শেখ আব্দুল হামিদ : সারা দেশের ন্যায় খুলনাতেও বেড়েছে উচ্চ রক্ত চাপের ঝুঁকি। উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন একটি দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যগত সমস্যা। যা অকাল মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। খুলনায় উচ্চ রক্তচাপ পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এখন এটা অনেকটা নিরব মহামারির মধ্যে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের দেশে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০২৫ সালের মধ্যে এনসিডি লক্ষ্যমাত্রা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগজনিত অকাল মৃত্যু এক তৃতীয়াংশে কমিয়ে আনা সংক্রান্ত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. রবিউল হাসান বলেন, রক্তচাপ যদি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক বেড়ে যায়, তাহলে তাকে হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ বলে। রক্তচাপ সাধারণত দু’টি মাত্রা বা সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। প্রথম সংখ্যাটি সিষ্টোলিক, যা হৃৎতপিন্ডু সংকুচিত হয়ে রক্তনালিতে যে চাপ তৈরি হয় তার প্রতিনিধিত্ব করে। দ্বিতীয় সংখ্যাটি ডায়াস্টোলিক, যা হৃৎপিণ্ডের প্রসারনের সময়ে রক্তনালিতে চাপের প্রতিনিধিত্ব করে। স্বাভাবিক অবস্থায় একজন প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ মানুষের রক্তচাপের পরিমাপ ১২০/৮০ মি.মি. পারদচাপ ধরা হয়ে থাকে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস যেমন, খাদ্যের সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ (সেডিয়াম) গ্রহণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার এবং তামাক অ্যালকোহল সেবন উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে থাকে। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে। যেমন-শারীরিক ভাবে কর্মঠ না থাকা, অতিরিক্ত ওজন, মানসিক চাপ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলমূল ও শাকসবজি না খাওয়া।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগটির নির্দিস্ট কোন লক্ষণ এবং উপসর্গ থাকে না। রোগী বুঝতেই পারে না যে, তার উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। এ জন্য উচ্চ রক্তচাপকে নিরব ঘাতক বলা হয়। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে সকালের দিকে মাথা ব্যথা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, হৃতপিন্ডের অনিয়মিত ছন্দ, দৃষ্টিতে পরিবর্তন এবং কানে গুঞ্জনের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা করা না হলে, এটি ধমনি এবং মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। ধমনি শক্ত হয়ে হৃৎপিন্ডে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ হ্রাস পেতে পারে। ফলে বুকে ব্যথা বা অ্যানজাইনা, হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইল এবং হাট বিট অনিয়মিত হতে পারে। মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ অর্থাৎ স্ট্রোক এমনকি বিকল হতে পারে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজী বিভাগের ডা: বিশ^জিৎ বসু বলেন, উচ্চ রক্তচাপ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যে গাইডলাইন রয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। সম্মিলিত ভাবে কাজ করলে উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ মোকাবিলা করা সম্ভব। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন গাইডলাইন রয়েছে। আমাদের দেশে প্রতি ৫ জনের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। তাই বলা যায় দেশে উচ্চ রক্তচাপের নীরব মহামারি চলছে।
বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী স্বাস্থসেবা নিশ্চিতে দেশের জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ১৫ শতাংশ এবং এবং মোট জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া উচিত। চলতি ২০২২-২৩ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। যা মোট জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ। তাই উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগের প্রকোপ মোকাবিলায় এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তানাহলে ব্যক্তির ওপর চিকিৎসাজনিত ব্যয়ের বোঝা হ্রাস করা সম্ভব হবে না।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত