
সিরাজুল ইসলাম, শ্যামনগর : সাতক্ষীরার সংসদীয় ৪ আসন শ্যামনগরে আওয়ামী লীগের ভোটে জমায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। অভিমত বিশেষজ্ঞদের। ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরে ভোট গণনার ফলাফল যখন বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আসছে তখন দেখা গেছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলো থেকে ধানের শীষের প্রার্থী ডক্টর মনিরুজ্জামান এর ধানের শীষের পাল্লা ভারী। আর মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায় গাজী নজরুল ইসলাম তথা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পাল্লা ভারী। বিশেষজ্ঞদের অভিমত সাতক্ষীরা শ্যামনগর আসনে ৪০শতাংশ আওয়ামী লীগের ভোট ভোটাররা প্রদান করেছেন ,এর মধ্যেও ২০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী ডক্টর মনিরুজ্জামান আর ২০শতাংশ ভোট পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম। শ্যামনগর আসনে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে সাতক্ষীরা ৪আসনে জামায়াতের শক্ত অবস্থান এবং ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে গাজী নজরুল ইসলাম বিজয় হবেন। বিশেষজ্ঞরা ধরে রেখেছেন ইতিপূর্বে শ্যামনগরে বিএনপি’র মাত্র ১৫ হাজার ভোট ছিল সে কারণে ডক্টর মনিরুজ্জামান আর কতই বা বেশি ভোট পাবে তাই বিশেষজ্ঞরা অনুভব করছিলেন গাজী নজরুল একটি নজিরবিহীন ভোটের ব্যবধানে এই আসনে জয় লাভ করবেন। কিন্তু ভোটের পরে দেখা গেছে সাতক্ষীরায় আর তিনটি আসনে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীরা ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন সেই তুলনায় শ্যামনগরে গাজী নজরুল ইসলামের বিজয়ের রেজাল্ট টা খুবই কম। ডক্টর মনিরুজ্জামান গ্রামগঞ্জে মানুষের বাড়ি বাড়ি মা বোনদের ধারে পাশে হেঁটে হেঁটে তাদের হৃদয়ে এমনভাবে স্থান করে নিয়েছিল যে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র ২১ হাজার ৪৮৭ভোটে পরাজিত হয়েছেন গাজী,নজরুল ইসলামের কাছে। গাজী নজরুল ইসলাম এই আসনে ভোট পেয়েছেন এক লক্ষ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট আর ড, মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৮৫হাজার ৪২৬ভোট ।সে কারণে বলা যায় ডক্টর মনিরুজ্জামান রেকর্ড পরিমান ভোট পেয়েছেন এবং শ্যামনগরে আর কোন সময় যদি ডক্টর মনিরুজ্জামান নির্বাচন নাই করেন তবুও আজীবন মানুষ বলতে পারবে শ্যামনগরে ৮৫ হাজার ৪২৬ ভোট রয়েছে বিএনপির। এই সুনাম টুকু বিজয় না হতে পারলেও ডক্টর মনিরুজ্জামান রেখে গেলেন আগামী প্রজন্মের জন্য এই স্মৃতি। এদিকে গাজী নজরুল ইসলাম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট একটু কম পেলেও আওয়ামী লীগের মুসলিম ভোটাররা একটু বেশি ভোট দিয়েছেন দাড়িপাল্লায় সে কারণে গাজী নজরুল আওয়ামী লীগের যে ভোট পোল হয়েছে তার মধ্যে ২০ শতাংশ ভোট দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে দিয়েছেন সেই ক্ষেত্রে দেখা যায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার আওয়ামী লীগের ভোট কাজী নজরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন। বারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা৪ আসন শ্যামনগর এই আসনে বারোটি ইউনিয়ন প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে আনুমানিক হারে ২৫০০ থেকে ৩০০০ করে ভোট দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এসেছে। এ কারণে বিশেষজ্ঞদের অভিমত সাতক্ষীরা ৪ আসনে গাজী নজরুল এবার অনাহাসে আওয়ামী লীগের ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছে। এখানে তিনি ও তার দলের নীতিনির্ধারকদের অস্বীকার করার কোন উপায় নেই কারণ ডক্টর মনিরুজ্জামান এর সাথে বেশ কিছু বিএনপি নেতারা ছিলেন তারা এলাকার মানুষের কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয় সে কারণে রাগেও খোপে এই ভোট গুলো ধানের শীষ থেকে চলে গেছেন দাঁড়িপান্নায় তাই গাজী নজরুল ইসলামের কপাল খুলে গেল এবারের নির্বাচনে। তবে তাদের দলের ভিতরে কোন অভ্যন্তরীণ কোনদল ছিল না এটা জামায়াতে ইসলামের নীতি নির্ধারণেও রয়েছে তাদের দলে কখনো অভ্যন্তরীন কোনদলথাকে না। তবে এদিকে ডক্টর মনিরুজ্জামান এর অনেক সমস্যা ছিল যেমন দলের ভিতরে আরো কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তারা যে সঠিকভাবে তার পক্ষে শেষ পর্যন্ত কাজ করেছে কিনা সেটিও বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে দিচ্ছে এখন। তাছাড়া তার সফর সঙ্গি হিসেবে কয়েকজন বিতর্কিত এবং চিহ্নিত বিএনপি’র নেতার কারণে আজ ডক্টর মনিরুজ্জামান এর ভরাডুবি তা না হলে ডক্টর মনিরুজ্জামান এর সাতক্ষীরা৪ আসনে বিজয় নিশ্চিত ছিল বলে নির্বাচনের পরে ফলাফল অনুযায়ী বিশেষজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। বিশেষজ্ঞরা আরো বলতে চায় অল্প দিনের ভিতরে শ্যামনগরের মানুষের মধ্য ডক্টর মনিরুজ্জামান যে এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সেটা নির্বাচনের পরে বোঝা যাচ্ছে। তবে তার দলের কোন কোন নেতার এবং কর্মীর কারণে তার এই ভরাডুবি হয়েছে তিনি নিজেই সব জানেন কিন্তু মুখ খুলতে পারেনি আর এখনো তাড়াতাড়ি মুখ খুলবেন বলে মনে হচ্ছে না। এছাড়া ৫আগস্ট এর পরে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় সবচেয়ে ক্ষয়ক্ষতি করেছে বিএনপি নেতা কর্মীরা যার চিত্র এখনো বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে আসলে চোখে পড়ে। এজন্য ওনির্বাচনে ডক্টর মনিরুজ্জামান এর ধানের শীষের প্রতি একটু বিরূপ প্রভাব ফেলেছে সাধারন মানুষ। পাঁচই আগস্ট এর পরে অথবা ৫আগস্টের দিনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী অথবা সাধারণ মানুষ এবং সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ সমস্ত অভিযোগগুলো ডক্টর মনিরুজ্জামান এর কাছে সব রয়েছে কিন্তু তিনি নির্বাচনে কোন কর্মীকে অপকর্মের দায়ে পিছিয়ে না দিয়ে সাথে জড়িয়ে রেখে সর্বশেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছে বিজয়ী হওয়ার জন্য কিন্তু রাজ টিকিট নেই তার কপালে। সকলের প্রত্যাশা আগামী নির্বাচন পর্যন্ত ডক্টর মনিরুজ্জামানকে শ্যামনগরের মানুষের পাশে থেকে সুখ-দুঃখ দেখভাল করার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে খোঁজখবর রাখতে হবে সাধারণ মানুষের এবং দলের এই সমস্ত বিতর্কিত ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলার সময় এখন এসেছে ডক্টর মনিরুজ্জামানের। এদিকে জামাতে ইসলামের প্রার্থী সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের স্থানীয় একটি অংশ ভিতরে ভিতরে কাজ করেছে। এই সমস্ত নেতারা বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে থেকে সাধারণ ভোটারদের ফোন দিয়ে বলেছেন নেত্রীর নির্দেশ আছে ভোট দিতে যাওয়া যাবেনা। যদি ভোট দিতে কেউ ইচ্ছুক থাকেন তাহলে শ্যামনগরে নিরাপদে থাকার জন্য মন্দের ভালো গাজী নজরুল ইসলামের দাড়িপাল্লায় ভোট দিবেন। এই সমস্ত নেতাদের কথার উপরে বিশ্বাস করে আওয়ামী লীগের ২০% ভোট গাজী নজরুল ইসলামের দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে প্রদান করে তাকে নির্বাচিত করেছেন। বিশেষজ্ঞদের অভিমত এর শুধু একটাই কারণ ঘুরেফিরে মনের মধ্যে জাগিয়ে দিচ্ছে বিএনপির গুটিকয়েক নেতার উগ্রপন্থী ব্যবহারের কারণে। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের অভিমতের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদক এই প্রতিবেদনটি লিখেছেন এতে যদি ডক্টর মনিরুজ্জামান এবং গাজী নজরুল ইসলাম ভুল প্রতিবেদন মনে করেন তাহলে তারা গণতন্ত্রকে অবিশ্বাস করবে এবং শ্যামনগরের মানুষকে অবিশ্বাস করবে।

