
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী খাল থেকে অবাধে পাচার হচ্ছে শামুক ঝিনুক যার প্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্র্যে। সে কারণে সামুক ঝিনুক পাচার প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ মহল। বর্তমান চলমান আইনের ফাক ফোকে ছাড় প্রয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। যার কারণে অবাধে চলছে সুন্দরবনে নদী খাল থেকে শামুক ঝিনুক পাচার।সুন্দরবনের সংলগ্ন নদী-খাল থেকে নিদারুণভাবে শামুক ও ঝিনুক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, কিছু ক্ষেত্রে সীমান্তপথে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, দিনে কিংবা গভীর রাতে ট্রলার ও নৌকা ব্যবহার করে নির্বিচারে এ আহরণ চলছে, যা বনভূমি ও নদীর তলদেশীয় পরিবেশের ভারসাম্য বিপন্ন করছে।
অবৈধ আহরণকারীদের অর্থের লোভে পরে প্রান্তিক জেলেদেরও এ কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে বলা হয়, কয়েকশো মণ শামুক একদিনে সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তা সামগ্রিকভাবে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সীমান্তপথে পাচার করা হচ্ছে। কিছু ব্যবসায়ী এসব শামুক ১৫ টাকা দরে কিনে ৮০ টাকা দরে বিক্রি করছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
পরিবেশবিদ ও গবেষকরা জানান, শামুক-ঝিনুক নদীর তলদেশের মাটির গুণগত মান বজায় রাখতে, মাটির উর্বরতা রক্ষায় এবং নদীতে বাস করা মাছের খাদ্য চক্র বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অধ্যাপক আশেক এলাহী ও গবেষক গৌরাঙ্গ নন্দীর মত অনুযায়ী, ব্যাপক হারে এ প্রাণীর নিধন হলে নদী জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ভয় রয়েছে। সুন্দরবনে আনুমানিক ২৬০ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে- তাদের মধ্যে শামুক ও ঝিনুকের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য।
আইনি দিক থেকেও সমস্যা গুরুতর। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নদী, খাল ও প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে শামুক ও ঝিনুক কুড়িয়ে নেওয়া বা পরিবহন করা নিষিদ্ধ। এ ধরনের কার্যক্রম পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) ও জলজ সম্পদ সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর আওতায় অপরাধ হিসেবে দণ্ডনীয়।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সাতক্ষীরার রেঞ্জ—পশ্চিম সুন্দরবনের পশুরতলা খাল, কৈখালীর মাদার নদী ও জয়াখালীর খালসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে শামুক আহরণ হয়ে থাকে। আগাস্ট মাসের শুরুতে বন বিভাগের এক অভিযানে পার্ক সংলগ্ন মালঞ্চ নদী থেকে শামুক ও ঝিনুক ভর্তি নৌকা জব্দ করে মুন্সিগঞ্জ ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির সদস্য ও নৌপুলিশ। পরে কদমতলা স্টেশন থেকে উদ্ধার করা দশ বস্তা শামুক-ঝিনুক নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
শ্যামনগর উপজেলার পরিবেশকর্মী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু নৌকা জব্দ করলেই হবে না; চক্রের মূলহোতাদের সনাক্ত করে তাদের উৎসকে নির্ণয় করতে হবে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরী।’ সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে; শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ ও পাচার নদী সংরক্ষণ আইন ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের লঙ্ঘন—অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে নতুন কৌশলে। মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী ধ্বংসে জাল-জালিয়াতি কিংবা অবৈধ শিকারই নয়, এখন সুন্দরবন সংলগ্ন নদী ও খাল থেকে শামুক নিধনের ঘটনাও ব্যাপক আকারে ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অর্থের লোভ দেখিয়ে বনসংলগ্ন এলাকার মানুষকে কাজে লাগিয়ে ট্রলার ও নৌকায় ভরে