
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া : আসন্ন সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৫ আসনের জয়-পরাজয় নির্ভর করছে মহিলা ভোটারদের হাতে। যার কারণে প্রার্থীরা এবার পুরুষদের তুলনায় নারী ভোটারদের ভোট পেতে বেশি আগ্রহী। খুলনা ৫আসনে পুরুষদের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি। যার ফলে নির্বাচনি প্রচারণায় শেষ মুহূর্তে জোর দেওয়া হচ্ছে নারী ভোটারদের প্রতি। ইতোমধ্যে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিসসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নারীদের নিয়ে তুলনামূলক বেশি উঠান বৈঠক, সভা এবং গণসংযোগ করছেন। এছাড়া প্রত্যেকটি আসনে নারীদের ভোটের জয়-পরাজয়ের চাবিকাঠি নারী
প্রচারণাও এবার চোখে পড়ার মতো। ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি এবং ফুলতলা উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত খুলনা-৫ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৩ হাজার ২১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৯ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৭০ জন। আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৫টি এবং ভোটকক্ষ রয়েছে ৮৪৫টি।
এ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন বিসিবির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলী আসগর লবী। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র চিত্তরঞ্জন গোলদার কান্তে প্রতীক এবং জাতীয় পার্টির শামীম আরা পারভীন (ইয়াসমিন) লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রচার-প্রচারণায় প্রার্থীরা উন্নয়ন ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
বিএনপির প্রার্থী আলী আসগর লবী বলেন, এলাকার কৃষি পণ্যবিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা সমস্যার ও চিংড়ি সরাসরি বাজারজাত করা গেলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে এবং শিরোমনি শিল্প এলাকার বন্ধ জুটমিল চালু হলে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে বলেন, বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্লান প্রয়োজন। সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকাটি বর্তমানে তুলনামূলক শান্ত থাকলেও ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ কাজ করছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ঘরানার ভোটার ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা চাপ ও ভয়ভীতির মুখে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এ আসনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ভোটাধিকার নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। খুলনা-৫ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাস দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা এখানে জয়ী হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ মুহূর্তে ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারলেই এই আসনে বিজয়ের পাল্লা ভারী হবে।
এবারের ভোট বেশ উৎসবমুখর হবে মনে হচ্ছে। প্রার্থীর সমর্থকরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছে। এর আগে এমন অনুরোধ কেউ করেনি। ডুমুরিয়ায় আব্দুল মান্নান জানান, আগের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে যাব কিনা-সেটা নিয়ে সংশয় কাজ করত। অনেক সময় শুনেছি ভোটকেন্দ্রে না গেলেও ভোট হয়ে যায়। এবার মনে হয় এমন হবে না। সকাল-বিকাল বিভিন্ন দলের পক্ষে নারীরা ভোট চাইতে আসছে। টিপনা গ্রামের সালেহা বেগম জানান, বিএনপি ও জামায়াতের নারী কর্মীরা বেশ জোরাল প্রচার করছে। তাদের পছন্দের প্রার্থীকে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে অনুরোধ করছে। বিষয়টি বেশ পজেটিভ। ডুমুরিয়া উপজেলার লাভলী রহমান বৃষ্টি বলেন, জামায়াতের প্রার্থীরা যেভাবে ভোট চাইছে এরকম অন্য কোনো দলের লোক চায়নি। দিঘলিয়া উপজেলার ফরিদা বেগম জানান, বিএনপির শোভনা গ্রামের আনন্দ জানান আমার কাছে বেশ কয়েকবার ভোট চাইতে এসেছে। এমনভাবে ভোট আগে কখনো কোনো নির্বাচনে চেয়েছে কিনা মনে পড়ছে না। সবমিলিয়ে এবারের খুলনার ডুমুরিয়ায় নারী ভোটারদের মধ্যে ভোট নিয়ে বেশ আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, খুলনার ছয়টি আসনে ১৪টি রাজনৈতিক দলসহ স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৩৮ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। এর মধ্যে বিএনপি ছয়টি আসনে একক প্রার্থী এবং জামায়াত ইসলামী পাঁচটি আসনে একক প্রার্থী দিয়েছে।

