
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ এবং আন্দোলনের আইকন আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আলোচিত এই মামলায় ৩০ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদানের মাধ্যমে বিচারের প্রথম ধাপ সম্পন্ন হলো।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন।
কার কী সাজা
রায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনকে ১০ বছর, আটজনকে ৫ বছর এবং ১১ জনকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া, একজনের হাজতবাসকে সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন— রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন— সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।
১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন— বেরোবি’র সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, বেরোবি’র গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং বেরোবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পোমেল বড়ুয়া। সাজাপ্রাপ্ত এই পাঁচজনই বর্তমানে পলাতক।
পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আট আসামি হলেন— আরএমপির সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, বেরোবি’র সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, ছাত্রলীগ নেতা এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ, ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বেরোবির অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সারোয়ার হোসেন ওরফে চন্দন।
তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত ১১ আসামি হলেন— বেরোবি’র সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান তুফান, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, বেরোবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, সহ-সভাপতি ফজলে রাব্বী ওরফে গ্লোরিয়াস ফজলে রাব্বী ও আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ ওরফে আরিফ ও ধনঞ্জয় কুমার ওরফে টগর, দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন, বেরোবি’র কর্মচারী মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, একেএম আমির হোসেন ওরফে আমু এবং নিরাপত্তা প্রহরী নূর আলম মিয়া।
এছাড়া বেরোবি’র প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ ওরফে আপেলের হাজতবাসকে সাজার মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে বলে গণ্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রতিক্রিয়া
রায়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আপাতত আমরা সন্তুষ্ট কারণ, এই মামলায় কাউকেই খালাস দেওয়া হয়নি। তবে, পূর্ণাঙ্গ রায় বিশ্লেষণ করে কোনো আসামির সাজা বৃদ্ধির জন্য আপিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে, শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী ও আবু হোসেন বলেন, আমরা এই রায়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারিনি। বিশেষ করে ছাত্রলীগ সভাপতি পোমেল বড়ুয়ার ১০ বছরের সাজা অত্যন্ত কম হয়েছে। তার ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। আমরা সাজা বৃদ্ধির জন্য আপিল করার চিন্তা করছি।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত