
সিরাজুল ইসলাম, শ্যামনগর : ৭ই এপ্রিল পশ্চিম সুন্দরবনের কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তার দুর্নীতি অপকর্মের দায়ভার বনবিভাগ নিবে না প্রধান বন সংরক্ষক। শিরোনামে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই, স্থানীয় বিভিন্ন সাংবাদিকদের ও জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েছেন কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদ তিনি বলেন প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেন চৌধুরী আমার কাছে ফোন করছিল। ফোন করে বলেছে শ্যামাপ্রসাদ বাবু এই সমস্ত লেখালেখিতে ঘাবড়াবেন না সাংবাদিকদের এসব লেখায় আপনার কিছুই হবে না কারণ সাংবাদিকরা সব চাঁদাবাজ। আমি ঢাকায় বসে তৃণমূলের খবর সব জানি। এরপরে শ্যামাপ্রসাদ বলেছেন প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেন চৌধুরী আমাকে বলেছেন কাগজ কলম তো আমার কাছে চাকরি যাবে না যাবে তার দায়িত্ব আমার হাতে। সে কারণে শ্যামাপ্রসাদ বাবু আপনার কোন চিন্তার বিষয় নেই। এছাড়াও ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরে কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদ এই প্রতিবেদক সহ উপকূলীয় সাংবাদিকদের সম্পর্কে বিভিন্ন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তার এই সমস্ত বিস্ফোরক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে অভিজ্ঞ মহল মতামত দিয়েছেন সবকিছুর অবসান ঘটে যাবে মাননীয় জলবায়ু ,পরিবেশ ও বন মন্ত্রী মহোদয় যদি। বনজীবীদের উপকূলীয় সদি মহল সাংবাদিক এবং অভিজ্ঞ মহলদের নিয়ে সত্যিই গণ শুনানি করে। থলের বিড়াল সব বেরিয়ে আসবে। বনজীবীদের বনরক্ষীরা কি পরিমান শ্বসন নির্যাতন করছে। তাছাড়া সাংবাদিকরা বন কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে কেন এত লেখালেখি করে সবকিছুর অবসান ঘটবে। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের উপস্থিতিতে উপকূলীয় অঞ্চলে সেই গন শুনানির প্রহর গুনছে বনজীবী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ। বোন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি ও অপকর্মের খবর সাংবাদিকরা গণমাধ্যমে প্রকাশ করায় তা ধামাচাপা দিতে সরকারকে এবং মাননীয় মন্ত্রী কে বোঝানোর জন্য সাংবাদিকরা চাঁদাবাজ বলে শ্যামনগর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আকবর কবিসহ বেশ কিছু সাংবাদিকদের তালিকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মন্ত্রণালায় পাঠিয়েছেন বলে বনবিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানিয়েছেন। সুধী মহল বলতে চাই এভাবে ধামাচাপা দিয়ে আগুন থামানো যায় না আগুন একদিন না একদিন ঢেউয়ে উঠবে। এমন মন্তব্যের বিষয় নিয়ে দুর্নীতি নিয়ে গবেষণা বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার রোকেয়া সুলতানা বলেন বনবিভাগ যদি ঘুষ-বানিজ্যর সাথে জড়িত না থাকে তাহলে স্থানীয় সাংবাদিকরা বা কেন তাদের কাছে চাদা চাবে। তিনি আরো বলেন সরকারের আরও তো অনেক ডিপার্টমেন্ট আছে সেখানে তো সাংবাদিকদের চাঁদা চাওয়ার কোন খবর আসে না বন বিভাগে সব সময় খবর আসে কেন, বিষয়টার মধ্য অবশ্যই বনবিভাগের দুর্নীতি অপকর্ম ঘুষ বাণিজ্য জড়িয়ে আছে। তিনি মনে করেন এর একমাত্র পথ মাননীয় জলবায়ু ,পরিবেশ ও বন মন্ত্রী মহোদয় উপকূলে বনজীবী সহ সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে গন শুনানি করলে এর আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে এবং আইনের মাধ্যমে সমাধান হবে। তিনি আরো বলেন আমরা যুগ যুগ ধরে শুনে আসছি সুন্দরবনের বন কর্মকর্তা কর্মচারীদের দুর্নীতি অপকর্ম ও ঘুষ বাণিজ্যের খবর ,কিন্তু এত তাড়াতাড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তারা উদার বোঝা বুদর ঘাড়ে চাপিয়ে সরকারকে তো ভুল বুঝালে হবে না। তিনি আরো বলেন এখানে শুধু বনজীবীদের কাছ থেকে বন কর্মকর্তারা ঘুষ-বানি করে তাই নয় ,বদলি নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে খোদ প্রধান বন সংরক্ষক পর্যন্ত ঘুষ কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত রয়েছে। যাহা এই নতুন সরকারকে এখনই দেখার সময় এসেছে তিনি আশা করেন অবশ্যই সরকার এর একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিবেন।উল্লেখ্য যে সুন্দরবনের সাতক্ষীরাঞ্জের বর্তমান কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদের দুর্নীতি অপকর্ম ঘুষবাণিজ্য সহ নানাবিধ অপরাধের দায়ভার কাঁধে নেবে না, বন বিভাগ। এই প্রতিবেদকের মোবাইল ফোনের জবাবে বলেছেন প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেন চৌধুরী। মিস্টার আমির হোসেন চৌধুরী তার বক্তব্যে আরো বলেন আমি সিসিএফ এর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একের পর এক এই ফরেস্টার শ্যামাপ্রসাদের দুর্নীতি অপকর্ম নিয়ে অস্থির হয়ে পড়েছি। একদিকে সরকারের কাছে চাপে আছি অন্যদিকে জনগণের কাছে চাপে আছি ভিন্ন দিকে ডিপার্টমেন্টের চাপে আছি । সে কারণে ইতিমধ্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশ মোতাবেক তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি তথ্য খতিয়ে দেখে মোহর মোহর সরকারের বন মন্ত্রণালয়ে,প্রতিবেদন পাঠাতে হচ্ছে। এদিকে কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদ দুর্নীতি অপকর্মের খবর এই প্রতিবেদক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করার পর বন বিভাগের দুটি বিভাগের অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারীরা শ্যামাপ্রসাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন অপকর্মের তথ্য প্রদান করছেন এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফরেস্ট রেঞ্জার এই প্রতিবেদককে জানান শ্যামাপ্রসাদ কে গাছে উঠেছিল সাবেক পশ্চিমবন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাসের মোঃ মহাসিন। আবু নাসের মোহাম্মদ মহসিন এর উস্কানিতে শ্যামাপ্রসাদের দুর্নীতির পাল্লা এত ভারী হয়েছে। তিনি আরো বলেন শ্যামাপ্রসাদ যেখানে যেখানে পোস্টিং নিয়েছে সেখানে সেখানে ডিপার্টমেন্টের সাথে জনগণের সাথে বনজীবীদের সাথে জনপ্রতিনিধিদের সাথে ঝামেলায় জড়িয়েছেন, কিন্তু সবকিছু জায়েজ করেছেন ওই বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাসের মোঃ মহসিন। শ্যামা প্রসাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন দুদক খুলনা অঞ্চলে আগেও একটি অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে, এরপরেও তার বিরুদ্ধে উপকূলে কয়েকটি থানায় চাঁদাবাজির মামলাও হয়েছে বলে বন বিভাগের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে। এছাড়া তিনিও বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি জনপ্রতিনিধি নিরপরাধ বনজীবীদের বিরুদ্ধে বন মামলা সহ বিভিন্ন ধরনের মামলা দিয়ে এসেছে। বন বিভাগের বড় এক অংশের দাবি এত অপকর্মের পরেও কেন এখনো শ্যামা প্রসাদ সুন্দরবনে বহুলতবিয়াতে চাকরিতে আছেন। সরকারের নিয়ম আছে পাঁচ বছর ডিভিশনে থাকার পর বদলি হয়ে অন্য ডিভিশনে যেতে হবে কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ একটানা সুন্দরবনের দুই বিভাগে চশে বেড়াচ্ছেন২৫ বছর । বর্তমান শ্যামাপ্রসাদের দুর্নীতি অপকর্ম নিয়ে খোদ,বনমন্ত্রী নিজে, ও অবহিত হয়েছেন অবহিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বনজীবীরা জনপ্রতিনিধি সুধীমহল ও সাধারণ মানুষ কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদের দুর্নীতির বিচার চেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় জলবায়ু পরিবেশ ও বনমন্ত্রী সহ দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক খুলনা অঞ্চলের পরিচালক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন। এরাই প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক সহ খোদ বন মন্তালায় শ্যামাপ্রসাদের নানাবিধ দুর্নীতির তদন্তে নেমেছে। সাম্প্রতি শ্যামাপ্রসাদ গত ৭ই মার্চ,পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কৈখালী স্টেশনে স্টেশন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছেন। তিনি যোগদান করার পরদিন থেকে ২৫টি,নৌকা টলার দিয়ে সুন্দরবনের নদী খাল থেকে পারশে মাছের পোনা জাতীয় সম্পাদ আহরণ করিয়ে স্থানীয় ভেটখালী বাজারে প্রকাশ্য বিক্রি করাচ্ছে এর বিনিময় শ্যামাপ্রসাদ পাচ্ছেন প্রতিদিন একটি নৌকা ও টলার থেকে ১০০০ টাকা প্রতিদিন সেখান থেকে তার,আয় আছে ২৫ থেকে ৩০হাজার টাকা। এই পার্সের পোনা আহরণ করতে গিয়ে সুন্দরবনের নদী খালে বিনষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি অন্য মাছের পোনা। সুন্দরবনের মধু। শ্যামাপ্রসাদ কৈখালী স্টেশনে যোগদান করার পর থেকে ২৩ টি নৌকায় সুন্দরবনের সাতক্ষীরা,রেঞ্জ এলাকা থেকে পাশ দেওয়ার আগেই অবৈধভাবে মধু আহরণ করেছেন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেন চৌধুরীকে পঞ্চাশ কন্টেনিয়ার মধু দিতে হবে আপনারা যে যাই বলেন আমার এটা করা বন্ধ হবে না কারণ চাকরি করতে হলে বন সংরক্ষক মহোদয়কে ঠিক রাখতে হবে। যার কারণে পশ্চিম সুন্দরবনে এবার মধু আহরণ করতে যেতে অনীহা প্রকাশ করেছে প্রকৃত মৌয়ালিরা। শ্যামাপ্রসাদের অপকর্মের কারণে পহেলা এপ্রিলে মধু উদ্বোধনের জন্য বন প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম আসেন সাতক্ষীরা রেঞ্জের,বুড়িগোয়ালিনীতে সেখানে অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিক ও বনজীবীদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি সকলের অভিযোগ ছিল শ্যামাপ্রসাদ সহ বন বিভাগের বিভিন্ন দুর্নীতি অপকর্ম ও ঘুষ বাণিজ্যের উপর। সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার। কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদ যোগদানের পর থেকে অবাধে চলছে বিষ দিয়ে মাছ শিকার। প্রায় ৬০ থেকে ৭০ টি নৌকা প্রতিদিন সুন্দরবনের কৈখালী এলাকায় বিষ দিয়ে মাছ শিকার করছেন। এর বিনিময় স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদ প্রতিদিন একটি নৌকা থেকে পাচ্ছেন ৭০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা। এখান থেকে তার প্রতিদিন আয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। বন বিভাগের একটি বিশ্বস্ত সূত্র এই প্রতিবেদক কে জানিয়েছেন শ্যামাপ্রসাদ কে উৎসাহ দেখাচ্ছেন বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার ফজলুল হক। ফজলুল হকের বিরুদ্ধেও কদমতলা স্টেশন কর্মকর্তা থাকাকালীন এবং পশ্চিম সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার,টিয়ে থাকাকালীন এবং বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তার,দায়িত্বে থেকে দুর্নীতির পাহাড়ের অভিযোগ রয়েছে। তার এই সমস্ত দুর্নীতি অপকর্মের প্রতিবাদে সাংবাদিকরা গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের নামে থানায় জিটি সহ বনজীবীদের উসকানি দিয়ে সাংবাদিকদের অপমান অপদার্থ করার অভিযোগ রয়েছে। ফজলুল হকের বিরুদ্ধেও গতকাল দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক জহুরুল হকের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বন বিভাগের একটি বড় অংশের পক্ষ থেকে। কৈখালী স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদ এই ২৫ বছরে সুন্দরবনের প্রায় সব কয়টি স্টেশন এবং গোলপাতা কুপ কর্মকর্তার দায়িত্বে থেকে হাপিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা যাহা বন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত টিম ও দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্তে সব অপরাধের চিত্র উঠে আসবে। শ্যামাপ্রসাদ এই ২৫ বছরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী এমপিদের এবং প্রভাবশালী নেতাদের দাপট দেখিয়ে বড় বড় বন কর্মকর্তাদের অপমান অপদস্থ পর্যন্ত করেছেন যাহা এখন বেরিয়ে আসছেন।তদন্ত হলে এই সমস্ত ক্ষমতার অপব্যবহার নানামুখী দুর্নীতি অপকর্মের সত্যতা সবকিছু বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন সুন্দরবন দুই বিভাগের বড় একা একাংশ কর্মকর্তা কর্মচারীরা।।