
স্মার্টফোনের এই যুগে আমরা অনেকেই নির্দিষ্ট কোনো ব্র্যান্ড বা অপারেটিং সিস্টেমের প্রতি অনুগত। কিন্তু আপনি বর্তমানে যে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছেন, সেটিই কি আপনার জন্য সেরা? হয়তো অন্য প্রান্তের (অ্যানড্রয়েড বা আইওএস) অভিজ্ঞতা আপনার জন্য আরও বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের হতে পারে।
অনেকেই অপারেটিং সিস্টেম পরিবর্তন করতে গিয়ে তথ্য হারানোর ভয়ে পিছিয়ে আসেন। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষক ডেভিড নিল্ড জানাচ্ছেন, এটি ভাবনার চেয়েও সহজ। কেবল পরিবর্তনের আগে কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে গবেষণা এবং প্রস্তুতি প্রয়োজন।
১. প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোর তালিকা পরখ করুন
আপনি যদি গুগলের সেবার ওপর নির্ভরশীল হন (যেমন: জিমেইল, গুগল ম্যাপস, ড্রাইভ বা ফটোস), তবে আইফোন ও অ্যানড্রয়েডের মধ্যে সুইচ করা আপনার জন্য একেবারেই সহজ। কারণ এই অ্যাপগুলো উভয় প্ল্যাটফর্মেই সমানভাবে কার্যকর।
তবে বিপত্তি বাধে যদি আপনি অ্যাপলের নিজস্ব অ্যাপে (যেমন: অ্যাপল মেইল বা নোটস) অভ্যস্ত হন। অ্যাপল মিউজিক বা টিভি অ্যান্ড্রয়েডে পাওয়া গেলেও অনেক অ্যাপই সেখানে পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে আপনাকে তথ্যগুলো ম্যানুয়ালি ট্রান্সফার করে নিতে হবে। তবে থার্ড পার্টি অ্যাপ যেমন—স্পটিফাই, নেটফ্লিক্স বা স্ন্যাপচ্যাট উভয় প্ল্যাটফর্মেই কোনো ঝামেলা ছাড়াই কাজ করে।
২. মেসেজিং ডেটা ও চ্যাট হিস্ট্রি
ফোন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মেসেজ। হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার বা সিগন্যালের মতো অ্যাপগুলো এখন উভয় সিস্টেমের মধ্যে চ্যাট ট্রান্সফারের সুবিধা দেয়। তবে আইফোন থেকে অ্যানড্রয়েডে গেলে আপনি ‘আইমেসেজ’ (iMessage) আর ব্যবহার করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে আপনার সব এসএমএস এবং চ্যাট ব্যাকআপ নিতে অ্যাপল বা গুগলের অফিসিয়াল টুল ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
৩. ফাইল ও ক্লাউড স্টোরেজ
ক্লাউড স্টোরেজের যুগে এখন ডেটা মুভ করা অনেক সহজ। আপনি যদি ড্রপবক্স বা ওয়ানড্রাইভ ব্যবহার করেন, তবে শুধু লগইন করলেই সব ফাইল ফিরে পাবেন। কিন্তু যারা শুধু আইক্লাউড (iCloud) ব্যবহার করেন, তাদের জন্য অ্যান্ড্রয়েডে যাওয়া কিছুটা সময়সাপেক্ষ হতে পারে। এক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহার করে আইক্লাউড থেকে ফাইল ডাউনলোড করে গুগল ড্রাইভে আপলোড করে নিতে হবে। গুগল এবং অ্যাপল বর্তমানে একে অপরের প্ল্যাটফর্মে ছবি ও ভিডিও স্থানান্তরের জন্য সরাসরি সেবা চালু করেছে।
৪. অফিসিয়াল সুইচিং টুল ব্যবহার করুন
অ্যানড্রয়েড থেকে আইফোনে আসার জন্য অ্যাপলের রয়েছে ‘Move to iOS’ অ্যাপ। একইভাবে আইফোন থেকে অ্যানড্রয়েডে যাওয়ার জন্য গুগলের আছে ‘Android Switch’। এই অ্যাপগুলো কন্টাক্ট, ফটো, ভিডিও এমনকি আইমেসেজের কনভারসেশন পর্যন্ত তারবিহীনভাবে বা কেবলের মাধ্যমে ট্রান্সফার করতে সক্ষম।