
শাহরিয়ার কবির, পাইকগাছা : দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারহীনতার কারণে ধ্বংসের মুখে পড়ে থাকা বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের স্মৃতিবিজড়িত জন্মভিটা অবশেষে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকায় গত ৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত “সংস্কারের অভাবে ক্ষয়ে যাচ্ছে বিজ্ঞানী পিসি রায়ের স্মৃতি বিজড়িত বাতিঘর” শিরোনামের সংবাদসহ ধারাবাহিক প্রতিবেদনের পর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নজরে আসলে অবশেষে শুরু হয় বহুল প্রত্যাশিত সংস্কার কাজ।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী রাড়ুলী গ্রামে অবস্থিত প্রায় দুই শতাব্দী প্রাচীন এই পৈতৃক ভিটাটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। ঝুঁকিপূর্ণ ছাদ, ফাটলধরা দেয়াল, খসে পড়া পলেস্তরা ও অযত্নে ইতিহাসের এক অমূল্য স্মৃতিচিহ্ন ধীরে ধীরে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে দেশ-বিদেশের দর্শনার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহল হতাশা প্রকাশ করে আসছিলেন।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খুলনা আঞ্চলিক প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাড়িটি সংস্কারের জন্য ৩৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডোমাইন ইন্টারপ্রাইজ বর্তমানে কাজ বাস্তবায়ন করছে। প্রথম পর্যায়ে বাড়ির উত্তর পাশের দোতলা ভবনের পাঁচটি কক্ষ, দুটি বারান্দা, বাইরের পলেস্তরা ও রংয়ের কাজ করা হচ্ছে। মূল নকশা ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই সংস্কার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
খুলনা আঞ্চলিক প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম জানান, রসায়ন শাস্ত্রের জনক আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জন্মভিটা সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্দর মহল, মন্দির, বাউন্ডারি ওয়াল ও একটি ডিসপ্লে রুম নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে পরবর্তী ধাপের কাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, এই সংস্কার উদ্যোগ শুধু একটি স্থাপনা রক্ষার বিষয় নয়; এটি বাংলার গৌরব, বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক। সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে জন্মভিটাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন কেন্দ্রে রূপ নেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত