
ডেস্ক রিপোর্ট : ইরানের ভয়াবহ হামলার আশঙ্কায় গ্রিসে পালিয়ে গেল দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের ব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় বিমান ‘উইং অব জায়ন’।
বিমানটি ইসরায়েল ছেড়ে গ্রিসের ক্রেটেতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিমানটি ইসরায়েলের নেভাতিম বিমানঘাঁটি থেকে উড়াল দেয়।
এরআগে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ ও দু’বারের হামলা পাল্টা হামলার সময় বিমানটিকে সরিয়ে নিয়েছিল ইসরায়েল। এটি সাধারণত নেভাতিম বিমানঘাঁটিতে থাকে। যুদ্ধের সময় এ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল ইরান।
বিমানটি যখন গ্রিসের দিকে যাচ্ছিল তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে বলা হচ্ছিল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা পাল্টা হামলার কারণে এটি ইসরায়েল ছাড়ছে। কারণ এর আগে তিনবার এটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সংস্কারের জন্য বিমানটি গ্রিসে যায়।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমন নিয়ে ইরানে হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত কয়েকদিনে তার হুমকির সুর আরও তীব্র হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ওপর হামলা করে তাহলে তারাও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাবে।
এমন পরিস্থতিতে কাতারের দোহায় অবস্থিত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে নিজেদের কিছু সেনাকে সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে এমন শঙ্কায় উচ্চসতর্কতা অবলম্বন করছে দখলদার ইসরায়েল। এই হামলার পর ইরান পাল্টা হামলা চালাতে পারে এমনটি বিবেচনায় রেখে সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রেখেছে তারা।
ইসরায়েলি গোয়েন্দারা এখন বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র কি হামলা চালাবে এই জায়গা থেকে সরে এসে তারা অপেক্ষা করছেন কখন ইরানে হামলা হবে। অর্থাৎ তারা মনে করেছেন যে কোনো সময় ইরানে হামলা চালাবে মার্কিন যুদ্ধবিমান।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্বাস যে কোনো হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবহিত করবে। কারণ ইরানের পাল্টা হামলা ঠেকানোর জন্য তাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।
সম্ভাব্য এ হামলার পূর্ব সতর্কতার অংশ হিসেবে ইসরায়েল তাদের সব সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রেখেছে। বিশেষ করে বিমানবাহিনী এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে।
ইসরায়েলি আর্মি রেডিওকে সামরিক করসপনডেন্ট ড্যারন কাদোস বলেছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন- যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় ইরানে হামলা চালাবে।
তিনি বলেছেন, আমাদের পর্যবেক্ষণ হলো যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়। তাহলে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মধ্যপ্রাচ্য এবং ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নির্দেশ দেবেন।
এছাড়া লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেন থেকে হুতি এমনকি সিরিয়া ও ইরাক থেকেও সমন্বিত হামলা চালানো হতে পারে বলে ধারণা করছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত