শেখ আব্দুল হামিদ : মাত্র সাতদিন পরেই ১২ জুন খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। নগরীর ৩১ ওয়ার্ডে দাপিয়ে চলেছেন মেয়রসহ ১৭৯ জন প্রার্থী। কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন ১৩৬ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী ৩৯ জন ও মেয়র পদ প্রার্থী ৫ জন। সকলেই ১২ জুন সন্ধ্যায় শেষ হাসিটা হাসতে চান। নির্বচনকে উৎসবমূখর ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশনসহ খুলনার প্রশাসন বদ্ধপরিকর। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিক প্রস্তুতি সমন্ন করেছেন প্রশাসন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কেসিসি নির্বাচনে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬১ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। আর ১২৮টি সাধারণ কেন্দ্র। সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার পুলিশ ও আনসার। নির্বাচনের কাজে ৩ হাজার ৫৬৭ পুলিশ, ৩০০ আর্মড পুলিশ ও ৪ হাজার ৬৫৭ আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এরই মধ্যে নগরীতে ১৬টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। কেএমপি সদর দপ্তরে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এছাড়া বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা নির্বাচনের দিন দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন উপলক্ষ্যে ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণার সময় আচরণবিধি ভঙ্গ হলে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিবেন। এরই মধ্যে আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ও একই ওয়ার্ডের নিয়ামুল ইসলাম খালেদকে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মেয়র পদপ্রার্থী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত আলহাজ¦ তালুকদার আব্দুল খালেক বয়োজ্যেষ্ঠ হলেও প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন। তার সমর্থকরা বলছেন, এবারও বিজয়ের মালা ছিনিয়ে নিয়ে তিনি শেষ হাসিটাই হাসবেন। নগরীরর প্রতিটি ওয়ার্ডে চলছে তার নিরলস প্রচার-প্রচারণা। তালুকদার আব্দুল খালেক মনে করেন, ভোট কেন্দ্রে প্রায় ৬৫ ভাগ ভোটার হাজির হয়ে তাদের ভোটধিকার প্রয়োগ করবেন। তিনি নির্বাচিত হলে তার চলমান কর্মযজ্ঞ বেগবান করে নগরীকে তিলত্তমা করে গড়ে তুলবেন।
ইসলামী আন্দোলন মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. আব্দুল আউয়াল নিজেকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে মনে করছেন। তিনি তার কর্মীদের নিয়ে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। নগরীর বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রচার-প্রচারণা করতে। তিনি মনে করেন, খুলনায় চরমোনাই পীরের বহু অনুসারী রয়েছেন। তাদের আত্মীস্বজন এবং পরিবার-পজিন সক্রিয় থাকলে এবং নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলে শেষ হাসিটাও তিনি হাসতে পারেন।
জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী এসএম শফিকুল ইসলাম মধু লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত আছেন। তার দাবী খুলনায় যত উল্লেখযোাগ্য উন্নয়ন হয়েছে সবই জাতীয় পার্টির অবদান। সে কারণে খুলনার মানুষ পল্লীবন্ধু হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের কথা মনে করে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিবেন। নির্বাচন সুষ্ঠ হলে শেষ হাসিটা তিনিই হাসবেন।
অপরদিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রার্থীতা ফিরে পেয়ে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে টেবিল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন এমএম শফিকুর রহমান মুশফিক। তিনি মনে করেন তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের একটা বড় অংশের ভোট তিনি লাভ করবেন। তাই শেষ হাসিটা তার মুখেই লেগে থাকবে।
জাকেরপার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী এসএম সাব্বির হোসেন নিরবে নিভৃতে কাজ করে চলেছেন। তিনিও মনে করেন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে শেষ হাসিটা তিনিই হাসবেন।
প্রধান সম্পাদক: লে. কমান্ডার (অব.) রাশেদ ইকবাল, প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত