
দেশে আবারও বেড়েছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। ১ জুলাই একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সোমবার নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৬৬ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৪২ হাজার ৭৬৮ জন এবং মোট মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৪৬২ জনের। সোমবার (৩ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনা বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮৮৫টি ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এক হাজার ৩১২টি এবং মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এক হাজার ৩১২টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক কোটি ৫৪ লাখ ৭৪ হাজার ১৬৫টি। এতে বলা হয়, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৭ জন সুস্থ হয়েছেন। মোট সুস্থ হয়েছেন ২০ লাখ নয় হাজার ৩৩২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার পাঁচ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় নয়জন আইসোলেশনে এসেছেন এবং আইসোলেশন থেকে দুজনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট আইসোলেশনে এসেছেন চার লাখ ৫২ হাজার ৪৯৮ জন এবং আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন চার লাখ ২৩ হাজার ২২৭ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ২৯ হাজার ২৭১ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১ হাজার ১০৪টি, অ্যান্টিজেন টেস্ট-সহ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ১০৩টি। এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ২০ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। দেশে ২৬ জুন সকাল ৮টা থেকে ২৭ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত ৬০ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে ভ্যাকসিন আবিস্কার হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ভ্যাকসিন নিয়েছেন তবুও অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হলেও আক্রান্তের উপর তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তাই সকলেরই উচিৎ ভ্যাকসিন নেয়া। সচেতনতা আমাদের অনেক বড় বিপদ থেকে দূরে রাখতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে আমরা করোনা আক্রান্ত রোগীর খবর পাচ্ছি। মাঝে খুব একটা দেখা না গেলেও বর্তমানে আবারও গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে কোথায় কতজন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। ২০২০ সালে করোনার প্রথম ধাক্কায় উন্নত বিশে^র বিভিন্ন দেশে যেহারে মানুষ প্রাণ হারিয়েছে সে তুলনায় বাংলাদেশের মৃত্যুর হার অনেক কম পরিলক্ষিত হয়েছে। এর কারণ হিসেবে সরকার, চিকিৎসাখাত এবং দেশের সচেতনমহল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। করোনা চিকিৎসায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক এবং নার্সের সংখ্যা বাড়াতে হবে। সেইসাথে দেশের হাসপাতালগুলোতে করোনা আক্রান্ত রোগীর জন্য সুবন্দোবস্ত থাকতে হবে। তাই পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমাদের এখনই করোনা মোকাবিলায় সচেতন হতে হবে।