জন্মভূমি রিপোর্ট : খুলনার তিনটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ তিনটি আসনে প্রতিনিয়িত পাল্টাপাল্টি নির্বাচন আচরণ বিধি লংঘনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যতই দিন ঘনিয়ে আসছে ততই সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরী হচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাবি খুলনা-৪, ৫ ও ৬ আসনে এখনো লেভেল পেয়িং ফিল্ড তৈরী হয়নি। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটাররা। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত খুলনার ৩ টি সংদীয় আসনের চিত্র ছিল এমনই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনার তিনটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী। ফলে খুলনা-৪, ৫ ও ৬ আসনে কিছুটা হলেও নির্বাচনে গতি পেয়েছে। এ তিনটি আসনে নৌকা প্রতীকের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক নির্বাচন হবে।
খুলনা-৪ আসনের রূপসা উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের ভ্যান চালক মোক্তার হোসেন, রূপসার আইচগাতী ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মল্লিক বজলার রহমান, দিঘলিয়া উপজেলার মাঝরিগাতী গ্রামের কৃষক ইলিয়াস শেখ, তফসির উদ্দিন শেখ, রূপসার রাজাপুর গ্রামের ব্যবসায়ি মাসুদ মল্লিক, জোয়ার বাধাঁল গ্রামের হুমায়ূন মল্লিক, আইচগাতী গ্রামের পপুলার জুট মিলের ম্যাকানিক মিস্ত্রী খোকন শেখ, বজলার রহমানসহ অনেকেই সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন। এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এম মোর্ত্তুজা রশিদী দারা কযৈকদিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তার কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা, হুমকি ধামকি, প্রচারণায় বাধাঁ এব অপপ্রচারের অভিযোগ করেন। গতকাল তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনে লেভেল পেয়িং ফিল্ড এখোনা তৈরী হয়নি। সাধারণ ভোটাররা আতংকে রয়েছেন।
খুলনা-৫ আসনের ভোটার ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া ইউনিয়নের ভোটার আব্দুস সাত্তার গাজী, আটলিয়া ইউনিয়নের ভোটার কারিমুল ইসলাম, রুদাঘরা ইউনিয়নের ভোটার আবু তালেব শেখসহ অনেকেই বলেছেন এবার নির্বাচন বাঁধাগ্রস্ত হলে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করতে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে। তার কর্মী সমর্থকদের বাধাঁ দেওয়া হচ্ছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও নৌকা সমর্থিত প্রার্থী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন ভোটাররা স্বস্ফুর্তভাবে ভোট দিতে যাবেন।
খুলনা-৬ আসনে তৃণমূল বিএনপি সমর্থিত নাদির উদ্দিন বলেছেন, পরিস্থিতি দিন দিন ঘোলাটে হচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা এখনই বলা মুশকিল। কপিলমূনীর মৎস্য ব্যবসায়ী খলিুলুর রহমান বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হলে পরিবার পরিজন নিয়ে কেন্দ্রে যাবেন। না হলে তারা ভোট দিতে যাবেন না।
এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. রশীদুজ্জামান বলেন, ভোটারদের কেন্দ্রমূখী করতে তিনি কাজ করছেন।
খুলনা-৪, ৫ ও ৬ আসনের সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পরিবেশ চান। তারা ভোট কেন্দ্রের উপযুক্ত ও শংকামুক্ত পরিবেশ চান। তারা বলছেন, সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। ভোট প্রদানে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ কম।
খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। জাতীয় পাটি সবকয়টি আসনে প্রার্থী দিলেও মাত্র একটি দিন প্রচারে নেমেছিলেন। বর্তমানে এ দলটি প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা থেকে বিরত রয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, জাকের পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), তৃণমূল বিএনপি, ইসলামী ঐক্যজোট ও বিএনএম এর মতো ছোট দলগুলো কয়েকটি আসনে প্রার্থী দিলেও তারা মাঝে মাঝে ৪-৫ জন নিয়ে প্রচারণা করছেন। তবে এসব দলের প্রার্থীরা ভোটারদের আলোচনায় নেই।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা বলেন, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে ইতিমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী বলেন আশা করি নির্বাচনে ভোটারদের সন্তোষজনক উপস্থিতি থাকবে।
খুলনা -৪ (রূপসা-দিঘলিয়া-তেরখাদা) আসনে নৌকার প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদীর সাথে ‘কেটলি‘ প্রতীকের প্রার্থী এস এম মোর্ত্তুজা রশিদী দারার তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে।
খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য এবং সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ’র ‘নৌকা‘ প্রতীকের সাথে স্বতন্ত্র শেখ আকরাম হোসেনের ‘ঈগল‘ প্রতিকের লড়াই জমে উঠেছে।
খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. রশীদুজ্জামানের ‘নৌকা‘ প্রতীকের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী জি এম মাহবুবুল আলমের ‘ঈগল‘ প্রতীকের প্রতিদ্বন্দিতা হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে খুলনা-১ (বটিয়াঘাটা-দাকোপ), খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) এবং খুলনা-৩ (খালিশপুর-দৌলতপুর-খানজাহান আলী) আসনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিশালী কোন প্রার্থী নেই। এ তিনটি আসনে নৌকার প্রার্থীরা সহজেই জয়লাভ করবেন, এটা শতভাগ নিশ্চিত। তবে ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে নৌকার প্রার্থীরা যথাক্রমে খুলনা-১ আসনে ননী গোপাল মণ্ডল, খুলনা-২ আসনে প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য সেখ সালাউদ্দিন ও খুলনা-৩ আসনে এস এম কামাল হোসেন ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে নগরীর বস্তিগুলোকেও টার্গেট করে এগাচ্ছেন তারা।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত