
ডেস্ক রিপোর্ট : গুলিতে এক মার্কিন নাগরিকের নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস। ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন তারা। বিক্ষোভকারীরা ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের শহর থেকে সরানোর দাবি জানাচ্ছেন। শহরে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এজেন্টদের সরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ।
আমেরিকানদের উদ্দেশ্যে রাজ্যের গভর্নর বলেছেন, ‘এটি একটি সন্ধিক্ষণ’।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, অভিবাসন কর্মকর্তারা মিনিয়াপোলিস না ছেড়ে যাওয়া পর্যন্ত তারা তাদের প্রতিবাদ বন্ধ করবেন না।
স্থানীয় সিটি সেন্টারের সামনে ফেডারেল এজেন্ট বিরোধী বিক্ষোভে বহু মানুষ অংশ নিয়েছে। তারা আইসিই বিরোধী শ্লোগান দিচ্ছিলেন।
এ সময় ওই এলাকার সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহনগুলো হর্ন বাজিয়ে বিক্ষোভের প্রতি তাদের সমর্থন জানায়।
এদিকে সামাজিক মাধ্যম সোশ্যাল ট্রুথ-এ দেওয়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়ালজ এবং মিনিয়াপোলিসের মেয়র জেকব ফ্রে-র উচিত ‘রাজ্যের কারাগারে থাকা সব বন্দিকে দেশ থেকে বহিষ্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া।
শনিবার মিনিয়াপোলিসে গুলিতে মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেট্টি মারা যান। ঘটনার পর স্থানীয়রা ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা বলেন, এজেন্টরা শহর ছাড়া না গেলে তারা প্রতিবাদ বন্ধ করবেন না। স্থানীয় সিটি সেন্টারের সামনে বহু মানুষ যোগ দেন, যানবাহনও হর্ন বাজিয়ে তাদের সমর্থন জানায়।
অ্যালেক্স প্রেট্টির হত্যাকাণ্ডের পর এ ঘটনার আগ মুহূর্তে যা ঘটেছে তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে রাজ্য ও ফেডারেল কর্মকর্তাদের দিক থেকে।
গুলির যেসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সেসব বিষয়ে জানতে চাইলে বর্ডার পেট্রল কমান্ডার গ্রেইগ বভিনো বলেছেন, সত্য উদঘাটনের জন্য তদন্ত হওয়া দরকার। প্রেট্টি ছিলেন পেশায় নার্স এবং আমেরিকার নাগরিক। তাকে একজন ‘ভালো মনের মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তার বাবা মা।
ওদিকে মিনেসোটা ইউনিভার্সিটি এক বিবৃতিতে প্রেট্টির মৃত্যুকে ‘কমিউনিটির জন্য খুবই কষ্টের সময়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই গ্রাজুয়েশন করেছিলেন তিনি।
বিবৃতিতে পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলা হয়, ‘তিনি এমন একটি পেশায় কাজ করতেন, যার মূল ভিত্তিই ছিল যত্ন, সহমর্মিতা আর সেবা।’
ফেডারেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ
অ্যালেক্স প্রেট্টির গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে বর্ডার পেট্রোল কমান্ডার গ্রেইগ বভিনো ও অন্য ফেডারেল কর্মকর্তাদের করা কিছু মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস (ডিওসি)।
বভিনো বলেছেন যে, ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট এজেন্টরা অভিযানের সময় সময় হোসে হুয়র্তা চুমাকে খুঁজছিল, যার বিরুদ্ধে অপরাধের ইতিহাস রয়েছে। তিনি চুমার বিরুদ্ধে ডোমেস্টিক অ্যাসল্ট, ইচ্ছাকৃত শারীরিক আঘাত এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মতো অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন।
এক বিবৃতিতে ডিওসি বলেছেন ফেডারেল কর্মকর্তারা বারবার রাজ্যের কাস্টডি ও অপরাধ রেকর্ড বিষয়ে ভুল তথ্য দিচ্ছে। তারা বলছেন, চুমার সাথে রাজ্যের কাস্টডির কোনো সম্পর্ক ছিলো না।
তারা বলছেন, ফেডারেল কর্মকর্তারা যাকে চিহ্নিত করেছে তিনি কখনোই রাজ্যের কাস্টডি বা হেফাজতে ছিলেন না। আদালতের নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে কোনো দণ্ড নির্দেশনারও রেকর্ড নেই। এছাড়া ওই ব্যক্তি এখন ডিওসির নজরদারিতেও নেই।
এক সংবাদ সম্মেলনে বর্ডার পেট্রল কমান্ডার বভিনো বলেছেন, শনিবারের ঘটনার সাথে জড়িত সব এজেন্ট এখনো কাজ করছেন যদিও তাদের মিনিয়াপোলিস থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি তাদের নিরাপত্তার জন্য করা হয়েছে।’
এই মাসেই মিনিয়াপোলিসে দুটি মৃত্যুর দায় নিচ্ছেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে বভিনো বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের সময় যারা বাধা তৈরি করেছে তাদের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে।
আইসিএ এজেন্ট নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য
ডোনাল্ড ট্রাম্প মিনিয়াপলিস থেকে ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টরা সময় মতো ছেড়ে যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ইঙ্গিত দেন। সাক্ষাৎকারটি রবিবার প্রচার করা হয়েছে।
‘এক পর্যায়ে আমরা সরে আসব। তারা চমৎকার কাজ করেছে।’ বলেছেন তিনি। তবে কখন তারা সরে যাবে তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু তিনি জানাননি।
ট্রাম্প আরো বলেন, মিনিয়াপোলিসে অ্যালেক্স প্রেট্টির হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশাসন ‘সবকিছু পর্যালোচনা করছে’।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত