জন্মভূমি ডেস্ক : ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের খবরে এক রাতেই প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে পেঁয়াজের দাম। ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই এক লাফে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ৬৫ টাকা। সঙ্গে বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দামও। খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের ধারণা, আগামী দুই দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম ২৫০ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। রাতারাতি পেঁয়াজের দাম বাড়ায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।
শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর মগবাজার এলাকার দুটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভারতীয় পেঁয়াজ ১৭০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাড়ার দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ১৮০ ও ২০০ টাকা কেজি দরে।
ক্রেতারা জানান, শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর বাজারগুলোতে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। এছাড়াও দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৩০ টাকা। তবে শুক্রবার সন্ধ্যার পর পেঁয়াজের দামে ভেলকি দেখান বিক্রেতারা। তখন ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা দরে এবং দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকা কেজি দরে।
মূলত নিজেদের দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে ভারত সরকার আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করার খবর সন্ধ্যার মধ্যেই পৌঁছে যায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের কানে। এরপরই নিজ নিজ অবস্থান থেকে বাড়তি দামে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেন তারা।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের একটি টিম বিক্রেতাদের কাছে রশিদ দেখতে চাইলে তারা দেখান প্রতি কেজি পেঁয়াজ কেনা আছে ১১০ টাকা। তারা বলছেন, ওই দরে কেনা পেঁয়াজ শেষ হয়ে গেছে। রাজধানীর অন্যান্য বাজারগুলোতেও একই অবস্থা দেখা গেছে। মহল্লার মুদি দোকানগুলোতে আরও ১০-২০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।
এক রাতেই পেঁয়াজের দাম এত বেড়ে যাওয়া ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। রাজধানীর মুগদা ঝিলপাড় এলাকায় পেঁয়াজ কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, পেঁয়াজের বাজারে ঠাডা পড়ছে। না হলে এক রাইতে ১২০ টাকার পেঁয়াজ ২০০ টাকার বেশি হয় ক্যামনে। দোকানে এখনও যে পেঁয়াজ আছে এগুলা তো আগের কেনা।
পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে খুচরা ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক বলেন, গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যা থেকে দাম বেড়েছে। গত রাতে কারওয়ান বাজার থেকেও বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে। এখন তো ২০০ টাকার নিচে আছে। আগের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এই পেঁয়াজের দাম ২-৩ দিনের মধ্যে ২৫০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
গতকাল শুক্রবার (০৮ ডিসেম্বর) এক আদেশে, ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রফতানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ভারত। মূলত দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে ভারত সরকার আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রফতানি নিষিদ্ধ করার এ পদক্ষেপ নেয়।
ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) জানায়, পেঁয়াজের রফতানি নীতি ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি দেওয়া হবে, তবে তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অনুরোধের পর কেন্দ্রীয় সরকার থেকে দেওয়া প্রদত্ত অনুমতির ভিত্তিতে।
চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো তিন কৃষিপণ্য আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের আলোকে দেশি পেঁয়াজের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬৪-৬৫ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত এই দাম কার্যকর না হলেও সেই সময় ভোক্তা অধিকারের অভিযান ও আমাদানির ফলে ৭০-৮০ টাকায় নেমে আসে পেঁয়াজ। আবারও সেই পেঁয়াজের বাজারে শুরু হয়েছে অস্থিরতা।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত