
৭ হাজার ৪০৪ জন ডাটা এন্ট্রির আওতায়
খুলনা (০৪ মার্চ)
নতুন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘরে ঘরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান কার্যক্রমের প্রথম ধাপে খুলনা বিভাগের একটি ওয়ার্ড আওতায় এসেছে। ইতোমধ্যেই খুলনা মহানগরীর খালিশপুর ১০ নং ওয়ার্ডে পাইলট প্রোগ্রাম ফ্যামেলি কার্ডের আওতায় আসছে। ইতোমধ্যেই সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় জরিপ প্রক্রিয়া শেষ করেছে। তবে বসবাসকারীদের অনেকেই অন্যস্থানের ভোটার হওয়া, মোবাইলে বিকাশ একাউন্ট না খোলায় ভোগান্তিতে পড়েন। তাছাড়া যাদের ১০ নং ওয়র্ডে এনআইডি কার্ড আছে কিন্তু সেখানে বসবাস করেনা তাদের এ জরিপ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। জরিপে ৭ হাজার ৪০৪ জনকে ডাটা এন্ট্রির আওতায় আনা হয়েছে। এখন যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলছে। চুড়ান্ত তালিকা খুবশীঘ্রই ওয়েবসাইডে প্রকাশ করা হবে।
সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল ফ্যামেলি কার্ড। আগামি ১০ মার্চ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামেলি কার্ড চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। দেশের ৮ বিভাগের ৮ উপজেলায় এটি দেওয়া হবে। তারই ধারাবাহিকতায় খুলনা সিটি করপোরেশনের খালিশপুর থানা এলাকার ১০ নং ওয়ার্ডকে নির্বাচন করা হয়।
ফলে গত শুক্রবার থেকে জরিপের কার্যক্রম শুরু সমাজসেবা অধিদপ্তর। শেষ হয় গত সোমবার। কিন্তু আবেদন প্রক্রিয়া ভালভাবে না জানায় অনেকেই হয়রানির শিকার হন।
জানতে চাইলে সমাজ সেবা অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক কানিজ মোস্তফা বলেন, পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় ফ্যামেলি কার্ড প্রদানের লক্ষ্যে গত শুক্রবার থেকে খানা জরিপ শুরু হয়ে সোমবার শেষ হয় । খুলনা বিভাগের খালিশপুরের ১০ নং ওয়ার্ডে আমরাকাজ করছি।
তিনি বলেন, ডিবিএস অনুযায়ি মোট খানা সংখ্যা ৭ হাজার ২৬৪ টি। সোমবার পর্যন্ত জরিপ করতে গিয়ে পাওয়া গেছে ৭ হাজার ৪০৪ জনকে। যারা ১০ নং ওয়ার্ডে বসবাস করে তাদের ওপর জরিপ করা হয়েছে। যাদের ১০ নং ওয়র্ডে এনআইডি কার্ড আছে কিন্তু সেখানে বসবাস করেনা তাদের এ জরিপ থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ধারাবাহিকভাবে সব জায়গায় জরিপ করা হবে। আমি নিজেও এ সুযোগ পাব। পিএমপি’র স্কোর অনুযায়ি পাব। আমারা এখন যেটা করছি তা হলো- ৭ হাজার ৪০৪ জনকে ডাটা এন্ট্রির করার জন্য যাচাই বাছাই করছি। ডাটা এন্ট্রি কাজ চলমান আছে। ইতোমধ্যেই আমাদের ১ হাজার ৭২৩ টি এন্ট্রি শেষ হয়ে গেছে।
কানিজ মোস্তফা জানান, প্রথমে আমরা আবেদন ফর্ম পুরণ করে পরে তা এন্ট্রি করা হচ্ছে। আমরা সোমবার পর্যন্ত জরিপ কাজ চালিয়েছি। ইতোমধ্যেই জরিপ কাজে ৭ হাজার ৪০৪ জনকে পাওয়া গেছে। আজ বুধবার বিকাল পর্যন্ত আমাদের ডাটা এন্ট্রির কাজ শেষ করতে হবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় আপডেটের জন্য আমাদের মহাপরিচালক সাহেবের সাথে বসতে হয়।
