
কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে কিডনি নিয়ে। ক্রনিক কিডনি ডিজিজ এখন সবচেয়ে বেশি চিন্তার কারণ। বয়স্কদের পাশাপাশি কমবয়সীরাও আক্রান্ত হচ্ছে কিডনিজনিত নানা রোগে। কিডনিতে পাথর জমার সমস্যা তো আছেই, সেসঙ্গে কিডনিতে সংক্রমণ, পলিসিস্টিক কিডনির অসুখ, ফ্যাটি কিডনির সমস্যাও দেখা যাচ্ছে। তাই আগে থেকে সতর্ক থাকার বিকল্প নেই।
ডায়াবেটিস বা হার্টের রোগ যাদের আছে কিংবা যারা ঘন ঘন মূত্রনালির সংক্রমণে ভোগেন তারা গতানুগতিক কিছু পরীক্ষার পাশাপাশি একটি পরীক্ষা অবশ্যই
কোন পরীক্ষা করানো সবচেয়ে বেশি জরুরি?
কিডনির স্বাস্থ্য কেমন তা জানতে কিডনি ফাংশন টেস্টই বেশি করানো হয়। এই পরীক্ষাটির নামই বেশি পরিচিত। এর মাধ্যমে জানা যায় রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কতটুকু। ক্রিয়েটিনিন হলো বিপাকক্রিয়া বা পেশির ক্ষয়ের কারণে তৈরি হওয়া একরকম বর্জ্য যার মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কিডনি তা ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়।
তাই যদি ধরা পড়ে, রক্তে এর মাত্রা বাড়ছে তাহলে বুঝতে হবে কিডনি ক্রমশ অকেজো হতে শুরু করেছে। কিন্তু কিডনি ফাংশন টেস্টের সীমাবদ্ধতা হলো, এটি কেবল ক্রিয়েটিনিনের মাত্রাই নির্ধারণ করতে পারে। আর ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেশি দেখানোর অর্থই হলো, কিডনি ইতিমধ্যেই বিকল হতে শুরু করে দিয়েছে।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের রক্তে প্রতি ডেসিলিটারে ক্রিয়েটিনিনের স্বাভাবিক পরিমাণ ০.৭ থেকে ১.৩ মিলিগ্রাম এবং নারীদের ক্ষেত্রে ০.৬ থেকে ১.১ মিলিগ্রাম। এর বেশি হওয়া মানেই তা কিডনির ক্রনিক রোগের লক্ষণ।
কোন পরীক্ষাটি অবশ্যই করানো উচিত?
এর চেয়েও বেশি কার্যকরী পরীক্ষাটি হলো ‘ইউরিন এসিআর’ বা ‘ইউরিন অ্যালবুমিন-ক্রিয়েটিনিন রেশিও’। এটি প্রস্রাবের একরকম পরীক্ষা যা শুধু ক্রিয়েটিনিন নয়, কিডনি থেকে নির্গত প্রোটিন অ্যালবুমিনের মাত্রাও নির্ধারণ করে। রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা তখনই বিপদসীমা পেরিয়ে যায়, যখন কিডনির প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়।
তবে অ্যালবুমিন নির্গত হয় অনেক আগেই। কিডনির ছাঁকনি যখন সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখনই অ্যালবুমিন নির্গত হতে শুরু করে। এটি একধরনের প্রোটিন যার পরিমাণ দেখে বোঝা যায়, কিডনির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে।
কীভাবে পরীক্ষাটি করা হয়?
রোগীর প্রস্রাবের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে তাতে অ্যালবুমিন ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রার অনুপাত দেখা হয়। যদি সেটি ৩০ এর কম হয়, তাহলে বুঝতে হবে কিডনি সুস্থ আছে। যদি ৩০ থেকে ৩০০-র মধ্যে হয়, তাহলে বুঝতে হবে কিডনির রোগের প্রাথমিক ধাপ চলছে। এই অবস্থাকে বলা হয় মাইক্রোঅ্যালবুমিনুরিয়া। দ্রুত ব্যবস্থা নিলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠা যাবে।
কিন্তু যদি মাত্রা ৩০০-এর বেশি হয়, তাহলে বুঝতে হবে কিডনির বড়সড় ক্ষতি হতে পারে। দেরি না করেই চিকিৎসা শুরু করে দিতে হবে।