
মোংলা প্রতিনিধি : বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) দুই উপজেলা নিয়ে এ আসনটি গঠিত। স্বাধীনতার পর ওই আসনটি ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির কোনো প্রার্থী এ আসনে জয়লাভ করতে পারতেন না! কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে স্বাধীনতার ৩৫ বছর পর বিএনপির প্রার্থী বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এ জয়কে ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী।
আসনটিতে ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শুধু একবার ১৯৯৬ সালে জয়ী হয়েছিল বিএনপি। এছাড়া দীর্ঘ সময় এই আসনে আধিপত্য ছিল আওয়ামী লীগের।
১৯৯১,১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বাগেরহাট-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তালুকদার আব্দুল খালেক। ১৯৯৬ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও বাগেরহাট-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তালুকদার আব্দুল খালেক।
জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ১৯৩ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী এর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ পেয়েছেন ৮২ হাজার ৮৭৭ ভোট। ১৯ হাজার ৩১৬ ভোট বেশি পেয়ে বিএনপির এ প্রার্থী বিজয় লাভ করেন।
এ আসনে আওয়ামী লীগের ধারাবাহিক বিজয়ের নেপথ্যের রহস্য ছিল সংখ্যালঘু ও বন্দর শ্রমিকদের ভোটব্যাংক। কিন্তু এবারের নির্বাচনে বিএনপির এ প্রার্থী ও তার দলের নেতাকর্মীরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমে বিজয় লাভ করতে।
দীর্ঘ বছরের বিএনপির পুরাতন এ প্রার্থী শ্রমিক ও সংখ্যলঘু হিন্দু ভোটাদের মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের প্রার্থী হয়ে ওঠেন। ফলে ভোটব্যাংক বলে খ্যাত তাদের ভোট পান তিনি। এ ছাড়া গ্রাম-অঞ্চলের মুসলিম ভোটারদের মধ্যেও তিনি সমানভাবে জনপ্রিয়তার নিরিখে একচেটিয়া ভোট পান। দানবীর লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম এমন জনপ্রিয়তা একদিনে গড়ে ওঠেনি।
যখন তিনি এ আসনে নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করেন তখন তার শক্ত প্রতিপক্ষ ছিলেন আওয়ামী লীগের এমপি সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী তালুকদার আব্দুল খালেক। এরপর থেকে শুরু হয় লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম এর ওপর মামলা, হামলা ও নির্যাতন।
মানবিক গুণাবলি ও জনসেবামুখী কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষের মনে রেখাপাত করে তিনি তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এলাকায়। ২০০৯ সাল থেকে অদ্যাবধি ছয় সহস্রাধিক রোগীকে তিনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা দিয়েছেন। বিশেষ করে মোংলার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মোস্তাফিজ (২৯) ও শিশু রোকাইয়া আক্তার (৬)-এর চোখের সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।
দুই উপজেলায় মোট ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে এ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৪ জন। এ আসনে মোট ৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে একজন বিএনপির বিদ্রোহী (বহিষ্কৃত) (স্বতন্ত্র) এম এ এইচ সেলিম শোচনীয়ভাবে ধরাশায়ী হন এবারের নির্বাচনে। দুই উপজেলায় মোট ভোট পড়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৫১টি।
ভোটাররা জানান, প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, বিএনপির বিশাল কর্মীবাহিনী বিরামহীনভাবে কাজ করা, বিএনপি ঘোষিত নাগরিক সুবিধা এসব কারণে তারা এবার ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দেন।
বিজয়ী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কারণ আপামর মানুষ আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। মোংলা-রামপালের মানুষ আমার নেতা তারেক রহমানের কর্মপরিকল্পনার ওপরও আস্থা রেখেছেন। এসব পরিকল্পনা আগামীতে বাস্তবায়ন করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। আমি এই জনপদের মানুষের কল্যাণে কাজ করবো, ইনশাআল্লাহ।

