
বিসিক থেকে লবণ সরবরাহের জন্য মিল মালিকদের কাছে চিঠি
চামড়া সংরক্ষণের জন্য চাহিদা রয়েছে ৫শ’ ৯৫ মেট্রিকটন
মজুদ রয়েছে ৩,৭৪৩ মেট্রিক টন
হারুন-অর-রশীদ : খুলনায় বেড়েছে লবণের দাম। চামড়া সংরক্ষণের প্রধান উপকরণ শিল্প (ইন্ডাস্ট্রিয়াল) লবণের দাম বেড়েছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৩বার বেড়েছে লবণের মূল্য। খুলনায় স্থায়ী চামড়া ব্যবসা নেই। নানা কারণে তারা হারিয়ে গেছে। তার পর মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের কারণে দিশেহারা। পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করণের জন্য লবণের চাহিদা বেড়ে যায়। গত ১৬ মে বিসিক থেকে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে লবণ সরবরাহের জন্য খুলনার ৯টি মিল মালিকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হয়েছে ১০০০টাকা। গত বছরের চে’ অনেক বেশী। আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ হিসেবে মিল মালিকরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ক্ষেতে অনেক লবণ নষ্ট হয়ে গেছে এবং রোদ না থাকার কারণে উৎপাদন কম হচ্ছে। ফলে খুলনা কাঁচা লবণ আসতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে খুলনার মিলে পর্যাপ্ত পরিমানে কাঁচা লবণ মজুদ রয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে কক্সবাজার থেকে খুলনায় কাচাঁ লবণ পৌছাতে দাম বেশী পড়ে। সারা বছর যে চামড়া সংরক্ষণ করা হয় তার সিংহ ভাগ আসে কোরবানি হতে।
চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, শেরে বাংলা রোডে চামড়া ব্যবসায়ীদের কোন ঘর নেই। তারা এখন মৌসুমি ব্যবসায়ী হয়ে গেছেন। কোরবানির সময় তারা কিছু চামড়া কিনবেন। এখন চামড়ার পরিবর্তে অন্য ব্যবসা করেন। কেউ অটো চালাচ্ছেন। আবার কেই এখন আম বিক্রি করেন ফেরী করে। চামড়া লবণ দিয়ে রাস্তার ওপর একসপ্তাহ রাখতে হবে। এ জন্য কেসিসি থেকে অনুমোদন নিতে হচ্ছে। খুলনা কাচাঁ চামড়া ব্যবসায়ীরা যদি চামড়া না কিনতে পারেন তা হলে মাদরাসা ও ইয়াতিম খানাগুলো পড়বে বিপাকে।
ব্যবসায়ী মো. বাবার আলী জানান, খুলনার চামড়া ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছেন। এখন খুলনায় ২০জন ব্যবসায়ী থাকলেও কারো দোকান নেই। তবে জিরোপয়েন্ট এলাকায় রূপসী রূপসা আবাসিক এলাকায় শুধুমাত্র একটি বড় ঘর রয়েছে। সেখানে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ রাখতে হয়। শেরে বাংলা রোড়ে বড় মোকাম ছিল। এখন শুধুই স্মৃতি। ৮০’র দশক থেকে চামড়া ব্যবসায়ে ধ্বস নামতে শুরু করে। ঢাকার ট্যানারী ব্যবসায়ীদের কাছে প্রায় ৩কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। নানা ওজুহাতে এই টাকা তারা পরিশোধ করছেন না। খুলনায় প্রায় ৪০জন চামড়া ব্যবসায়ী ছিলেন। তাদের পূর্ব পুরুষ এই ব্যবসা করতেন তাদের স্মৃতিকে ধরে রাখতে লোকসান দিয়ে হলেও কিছু চামড়া কিনবেন। দেনার ভারে পেশা পরিবর্তন করেছেন। খুলনা চেয়ে পার্শবতী ভারতে চামড়ার দাম বেশী হলে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও চামড়া প্রাচার হবে। কিছু কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কোরবানির চামড়া সীমান্তের নিরাপদ জায়গায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করেন। সুযোগ মতো রাতের অধারে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারতে পাচার করে দেয়।
খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পাদ দফতরের দেয়া তথ্য মতে নিরাপদ মাংস উৎপাদনে গবাদি পশু হৃষ্টপুষ্টকরণ ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৫৮ জন খামারীর খামারে কোরবানির জন্য ১১লাখ ৮২ হাজার ৯৯৮টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঈদ-উল-আযহার জন্য খুলনা বিভাগে চাহিদা রয়েছে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৯৯৮ টি। বেশী রয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার। যা ৩৫ শতাংশ বেশী। প্রতিটি গরু ও মহিষ সংরক্ষণ করতে লবণ প্রয়োজন হয় ১০ কেজি এবং ছাগল ও ভেড়া সংরক্ষণ করতে লবণের প্রয়োজন হয় ৫ কেজি। খুলনায় লবণযুক্ত গরু ও মহিষ প্রতি বর্গফুট ৪৫-৪৮ টাকা। ছাগলের চামড়া কিনবেননা।
খুলনা কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী এ্যাসোসিয়েশন’র সভাপতি মো.আব্দুস সালাম ঢালি বলেন, আমাদের কোন ঘর নেই। চামড়া সংগ্রহ করে রাখার জায়গা নেই। ব্যাংক ঋণ নেই। চামড়ার জন্য একটি স্থায়ী জায়গার জন্য সিটি কর্পোরেশন বরাবর কয়েকবার আবেদন করা হলেও কোন সুরাহ হয়নি। লবণ দিয়ে এক সপ্তাহ রাখতে হবে রাস্তার ওপর। সরকারের বেধে দেয়া মূল্যে চামড়া কিনলে খুলনার ব্যবসায়ীরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বড় বাজার কালিবাড়ি রোডের লবণ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা সল্ট ক্রাসিং ইন্ডাট্রিজ’র প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা আলহাজ¦ মো. আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন, লবণের সংকট নেই। কক্সবাজার থেকে কাঁচা লবণ খুলনা আসতে পরিবহন ও শ্রমিক সংকট আছে। তারা শুধু ব্যবসা করেনা। মানুষের সেবাও করেন।