শামুক সংগ্রহ করছেন। এরপর পাচারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করা হচ্ছে এসব শামুক। চিংড়ি মাছ আহরণে ব্যবহৃত হচ্ছে বিষাক্ত পদার্থ এতে নদী-খালের পানিতে থাকা ছোট মাছ, চিংড়ির রেণু, কাঁকড়া এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে। ধীরে ধীরে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ছে সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকা। শামুক সংগ্রহে নদীর তলদেশ খনন করায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা। সুন্দরবনে মাছ ধরা জেরার বলেন, অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা কিছু অসাধু জেলেদের এ কাজে লাগাচ্ছে। পাচার চক্র দিনের পর দিন নদী খাল থেকে শামুক কুড়িয়ে ট্রাকে ভরে পাচার করছে। অথচ আমরা জেলেরা তিন মাস মাছ শিকার বন্ধ রেখে নদী রক্ষা করি, কিন্তু এভাবে শামুক নিধন আমাদের পরিশ্রমকেও ব্যর্থ করে দিচ্ছে। উপকূলবাসীরা মনে করেন, শামুক নদী ও খালের পানির গুণগত মান বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। কিন্তু নির্বিচারে শামুক নিধনের ফলে শুধু জীববৈচিত্র্যই নয়, জেলেদের ভবিষ্যৎ জীবিকাও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। এ বিষয়ে সচেতন মহল দ্রুত কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, অবৈধভাবে শামুক নিধন ও পাচার বন্ধ না করলে অচিরেই সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। স্থানীয়দের প্রশ্ন জলজ প্রাণীর আশ্রয়স্থল সুন্দরবন ধ্বংস হতে থাকলেও প্রশাসন এখনো নীরব কেন। এ বিষয়ে কদমতলা স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, বনবিভাগের সদস্যরা সুন্দরবনে নিয়মিত টহল দেয়া সময় সুন্দরবন থেকে অবৈধভাবে সম্পদ আহরণ এবং অবৈধ কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ উদ্ধার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসাসহ প্রতিনিয়ত আমাদের স্মাটটহল টিমসহ কয়েকটি টহলদল সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে প্রতিনিয়ত টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, সুন্দরবন অথবা সুন্দরবন সংলগ্ন নদী খাল হতে অবৈধ উপায়ে শামুক নিধন বিষয়টি আমাদের নজরে নিয়েছি এবং প্রতিনিয়ত বন বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে তাছাড়া আপনারা দেখেছেন মাঝেমধ্যে আমরা অভিযান চালিয়ে শামুক উদ্ধার করে নদীতে অবমুক্ত কেেরছি, এমনকি আমাদের টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে করে কোনো অসাধুচক্র সুন্দরবন থেকে অবৈধ উপায়ে কোনোভাবেই সুন্দরবনের সম্পদ আহরণ করতে না পারে এবং পাচার করতে না পারে।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের নতুন কৌশল হিসেবে শামুক নিধন ও পাচার শুরু করেছে একটি অসাধু চক্র। বন সংলগ্ন নদী-খাল থেকে প্রতিদিন ভোর কিংবা গভীর রাতে ট্রলার ও নৌকায় ভরে নির্বিচারে শামুক সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে এসব শামুক ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্থের লোভ দেখিয়ে এই কাজে জড়ানো হচ্ছে প্রান্তিক জেলেদের। এভাবে কয়েকশো মণ শামুক একদিনেই সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শামুক হচ্ছে জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এটি নদী-খালের তলদেশে থাকা ক্ষতিকর পদার্থ শোষণ করে পানির গুণগত মান ঠিক রাখে। কিন্তু নির্বিচারে শামুক নিধন করলে শুধু প্রাকৃতিক ভারসাম্যই নষ্ট হবে না, বরং জলজ প্রাণীদের খাদ্যচক্রেও বিরূপ প্রভাব পড়বে।
‘নদীর পানিতে বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করে মাছ ধরার প্রবণতা যেভাবে বাড়ছে তাতে ছোট মাছ, চিংড়ির রেণু, কাঁকড়া এবং শামুক একসঙ্গে ধ্বংস হচ্ছে। এটি শুধু জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ুতেও প্রভাব ফেলবে।’
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, এ পাচারচক্র শুধু শামুকই নয়, চিংড়ি আহরণের সময় বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করছে। মাছের ঝাঁক সহজে ধরতে নদী-খালের পানিতে মেশানো হচ্ছে কীটনাশক জাতীয় রাসায়নিক। এতে কয়েক মিনিটের মধ্যে ছোট মাছ, চিংড়ির রেণু, কাঁকড়া, কই, টেংরা থেকে শুরু করে অন্যান্য জলজ প্রাণী অচেতন হয়ে ভেসে ওঠে। জেলেরা তখন জাল দিয়ে সহজেই সেগুলো ধরে ফেলে। কিন্তু এর ফলে নদীর বাস্তুসংস্থান ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, এসব রাসায়নিক পদার্থ শুধু মাছ বা রেণুকেই মারে না, পানির ভেতর থাকা অণুজীব, শৈবাল ও পলি জমাকেও ধ্বংস করে দেয়। ধীরে ধীরে নদীর তলদেশ শক্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে, জৈব উৎপাদনশীলতা কমে যায়। এক সময় সেই নদী আর জীববৈচিত্র্য ধারণ করতে সক্ষম হয় না। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়বে সুন্দরবনের ভেতরের খাদ্যচক্র ও বন্যপ্রাণীর ওপরও।
স্থানীয়রা বলছেন, নদী-খালে শামুক কুড়াতে গিয়ে তলদেশ খনন করার কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর সংখ্যাও কমছে। সুন্দরবনের যেসব নদী ও খাল এতদিন স্থানীয় জেলেদের জীবিকার উৎস ছিল, সেগুলো ধীরে ধীরে নিঃশেষ হওয়ার পথে।
‘শামুক নিধন ও পাচার নজরে রয়েছে এবং বন বিভাগের নিয়মিত অভিযান চলছে। মাঝে মাঝে বিপুল শামুক উদ্ধার করে নদীতে অবমুক্ত করা হচ্ছে, পাশাপাশি টহল জোরদার করা হয়েছে।’
সুন্দরবন সংলগ্ন মুন্সিগঞ্জ এলাকার জেলে খানজাহান বলেন, অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা কিছু জেলেকে কাজে লাগাচ্ছে। প্রতিদিন নদী-খাল থেকে শামুক কুড়িয়ে ট্রাকে ভরে পাচার করছে। অথচ আমরা নদী রক্ষায় তিন মাস মাছ শিকার বন্ধ রাখি, কিন্তু শামুক নিধনের কারণে আমাদের সব পরিশ্রম ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, শামুক শুধু জলাশয়ের পানির গুণগত মান বজায় রাখে না, বরং মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর খাদ্য হিসেবেও অপরিহার্য। নির্বিচারে শামুক নিধনের ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এবং জেলেদের জীবিকা উভয়ই হুমকির মুখে পড়ছে।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. অলিউর রহমান বলেন, শামুক তলদেশের জৈব পদার্থ খেয়ে পানিকে পরিশুদ্ধ রাখে। একইসঙ্গে মাছ, কাঁকড়া ও অনেক জলজ প্রাণীর জন্য এটি প্রধান খাদ্য। কিন্তু নির্বিচারে শামুক নিধন করলে খাদ্যচক্র ভেঙে যাবে, ফলে নদী-খাল উজাড় হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, নদীর পানিতে বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করে মাছ ধরার প্রবণতা যেভাবে বাড়ছে তাতে ছোট মাছ, চিংড়ির রেণু, কাঁকড়া এবং শামুক একসঙ্গে ধ্বংস হচ্ছে। এটি শুধু জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ুতেও প্রভাব ফেলবে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হলে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি বাড়বে, জলজ উদ্ভিদ ধ্বংস হলে কার্বন শোষণের ক্ষমতাও কমে যাবে। তাই এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ ভয়াবহ সংকটে পড়বে।
‘সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শামুক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এটি পানির দূষণ কমাতে সহায়তা করে এবং মাছ ও কাঁকড়ার জন্য প্রধান খাদ্য।’
স্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিডিওর পরিচালক আল ইমরান এ বিষয়ে বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শামুক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এটি পানির দূষণ কমাতে সহায়তা করে এবং মাছ ও কাঁকড়ার জন্য প্রধান খাদ্য। শামুক নিধন চলতে থাকলে শুধু পরিবেশ নয়, স্থানীয় অর্থনীতিও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তাই এখনই এ অপতৎপরতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, আমাদের স্মার্ট টহল টিমসহ কয়েকটি দল সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে নিয়মিত টহল দিচ্ছে। অবৈধ কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক মাস ধরে শামুক পাচারচক্রের এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সম্প্রতি আমাদের একটি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ শামুক উদ্ধার করে নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। শুধু বনাঞ্চলের ভেতরে নয়, পাশের লোকালয়েও পাচারচক্রের সক্রিয়তা রয়েছে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় তাদের বিরুদ্ধে যৌথভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পশ্চিম সুন্দরবনের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান আরো বলেন, শামুক নিধন ও পাচার নজরে রয়েছে এবং বন বিভাগের নিয়মিত অভিযান চলছে। মাঝে মাঝে বিপুল শামুক উদ্ধার করে নদীতে অবমুক্ত করা হচ্ছে, পাশাপাশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু শামুক নয়, বিভিন্ন অসাধু চক্র মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ সম্পদও অবৈধভাবে আহরণ করছে। এসব প্রতিরোধে টহল দল প্রতিদিন নদী-খালে নজরদারি করছে। মামলা করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
ফজলুল হক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সুন্দরবন রক্ষায় জনগণ, বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অপরিহার্য। তা না হলে অবৈধ কর্মকাণ্ড জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শামুক নিধন ও পাচার বন্ধ করতে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে বন ও পরিবেশ আইনে দ্রুত মামলা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নদী-খাল ও বন সংলগ্ন এলাকায় স্মার্ট টহল জোরদার, প্রকৃত ব্যবসায়ী ও অর্থদাতাদের শনাক্ত, স্থানীয় জেলেদের সচেতন করা, দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শামুক নিধনের পরিবেশ ও জলবায়ুর প্রভাব নিয়ে গবেষণা ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং কিছু অংশ ‘শামুক সংরক্ষণ এলাকা’ ঘোষণা করে সম্পূর্ণ নিধন নিষিদ্ধ করা।সাতক্ষীরার সুন্দরবনের গভীর থেকে অবৈধ ভাবে ঝিনুক সংগ্রহের মহোৎসব চলছে। প্রতিনিয়ত শত শত কেজি ঝিনুক সংগ্রহ করে পাচার করা হচ্ছে বিদেশে। অথচ এ ব্যাপারে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল,নদী ও চরাঞ্চল থেকে দলবদ্ধ ভাবে অসাধু চক্র ঝিনুক সংগ্রহ করছে। এসব ঝিনুক পরে চক্রাকার দালালের মাধ্যমে বস্তায় ভরে পাচারের উদ্দেশ্যে ঢাকা,চিটাগাং সহ বিভিন্ন স্থানে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এক কেজি ঝিনুক বর্তমানে স্থানীয় বাজারে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বিদেশে এর দাম কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় পাচারকারীরা ঝুঁকি নিয়েও প্রতিনিয়ত এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশবাদীদের অভিযোগ,এ ভাবে অবাধে ঝিনুক আহরণ করা হলে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। কারণ ঝিনুক নদী ও খালের পানি পরিশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো হ্রাস পেলে সামুদ্রিক জীব বৈচিত্র্য ক্ষতি গ্রস্ত হবে এবং মাছের প্রজনন কমে যাবে।
স্থানীয়রা জানান,সুন্দরবনের নদী খাল যেমন কুনচিখাল,কাললাট,দলদুলির চর,কাঠেশশ্বর, কাইনমারীর চর,সাপ খালির চর সহ সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থান হতে ঝিনুক উত্তোলন করে নিয়ে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে পাঁচারকারী দলের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় কিছু কাঁকড়া সফ্টসেল কোম্পানি এই ঝিনুক কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি দেশের বাহিরে ও পাঁচার করছে।
এ বিষয়ে সফটসেল কোম্পানিদের সাথে কথা বললে তারা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,এলাকার মানুষ বেকার পড়ে আছে তা ছাড়া এই ঝিনুক নদীর কি উপকারে আসে আমরা নিয়ে বিক্রি করছি দুটো পয়সায় এলাকার লোকও তো পাচ্ছে,আপনারা সাংবাদিকরা কেন এতে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন।
বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি জানতে চাইলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন,সুন্দরবন থেকে ঝিনুক পাঁচার হচ্ছে বিষয়টি আমরা জান তাম না,তবে মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরে আমরা প্রতিনিয়ত সুন্দরবন সংলগ্ন লকালয়ে টহল অব্যাহত রেখেছি, ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইতি মধ্যে বনবিভাগ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু ঝিনুক উদ্ধার করে নদীতে অবমুক্ত করেছেন। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ও জানান তিনি।
পরিবেশবাদী সংগঠনের ইমাম হোসেন শাহীন বলেন, নদী থেকে ঝিনুক উঠালে যেমন ক্ষতি হয় পরিবেশের তেমনি ক্ষতি হয় নদীর মাছ ও জীব বৈচিত্র্যর, তায় স্থানীয় প্রশাসনের নিকট দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন এ নেতারা,যেন সুন্দরবনের ঝিনুক সম্পদ রক্ষা করা যায় এবং বিদেশে পাঁচার বন্ধ হয়।সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের নতুন কৌশল হিসেবে শামুক নিধন ও পাচার শুরু করেছে একটি অসাধু চক্র। বনসংলগ্ন নদী ও খাল থেকে প্রতিদিন ট্রলার ও নৌকায় ভরে শামুক আহরণ করা হচ্ছে। পরে এসব শামুক ট্রাকে সড়কপথে কিংবা ট্রলারে নদীপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অর্থের লোভ দেখিয়ে প্রান্তিক জেলেদের এ কাজে জড়ানো হচ্ছে। প্রতিদিন কয়েক শ মণ শামুক সংগ্রহ করা হচ্ছে।
২১ অক্টোবর সকালে সুন্দরবনসংলগ্ন শাকবাড়িয়া নদীর তীর থেকে ১৬৫০ কেজি শামুক উদ্ধার করা হয় বলে জানান বন বিভাগের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দীন।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন–১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) ও জলজ সম্পদ সংরক্ষণ আইন–১৯৫০ অনুসারে, নদী, খাল ও প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে শামুক বা ঝিনুক আহরণ ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এ কাজ দণ্ডনীয় অপরাধ।
বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শামুক ও ঝিনুক নদীর তলদেশের মাটি ও পানির গুণগত মান বজায় রাখে। এগুলো নদীর প্রাকৃতিক ফিল্টার হিসেবে কাজ করে, দূষণ কমায়, মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং মাছ ও কাঁকড়ার খাদ্যচক্র ধরে রাখে। ব্যাপক নিধন হলে নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকিতে পড়বে।
এর আগে সুন্দরবনে একাধিকবার শামুক পাচারের ঘটনা ধরা পড়েছে। ১৩ অক্টোবর থেকে বন বিভাগ কয়রা উপজেলায় মাইকিং করে সতর্ক করে বলছে, শামুক আহরণ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুন্দরবন-সংলগ্ন উপকূলীয় খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বন বিভাগের মাইকিং ও অভিযানের পরও শামুক আহরণ বন্ধ হচ্ছে না। বনাঞ্চল ঘেঁষে থাকা পশুরতলা খাল, কৈখালীর মাদার নদী, জয়াখালী খাল, শাকবাড়িয়া নদী, কয়রা নদী ও কপোতাক্ষ নদ থেকে প্রতিদিনই অবৈধভাবে শামুক সংগ্রহ করা হচ্ছে।
শামুক নদীর প্রাকৃতিক ফিল্টার হিসেবে কাজ করে, দূষণ কমায়, মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং মাছ ও কাঁকড়ার খাদ্যচক্র ধরে রাখে। ব্যাপক নিধন হলে নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকিতে পড়বে বলে শঙ্ক।
সম্প্রতি কয়রার কাটকাটা এলাকায় সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া নদীর পাড়ে গিয়ে দুই শামুক আহরণকারীর সঙ্গে দেখা হয়। তাদের একজন বলেন, তাঁরা সরকারি গুচ্ছগ্রামে থাকেন। কাজকর্ম নেই। এক মাস ধরে নদী থেকে শামুক তুলে বিক্রি করছেন। এ আয় দিয়েই সংসার চলে। শামুক আহরণ যে আইনতভাবে নিষিদ্ধ, সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই।
আরেকজন বলেন, নদী থেকে তোলা শামুক কিনে নেন বাইরের কিছু লোক। বিভিন্ন স্থান থেকে শামুক সংগ্রহ করে তাঁরা কয়রার আমাদী ব্রিজের পাশে স্তূপ করে রাখেন। পরে সেখান থেকে ট্রাকে করে শামুক অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।
তাঁদের কথার সূত্র ধরে কয়রার আমাদী ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বস্তাভর্তি শামুকের স্তূপ। চারপাশে পচা দুর্গন্ধে টেকা দায়। পাশের কপোতাক্ষ নদে তখনো নারী-পুরুষ ব্যস্ত শামুক তুলতে। রেশমা বেগম নামের এক নারী বলেন, ‘গাঙে শামুক কুড়িয়ে দিনে এক শ কেজির মতো পাই। প্রতি কেজি পাঁচ টাকায় বিক্রি করি।’
কয়রার কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী গোবরা গ্রামের শামিম হোসেন বলেন, জেগে ওঠা বালুচর থেকে দিন–রাত শামুক–ঝিনুক সংগ্রহ করা হয়। ট্রলারে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু ও শামুক একসঙ্গে ওঠানো হয়। পরে পানির স্রোতে বালু ধুয়ে ফেলে শুধু শামুক রাখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলে আহরণকারীরা হুমকি দেন।
প্রান্তিক জেলেদের কাছ থেকে শামুক কিনে খুলনার কয়রার আমাদী ব্রিজের পাশে স্তূপ করে রাখে একটি চক্র। পরে সেখান থেকে ট্রাকে করে শামুক অন্যত্র নিয়ে যাওয়া
কয়রা কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক বিদেশ রঞ্জন মৃধা বলেন, শামুক–ঝিনুক পানি পরিশুদ্ধ করে। মাছ ও কাঁকড়াসহ নানা জলজ প্রাণীর খাবার হিসেবে কাজ করে। নির্বিচার নিধন চললে খাদ্যচক্র ভেঙে নদী ও খাল উজাড় হয়ে যাবে। তাই দ্রুত এটা বন্ধ করা প্রয়োজন।
উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সদস্যসচিব মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শামুক কেবল পরিবেশ নয়, স্থানীয় অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিধন চলতে থাকলে উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর পেছনের ব্যবসায়ী ও অর্থদাতাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদের সচেতন করা এবং বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি করা জরুরি।
বন বিভাগের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন আরো বলেন, বন বিভাগের স্মার্ট টহল টিমসহ কয়েকটি দল নিয়মিত টহল দিচ্ছে, অবৈধ মালামাল জব্দ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ শামুক উদ্ধার করে নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। তবে শুধু বনাঞ্চলের ভেতর নয়, পাশের লোকালয়েও পাচারকারীরা সক্রিয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবস্থা না নিলে অবৈধ কার্যক্রম ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসে নতুন কৌশল নিয়েছে অসাধু চক্র। মাছ ও জলজ প্রাণী শিকারের পাশাপাশি এখন শুরু হয়েছে নির্বিচারে শামুক নিধন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ব্যবসায়ী অর্থের লোভে বনসংলগ্ন এলাকার মানুষকে কাজে লাগিয়ে ট্রলার ও নৌকায় ভরে শামুক সংগ্রহ করছেন। পরে এসব শামুক পাচারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, শামুক নদী-খালের পানির গুণগত মান বজায় রাখা ও মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর খাদ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু নির্বিচারে নিধনের কারণে নদীর তলদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। এতে শুধু সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য নয়, জেলেদের ভবিষ্যৎ জীবিকাও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
নীলডুমুর এলাকার জেলে মোজাম্মেল হক বলেন, “আমরা জেলেরা নদী রক্ষায় তিন মাস মাছ শিকার বন্ধ রাখি। অথচ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে শামুক নিধন করে আমাদের পরিশ্রমকে ব্যর্থ করে দিচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, চিংড়ি আহরণে বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহারের কারণে নদী-খালের ছোট মাছ, চিংড়ির রেণু, কাঁকড়া ও অন্যান্য প্রাণী মারা যাচ্ছে। ফলে দিন দিন জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চল।
এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, বনবিভাগের সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। অবৈধ সম্পদ আহরণে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবনের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান আরো বলেন, “অবৈধভাবে শামুক নিধন রোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা শামুক উদ্ধার করে নদীতে অবমুক্তও করেছি। টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো অসাধু চক্র সুন্দরবন থেকে সম্পদ আহরণ বা পাচার করতে না পারে।”
সচেতন মহল বলছেন, দ্রুত কঠোর আইন প্রয়োগ ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ভয়াবহ সংকটে পড়বে।সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে সুন্দরবন থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার টন শামুক ঝিনুক। পাচার হয়ে দেশের চাহিদা মিটে বিদেশেও পাঠানো হচ্ছে। শামুক-ঝিনুক সংগ্রহের এ ধারা শুধু বনসম্পদ নয়, দেশের সামগ্রিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও গুরুতর হুমকির সৃষ্টি করছে। সংঘবদ্ধের সাথে যারা জড়িত তারা রাতা রাতে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছে।
উপকূলের অধিকাংশ মানুষই জানে না শামুক ঝিনুক পরিবেশের জন্য খুবই উপকারী একটি প্রাণী।সুন্দরবনে ২৬০ প্রজাতির প্রাণী আছে তার মধ্যে শামুক ঝিনুক অন্যতম। প্রতিনিয়ত অবৈধ ভাবে আহরণের কারণে অনেক প্রাণী সুন্দরবন থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। শামুক ঝিনুক সুন্দরবনের নদীর তলদেশের মাটির ভারসাম্য রক্ষায় সহযোগিতা করে।
পরিবেশবিদ অধ্যক্ষ আশেক এলাহী জানান, শামুক ঝিনুক পরিবেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাণী। শামুকের চলাফেরার কারণে মাটির গুণগত মান বজায় থাকে। মাটির উর্বরতা ঠিক থাকে।পাশাপাশি সুন্দরবনের নদীতে বসবাসরত মাছের খাদ্য তৈরি কাজে সহায়তা করে। সুন্দরবনে পটাশিয়ামের যোগান দিয়ে থাকে।
সুন্দরবনের ভিতরে যা কিছু আছে সব কিছু নিয়েই সুন্দরবন সুতরাং সুন্দরবনকে রক্ষিত রাখতে কোন প্রাণী ধরা ঠিক না। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। লেখক গবেষক গৌরাঙ্গ নন্দী বলেন শামুক ঝিনুক এরা পানির গুণগত মান বজায় রাখতে সহায়ক এবং নদীর তলদেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।কিন্তু ব্যাপক হারে এদের নিধন নদী জীববৈচিত্র্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নদী, খাল ও প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে শামুক ও ঝিনুক কুড়িয়ে নেওয়া বা পরিবহন করা নিষিদ্ধ।
এসব প্রাণী পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) ও জলজ সম্পদ সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ এর আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরার রেন্জ পচ্শিম সুন্দরবনে পশুরতলা খাল, কৈখালীর মাদার নদী ও জয়াখালীর খাল, বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে অবৈধ শামুক ঝিনক।
সুন্দরবনে শামুক ঝিনুক অবাধে বাঁচার হচ্ছে বিষয়টি নিয়ে এই প্রতিবেদকের কথা হয় প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেন চৌধুরীর সাথে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন সুন্দরবনে শামুক ঝিনুক,পাচারের বিষয়টি আমাদের কাছে অহরহ খবর আসছে আমরা ইতিমধ্য সুন্দরবনের সকল স্টেশন ও টহল ফাড়িতে নিদেসনা দিয়েছি পাচার কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করতে। তিনি আরো বলেন তাছাড়া সুন্দরবনের জীববৈচিত্রসহ সকল সম্পদ পাচারের অপরাধের জন্য নতুন আইন তৈরি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। জে আইন জামিন যোগ্য নহে সেই আইনেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য ইতিমধ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পরিপত্র পাঠানো হয়েছে।