ফলে সকলের ব্যস্ততা বেড়েছে। নিভুলভাবে এ কাজ শেষ করতে হবে। ১০ নং ওয়ার্ডে যত পরিবার আছে সবাইকে জরিপ করেছি এখন কে পাবে আর কে পাবেনা ওটা পিএমপি স্কোরের ওপর নির্ভর করবে। যখন অনলাইনে যাবে তখনই পিএমটি ্েস্কারে বেরিয়ে আসবে সে কোন ক্যাটাগরিতে আছে। সেই ক্যাটাগরি অনুুযায়ি পাবে।
তিনি আরও বলেন, ১০ জন সুপার ভাইজারের অধিনে ২০০ জন তথ্য সংগ্রহকারী কাজ করছেন। ফর্মটি ৪৯ কলম বিশিষ্ট। এই ফর্মে লাগবে এনআইডি কার্ড, স্বামী ও বাচ্চাদের তথ্য থাকতে হবে। ব্যাংক হিসাব না থাকলে যেই হিসেব থাকবে সেটি তাকে উল্লেখ করতে হবে। এটা তো জিটুপি হবে। এর মাঝখানে আর কেউ থাকবে না, সরাসারি ভাতাভোগীর মোবাইলে চলে যাবে। যে কারণে এ নম্বরটা আমরা নিচ্ছি। এক্ষেত্রে ভাতাভোগীর নামে বিকাশ বা নগদ নম্বর থাকলে ভাল হয় বলে তিনি মনে করেন।
আমরা সোসাল সেক্রেটারির অধীনে কাজ করে আসছি। প্রায় দুই লাখের বেশি বয়স্ক ভাতা ও ৫০ হাজারের বেশি স্বামী নিগৃত ভাতা এদের সকলেরই নিজস্ব মোবাইল নম্বর আছে। ফ্যামেলি কার্ড হল ইউনিক। সুতারং এর ব্যাপ্তি ছোট করে ভাবার কোন সুযোগ নাই। ভবিষ্যতে আমিও এটি পাব। এর মাধ্যমে আমার সকল ডাটা সরকারের কাছে থাকবে। এটা খুব জরুরী। মোবাইল নম্বর দেওয়া খুব জরুরী।
এই কর্মকর্তা আরো বলেন, অতি দরিদ্র আবশ্যিকভাবে অন্তভুক্ত হবে ফমেলি কার্ডে। দ্বিতীয় পর্যায়ে দরিদ্র পাইলট পর্যায়ে অন্তভুক্ত হবে। তৃতীয় পর্যায়ে ঝুকিপুর্ণ নিম্নবিত্ত। এরাও পাইলট পর্যায়ে অন্তুভুক্ত হবে। ফ্যামেলি কার্ড এ তিনটা ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ০ থেকে ৭৭৭ পর্যন্ত অতি দরিদ্র, ৭৭৮ থেকে ৭৯৭ পর্যন্ত দরিদ্র এবং ৭৯৭ থেকে ৮১৪ পর্যন্ত ঝুকিপুর্ণ নিম্নবিত্ত। এ তিনটা ক্যাটাগরি ফ্যামেলি কার্ড পাবেন। যার স্কোর ৮১৫ হবে সে আর এ আওতায় আসবে না। পাইলট প্রেগ্রামের সময় আমরা ৮১৪ পর্যন্ত তাদের এ প্রেগ্রামের অধিনে নিয়ে আসব।
এই ওয়ার্ডের বঙ্গবাসী মোড়ের বাসিন্দা লবানী খাতুনের ফ্যামেলী কার্ড সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই তার। প্রতিবেশীদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে বাড়ির পাশে স্কুল যান। সেখানে বিভিন্ন ধরণের হয়রানির শিকার হন তিনি। শুধু লাবনী বেগম নয় ওই এলাকার আরও কয়েকজন এমন অভিযোগ তোলেন।
লাবনী খাতুন জনান, বাসার পাশে বঙ্গবাসী বিদ্যালয়। সেখানে ফ্যামেলী কার্ডের জন্য কর্তৃপক্ষ আবেদন নিচ্ছেন। এমন সংবাদ পেয়ে তিনি সেখানে ছুটে যান। উপস্থিত কর্মকর্তার তাকে জানান ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর লাগবে। তা না হলে আবেদন গ্রহণ করা হবেনা। পরে তিনি তিনশ’ টাকা দিয়ে গ্রামীন ফোনের সিম ক্রয় করেন। দু’দিন ঘুরে বিকাশ একাউন্ট খুলে পরবর্তীতে তা জমা দেন।
এছাড়া খোঁজ নিয়ে জানাগেছে ওই এলাকায় বসবাসকারী অনেক ভাড়াটিয়া যারা ওই এলাকার ভোটার হয়েছেন কিন্তু এখন অন্য এলাকায় বসবাস করেন। এমন কয়েকটি পরিবার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করতে এসে ফিরে গেছেন। কারণ, তারা ওই এলাকায় এখন বসবাস করেন না। ফলে তাদেরকে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়নি।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত