
শেখ আব্দুল হামিদ : খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগরীর সর্বত্রই এখন পোষ্টারে ছেয়ে গেছে। ওলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক পর্যন্ত বিভিন্ন প্রার্থীর প্রতীক সম্বলিত পোষ্টার। বিধি নিষেধ মেনেই পোষ্টার ছাপানো হয়েছে। প্রতি ওয়ার্ডের পাড়ায়-মহল্লায় প্রচার কমিটি গঠন করে তাদের হাতে এসব পোষ্টার তুলে দেয়া হয়েছে। প্রার্থীর সমর্থকরা দল বেধে দিনে রাতে ভোটারদের কাছে যেয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন তাদের পছন্দের প্রতীক। এমনকি ভোটার নম্বরও তাদের কাছে দিয়ে আসছেন। সকাল থেকেই রাত অবধি চলছে প্রচার-প্রচরাণা। রাস্তায় গাড়িতে পথেঘাটে যেখানেই যাকে পচ্ছেন হাতে হ্যান্ডবিল ধরিয়ে দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। সিটি কর্পোরেশন এলাকার ভোটার নয়, এমন লোকেরও কাছেও না যেনে ভোট চাইছেন আনেকেই।
আর মাত্র ১০ দিন পরেই ১২ জুন নির্বাচন। হাতে সময় কম থাকায় কঠিন পরিশ্রম করছেন প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। একই সাথে মাইকের অনবরত প্রচারে সৃষ্টি হয়েছে ব্যপাক উৎসব আমেজ। বিকাল ও সন্ধ্যায় মিছিলে মিছিলে মুখরিত হচ্ছে বিভিন্ন ওয়ার্ডের ওলিগলি। নগরীর বানগাতি এলাকার বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের দিনক্ষণ এগিয়ে আসার সাথে সাথে পোস্টারে ছেয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকা। মহল্লার চায়ের স্টলে চলছে ভোট যুুদ্ধ। মেয়র প্রার্থীদের বিভিন্ন কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা সমালোচনা এখন নিত্যদিনের বিষয়।
নগরীর টুটপাড়া নিবাসী গৃহবধূ শাহীনুর বেগম বলেন, নির্বাচনের আর বেশী দিন বাকী নেই। তাই দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই উৎসবে পরিণত হচ্ছে নগরী। বিভিন্ন প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকরা বাড়ি এসে ভোট চাইছেন।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে ভোটার আসবে এমন সাড়া পড়েছে। আওয়ামীলীগের নিজেস্ব ভোট, সমমনা ও সাধারণ ভোটার মিলিয়ে প্রায় ৬৫ ভাগ হবে। এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধির জন্য প্রক্রিয়া চলছে যেন উৎসবমুখর পরিবেশ সৃস্টি হয়। তিনি বলেন, তরুণ ও আগামী প্রজন্মের জন্য স্মার্ট খুলনা গড়ে তোলা হবে। সেজন্যে দরকার নগরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন। অতিতে যেমন সমর্থন পেয়েছি, এবারও তেমন চাই।
জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু বলেন, নগরীর সর্বত্রই পোষ্টার পৌঁছে দেয়া হয়েছে। খুলনা মহানগরের উন্নয়নে জাতীয় পার্টির বিকল্প কিছু দেখিনা। তিনি বলেন, ভোটাররা যদি উৎসবমূখর ভাবে কেন্দ্রে যেয়ে ভোট দিতে পারে এটাই নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবী।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখার মেয়র প্রার্থী আব্দুল আউয়াল বলেন, নির্বাচিত হলে খুলনায় লেডিস মার্কেট-বিশ^বিদ্যালয় গড়বেন। তার মতে, নারী ও শিশুদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা একমাত্র ইসলাম যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামের অনুশাসনের বিকল্প নেই।
একই ভাবে জাকের পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী এসএম সাব্বির হোসেন ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার বিতরণের পাশাপাশি তাদের প্রতিশ্রুত ব্যক্ত করছেন।
মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি প্রচার-প্রচারণায় গোটা নগরীকে উৎসবমূখর করে তুলেছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তাদের বিচরণ ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বেশী। সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীদের চেয়ে সংরক্ষিত আসনের মহিলা প্রার্থীরা সহজের বাড়িবাড়ি প্রবেশ করতে পারছেন। তারা নারীদের কাছে বেশী ভোট চাইছেন। তাদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।

