
জন্মভূমি ডেস্ক : একজন কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেট যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশের অপরাধে জাহিদুল ইসলাম নামের এক আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমান অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭এর (২) ধারায় খুলনার সাইবার ট্রাইব্যুনালের ৯/২১ নম্বর মামলায় সোমবার (১৯ জুন) ট্রাইব্যুনালের বিচারক কণিকা বিশ্বাস এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী ছিলেন স্পেশাল পিপি এম এম সাজ্জাদ আলী।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী গোপাল চন্দ্র পাল নথীর বরাত দিয়ে জানান, ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি সকালে সাতক্ষীরা দেবহাটা উপজেলার কলেজে যাওয়ার পথে এক ছাত্রী (১৬)কে তুলে নিয়ে যায় আসামি জাহিদুল ইসলাম। এরপর একটি বাড়িতে নিয়ে ফাঁকা ঘরে ঢুকিয়ে ওই কলেজ ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের মুহুর্ত মোবাইলের ক্যামেরায় রেকর্ড করে রাখে আসামি জাহিদুল। সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর এলাকার জিয়াদ আলী শেখের ছেলে আসামি জাহিদুল ইসলাম (১৮)।
এরপর ওই ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন জনের মোবাইলে পাঠিয়ে ওই কলেজ ছাত্রীর পরিবারকে ব্লাকমেইল শুরু করে আসামি।
এঘটনায় কলেজ ছাত্রীর মা বাদি হয়ে দেবহাটা থানায় ২৯ জুলাই মামলা দায়ের করেন (নং ২৯)। তদন্তকর্মকর্তা এস আই আজিজুল একই বছরের ৩১ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
এরপর যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি আইনের অংশটুকু খুলনা বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য প্রেরণ করা হয় (নং- সাইবার ৯/২১)। এছাড়া কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অপরাধের অংশ সাতক্ষীরা আদালতে বিচারিক কার্যক্রম হবে।
ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এম এম সাজ্জাদ আলী জানান, আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্র পক্ষের আনীত অভিযোগ স্বাক্ষ্য গ্রহণসহ যাবতীয় তথ্য প্রমান সঠিক প্রমানিত হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত ওই আসামীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমান অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন।

