
গাজী জাহিদুর রহমান, তালা : কপোতাক্ষ নদের ভাঙনের ঝুঁকিতে একটি এতিমখানার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীসহ ১০টি পরিবার নির্ঘুম রাত পার করছে। বিলীন হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ, কবরস্থান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদনও করেছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কপোতাক্ষ তীরবর্তী তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে আচিমতলা নামক স্থানে নদের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন কবলিত এলাকায় গত ৮বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত রহমতুল্লাহ আওরঙ্গী এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে ৬০ জন ছাত্র আবাসিকভাবে লেখাপড়া শিখলেও তাদের শিশুমনে বর্তমান মানসিক বিকাশে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত।
নদের ভাঙন উপকূলে বসবাসকারী সোহরাবউদ্দীন, আব্দুল গফফার মোড়ল, মিন্টু মোড়ল, মোজাফফর মোড়ল, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুস সবুরসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, কপোতাক্ষ নদের ভাটি অঞ্চল আচিমতলা নামক স্থানে নদ পুনঃখননের সময় মূল নকশা অনুযায়ী খনন না করে প্রবাহিত অঞ্চল দিয়ে নদ খনন করায় এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে নদের অপর প্রান্ত আচিমতলা এলাকায় ভূমি গঠনসহ বিস্তীর্ণ চর জেগে উঠছে। এদিকে ভাঙন কবলিত এলাকা আচিমতলার অধিবাসীদের পৈত্রিক ভিটাবাড়ীসহ আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলীন হতেই আছে।
বর্তমান ভাঙনের মাত্রা এতটাই তীব্র যে উক্ত পরিবারগুলোর প্রায় ৫০জন ও এতিমখানার ৬০জন শিক্ষার্থী রাত কাটছে চরম আতঙ্কে। সহায় সম্বলহীন এতিমখানার ছাত্র রাকিব হোসেন (১৩), ইব্রাহিম হোসেন (১৪), মেহেদী হাসান (৯), হাবিবুল্লাহ (১২) জানায়, তাদের পিতা-মাতা নেই। বুদ্ধিজ্ঞান হওয়ার পর থেকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণই তাদের ঘরবাড়ি মা-বাবা। যখন মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছিল সে সময় মাদ্রাসার পিছনে নদের ধারে গাছ-গাছালিসহ পর্যাপ্ত জায়গা ছিল। তা এখন ভাঙতে ভাঙতে আমাদের ক্লাস রুমসহ থাকার ঘর কখন জানি নদে ভেঙে পড়ে এ ভয়ে ঘুম আসে না! কোমলমতী এ সকল শিশুদের আতংকগ্রস্ত মলিন চেহারা শক্তি এক বেদনা বিধুর দৃশ্যে পরিণত হয়। দিন যায় রাত আসে প্রতিদিনই নদ ভাঙছে তো ভাঙছে। এ ভাঙনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় তৎকালীন ঈদগাহ, কবরস্থান বিলীনের পথে। এর থেকে পরিত্রাণে চলতি বছরের আগস্ট মাসে ক্ষতিগ্রস্তরা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন কার্যকরিতা না হওয়ায় স্থানীয়দের দিন কাটছে চরম উৎকন্ঠায়।
তালার সরুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বলেন, কপোতাক্ষের ভাঙ্গনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
এদিকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম¥দ হুমায়ুন কবির অতি দ্রুত ভাঙন রক্ষায় কার্যকরী ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

