মোঃ এজাজ আলী : ট্রেন চলেছে, ট্রেন চলেছে, ট্রেনের বাড়ি কই? শামসুর রহমানের কবিতার মতো ট্রেনের যেমন শেষ কোনো স্টেশন নেই তেমনি স্টেশনে কাজ করা কুলিদের জীবনেও নেই শেষ কোনো গন্তব্য। বছরের পর বছর অন্যের লাগেজ টেনেই চলছে তাদের জীবন। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এসে রেলখাতে হয়েছে বিবিধ উন্নতি। উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে রেল স্টেশনও। কিন্তু ভাগ্যের তেমন পরিবর্তন হয়নি অন্যের বোঝা টেনে জীবিকা নির্বাহ করা এ মানুষগুলোর। কুলিদের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে গান, কবিতা নাটকসহ কতকিছু। ’’৮২ সালে বলিউড কিংবদন্তী অমিতাভ বচ্চনের কুলিদের নিয়ে নির্মিত ছবিটি সাড়া জাগিয়েছিল পুরো উপমহাদেশে। এরপর বিভিন্ন ভাষায় এদের জীবনী নিয়ে সেলুলয়ডের ফিতায় নির্মিত হয়েছে অনেক রঙিন ছবি। কিন্তু জীবনটা সাদা কালোই রয়ে রয়ে গেল এসব মানুষের। এর মধ্যে অনেকেই হেরেছেন জীবনযুদ্ধে। অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়ে চলে গেছেন অন্য পেশায়। খুলনা আধুনিক রেলওয়ে স্টেশনের কর্মরত কুলিদের জীবনও একই সুতোয় গাঁথা। এক সময় পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনে দুই শতাধিক কুলি কাজ করলেও এখন সংখ্যাটা নেমে এসেছে ৫০ থেকে ৬০-এ। কুলি সর্দার মোহাম্মদ হানিফ বলেন, সে সময় আয় অনেক কম হলেও সংসার চালাতে কষ্ট হতো না। এখন স্টেশনে পড়ে থেকে সারা দিন কাজ করে গড়ে ৫শ’’ টাকা আয় করতে পারে কুলিরা। কিন্তু পরিবার নিয়ে বস্তিতে থেকেও এ টাকায় এখন আর সংসার চলে না। তার উপর আছে বিপদের ঝক্কি। কুলির কাজ করতে গিয়ে আহত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন অনেকেই। এদের একজন ৩৭ বছরের নুরুন্নবী। রেলের বগি থেকে বড় বোঝা নামাতে গিয়ে কোমরে আঘাত পান তিনি। এরপর গত দুই বছর ধরে আর বোঝা টানতে পারেন না। সতীর্থ কুলিদের সাহায্যে এখন দিন চলে তার। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত অবধি যাদের জীবনযুদ্ধ, তাদের চাওয়া পাওয়ার হিসাব করার সময় নেই। দুঃখ তাদের একটাই স্টেশনে লাগেজ চুরি বা অন্য কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা হলে দোষটা প্রথমে আসে এ কুলিদের উপরে। কুলি মোঃ আব্দুল মান্নান দৈনিক জন্মভূমিকে বলেন, স্টেশনে ভবঘুরে, বহিরাগত ও টোকাইদের কারনে তাদের এ বদনামের বোঝা টানতে হয়। যাত্রীরা একটু সচেতন হলে এসব বিড়ম্বনা এড়ানো সম্ভব। নম্বরধারী নির্দিষ্ট পোশাক পরিহিত কুলিদের কাছে লাগেজ দিয়ে নম্বরটা মনে রাখলেই হবে। এরপর হারিয়ে গেলেও যাত্রীকে মালামাল বুঝিয়ে দেওয়ার সব দায়িত্ব আমাদের। কিন্তু ভবঘুরে নেশাখোরদের হাতে আপনার বোঝা তুলে দিলে তার নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারি না। তবুও বিভিন্ন সময়ে আমাদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত