
বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের মধ্যে বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেটের বন্ধুত্ব বহুদিনের এবং সুপরিচিত। ১৯৯১ সালের ৫ জুলাই বিল গেটসের বাড়িতে, তার মা মেরি গেটসের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় দুজনের। সেই প্রথম সাক্ষাৎ থেকেই গড়ে ওঠে এক গভীর বন্ধুত্ব, যা টানা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে টিকে আছে।
সম্প্রতি বিল গেটস ওয়ারেন বাফেটের কাছ থেকে পাওয়া জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলেছেন। মেটার থ্রেডস প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে গেটস লেখেন—
“সফল হতে হলে আপনার প্রতিটি সেকেন্ড ব্যস্ত করে রাখতে হবে—এই ধারণাটি বুঝতে আমার অনেক দেরি হয়ে গেছে যে এটি ভুল। এখন বুঝি, যদি আমি আরও আগে ওয়ারেন বাফেটের ইচ্ছাকৃতভাবে হালকা ক্যালেন্ডারের দিকে তাকাতাম, তাহলে এই শিক্ষা অনেক আগেই পেয়ে যেতাম।”
এই পোস্টের সঙ্গে তিনি দ্য আটলান্টিকে প্রকাশিত ‘হাউ টু বি লেস বিজি অ্যান্ড মোর হ্যাপী’ শিরোনামের একটি প্রবন্ধও শেয়ার করেন। পোস্টটি প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালের মে মাসে।
বিল গেটস এর আগেও বাফেটের কাছ থেকে পাওয়া এই শিক্ষার কথা বলেছেন। ২০১৭ সালে সাংবাদিক চার্লি রোজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, যেখানে বাফেটও উপস্থিত ছিলেন, গেটস বলেন ‘আমি ভাবতাম কাজ করার একমাত্র উপায় হলো প্রতিটি মিনিট ব্যস্ত রাখা।’
তিনি জানান, মাইক্রোসফটের সিইও থাকাকালে তার সময়সূচি ছিল পুরোপুরি ঠাসা। ২৫ বছর এই দায়িত্বে থাকার পর ২০০০ সালে তিনি পদ ছাড়েন। গেটস স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি মনে করি, একবার ওয়ারেন আমাকে তার ক্যালেন্ডার দেখিয়েছিল। সেখানে এমন দিনও ছিল, যেদিন কিছুই লেখা নেই।’
এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি সময়ের মূল্য উপলব্ধি করেন।
গেটস বলেন, ‘আপনি আপনার সময় নিজেই নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রতিটি মিনিট ভরে রাখাই আপনার গুরুত্বের প্রমাণ নয়।’
একই সাক্ষাৎকারে ওয়ারেন বাফেট বলেন, ‘আমি চাইলে প্রায় যেকোনও কিছু কিনতে পারি, কিন্তু সময় কিনতে পারি না।’
২০২৩ সালের মে মাসে নর্দার্ন অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশেও একই শিক্ষা তুলে ধরেন বিল গেটস।
তিনি বলেন, ‘যখন আমি তোমাদের বয়সী ছিলাম, আমি ছুটিতে বিশ্বাস করতাম না। সপ্তাহান্তেও বিশ্বাস করতাম না। এমনকি আমার সঙ্গে যারা কাজ করত, তাদেরও আমি বিশ্রামের প্রয়োজন আছে—এটা বিশ্বাস করতাম না।’
গেটস জানান, তিনি মাইক্রোসফটে কর্মীদের অফিসে কতক্ষণ থাকছেন, তাও নজরদারি করতেন।
সমাবর্তন বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার মতো এত দেরি কোরো না এই শিক্ষা শিখতে। সম্পর্কগুলোর যত্ন নাও, সাফল্য উদযাপন করো, আর ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে নিজেকে সময় দাও। প্রয়োজন হলে বিরতি নাও। আর আশপাশের মানুষদের প্রতিও সহানুভূতিশীল হও।’
বিল গেটসের এই বক্তব্য আজও প্রাসঙ্গিক—সফলতার জন্য সব সময় ব্যস্ত থাকা নয়, বরং সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া অবলম্বনে