
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : কমছে না শীতের দাপট। দেশের ১৯ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। শীতের এই তীব্রতা আরও কয়েক দিন থাকবে।
রোববারও (১১ জানুয়ারি) তা অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তরাঞ্চল থেকে উপকূলীয় এলাকা সবখানেই কনকনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশা। এতে অনেকটা থমকে গেছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। এদিকে দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত একটি নিম্নচাপ পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তর শ্রীলঙ্কা উপকূল অতিক্রম করছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার (১০ জানুয়ারি) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনি থেকে বুধবার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা এবং সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। রোববার সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। সোমবার সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। মঙ্গল ও বুধবার দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, “নিম্নচাপটি আগে কিছুটা শক্তিশালী অবস্থায় গভীর নিম্নচাপ আকারে দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছিল। শনিবার সকালে তা পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে নিম্নচাপ আকারে উত্তরপূর্ব শ্রীলঙ্কা উপকূলবর্তী দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান নেয়। সন্ধ্যায় এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে এখন উত্তর শ্রীলঙ্কা উপকূল অতিক্রম করছে। নিম্নচাপটির প্রভাবে দেশের আকাশ কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে, এ ছাড়া আর কোনো প্রভাব আমাদের ওপর পড়বে না।”
তিনি বলেন, “দেশের বেশিরভাগ স্থানে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য কিছুটা বেড়েছে। ফলে শীতের অনুভূতি আগের চেয়ে কিছুটা কম অনুভূত হচ্ছে। যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহটি রোববারও বিরাজ করবে।”
আর দেশের শীতলতম মাস জানুয়ারির পুরোটা জুড়েই শীত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন এ আবহাওয়াবিদ।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “রোববার দেশের তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। তবে সোমবার থেকে তাপমাত্রা আবার কমতে শুরু করবে।”
তিনি বলেন, “আগামী দুদিন তাপমাত্রা বাড়লেও শৈত্যপ্রবাহ কমে যাবে না একেবারে। তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করতে পারে আগামী ২০ তারিখের পর থেকে।”
বড় এলাকাজুড়ে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ; ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে তাকে মাঝারি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে আখ্যায়িত করেন আবহাওয়াবিদরা।
রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে বাড়ছে কাঁপুনি। ঠান্ডা, ঘন কুয়াশার কারণে ব্যাহত হচ্ছে সড়কপথ, রেলপথ, নৌপথে যানচলাচল। এ সময় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন ছিন্নমূল, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। বিশেষ করে কষ্ট বেড়েছে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর। হাসপাতালে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। শীতের তীব্রতা খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে আরও ভোগান্তি বাড়বে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার দাপটে কাঁপছে। জেলাজুড়ে ছয় দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ প্রবাহিত হচ্ছে।
নীলফামারীর জলঢাকায় বোরো বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতি: জলঢাকা উপজেলায় কয়েকদিন ধরে চলমান তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতি দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বীজতলার চারাগুলো হলদে হয়ে যাওয়া, বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া এবং কোথাও কোথাও চারার দুর্বল হয়ে পড়ার চিত্র দেখা গেছে।
উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের কৃষক কাজি আখেরুজ্জামান অন্তু বলেন, ‘বীজতলা পলিথিন আর খড় দিয়ে ঢেকে রাখছি, তবুও তেমন কাজে আসছে না। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’
নেকবক্ত ইউনিয়নের কুঠিপাড়ার কৃষক আজহার জানান, কয়েক দিনের তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় তার বোরো ধানের বীজতলার চারা হলদে হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘বীজতলাই যদি ঠিক না থাকে, তাহলে পরে জমিতে ধান রোপণ করাও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এখন শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে কৃষি অফিসের পরামর্শ মেনে চলছি।’
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জলঢাকা উপজেলায় প্রায় ৮৪২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।
উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম গণমাধ্যমকে জানান , তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরি’ দেখা দিয়েছে। তবে রোদ উঠলে ক্ষতির আশঙ্কা অনেকটাই কমে আসবে। তিনি আরও বলেন, বীজতলার সুরক্ষায় বিকেলে হালকা সেচ দেওয়া, সকালে জমির পানি বের করে দেওয়া, কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা এবং প্রয়োজন হলে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

