শেখ আব্দুল হামিদ : খুলনার বাজারে এখন সবচেয়ে কম দামের সবজি আলু। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানেও তার দাম কেজিতে বেড়েছে ১০-১২ টাকা। এখান ক্রেতাকে একজি আলু কিনতে হচ্ছে ৩৫ টাকা দিয়ে। এ ছাড়া বাজারে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজির নিচে কোন সবজিই মিলছে না। সহজলভ্য বলে পরিচিত কাঁচা পেঁপের কেজিও ৬০ টাকা ছুঁয়েছে, যা নিম্নআয়ের ক্রেতার জন্য অস্বাভাবিক দাম। সব মিলিয়ে বাজারে সবজি এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।
সবজির এমন দর বৃদ্ধির প্রবণতা কয়েক মাস ধরেই দেখা যাচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, এত দীর্ঘসময় সব ধরে সবজির এমন চড়া দাম আগে কখনোই ছিল না। এ বছর রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। মঙ্গলবার খুলনার বড় বাজার, গল্লামারী বাজার, সন্ধ্যা বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা যায়।তারা জানান, গত দু-তিনদিনের ব্যবধানে সবজির দাম আরেক দফা বেড়েছে। তাতে এখন বাজারে প্রতি কেজি বেগুন, পটল, মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা। ঝিঙে, ধুন্দল, করলা, কাকরোল, বরবটি, চিচিংগা ৬০-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এক কেজি ধনে পাতার দাম উঠেছে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে বিক্রেতারা আগে ১০ টাকায় এক মুঠো ধনে পাতা দিতেন, যা এখন নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা। অন্যদিকে কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা থেকে ২৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহেও প্রায় কেজিপ্রতি ৬০ টাকা কম ছিল। এদিকে, শাক-সবজির এমন চড়া দামে চরম বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। বেশি বেকায়দায় পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। বাধ্য হয়ে তারা সবজি খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। তাতে চাপ পড়ছে পরিবারের পুষ্টির জোগানে, যা উদ্বেগজনক।
জেলার রূপসা এলাকায় দরিদ্র মানুষের বসবাস বেশি। রূপসা বাজারে তাদের নিত্য পন্য ক্রয় করতে হয়। বাজারে আসা পরিচ্ছন্নতাকর্মী গোবিন্দ দাস বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। দিন এনে দিন খাওয়ার অবস্থা। বাজারে সবজির মূল্য এত বেশী যে ঘর ভাড়া দিয়ে আর সবজি কেনা সম্ভাব হয় না। এর পর চাল ডাল তেলের মূল্যও আমাদের সাধ্যের বাইরে।” ওই বাজারের সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সবজির দাম মাঝেমধ্যেই ওঠা-নামা করে। এবার শীতের শুরু থেকেই সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম, দাম খুব চড়া। এরপর গরমেও সবজির দাম কমেনি, আরও বেড়েছে। এত দীর্ঘসময় সবজির চড়া দাম আগে কখনো দেখা যায়নি। ওই বাজারের বিক্রেতা আনিছুর রহমান বলেন, বিক্রেতারা সবজির দাম বেশী রাখছে না। আমাদের আড়ত থেকে যেমন দামে কিনতে হয় বিক্রিও সেভাই করতে হয়। তিনি বলেন, এখন সোনাডাঙ্গা কাঁচা বাজারে ভোরে সবজি কেনা নিয়ে টানাটানি লেগে যায়। চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ হয় অনেক কম। আগে সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত সবজি পাওয়া যেত। এখন ভোর ৫টার আর সবজি থাকে না। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
নগরীর টুটপাড়া জোড়াকল বাজারে আসা ক্রেতা শামছুর রহমান বলেন, মাছ-মাংসের দাম খুব বেশী হওয়ায় সবজির চাহিদা অনেকে বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে জোগান কম। তাছাড়া সব পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাবও সবজিতে পড়েছে।
অনলাইন বিভাগীয় সম্পাদক- আলি আবরার , প্রকাশক আসিফ কবীর কর্তৃক জন্মভূমি প্রকাশনী লি: ১১০/২,সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু সড়ক, খুলনা থেকে মূদ্রিত ও প্রকাশিত