
জন্মভূমি রিপোর্ট : খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘন্টায় ৬ জন ডেঙ্গুরোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে সুস্থ্য হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯ জন। শুক্রবার পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৬ জন। চলতি বছর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৬১ জন ডেঙ্গু রোগী। খুমেক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার এ তথ্য জানান।
গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা খুলনায় দ্বিগুণ আকারে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে আক্রান্ত হয়ে নগরীর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসছেন। যে সব রোগী হাসপাতালে ভর্তী আছেন তাদের অধিকাংশই ঢাকা এবং চট্রগ্রাম জেলা থেকে আক্রান্ত হয়ে এখানে এসেছেন।
চিকিৎসকরা বলছেন খুলনা জেলার সর্বত্রই এখন মশার উপদ্রব। তবে শুধুমাত্র এডিস মশার কামড়েই ডেঙ্গু রোগ হতে পারে। ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য এডিস মশা রোধ করা এবং এ মশা যেন কামড়াতে না পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সাধারণত স্বচ্ছ ও পরিস্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত অথবা ড্রেনের পানিতে এরা ডিম পাড়ে না। বিভিন্ন পাত্রে পানি বেধে থাকা, ফুলের টবে জমে থাকা পানিসহ বিভিন্ন জায়গার পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা তাদের বংশ বিস্তার করে থাকে। ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ডেঙ্গু ভাইরাসের দ্বারা এবং এ ভাইরাসবাহিত এডিস ইজিপ্টাই নামক মশার কামড়ে। ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কাউকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে। এবার এ আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো জীবাণুবাহী এডিস মশা কামড়ালে সেই মশা ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এভাবে একজন থেকে অন্যজনে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে থাকে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, খুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা জুলাই মাস থেকে বেড়েই চলেছে। বৃষ্টির পরিমাণও বেড়েছে। আগামী মাসেও রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এখন থেকে জেলার সকলকেই সচেতন হতে হবে। তা না হলে ডেঙ্গু করোনার মত ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত