By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept
খবর সার্চ

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

NEWSPORTAL

  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • জেলার খবর
    • খুলনা
    • চুয়াডাঙ্গা
    • বাগেরহাট
    • মাগুরা
    • যশোর
    • সাতক্ষীরা
  • ফিচার
  • ই-পেপার
  • ALL E-Paper
Reading: উপকূলীয় এলাকায় ভাঙন, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ
Share
দৈনিক জন্মভূমিদৈনিক জন্মভূমি
Aa
  • মূলপাতা
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • ALL E-Paper
অনুসন্ধান করুন
  • জাতীয়
  • জেলার খবর
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলাধূলা
  • বিনোদন
  • ই-পেপার
Have an existing account? Sign In
Follow US
প্রধান সম্পাদক মনিরুল হুদা, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত
দৈনিক জন্মভূমি > জেলার খবর > সাতক্ষীরা > উপকূলীয় এলাকায় ভাঙন, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ
শীর্ষ খবর/ তাজা খবরসাতক্ষীরা

উপকূলীয় এলাকায় ভাঙন, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ

Last updated: 2025/10/20 at 1:42 PM
জন্মভূমি ডেস্ক 49 minutes ago
Share
SHARE

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে প্রতিনিয়ত উপকূলীয় অঞ্চলে ভাঙন, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেশি আঘাত হানে। এগুলোর মধ্যে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন এবং ভূমিধসের মাত্রা বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য।
কৃষকরা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াই করে ফসল উৎপাদন করছে। স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের উপকূলে বসবাসকারী মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পরিবর্তশীল উপকূলরেখা। বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে হিমালয়ের বরফগলা পানিসহ উজান এবং বৃষ্টিপাতের পানি বাংলাদেশের প্রধান প্রধান নদ-নদী গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনা হয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়ছে। প্রতি বছর গড়ে ১৫ লাখ হেক্টর চাষের জমি বন্যা ও জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। যার ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিজমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। উপরন্তু শীতকালে পানির স্রোত কম থাকায় সামুদ্রিক লোনাপানি উজানে প্রবেশ করছে। যার ফলে চাষাবাদ নিয়ে সংকট মোকাবিলা করছে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ।
বাংলাদেশে ৭১১ কিলোমিটার উপকূলীয় সমুদ্র তটরেখা রয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরবন উপকূল ঘিরে রয়েছে ১২৫ কিলোমিটার এবং কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য ১৫৫ কিলোমিটার। সমুদ্র উপকূল বরাবর রয়েছে গঙ্গা ও মেঘনা অববাহিকায় অবস্থিত প্রশস্ত জোয়ারভাটা সমভূমি এবং অসংখ্য নদী মোহনার ব-দ্বীপ। নদী সঙ্গমের ব-দ্বীপগুলো ও সমুদ্রে তটরেখা বরাবর ভূখণ্ড প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। এ ছাড়া জলোচ্ছ্বাস বা ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের অবকাঠামো বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়েছে। ফলে অবাধে লোনাপানি প্রবেশ করে জলাবদ্ধতাকে স্থায়ী রূপ দিচ্ছে।
বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার নদী, কৃষিজমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি, হিমালয়ের বরফ গলার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি সবদিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের মধ্যে শীর্ষ তালিকায় রয়েছে। আর দেশের মধ্যে শীর্ষে আছে উপকূলীয় অঞ্চল। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে নদীটি প্রায় ভরাট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান বাসসকে বলেন, বর্ষাকালে সামগ্রিকভাবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং শুষ্ক মৌসুমে অতিরিক্ত খরা দেখা যাচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টিপাত দীর্ঘ সময় পর্যন্ত না থাকলেও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ফসলের খুব ক্ষতি হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, ঘন ঘন বৃষ্টিপাত কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে ফেলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষকরা শুধু ফসলের ধরন পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়নি বরং ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং জলোচ্ছ্বাসের কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদরা বাসসকে জানিয়েছেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশনির্ভর উপজীবিকারা তাদের জীবিকা হারিয়ে ঝুঁকিতে আছে। মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় স্বাদু পানির জেলে, সমুদ্রগামী জেলে এবং মোহনাগামী জেলে তাদের জীবিকার উৎস হারাচ্ছে।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দা ইসরাত নাজিয়া বাসসকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে নানা রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েছে। আগে ১০ কিংবা ১৫ বছর পরপর বড় ধরনের কোনো হলেও বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তা প্রত্যেক বছরে হানা দিচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য উপকূলবাসীর প্রস্তুত থাকতে হয়। সবকিছু মিলে জলবায়ুজনিত বিপর্যয় এবং নদীভাঙন-ভরাটসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমির ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে উপকূলের বিশাল এক জনগোষ্ঠীর জীবিকা দুর্ভোগের মুখে পড়ছে।
সাতক্ষীরা উপকূলের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধের পাশে ঝুপড়ি ঘরে থাকেন সখিনা খাতুন। ১৬ বছর আগে স্বামী ছেড়ে চলে গেছেন। এখন স্থানীয় কাঁকড়া খামারে তিন হাজার টাকা বেতনে কাজ করে সংসার চালান ৪৬ বছরের এই নারী। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বিধ্বস্ত হয়েছিল তার ঘর। স্থানীয় এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ঘরটি পুনরায় নির্মাণ করেন। ঋণ শোধ হওয়ার আগেই পরের বছর ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘর। আবারও ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ঘর করেন। গত জুলাই মাসে খোলপেটুয়া নদীর পানিতে প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘর। ভাঙা-গড়ার মধ্যে টিকে থাকার সংগ্রাম যেন তার নিত্যসঙ্গী। জীবনের গ্লানি টানতে টানতে এখন ক্লান্ত তিনি। অনেকটা উদ্বাস্তুর মতো জীবনযাপন করছেন।
ভাঙা-গড়ার নিয়তিতে পড়েছেন সখিনার মা আলেয়া বেগমও। তার ঘরটি ভেঙেছে পাঁচবার। প্রতিবারই ঋণ নিয়ে ঘর করেছেন। এভাবে ঘর নির্মাণ করতে করতে তারা এখন নিঃস্ব, সর্বস্বান্ত।
শুধু সখিনা কিংবা তার মা আলেয়া বেগম নন; প্রতি বছর নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হচ্ছেন শ্যামনগর ও আশাশুনি উপকূলের বাসিন্দারা। দিনদিন বাড়ছে উদ্বাস্তুর সংখ্যা। সহায়-সম্পদ হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। নেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। বাধ্য হয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। এভাবে ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকা।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানছে উপকূলে। এতে সহায়-সম্পদ হারানোর পাশাপাশি সুপেয় পানির সংকট, চিকিৎসার অভাব, নারী-শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা জীবনযাত্রা ও পরিবেশকে বিষিয়ে তুলেছে। উপকূলের এমন অবস্থার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উপকূলের বাসিন্দারা বলছেন, উপকূলের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার উন্নয়নে কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এলাকায় কাজ না থাকায় বাড়িতে নারীদের রেখে কাজের সন্ধানে যাচ্ছেন পুরুষরা। তখন পরিবারের নারী-শিশুরা নানা নির্যাতন ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
জীবনের গ্লানি টানতে টানতে এখন ক্লান্ত সখিনা। অনেকটা উদ্বাস্তুর মতো জীবনযাপন করছে
সখিনা খাতুন বলেন, ‘এ বছর বড় ধরনের ঝড় আসেনি। সেজন্য ঘরটি টিকে আছে। কিন্তু ঘরের কিছু অংশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় পড়ায় সরিয়ে নিতে বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। না হলে ভেঙে দেবে বলে নোটিশ দিয়েছে। ঘর সরাতে অনেক টাকা খরচ হবে। কিন্তু টাকা পাবো কোথায়?’
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুর্গবাঢী এলাকার সদানন্দ মন্ডল বলেন, ‘আমাদের কষ্টের শেষ নেই। প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়। আমার ঘর অনেকবার ভেঙেছে। ২০১৯ সালে ফণীতে বাড়ি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে আবারও ঘর তুলি। বছর না ঘুরতেই আম্পানের আঘাতে ভেঙে যায়। আবার ঋণ নিয়ে ঘর করলে পরের বছর ইয়াসে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এরপর আমার মামা এলাকা ছেড়ে চলে যান। তার ঘরটি আমাকে দিয়ে যান। গত জুলাই মাসে বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরটি। দুর্যোগে বারবার ঘর ভাঙে, বারবার ঋণ নিয়ে ঘর করি। ভ্যান চালিয়ে ঋণ শোধ করি। এভাবে জীবন চলে না। মন চায় অন্য জায়গায় চলে যাই। কিন্তু যাওয়ার জায়গা নেই।’
প্রতাপনগরের হাওলদারবাড়ি এলাকার সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আম্পানে আমাদের ঘরবাড়ি চলে গেছে নদীতে। শুধু আমার নয়, এলাকার অনেকের ঘরবাড়ি নদীতে চলে গেছে। আত্মীয়-স্বজন কারও ঘর নেই। আমার বড়ভাই খুলনায় চলে গেছেন। আমি এখন শ্বশুরবাড়িতে থাকি। কখন এই ঘর ভেঙে যায় সে আতঙ্কে আছি।’
দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার মিজানুর রহমান বলেন, ‘খরা, ঝড়, বৃষ্টি ও নদীভাঙন আমাদের নিত্যসঙ্গী। আইলার পর থেকে গোটা এলাকা উদ্ভিদশূন্য। লবণাক্ততার কারণে সব গাছ মারা গেছে। এলাকায় বসবাস করা খুবই কষ্টের। বাঁধের অবস্থা নাজুক। বেড়িবাঁধ হলে পানি প্রবেশ করতো না। বাঁধ না থাকায় প্রতিবছর আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। পুরো বছর সুপেয় পানির অভাবে থাকতে হয়। খুব খারাপ অবস্থায় আছি আমরা।’
প্রতাপনগরের স্বেচ্ছাসেবক মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছর দুর্যোগে এলাকার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। কোথায় গেছেন জানি না। এলাকায় কাজ নেই। সুপেয় পানির সংকট। ফলে মানুষ ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়দের কাছে শুনেছি, এলাকার অনেকে খুলনা, নড়াইল ও বাগেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছেন। যারা আছেন তারা খুব কষ্টের মধ্যে দিন পার করছেন।’
সহায়-সম্পদ হারিয়ে এখন দিশেহারা উপকূলের বাসিন্দারা
প্রতাপনগরের বাসিন্দা ও গ্রাম্য চিকিৎসক আব্দুস সবুর বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর দুই বছর ধরে পুরো ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িতে জোয়ার-ভাটা চলছিল। জোয়ার-ভাটার কারণে অনেকের বাড়ি খালে বিলীন হয়ে গেছে। সেসব মানুষ কোথায় চলে গেছেন জানি না, তারা আর ফেরেননি।’
তিনি বলেন, ‘সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে পুরো ইউনিয়নের মানুষ। লবণাক্ত পানিতে বসবাস করার ফলে চর্মরোগ, কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ পানিবাহিত রোগ লেগেই আছে। লবণাক্ত পানির জন্য নারীদের অকাল গর্ভপাত ঘটছে। ফলে বাড়ছে না জনসংখ্যা। কৃষিজমি নেই বললেই চলে। যা আছে তাতে ফসল হয় না। গো-খাদ্যের চরম সংকট। চিংড়ি চাষে দেখা দিয়েছে মন্দা। এখানে মানুষের বসবাস করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এই প্রতিবেদককে ‌বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের একপাশে কপোতাক্ষ নদ আরেক পাশে খোলপেটুয়া নদী। দুই নদীর ২৫-৩০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অধিকাংশ এলাকা জরাজীর্ণ। প্রতিবছর নদীগুলোর পানি বাড়লেই লোকালয়ে ঢুকে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। বাঁঁধগুলো ষাটের দশকে তৈরি। এরপর নামমাত্র সংস্কার হয়েছে। দুর্যোগে ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের ভেসে নিঃস্ব হয়ে যায় মানুষ। দুর্যোগের পর তারা কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করবে, পরিবার-পরিজন নিয়ে কোথায় বসবাস করবে, কোথায় যাবে এসব নিয়ে ‍দুশ্চিন্তায় পড়ে। ফলে অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। এখানে আশ্রয়কেন্দ্র নেই। স্থায়ী বাঁধ না হওয়ায় প্রতিবছর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে উপকূল।’
ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকা
উপকূলীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল বলেন, ‘দিনদিন পৃথিবীব্যাপী তাপমাত্রা বাড়ছে। সে কারণে দুর্যোগও বাড়ছে। এসব দুর্যোগ বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় সাতক্ষীরা উপকূলে আঘাত হানে। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে লবণাক্ততা বাড়ছে। মাছ চাষ, কৃষি ও চাষাবাদ ব্যাহত হয়েছে। এখানের মানুষের প্রধান আয়ের উৎস চিংড়ি চাষ। অথচ এখন চিংড়ি চাষ কমে গেছে। বহু মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে। জলবায়ু উদ্বাস্তুর সংখ্যা বাড়ছে। এখানের পুরুষরা তাদের সন্তান-স্ত্রীদের রেখে অন্য এলাকায় কাজের সন্ধানে চলে যাচ্ছেন। অনেকে এলাকায় ফিরছেন না। অনেক পুরুষ অন্য এলাকায় গিয়ে বিয়ে করে স্থায়ী হচ্ছেন। ফলে বোঝা টানতে হচ্ছে নারীদের। অনেক ক্ষেত্রে ওই পরিবারের নারীরা হয়রানির শিকার হন। এখানে বসবাসের জন্য স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করলে কয়েক বছর পর এসব এলাকায় মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না।’
সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিষদের আহ্বায়ক আশেক-ই-এলাহী বলেন, ‘খুলনা-সাতক্ষীরা উপকূলকে বিশেষ দুর্যোগপ্রবণ এলাকা ঘোষণা করতে হবে। এই ঘোষণার ফলে সরকারের নজর পড়বে। সেইসঙ্গে সমন্বিতভাবে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য একটি কমিটি দরকার। যারা প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারকে দেবে। তার আলোকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেবে সরকার।’

জেলা পরিসংখ্যান অফিসার রকিব হাসান বলেন, ‘২০০১ সালের জনশুমারির তথ্য অনুয়ায়ী উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার জনসংখ্যা ছিল তিন লাখ ১৩ হাজার ৭৮১ জন। এর মধ্যে নারী এক লাখ ৫৩ হাজার ৪৮৭ জন এবং পুরুষ এক লাখ ৬০ হাজার ২৯৪ জন। ২০১১ সালের জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী, তিন লাখ ১৮ হাজার ২৫৪ জন। এর মধ্যে নারী এক লাখ ৬৪ হাজার ৮১৩ এবং পুরুষ এক লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন। এই তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১০ বছরে এই উপজেলার ১২ ইউনিয়নের জনসংখ্যা বেড়েছে চার হাজার ৪৭৩ জন। তবে নারীর সংখ্যা বেড়েছে ১১ হাজার ৩২৬ জন। অপরদিকে পুরুষের সংখ্যা কমেছে ছয় হাজার ৮৫৩ জন। ২০২২ সালের জনশুমারির জেলাভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও উপজেলাভিত্তিক প্রতিবেদন হতে আরও তিন-চার মাস লাগবে। তখন এলাকার মানুষের চিত্র জানা যাবে। তবে আমাদের ধারণা, এখানে বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে অনেক মানুষ এলাকা ছাড়া হয়েছে। সে কারণে অনেকে গণনার বাইরে রয়ে গেছেন।’
জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপক প্রভাব পড়ছে উপকূলীয় এলাকায়। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও মাটির লবণাক্ততা উপকূলের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীতের সময় অধিক শীত, গরমে প্রচণ্ড গরম এবং বর্ষায় অতিবৃষ্টির ফলে বন্যা বাড়ছে। এছাড়া জলোচ্ছ্বাসে নদীভাঙন বাড়ছে। ফলে এসব এলাকার মানুষ উদ্বাস্তু হচ্ছে।’
দুই নদীর ২৫-৩০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অধিকাংশ এলাকা জরাজীর্ণ
তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালের পর এই অঞ্চলে ২০টির অধিক ঝড় আঘাত হেনেছে। ২০০৮ সালে ঘূর্ণিঝড় রেশমি নারগিস আঘাত হানে। ২০০৯ সালে আইলার আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় উপকূলীয় এলাকা। ২০১৩ মহাসেন, ২০১৫ সালে কোমেন, ২০১৬ সালে রোয়ানু, ২০১৮ সালে তিতলি ও গাজা সেভাবে প্রভাব না ফেললেও ২০১৯ সালের ৪ মে ফণী, ২০২০ সালের ২০ মে আম্পান এবং ২০২১ সালের ২৩ মে ইয়াসের আঘাতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপকূলীয় মানুষ। তবে সিত্রাংয়ের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) সাতক্ষীরা উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. বাবুল আক্তার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় দিন দিন লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলের মাটি ও পানি পরীক্ষা করে দেখেছি, মার্চ-এপ্রিলের পর থেকে ২০-২৫ ডিএস মিটার লবণাক্ততা পাওয়া গেছে। এপ্রিলের আগে ১০-১২ ডিএস মিটার পাওয়া যাচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় ৮ ডিএস মিটারের নিচে লবণাক্ততা কখনও নামে না। লবণাক্ততা ৩-৪ ডিএস মিটার থাকলে ধান উৎপাদন কঠিন হয়ে যায়। নিয়মিত এই মাত্রার লবণাক্ততার মধ্যে মানুষ বসবাস করলে শারীরিকভাবে বিভিন্ন সমস্যা হয়। প্রতিবছর যেভাবে লবণাক্ততা বাড়ছে তাতে একসময় উপকূলীয় এলাকা বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়বে। লবণ সহিষ্ণু বিভিন্ন জাতের গাছ উদ্ভাবনে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।’
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রনী খাতুন ‌।বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আইলার পর থেকে এই এলাকার কৃষিজমি কমে গেছে। সে কারণে অনেক মানুষ ইটভাটা এবং দিনমজুর হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় কাজের জন্য যান। কাজের মৌসুম শেষ হলে তারা আবারও ফিরে আসেন। মানুষকে যাতে এলাকা ছাড়তে না হয় সেজন্য কৃষিজমি বৃদ্ধি ও কৃষির উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি আমরা। গাবুরায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ হলে নোনা পানি লোকালয়ে প্রবেশ করবে না। এদিকে সরকারের নজর আছে। তারই ধারাবাহিকতায় উন্নয়নকাজ চলছে।’

জন্মভূমি ডেস্ক March 2, 2026
Share this Article
Facebook Twitter Whatsapp Whatsapp LinkedIn Email Copy Link Print
Previous Article খুলনার নিরালায় যুবককে কু‌পি‌য়ে এবং গু‌লি ক‌রে গুরুতর জখম
আরো পড়ুন
শীর্ষ খবর/ তাজা খবরসাতক্ষীরা

উপকূলীয় এলাকায় ভাঙন, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ

By জন্মভূমি ডেস্ক 49 minutes ago
খুলনামহানগর

খুলনার নিরালায় যুবককে কু‌পি‌য়ে এবং গু‌লি ক‌রে গুরুতর জখম

By সিনিয়র করেস্পন্ডেন্ট 3 hours ago
সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা ‌বসন্ত বাতাসে দুলছে ঔষধি গুনাগুন সমৃদ্ধ সজিনা

By Correspondent 6 hours ago

দিনপঞ্জি

March 2026
S M T W T F S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
« Feb    

এ সম্পর্কিত আরও খবর

সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা ‌বসন্ত বাতাসে দুলছে ঔষধি গুনাগুন সমৃদ্ধ সজিনা

By Correspondent 6 hours ago
আন্তর্জাতিকশীর্ষ খবর/ তাজা খবর

সোমবার থেকে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০ ডলার বাড়ার আশঙ্কা

By সিনিয়র করেস্পন্ডেন্ট 6 hours ago
আন্তর্জাতিকশীর্ষ খবর/ তাজা খবর

ইরানের হামলায় আমিরাতে বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত

By সিনিয়র করেস্পন্ডেন্ট 6 hours ago

প্রকাশনার ৫৫ বছর

দৈনিক জন্মভূমি

পাঠকের চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার

রেজি: কেএন ৭৫

প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল

অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক: আলি আবরার

প্রকাশক: আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত

ইমেইল– janmokln@gmail.com           অনলাইন নিউজরুম-০১৬১১৬৮৮০৬৪        রফিকুজ্জামান বার্তা কক্ষ ০৪১-৭২৪৩২৪

Developed By Proxima Infotech and Ali Abrar

Removed from reading list

Undo
Welcome Back!

Sign in to your account

Lost your password?