তাছাড়া জামায়াতে ইসলামের সাতক্ষীরা বলে খ্যাত । সেজন্য বিএনপির জন্য এখনো সাতক্ষীরা চারটি আসন সারাদেশে বড় চিন্তা দাঁড়িপাল্লা। তবে দাড়িপাল্লার এই শক্ত খাটি ভাঙ্গার জন্য রাত দিন বিএনপি তথা ধানের শীষের প্রার্থীরা, উঠান বৈঠক ,দোকানপাট, হাটবাজার এবং ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ভোট প্রার্থনা করে বেড়াচ্ছে। তবে তাতে যে বিএনপি’র কতটা সুবিধা জনক হবে সেটা এখনো এই প্রতিবেদকের ভাষ্য ও বিভিন্ন দেশে-বিদেশি গণমাধ্যমে জরিপে নির্ণয় করা যায়নি। সাতক্ষীরার কথা বলি মূলত সাতক্ষীরা জেলা দেশ স্বাধীনের পর থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামের দখলে রয়েছে। আগামী নির্বাচনে যে বিএনপি সাতক্ষীরায় কতটা শংকট কাটিয়ে ভালো ফলাফল করতে পারবে তা বলা মুশকিল হয়ে পড়েছে। এদিকে সাতক্ষীরা চারটি আসনে বিএনপি’র জন্য বড় চিন্তা নারী ভোটার কারণ সাতক্ষীরা নারীরা একটু ধর্মভিত্তিক বেশি। এ চিন্তা সারাদেশে বিএনপি’র মধ্যে রয়েছে তবে বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলীয় জেলা যশোর ,সাতক্ষীরা ,খুলনা ও বাগেরহাট সহ দেশের সকল জেলার নারী ভোটারদের চিন্তা বিএনপিতে আর তরুণ ভোটারদের চিন্তা জামায়াতে ইসলামের মধ্যে। তবে ৫ই আগস্টে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ সমাজ এনসিপি জামাত ইসলামের সাথে জড়বাদ তো থাকায় তরুণ ভোটাররা তাদের দেখে থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এন সি পির একাধিক নেতা। সারাদেশে নারী ভোটাররা ভোট দিতে ইচ্ছা পোষণ করেন জামায়াতে ইসলাম তথা দাঁড়িপাল্লায়। আর সারাদেশের বেশি তরুণদের ইচ্ছা বিএনপি তথা ধানের শীষে ভোট দিতে ইচ্ছুক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশে-বিদেশি একাধিক জরিপ সংস্থা । জরিপ সংস্থাগুলোর তথ্য ও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বাংলাদেশের ঢাকা শহর বাদে অন্যান্য জেলাগুলোতে নারী ভোটাররা দাড়িপাল্লায় ভোট দিতে ইচ্ছুক বেশি । তাদের তথ্য মতে বাংলাদেশের গ্রাম গঞ্জের নারী ভোটাররা পরহেজগার ও ধর্মভিত্তিক বেশি। তাদের তথ্য মতে আরো বলা হয়েছে বাংলাদেশের বিভাগীয় শহরগুলোর তরুণ তরুণী, ভোটাররা বিএনপি তথা ধানের শীষে ভোট দিতে পারে বলে এসব তথ্য পোষণ করেছেন তাদের জরিপে। বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রাম গঞ্জের নারী ভোটাররা জামায়াতে ইসলামের ইসলামী সংক্রান্ত নীতি আদর্শের কথায় বিশ্বাস করে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয় এবং এবারও তৃণমূলের নারী ভোটাররা দাড়িপাল্লায় ভোট দিতে পারে এমন অভিমত সংস্থাগুলোর জরিপে উঠে এসেছে। নারী ভোটারদের এই ভয়টা বিরাজ করছে বিএনপি তথা ধানের শীষের প্রার্থীদের মধ্যে। অন্যদিকে দেশের বড় একাংশ তরুণ তরুণী ভোটাররা ভোট দিতে পারে বিএনপি তথা ধানের শীষের প্রার্থীদের এমন তথ্য সংস্থাগুলোর জরিপের প্রকাশ করা হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশের পরে জামায়াতে ইসলাম রয়েছে তরুণ ভোটারের চিন্তায় আর বিএনপি রয়েছে নারী ভোটারের চিন্তায়। এসব তথ্য ও মতামত প্রত্যাখ্যান করেছেন সদ্য গঠিত দল এনসিপির নীতি নির্ধারকরা তাদের বক্তব্য দেশের ৯০ শতাংশ তরুণ তরুণী ভোটাররা তাদের উপর আস্থা রেখে তাদের জোটকে ভোট দিয়ে বিজয় করবেন ।তবে জরিপ করা ওই সংস্থাগুলোর কয়েকটি সংস্থার জরিপে উঠে এসেছে নারী ভোটাররা বেশিরভাগ যেদিকে ভোট দিবে সেদিকে প্রার্থীরা তথা দল বিজয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সমস্ত জরিপের ফলাফল কিছুটা আমলে নিয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন জামায়াত-বিএনপি উভয় পক্ষের প্রার্থী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারকরা। তবে বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দাবি নারী পুরুষ তরুণ তরণী সকল ভোটাররাই বিএনপি তথা ধানের শীষ কে ভোট দিয়ে বিজয় করবে। আর জামায়াতে ইসলামের আমির শফিকুর রহমান বিভিন্ন জনসভায় বক্তব্য রাখছেন নারী পুরুষ ও তরুণ তরুণী ভোটাররা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামকে তথা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে এদেশে এবার দাঁড়িপাল্লার সরকারকে ক্ষমতায় বসাবে । কাতার ভিত্তিক বিশ্ব গণমাধ্যম সংস্থা আল জাজিরার সম্প্রীতি জরিপে বলা হয়েছে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে বর্তমান অবস্থায় জামাত-বিএনপি হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা চলছে । তবে ওই গণমাধ্যম আরেকটি প্রতিবেদনে বলেছেন বাংলাদেশে যেহেতু আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে সে কারণে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। তবুও উভয় দলের চাপে কলে কৌশলে আওয়ামী লীগের যে সমর্থন রয়েছে তার থেকে ৩০-৪০ শতাংশ কোন কোন আসনে তার অধিক ভোটাররা ভোট দিতে যাবে ।এই ভোট জামায়াত-বিএনপি যে জোট বাগিয়ে নিতে পারবে তারাই আগামীর সরকার গঠন করতে পারে বাংলাদেশে ।আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশের মোট ভোটারের অর্ধেকই বেশি নারী। এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে নারী ভোটার বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল বিভিন্ন আশ্বাস, অঙ্গীকার করে নারী ভোটারদের নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টা করছে। এক কথায় বলা যায়, টার্গেট এখন নারী ভোটার।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরকার আসে সরকার যায়, কিন্তু নারীদের ভাগ্যের খুব একটা পরিবর্তন হয় না। আশা করি, আসন্ন নির্বাচনে যে দলই দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসবে তারা আন্তরিকতার সঙ্গে নারীদের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করবে।
দেশের নারী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠান উইমেন এন্টারপ্রেনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ওয়েব) প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘আগামীতে নির্বাচিত সরকারের কাছে আশা করছি, নারীদের জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে। নারীদের কাজের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করবে। অনেক নারী আছে ব্যবসা করতে চান, কিন্তু পর্যাপ্ত পুঁজির অভাবে তা পারেন না। শুধু নারীদের জন্যে ব্যাংক করার দাবি করছি। শুধু তাই না কর্মক্ষেত্রে নারীদের কাজের মূল্যায়ন করতে হবে।

